ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৮ ৭:০৯:৪৬, মঙ্গলবার

Ekushey Television Ltd.

২০২০ থেকে ২০২১ সাল ‘মুজিব বর্ষ’ : প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩৬ এএম, ২৬ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:৪৭ এএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি। আমরা ২০২০ থেকে ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এই সময়টাকে এমন ভাবে কাজে লাগাতে চাই- বাংলাদেশ যেনো ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে।’

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে আজ ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু কিশোর সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তারপর থেকেই আমাদের উন্নয়নের যাত্রা শুরু। ৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, দেশকে আমরা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম। এরপর ২০০৮-এ জনগণ আবারও নৌকা মার্কাকে ভোট দিয়ে আমাদের দেশে সেবার সুযোগ দেয়। ২০০৮ থেকে এ পর্যন্ত আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নিত করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দারিদ্রের হার কমিয়েছি। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়েছি। আমরা প্রিপ্রাইমেরি শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছি, শিক্ষা নীতিমালা গ্রহণ করেছি। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা জাতিকে গড়ে তুলতে চাই। তাই আমরা বিনা পয়সায় মাধ্যমিক পর্যন্ত বই দিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। যাতে আমাদের দরিদ্র শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পায়। আমরা শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু শিক্ষা গ্রহণ করলেই হবে না। এর সঙ্গে খেলাধুলা, শরীর চর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা এগুলো অপরিহার্য। আমার ছেলে মেয়েরা সুস্বাস্থের অধিকারি হবে। তাদের মেধা, মনন বিকশিত হবে। তারা সুন্দর ভাবে বাঁচবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এর কুফল সম্পর্কে আমাদের শিশুদের জানাতে হবে এবং এর হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হবে। অভিভাবকদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে- সন্তান কোথায় যায়, কি করে? শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। আজকে শিশুরাই একদিন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বড় বড় কর্মকর্তা হবে। তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আমাদের শিশুদের সেই ভাবেই মানুষ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন দেশে প্রতিটি মানুষ সুন্দর ভাবে বাঁচবে এবং একটু উন্নত জীবন পাবে এটাই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। আজ আমরা লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি। আমরা একটি দেশ পেয়েছি। জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদাকে উন্নত ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই ছিল জাতির পিতার মূল লক্ষ্য। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছোটদের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমরা যে মাতৃভাষায় কথা বলি সেই বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে, অর্থাৎ সেই ১৯৪৮ থেকে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ১৯৭১ সালে তারই নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এটাই ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশর মানুষ এক সময় হতদরিদ্র ছিল। এমন ছিল যে- এক বেলা খেতেও পারতো না। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগতো। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার অনেক বৃদ্ধি ছিল। মানুষ চিকিৎসা পেত না, শিক্ষা পেত না। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল এ দেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষা গ্রহণ করবে, প্রতিটি নাগরিক সুশিক্ষিত হবে, দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত হবে, উন্নত ও সমৃদ্ধশালি হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেন। কিন্তু হাতে সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই অল্প সময়ের মধ্যে দেশ গঠন করতে গিয়ে যখন তিনি উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেন এবং এর শুভ ফল দেশবাসী পেতে শুরু করে, আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলো। সেই সঙ্গে আমার মা, ভাইসহ আমার পরিবারকে। এই হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যহত হলো।’

জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু কিশোর সমাবেশের আয়োজন করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

এসএ/

 



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি