ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬

১২ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি তেলবাহী ওয়াগন, যোগাযোগ বন্ধ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৫৬, ২ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। 

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অন্তত ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা, সড়ক ও খালে।

খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে এসে রাত ১টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার পর ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। 

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এদিকে লাইন বন্ধ থাকায় কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি ডিজেলবাহী একটি ট্রেন মোট ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি তেলের ওয়াগন রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এ সময় একটি ওয়েল ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। এতে প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনও দুমড়েমুচড়ে যায়।

এদিকে রেলওয়ে ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, রেললাইন স্বাভাবিক হতে দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ঘটনাস্থলে বেসামরিক প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলসমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এ সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজিবি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদ রক্ষা, জ্বালানি তেল উদ্ধারে সহায়তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং রেল যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করছে।

ইতোমধ্যে তেলসহ দুটি বগি সোজা করা হয়েছে এবং আরও দুটি বগি সোজা করার কাজ চলমান রয়েছে। একটি বগি পানিতে পড়ে থাকায় সেটি উদ্ধারে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় রেললাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারকিন সংগ্রহ করে প্রায় ১,০০০ (এক হাজার) লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি