ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইনোভেশন এক্সপো 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৪৯ ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ২২:৫৫ ১৩ অক্টোবর ২০১৯

দেশে প্রথমবারের মতো মেইড ইন বাংলাদেশ স্লোগানে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো। সোমবার (১৪ অক্টোবর) থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’।

রোববার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রদর্শনী সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি। 

তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রজেক্ট,এ-টু আই এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি(বিসিএস)এর যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল পণ্য এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবিত নতুন আবিষ্কারের বর্ণাঢ্য এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন,এমপি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,হাইটেক পার্ক কতৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক হোসনে আরা বেগম, এনডিসি।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম, আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শাহিদ উল মুনীর।

জানা গেছে, আইসিটি শিল্প সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্য এবং আইসিটি পরিষেবা তিন দিনব্যাপী এই এক্সপোতে একত্রে প্রদর্শন করে দেশের সাফল্যেও কথা তুলে ধরবেন আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির সব ব্যবসায়ী। এছাড়াও স্থানীয় এবং বিদেশিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী এক্সপোতে অংশ নেবেন। যেখানে তারা স্থানীয় উদ্ভাবনগুলো দেখবেন এবং সেটি থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ইভেন্টের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের দশ বছরের সাফল্যগুলো বিভিন্ন সেমিনার এবং ব্রেকআউট সেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

এতে ওয়ালটন, স্যামসাং, সিম্ফনি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, টেকনো মোবাইল, ভিভো, এলজি, নিটল এবং আমরার মতো দেশের প্রায় সমস্ত বড় আইসিটি পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনকারী সংস্থা এক্সপোতে অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের পরিষেবা এবং মূল সরঞ্জাম উৎপাদন(ওইএম), সিকিউরিটি এবং তত্ত্বাবধানের বিষয়, তাদের এন্টারপ্রাইজ সলিউশন, টেলিকম, ক্লাউড কম্পিউটিং, সরকারি সেবা,
গেমিং-সম্পর্কিত আরও বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করবে।

বাংলাদেশ সরকারের এটুআই ইনোভেশন ল্যাব তাদের প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষিক্ষেত্র, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, মেয়েদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, আইন, পর্যটন ইত্যাদি ক্ষেত্রে উদ্যোগগুলো প্রদর্শন করবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যদ্রব্যসমূহ প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিতে আগ্রহী তরুণদের অংশগ্রহণকে এক্সপো চলাকালে সমানভাবে উৎসাহিত করা হবে।

অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামগুলো বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের পণ্যগুলো পিচ করার সুযোগ পাবে। অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামগুলো থেকে নির্বাচিত সেরা ৩০টি উদ্ভাবন এক্সপোতে প্রদর্শিত হবে এবং প্রদর্শনীটি শেষ হওয়ার পরে শীর্ষ ১০ তরুণ উদ্ভাবককে বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবনী অনুদান (বিআইজি) দিয়ে ভূষিত করা হবে। আশা করা হচ্ছে, এই এক্সপো বাংলাদেশের আইসিটি,
টেলকো এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারীদের প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের পণ্য বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে প্রচারকার্যে সাহায্য করবে।

ইভেন্টটি যৌথভাবে সমর্থন করবে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প; শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ); বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (জিওবি) এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড
আউটসোর্সিং (বাক্য); ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি); বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) এবং সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ।

মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেবেন। এ ছাড়া ওয়ালটন, স্যামসাং, সিম্ফনি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, টেকনো মোবাইল, ভিভো, এলজি, নিটল এবং আমরার মতো প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের পরিষেবা এবং মূল সরঞ্জাম উৎপাদন (ওইএম), নিরাপত্তা এবং তত্ত্বাবধানের বিষয়, এন্টারপ্রাইজ সেবা, টেলিকম, ক্লাউড কম্পিউটিং, সরকারি সেবা, গেমিং সম্পর্কিত পণ্য প্রদর্শন করবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানদের অংশগ্রহণে দেশে তৈরি প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে এ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নচিত্র এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

প্রযুক্তিখাতে দেশের সক্ষমতা, দক্ষতা,হার্ডওয়ার পণ্য উৎপাদনে সম্ভাবনা এবং কর্মপ্রচেষ্টার বাস্তব চিত্র প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়াও হাইটেক পার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নয়ন কাঠামোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া সম্পর্কেও দর্শনার্থীরা সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারবেন।

প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।তবে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করার জন্য প্রদর্শনীর ওয়েবসাইট  অথবা স্মার্টফোনে  আইওএস এবং এন্ড্রয়েড থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে। উল্লেখিত অ্যাপস বা সাইটে প্রদর্শনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।পুরো প্রদর্শনী অনলাইনল লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। 

ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানে হয়েছে। রাখা হয়েছে ৮টি জোন।মেড ইন বাংলাদেশ জোনে দেশীয় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানদের একই ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। থাকছে ইনোভেশন জেন,এই জোনে নিত্য নতুন  উদ্ভাবন সম্পর্কে।জানা যাবে।আইডিয়া প্রজেক্টের ৩০টি প্রজেক্ট,এটুআই প্রজেক্টের ৩০টি প্রজেক্ট এবং ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে ইনোভেশন জোন।অ্যাক্টিভেশন
প্রোগ্রামগুলোতে সেরা ৩০টি উদ্ভাবন  এক্সপোতে প্রদর্শন করা হবে এবং প্রদর্শনিটি শেষ হওয়ার পরে শীর্ষ ১০ তরুণ উদ্ভাবককে বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবনী অনুদান(বিআইজি)দিয়ে ভূষিত করা হবে।স্টার্টআপ জোনে নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রজেক্ট সম্পর্কে ধারণা পাবেন দর্শনার্থীরা। এর অন্যতম আকর্ষণ রোবোটিক জোন।এই জোনে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবটের পদচারণা থাকবে।

এক্সপো জোনে থাকবে ১১০টি প্যাভিলয়ন এবং স্টল।১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান(আসুস,এসপি,ডেল,ইন্টেল,স্যামসাং ইত্যাদি)প্রদর্শন করবে ও প্রযুক্তি পণ্যের সমাহারে সাজানো হয়েছে।থাকবে বিটুবি ও মিডিয়া কর্ণার।

গেমারদের জন্য থাকবে গেমজোন। থাকছে নানা ধরনের উপহারের ছড়াছড়ি।দেশের তৈরি বিখ্যাত ল্যাম্বারগিনি গাড়ীর আদলে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ীর দেখা মিলবে এক্সপোতে।থাকবে রোবট আঁকা সহ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এক্সপো ২য় দিন দর্শনার্থীদের জন্য দেশের নাম করা ব্যান্ডের অংশগ্রহণে থাকবে কনসার্ট। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ,উদ্যোক্তা সহ বিভিন্ন বিষয়ে অবদান
রাখা ব্যাক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। 
কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি