ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৭:০১

মেহেরপুরে পাটের বাম্পার ফলন (ভিডিও)

মেহেরপুরে পাটের বাম্পার ফলন (ভিডিও)

মেহেরপুরে পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার লাভের আশা করছেন চাষীরা। তবে, তাদের ভয় সিন্ডিকেট নিয়ে। আর জুট মিলে পাট সরবরাহকারীরা বলছেন, মিলগুলোর চাহিদার উপর নির্ভর করে পাটের মূল্য। চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ২০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা থেকে ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ১০৯ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর পাট বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।  তবে, বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচাপাট কিনছেন। তারা বলছেন, মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে পাটের দাম কমিয়ে দিলে চাষীদের পাশাপাশি ফড়িয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জুট মিলে পাট সরবরাহকারীরা জানালেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাদামাটি দিয়ে পাটজাগ দেয়ায় এই অঞ্চলের ভাল দাম পায় না। পাটের ভাল দাম ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য রিবোন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। পাটের মান ভালো হলে, দামও বেশি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে মাস্কমিলনের চাষ (ভিডিও)

ইউরোপের জনপ্রিয় ফল মাস্কমিলনের চাষ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এ’বছরের মধ্যে ঔষধিগুণ সম্পন্ন এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আশা প্রকাশ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। টানা তিন বছর গবেষণা করে বাংলাদেশের মাটিতে এই ফল উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহবুবুর রহমান। ফলটির নাম মাস্কমিলন। ইউরোপের এই জনপ্রিয় ফলটি রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সুস্বাদু এই ফলটিতে একই সাথে এ বি এবং সি-- তিনটি ভিটামিন পাওয়া যায়। আশার কথা হচ্ছে, বাংলার মাটিতেই এখন থেকে চাষ হবে এই ঔষধি ফলটি। ইউরোপের মাস্কমিলন জাপান ঘুরে বাংলাদেশে এসেছে। তিন বছর আগে জাপান থেকে এই ফলের বীজ সংগ্রহ করে চাপাইনবাবগঞ্জের এ´িম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন প্রভাষক মাহবুবুর রহমান।   মাস্কমিলন চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে বলে দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাংলার মাটিতে নতুন জাতের ইউরোপীয় ফলের এই সফল অভিযোজন নিয়ে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।  

ফেনীতে ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

ফেনীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা বসানো হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে ৬টি স্থান নির্বাচন করে এ ভাসমান বীজতলা বসিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। বীজতলাগুলোতে এখন চারা গজিয়েছে। এ সব বীজতলা বসানোরপদ্ধতি জানতে ও পরিদর্শন করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক কৃষকরা ছুটে আসছেন। মূলত বন্যা ও আপদকালীন সময়ে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারাগুলো কৃষকদের বীজ সংকট মেটায় বলেই এ পদ্ধতিতে আগ্রহ বেশি কৃষকদের। সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুরে চর এলাকায় দেখা যায়, কৃষক নুর মিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এবার প্রথম ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজতলা তৈরিপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে পানিতে কলা গাছ বেঁধে ভেলার মতো করে নিতে হবে। তারপর উপরে কচুরিপানা দিয়ে মাঝা মাঝি উচু নিচু স্থানগুলো পূর্ন করার পর মাটি সমান করে বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। ১৫ থেকে ২০ দিনে চারা পরিপূর্ণতা লাভ করবে। গত কয়েক বছর আগাম বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যা নেমে যাওয়ার পর হালি চারার ব্যাপক সংকটে পড়ে কৃষকরা। এ সময় ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত হালি চারাগুলো কৃষকদের চাহিদা মেটায়। এই ভাসমান হালি চারার দাম একটু বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আপদকালীন সময়ে এ চারা তাদের জমিতে বপন করতে হাঁটেবাজারে খোঁজে ফিরেন। ফেনী সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবুনঈম মো. সাইফুদ্দিন জানান, আমাদের দেশে দুটি পদ্ধতিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করাহয়ে থাকে। প্রথমত- বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে তবে বন্যারপানি, নদীর পানি, বিলের পানি, পুকুরের পানি, ডোবা বা খালের পানির ওপর কলা গাছের ভেলায় হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ কিংবা বাঁশ এবং বাঁশের চাটাইয়ের মাচা দিয়ে তৈরিকৃত বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমাণ পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা হয়। দ্বিতীয়ত- বিল ঝিল বা নিচু জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা করা যায়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কচুরিপানাগুলো স্তুপ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বেড আকৃতি করা হয়। বেডের চার পাশে জড়িয়ে থাকা বাড়তি কচুরিপানাগুলো দা দিয়ে কেটে সোজা করে নিতে হয়। অত:পর বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে সমান করে বীজতলা তৈরি করা যায়। বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সে জন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে হবে। তাছাড়া হাঁসের আক্রমণ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে দেওয়া উত্তম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারাগুলো বিপদকালীন সময়ে কৃষকদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে। ফেনীতে ভাসমান বীজতলা এবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৈরী করাহয়েছে। এটি তৈরিতে অতিরিক্ত খরচ তেমন না থাকায় আগামীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি আরও বৃদ্ধি পাবে। ফেনীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা বসাতে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলাপরিদর্শন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ী ঢাকার ক্রপ উইং ও মনিটরিংকর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সহকারী কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রহমান ভূঁইঞা। একে//

রাসায়নিক এড়িয়ে অরগ্যানিক চাষই লাভজনক

খেতে আগাছা ও কীটপতঙ্গের মোকাবিলায় প্রায়ই নানা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়৷ তাতে দীর্ঘমেয়াদী নানা রকম সমস্যা দেখা যায়৷ কিন্তু অরগ্যানিক পদ্ধতিতে চাষের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক সমাধানসূত্র সাহায্য করছে৷ রাসায়নিক পদার্থের কল্যাণে সাধারণ চাষিরা এমন সব ফসল ফলাতে পারতেন, যাতে সবচেয়ে বেশি আয় হয়৷ কিন্তু এখন তারা অরগ্যানিক চাষিদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করতে শুরু করেছেন৷ অথচ এককালে তারাই হাসির পাত্র ছিলেন৷ অরগ্যানিক চাষের খেতেও আগাছা জন্মায় বটে, কিন্তু বিষ প্রয়োগ করে তা দূর করা হয় না৷ রাইনার বোনহর্স্ট তাদেরই একজন৷ তিনি প্রাচীনকাল ধরে চলে আসা কৌশল প্রয়োগ করেন৷ রাইনার বলেন, ‘এটা হলো ‘হেয়ারি ভেচ`, যা খেতে ভরে গেলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ কিন্তু আমরা সেগুলো ছেঁটে ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি৷ এখন ফসল বেশ ভালো বলে আমার মনে হচ্ছে৷ এখানে যান্ত্রিক উপায়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে৷’ অরগ্যানিক চাষের ক্ষেত্রেও বেশ কিছুকাল ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ক্যামেরা, জিপিএস ও লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং সিস্টেম কাজে লাগিয়ে যন্ত্রই খেতের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আগাছা তুলে দিচ্ছে৷ অবশ্যই কোনও বিষাক্ত পদার্থ স্প্রে করতে হচ্ছে না৷ অথচ সাধারণ চাষিরা অরগ্যানিক চাষিদের অবজ্ঞা করে এতকাল সেই পথে যেতে চাননি৷ তাদেরই একজন মার্কুস ম্যুকে৷ তিনি বলেন, ‘কাজটা খুবই সহজ ছিল৷ ট্যাংক ভর্তি করে স্প্রে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেই হলো৷ দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যায়৷ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আগাছা কাটার কৌশলকে বার বার অত্যন্ত ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে দাবি করা হয়েছে, অর্থনৈতিক কারণে এমন যন্ত্র ব্যবহার অর্থহীন৷’ তবে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করলেই তাকে অরগ্যানিক চাষ বলা চলে না৷ রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই আগাছা ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাইনার বোনহর্স্ট-কে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলতে হয়৷ বাজারের নিয়ম মানলে চলে না৷ সেই খেতের আলুর চাহিদা উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি হলেও চার বছর পর পর খেতে সেই আলু গজায়৷ ফ্রাংক স্টুট নামের একজন বলেন, ‘ফসলের সব ধরনের সুরক্ষার জন্য শুধু ব্যবহার করবো- এমন ধারণা থেকে আমাদের বিদায় নিতে হবে৷ বরং আগের মতো ফসল পরিবর্তন করতে হবে এবং আরেও অনেক পরিশ্রম করে মাটির আরেও যত্ন নিতে হবে৷ আমাদের পূর্বপুরুষরা এমনটাই করতেন৷’ এমন উপলব্ধি সত্ত্বেও বিষাক্ত স্প্রে রাতারাতি খেত থেকে বিদায় নেবে বলে মনে হয় না৷ তবে ফ্রাংক স্টুট নতুন ফসল চাষ করতে চান৷ হয়তো গমের বদলে মটরশুঁটি৷ আয় কম হলেও সেই উদ্ভিদ অনেক বেশি সহনশীল৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন (ভিডিও)

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে এ বছর চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের কিছু জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির শংকায় বাদাম সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক। ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা। ফরিদপুরে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের প্রধান ফসল চিনা বাদাম। এবছর ডিক্রিরচর, নর্থ চ্যানেল, পাঙ্গাসের চরে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। শেষ সময়ে বাদাম তুলতে ব্যাস্ত কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন চিনা বাদাম চাষে ঝুকছেন তারা। এবছর বাদাম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার বাদামের উৎপাদন হবে ১০হাজার ৪শ’ ১২ মেট্রিকটন। তবে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে কৃষক। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলছেন, চিনা বাদমের উৎপাদন বাড়াতে এবার ৬শ জন কৃষককে প্রনদনা হিসাবে ১০ কেজি বাদামের বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। আগামীতে চিনা বাদামের আবাদ বাড়াতে বীজ ও কৃষি ঋণসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন জেলার বাদাম চাষীরা।

বোরো চাষের নতুন পদ্ধতি: ফলন বাড়বে দেড়গুণ

দীর্ঘ গবেষণার পর একটি চারা রোপন পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন কৃষি গবেষক মো: মমিনুল ইসলাম। একটি মাত্র ধানের চারা রোপন করে অধিক ফলনের এক অবিশ্বাস্য ফর্মূলা আবিস্কার করেছেন এ গবেষক। সুইডিস ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার সায়েন্স থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর থেকে বীজ সাশ্রয় ও উচ্চ ফলনের লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় তিনি গবেষনা চালান। এ পদ্ধতি কৃষকদের উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী ও অধিক উৎপানের সর্বাধুনিক আবিস্কার। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষিখাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে প্রযুক্তিটি। একটি চারা রোপন পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করলে বাড়বে উৎপাদন- লাভবান হবেন কৃষক। ২০১৫ সালে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ শতাংশ জমিতে এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন। প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করে এ পদ্ধতিটি। এরপর এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার অব ব্যাংক ম্যনেজমেন্ট বিষয়ের শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আলম রাজুর বাস্তবায়ন ও কৃষি গবেষক মমিনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ভাগনাগর কান্দীর জয়নগরে ৮.৫ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছে। দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় একটি চারা রোপন পদ্ধতিতে লাগানো ধানের জমি অনেক বেশি সমৃদ্ধ। একটি চারা থেকে প্রতিটি গোছে সর্বনিম্ন ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৩ টি পর্যন্ত তেড় নিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে প্রচলিত চাষ পদ্ধতির চাইতে এ পদ্ধতিতে অন্তত দেড়গুণ বেশি ফলন হবে। এ পদ্ধতিতে প্রায় ৮০ ভাগ বীজ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। প্রচলিত নিয়মে ৮/১০টি করে চারা রোপন করে কৃষকরা। এ পদ্ধতি ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে একের অধিক চারা রোপন অপচয় ছাড়া কিছু নয়। এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক মো. মমিনুল ইসলাম আবিষ্কৃত নতুন চাষ পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে বীজ সাশ্রয় ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিসহ সংকট মোকাবেলা সর্বপরি সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে ধান চাষ গবেষণার বিষয়টি ২০১৬ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইকোনোমিক্স এন্ড সোস্যাল সায়েন্স ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড সোস্যাল সায়েন্স রিসার্চ কনফারেন্স শীর্ষক দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। এ পদ্ধতিটি বিভিন্ন শিরোনামে অস্ট্রেলিয়া এন্ড নিউজিল্যান্ড জার্নাল অফ সোস্যাল বিজনেস ইনভারোনমেন্ট এন্ড সাসটেনইবিলিটি ৪র্থ সংখ্যার ৪৬ থেকে ৫৭ পৃষ্টায় ও অস্ট্রেলেশিয়ান জার্নাল অফ ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড বিজনেস এর ৩নং সংখ্যার ১ থেকে ৮নং পৃষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও হোটেল রেডিসন ব্লুতে অর্গানিক ধান বীজ ধারনাটি সম্পর্কে আলোচনা করেন। সেখানে বর্তমান চাষ পদ্ধতির ত্রুটি ও এর থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোকপাত করেন তিনি। কৃষি গবেষক মমিনুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ব্যবহার ও আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ নানাবিধ কারণে খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশের মত জনবহুল ও দরিদ্র দেশগুলো ক্রমহ্রাসমান খাদ্য উৎপাদনের বৈশ্বিক বাস্তবতায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। একদিকে জনসংখ্যার চাপ এবং খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে নগরায়ণ ও শিল্পায়ণের কারণে আবাদি জমি অকৃষিখাতে চলে যাওয়ায় আবাদি জমির পরিমান হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও রাসায়নিক সার ব্যবহারে দিনদিন নষ্ট হচ্ছে মাটির ভৌত গুণাবলী, দেখা দিচ্ছে ফলন বিপর্যয়। ফসলি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারে সচেতন না হলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি উপকরনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে কৃষকরা। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু কৃষি জমি বৃদ্ধি পাবে না, সেহেতু জমিতে ফলন বাড়ানো ও ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। কৃষকদের উৎপদন ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ প্রযুক্তির উদ্ভভাবন করা হয়েছে। গবেষণার প্রেক্ষাপট: মহা পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন থেকে তিনি এ চাষ পদ্ধতির ধারনা নেন। তিনি জানান, সুরা বাকারা’র ২৬১ নং আয়াতে একটি বিজে ধান চাষের ধারনা রয়েছে। কৃষি গবেষক অধ্যাপক মোঃ মমিনুল ইসলাম সুইডিস ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এ নিয়ে গবেষনা শুরু করেন। এরপর তিনি কৃষি জমিতে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগের কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে নাটোরে ১৪ শতাংশ কৃষি জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন। বোরো চাষের নতুন পদ্ধতি প্রায় শতভাগ সফল। মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ পবিত্র আল কোরআন থেকে নেওয়া ধারনার আলোকে চাষ পদ্ধতি গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আশা করেন তিনি। আরকে//

কিশোরগঞ্জে লটকন চাষে সফল চাষীরা (ভিডিও)

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দিনদিন বাড়ছে লটকনের চাষ। মুখরোচক ফল হিসেবে পরিচিত লটকনে রয়েছে ভিটামিন সি, ডি ও কার্বোহাইড্রেড। এই এলাকার মাটি লটকন চাষের উপযোগী হওয়ায় বাড়ছে আবাদ। সাবলম্বী হচ্ছেন চাষীরা। কয়েক বছর আগে এক/দুইজন কৃষক লটকন চাষ করতেন কুলিয়ারচরে। এখন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হচ্ছে লটকনের আবাদ। কম খরচে বেশি ফলন এবং আর্থিকভাবে লাভ হওয়ায় লটকন চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে এই এলাকায়। লটকন ছায়া যুক্ত অনুউর্বর জমিতে চাষ করা যায়। লটকনের চারা রোপনের ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করে। এরপর আর তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। তবে, বাগানের সঠিক পরিচর্যা না করায় কাঙ্খিত ফলন ও গুণগত মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা। আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে লটকন চাষ করলে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা।  

শুভ্রতার শরৎ শুরু

এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে/এসো নির্মল নীলপথে...। প্রকৃতিতে এসেছে শরত। আজ ১লা ভাদ্র। প্রিয় ঋতু শরতের প্রথম দিন। আশ্বিনের শেষ দিনটি পর্যন্ত শরতের কাল বলে বিবেচিত। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুই ভিন্ন ভিন্ন রূপবৈচিত্র্য নিয়ে হাজির হয়। শরতেও নতুন করে সাজে প্রকৃতি। গ্রামে যেমন, শহরেও তাই। এখন গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কাশফুলের দোলা আর শহরের নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা। একটু খেয়াল করলে চোখে পড়বে। এই শরতের প্রকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা-/ নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই- লুকোচুরি খেলা...। শরতে শুধু প্রকৃতি নয়, মনও বদলে যায়। পরিবর্তিত হয়। সেই পরিবর্তনের কথা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, শরতের মনের আনন্দও কম নয়। শরতের আগমনে বিদায় নিয়েছে বর্ষা। ঝকঝকে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর তার মধ্যে তুলার মতো সাদা মেঘ, প্রকৃতি বরণ করে নিয়েছে শরৎকালকে। যদিও শরতের প্রাকৃতিক বৈচিত্রের এ অপরূপ বর্ণনা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে শরৎকালের সেই মাধুর্য এখন আর খুঁজে পায় না মানুষ। তবুও ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু বৈচিত্র্য নিয়েই আগামী কিছুদিনের জন্য শুরু হয়েছে শরৎ কাল। এসএ/  

শস্য দ্রুত শুকানোর কৌশল উদ্ভাবন করলেন হাবিপ্রবির শিক্ষক

ভূট্টা, ধানসহ অন্যান্য ফসল দ্রত শুকানোর কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি গবেষকরা। দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একদল গবেষক এ কৌশল উদ্ভাব করেন। উদ্ভাবনী নতুন কৌশলটি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম, কোষাধক্ষ্য, রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার পরিচালকগণ দিনাজপুরের  উত্তরণ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তারা উদ্ভাবিত যন্ত্রের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত একটি পরীক্ষণের মাধ্যমে যন্ত্রের গুণাগুন ও কার্যকারিতা দেখেন। এ সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, এটি একটি নিড বেসড টেকনোলজি। বর্তমানে যেভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্রতিবছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে যে হারে  ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাতে করে আমার কাছে মনে হয়েছে এই টেকনোলজি একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। আমি তার এই  উদ্ভাবনকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং তার পরিকল্পনা ও কাজের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মসলা জাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে টুকিটাকি ফাস্ট স্টেজ ড্রায়িং টেকনিক ছাড়া গ্রেইনের (ভুট্রা,ধান) জন্য  আমাদের  দেশে টু স্টেজ ড্রায়িং টেকনিক নিয়ে কোথাও কাজ হয়েছে বলে আমার জানা নেই, আমরাই প্রথম এই টেকনোলজি উদ্ভাবন করেছি। এটি পরিবেশবান্ধব, বিধায় পরিবেশে ও জীব বৈচিত্রের  প্রতি এর কোনও বিরুপ প্রভাব নেই । সাজ্জাত হোসেন বলেন, তিন বছরের এই প্রকল্পে আমরা মাত্র এক বছরে এই পর্যন্ত অগ্রসর হতে পেরেছি। আমাদের এটিকে কমার্শিয়াল পর্যায়ে নিয়ে যেতে এক বছরের মতো সময় লাগবে। বর্তমানে এই  পদ্ধতিতে প্রথম স্টেজে  ভুট্রা বা ধান  ফ্লুডাইজড বেড ড্রায়ার ব্যবহার করে মাত্র ৪ মিনিটে ২৮ শতাংশ আদ্রতা থেকে ২০ শতাংশ আদ্রতায় নিয়ে আসা যায় এবং দ্বিতীয় স্টেজে এলএসইউ/সান ড্রাই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাত্র ৩-৪ ঘন্টায় ২০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এ নিয়ে আসা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ভুট্রার আবাদ বেড়ে গেছে। পোল্ট্রি ফিড, ডেইরি ফিড ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূট্টার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এজন্য ফিড মিলেরা ব্যপকভাবে ভূট্টা ব্যবহার করছে। ফলে কৃষকেরাও ভূট্টা আবাদের  দিকে ঝুকছে। কারণ একর প্রতি এর ফলন অনেক বেশি। কাজেই বর্ষাকালে যে ভূট্টা হারভেস্ট হয় তা শুকানোর জন্য কিন্তু এর চাহিদা অনেক বেশি হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন অঞ্চলেও খোঁজ নিয়ে দেখেছি। তিনি আরও বলেন, কিভাবে কম খরচে এটিকে কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া চায় সে নিয়ে কাজ করব, যাতে কৃষকদের হাতের নাগালে পৌছে দিতে পারি। আগামী বছরের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ আমরা সেটি পারব। মাঠ পর্যায়ে ভূট্টা শুকাতে বর্তমান কেজি প্রতি ৫০-১০০পয়সা  লাগে। আমরা চেষ্টা করব একই খরচের  মধ্যে রাখতে। তাছাড়া আপনারা জানেন মেকানিক্যাল যে কোনও কাজে খরচ একটু বেশিই হয়। আর আমাদের এই মিশিনে ড্রায়িং করলে রং ও পুষ্টি গুনাগুণ ভাল থাকে। এতে কৃষকরাও বাজারে বেশি মূল্য পাবে। কাজেই একটু খরচ বেশি হলেও তা পুষিয়ে যাবে। আবহাওয়া খারাপ থাকলেও এই পদ্ধতিতে ফসল শুকিয়ে ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। ফলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর যে পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়, সেটি আর হবে না। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হিসেবে আছেন প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার, কো-ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. আব্দুল মোমিন সেখ এবং রিসার্চ ফেলো হিসেবে মোঃ এজাদুল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান ও হাসান তারেক। একে//

বর্ষা মৌসুমে শীতকালীন ফল ও সবজী চাষে সফলতা (ভিডিও)

মাগুরায় বিশেষ ধরনের পলিথিন- মালচিং পেপার ব্যবহার করে সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। পরীক্ষামুলকভাবে, বর্ষা মৌসুমে শীতকালীন ফল ও সবজী চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন তারা। চাষে সাফল্য আসায় স্থানীয় অনেক কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিশেষ পদ্ধতিতে জমিতে চাষ হচ্ছে ভীনদেশী তরমুজ- সৌদী রকমেলন, থাই, সামসাম নামের নানা ফল। একই সাথে উৎপাদিত হচ্ছে উচ্ছে, ঢেঁরস, শসাসহ দেশীয় নানা সবজি। এমন চিত্র, মাগুরার সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের কৃষিজমিতে। চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আনা এক ধরনের বিশেষ পলিথিন ব্যবহার করে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে এসব সবজি আর ফল। ধূসর রংয়ের বিশিষ এই পলিথিনের মাধ্যমে ফসলি বেডগুলো ঢাকা থাকায় কিটনাশককের ব্যবহার ৬০ভাগ কমিয়ে এনেছে কৃষকরা। পাশাপাশি সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ ৭০ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে। বেড়েছে উৎপাদন। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই লাউ, করলা, শসা, সিম, ঢেঁরশ, ঝিঙ্গে, উষি চাষ করা যায় বলে বেশ খুশী কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে জমি প্রস্তুত করে বেড তৈরীর পর পলি পেপার বিছিয়ে দিতে হয়। পরে নির্দিষ্ট দূরত্বে পেপার কেটে সবজী বা ফলের বীজ বপন করতে হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা। মালচিং পেপারে দিনের আলো প্রতিফলিত হওয়ায় পাতার নিচে পোকা-মাকড় জমে থাকতে পারে না। তাই এই পদ্ধতি বেশ লাভজনক বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টা চাষে কৃষকের মুখে হাসি (ভিডিও)

ভুট্টা চাষে সফলতা দেখিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার চাষীরা। টানা কয়েক বছর লাভবান হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে তাদের। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলার মোট আবাদী জমির অর্ধেকেই ভুট্টা চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভরা মৌসুমে ভুট্টা উঠানো, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষীরা। লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের। তারা বলছেন, ভুট্টার কোন কিছুই ফেলনা নয়। পাতা পশুর খাদ্য, গাছ ও মোচা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভুট্টা চাষে সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চলতি মওসুমে জেলায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন।  

১ লাখ ১৫ হাজার কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা [ভিডিও]

কৃষি ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে না পারায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার কৃষক সার্টিফিকেট মামলায় ভুক্তভোগী। যদিও এই মামলায় মোট অর্থের পরিমান ৩৬০ কোটি টাকার মতো। গবেষণা সংস্থা- সিপিডি বলছে, ঝুঁকি নিরূপণ করে ঋণ দিলে কৃষক সার্টিফিকেট মামলা থেকে অনেকাংশেই রেহাই পাবে। আর প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আইন সহজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার অভাবে কৃষকরা ঋণ ফেরত দিতে পারেন না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করেন গবেষকরা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষিঋণকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর কথা এখনই ভাবতে হবে। আইনটি অনেক পুরনো উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থে আইন যুগোপযোগি করা প্রয়োজন। এ’জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একে//

কৃষককে সুরক্ষা দিতে শস্যবীমা(ভিডিও)

শস্য উৎপাদনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে শস্যবীমা চালু করার কথা জানিয়েছে সরকার। আর কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত শস্যবীমা চালুর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই হুমকির মুখে পড়ে কৃষি পণ্যের উৎপাদন।এমন বাস্তবতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে শস্যবীমা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, এরফলে কৃষক যেমন ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবে, তেমনি স্থিতিশীল থাকবে নিত্যপণ্যের বাজার। ভর্তুকী ছাড়া শস্যবীমা মডেল চালু করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও জানান তারা। কৃষিখাতকে সুরক্ষা দিতে শস্যবীমা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানালেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ বীমার আওতায় কীভাবে শস্যবীমা কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও পরীক্ষা- নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি