ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ৯:৫৯:৪০

পোকামাকড় ডেকে এনে চাষের উন্নতি!

পোকামাকড় ডেকে এনে চাষের উন্নতি!

আজকের বিশ্বে খাদ্যের বেড়ে চলা চাহিদা মেটাতে বিশাল আকারে কৃষিকাজ চলছে৷ সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ করে দ্রুত ফসল তোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা পোকামাকড় আকর্ষণ করে এর এক বিকল্প পদ্ধতি তুলে ধরছেন। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কাছের একটি শহরের খেতে নিয়মিত কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন৷ কীটপতঙ্গ দূর করার বদলে কৃষিকাজকেই তাদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তারা৷ সবার আগে খেতের আলের দিকে চোখ চলে যায়৷ ঝোপঝাড় ও জংলি ফুল দিয়ে সাজানো সেই সীমানা। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর টোমাস ড্যোরিং ও তার টিম এভাবে খেতে আরও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করতে চান৷ সেই ঝোপের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির গুবরে পোকা শীতযাপন করে৷ বসন্তকালে তারা আবার জেগে উঠলে খেত বেশি দূরে থাকে না। ড্যোরিং বলেন, ‘এটা এক ধরনের গুবরে পোকা, সেটি নানা রকম অনিষ্টকারী কীট খেয়ে ফেলে৷ তাদের বিশাল ঝাঁক খেতের উপর উড়ে বেড়িয়ে সেই সব কীট ধ্বংস করে। কৃষি পরিবেশবিদরা খেতের ধারে এমন সব উপকারী পোকামাকড়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যারা ক্ষতিকারক কীট খেয়ে ফেলে৷ ফলে কীটনাশকের আর প্রয়োজন পড়বে না বলে তাদের আশা৷ টোমাস ড্যোরিং বলেন, ‘এখানেই লেডিবাগ প্রজাতির শূককীট রয়েছে, যারা অ্যাফিড বা জাবপোকা খায়৷ সার্বিক একটা প্রণালী হিসেবে আমরা উপকারী পোকামাকড়ের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কীটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারি৷ তবে তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না৷ তা সত্ত্বেও আমরা গোটা কাঠামোকে স্থিতিশীল করে তুলতে পারি৷’ খেতের ধারে গবেষকরা ফুলের সারি সৃষ্টি করেছেন৷ ফুলগুলি একসঙ্গে ফোটে না, একের পর এক তাদের বিকাশ ঘটে৷ ফলে পোকামাকড়ের খাদ্যের অভাব হয় না৷ ড্যোরিং বলেন, ‘এখানে যেমন দেখা যাচ্ছে, নানা ধরনের পোকা এই ফুল ব্যবহার করতে পারে৷ খেতের ফাঁক দিয়ে ট্রাকটর চলে৷ ফলে সেখানকার মাটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়৷ সে কারণে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর তেমন উপযোগিতা নেই৷ মাটির এমন বৈশিষ্ট্যের ফলে সেখান থেকে আয়ের অঙ্ক কম৷ আয়ের চিন্তা না থাকায় সেই জায়গা পোকামাকড় আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷’ শুধু ধারে নয়, এই খেতের উপরের অংশও জার্মানির বেশিরভাগ খেতের থেকে ভিন্ন৷ গবেষকরা আগাছা ধ্বংস করতে কোনো রকম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না৷ ফলে পোকারা খেতের মধ্যেও খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে, যেমন বীজ, পরাগ, ক্যামোমিল ইত্যাদি৷ খেতের ধারে ফুলের মেলা, কোনো কীটনাশক নয়, সারের পরিমাণও কম এবং ফসল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বেশ সফল হচ্ছে৷ প্রচলিত কৃষিক্ষেত্রের তুলনায় এখানে জীববৈচিত্র্য প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি৷ সেইসঙ্গে পরাগবহনকারী পোকাদের মাত্রা ৫০ শতাংশ বেশি৷ তথ্যসূত্র : ডয়েচে ভেলে এমএইচ/
বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ(ভিডিও)

মৌলভীবাজারে বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে মনিপুরী অধ্যুষিত এলাকায় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে শত শত পরিবার। মনিপুরি সম্প্রদায়ের এই সাফল্যে এবার পুরো জেলায় বিস্তৃতি লাভ করছে। টমেটো এখন এই অঞ্চলে হয়ে ওঠেছে ১২ মাসী ফসল। কয়েক বছর আগে ১২ মাসি টমেটো চাষ শুরু হয় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুনিপুরি অধ্যুষিত এলাকায়। কৃষি বিভাগের প্রাক্তন উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুরেন্দ্র কুমার সিংহা গ্রীষ্মকালে বনবেগুনের সাথে বারি-৪ জাতের টমেটোর চারা গ্রাফটিং করে পরীক্ষামুলক চাষ শুরু করেন। পরে সফলতা পায় এ চাষ পদ্ধতি। এখন এ এলাকায় ধানের পর ২য় কৃষিজ ফসলে রূপ নিয়েছে এই টমেটো। তারা জানালেন প্রতিক’ল আবহাওয়ায়ও এটি ফল দেয়। রোগবালাইও কম। আর কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা জানালেন অনান্য জাতের তুলনায় এই টমেটো বেশি সময় ধরে ফল দেয় এবং দেরিতে পঁচে। খরা সহিষ্ণু এই জাতটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিলে সারাবছরই টমেটোর সরবরাহ থাকবে, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিত্যক্ত জমিতে আলু চাষ(ভিডিও)

শীত ঘিরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে বীজ রোপণের কাজ। পরিত্যক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন ও বাড়তি উপার্জনের আশা করছেন চাষীরা। এবারও নিলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চলছে আগাম আলু চাষ। এখানে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি অফিস। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় আগের চেয়ে এবার ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হচ্ছে কিশোরগঞ্জে। চাষীরা বলছেন, দুই মাসের মধ্যেই আলু তুলে বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এদিকে, আগাম আলু চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তা। পরিত্যক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে, বাড়তি উপার্জন নিশ্চিতে, দেশে আগাম আলু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। 

দিনাজপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ(ভিডিও)

দিনাজপুরের বিরামপুরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফলের চাষাবাদ। এখানকার মাটি চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাই ফলটির আবাদে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। দিনাজপুরের বিরামপুরে কুন্দনহাটের আয়ড়ামোড় গ্রামে ২ বছর আগে স্বল্প পরিসরে ১০০টি ড্রাগনের চারা দিয়ে চাষ শুরু করেন প্রকৌশলী কামরুজ্জামান। এক বছরের মাথায় ফল ধরা শুরু হয়। আর দেড় লাখ টাকা খরচ করে তার লাভ হয় ৫০ হাজার টাকা। বেশ চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়িয়ে এখন প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আড়াই হাজার ড্রাগন ফল লাগিয়েছেন কামারুজ্জামান। স্থানীয়ভাবে কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগই ঢাকাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ফল দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ বাড়লে এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।   

৮ কেজি ওজনের আলু

আলুর ওজন ৮ কেজি। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? হ্যাঁ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এক কৃষকের জমিতে এমন একটি মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। আলুটি দেখতে চাষীর বাড়িতে রীতিমতো ভিড় পড়ে গেছে। ওই কৃষকের নাম বেলায়েত হোসেন। বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে। বুধবার তার ক্ষেত থেকে আলুটি তোলা হয়। একটি আলুর এত ওজন হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজন। আলুটি দেখতে লোকজন ছুটে যাচ্ছে কৃষকের বাড়িতে। বেলায়েত হোসেন বাড়ির সামনে নিচু জমি বালুমাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করেন। এরই সঙ্গে সিন্ধি প্রজাতির (লাল) মিষ্টি আলু রোপণ করেন। ছয় মাস পর গত বুধবার মাটি সরিয়ে দেখতে পান, একটি আলু অনেক বড়। পরে মেপে এর ওজন পান সাত কেজি ৭০০ গ্রামের বেশি। আরো কিছু আলু হয়েছে তা আকারে ছোট। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, ‘সাধারণত এক-দেড় কেজি ওজনের মিষ্টি আলু হয়। এত বড় আলু হয় না। এটা অস্বাভাবিক বড় হয়েছে। তবে বিষয়টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।’ / এআর /

দক্ষিণাঞ্চলে নারিকেলে নতুন প্রজাতির মাইট সনাক্ত

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে (বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও বাগেরহাট) নারিকেলে নতুন প্রজাতির একটি মাইট (মাকড়) সনাক্ত করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এক দল গবেষক। তারা নতুন প্রজাতির মাইটটির বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছেন Acarus cocosi Mondal, Rahman & Jahan, 2018। নারিকেলে নতুন মাইট সনাক্তকরণ ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে গবেষণা প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ”বাংলাদেশে ২০০৪ সালে যশোরে সর্বপ্রথম নারিকেলে বাদামী রঙে শুকিয়ে যাওয়া বা নারিকেলের অসম বৃদ্ধি বা ফেটে যাওয়া লক্ষণ পরিলক্ষিত হলেও ২০০৬ সালে যশোরে (RARS (BARI) সর্বপ্রথম নারিকেলে ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis ) আক্রমন সনাক্ত করেন। কিন্তু নারিকেলে এধরনের আক্রমন শুধু কী একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis ) আক্রমনে হচ্ছে নাকি ভিন্ন কোন প্রজাতির উপস্থিতি আছে, তা অনুসন্ধানে আমাদের গবেষক দল পবিপ্রবি’র রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের আর্থিক অনুদানে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং নারিকেলের বৃতির নীচে এবং আক্রান্তস্থান থেকে দুটি প্রজাতির মাইট সনাক্ত করেন যার একটি বিশ্বে নতুন প্রজাতি: Acarus cocosi sp. nov. ও অন্যটি বাংলাদেশে প্রথম রেকর্ড করা হয়েছে: Sancassania (Caloglyphus) berlesei)। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনসেক্ট মলিকুলার ফিজিওলজি ল্যাবের সহযোগীতায় নতুন সনাক্তকৃত মাইট দুটির জিনোম সিকুয়েন্স (আংশিক) সম্পন্ন করে ঘঈইও জিন ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হলো যে নারিকেলে এধরনের আক্রমন শুধু একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis) আক্রমনে হচ্ছে না বরং ভিন্ন প্রজাতির মাইটেরও উপস্থিতি রয়েছে। আমাদের গবেষণা দল শুধু প্রজাতি সনাক্তকরণই নয় বরং কীভাবে তার বিস্তার প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন। কারন এই মাইটের মারাত্মক আক্রমনের কারনে প্রায় ৬০% ফলন এবং ৩৬% নারিকেলের শুষ্ক শাঁস কমে যায়।” এ গবেষণা দলের অন্যান্য গবেষক হলেন প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, প্রফেসর ড. কিয়ং ইয়ল লী, পিংকী মন্ডল ও পিযূষ কান্তী ঝাঁ। এসএইচ/

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীজগ্রাম (ভিডিও)

পরিকল্পিত উপায়ে রবিশস্যের বীজ সংরক্ষণ করে ফসল উৎপাদনে সুফল পাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর ইউনিয়নের মোল্লান গ্রামের চাষীরা। কৃষকদের সমন্বিত চেষ্টা আর কৃষি বিভাগের সহায়তায় বীজগ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে গ্রামটি। এই উদ্যোগ এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছে আশপাশের এলাকার চাষীদের মাঝেও। ফসলের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে মডেল গ্রাম এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোল্লান। কৃষি বিভাগের সহায়তায় গ্রামের কৃষকেরা ধান, গম, মাসকলাই, ভুট্টা ও সরিষার বীজ সংরক্ষণ করছেন। এক বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানসম্মন্ন বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য বেছে নেয় মোল্লান গ্রামকে। চাষীদের সংঘবদ্ধ করে বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন ও পরে পরিকল্পিত উপায়ে সংরক্ষণ করা হয় বীজ। গ্রামের কৃষকদের আন্তরিকতায় এরইমধ্যে মোল্লান বীজগ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সংরক্ষিত এই বীজ কৃষকরা সরবরাহ করছেন আশপাশের গ্রামেও। শুধু বীজ সংরক্ষণ নয়, কৃষি সংশ্লিষ্ট সব ধরণের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামটিকে কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মডেল করার কথা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ভবিষ্যতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব গ্রামকেই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।  

শেরপুরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ (ভিডিও)

শেরপুরের সদর উপজেলার জঙ্গলদী গ্রামে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ। সব্জি উৎপাদনে জৈব সার ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাড়ি বাড়ি তৈরী হচ্ছে কেঁচো কম্পোস্ট সার। ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসছে জঙ্গলদী।  বাড়িতে বাড়িতে চলছে কেঁচো চাষ, তৈরি হচ্ছে কম্পোস্ট সার। সবজি ক্ষেতে এই জৈব সার ব্যবহার করছেন কৃষকরা। কীটনাশকের বদলে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার বেড়েছে। উৎপাদিত হচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, টমেট, লেবু, বেগুনসহ নানা সবজি। বাজারে এই অর্গানিক সবজির চাহিদাও বেশি।  স্থানীয় কৃষিবিভাগই জঙ্গলদীর এই নিরব বিপ্লবের অগ্রপথিক। প্রাথমিকভাবে ১৫টি কৃষক পরিবারকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেয় তারা। তাদের সাফল্যে উৎসাহী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।   পরিবেশবান্ধব জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এমন চাষাবাদ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়–ক, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

‘ব্লাস্ট থেকে বাঁচতে অগ্রহায়ণের প্রথমার্ধে বপন করুন গমের বীজ’

বাংলাদেশে কৃষকদের কাছে অন্যতম চাষাবাদযোগ্য ফসল গম। যা আবহমান কাল ধরে তারা চাষ করে আসছেন। কিন্তু গত ২০১৬ সালে এ ফসলে আক্রমন করে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকজনিত একটি রোগ। যা বছরে দেশের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গমকে নষ্ট করে দেয়। গবেষকরা তাই এ রোগ প্রতিরোধে আবিষ্কার করেছেন নতুন জাতের বারি গম ৩৩। রোগ থেকে রক্ষা পেতে এ গমের বীজ অগ্রহায়নের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বপন করার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের(দিনাজপুর)মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা বলেন, সামনে শীত আসছে। কৃষকদের এখনই গম চাষের প্রস্তুতি নিতে হবে।গমের ক্ষতিকর রোগ ‘ব্লাস্ট’ থেকে বাঁচতে কৃষকদের আগামী অগ্রহায়ন মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বীজ বপন শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম (ম্যাগনাপরথি অরাইজি পাইরিকুলারিয়া অরাইজি প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম)। গমের শীষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্র  আবহাওয়া থাকলে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অর্থাৎ শীত ও গরমের তারতম্য বেশি হলে এ রোগ বেশি হয়। তিনি জানান, এ রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদেরকে ব্লাস্টমুক্ত গমের ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। অপেক্ষাকৃত কম সংবেদনশীল জাত বারি গম ২৮, বারি গম ৩০ এর  চাষ করতে হবে। বপনের আগে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ৩ গ্রাম হারে প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি অথবা ৩ মিলি হারে ভিটাফ্লো ২০০ এফএফ ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। বীজ শোধন করলে গমের অন্যান্য বীজবাহিত রোগও দমন হবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রতিষেধক ব্যবস্থা হিসেবে শীষ বের হওয়ার সময় একবার এবং এর ১২ থেকে ১৫ দিন পর আরেকবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে ৬ গ্রাম নাটিভো ৭৫ ডব্লিউ জি-নভিটা ৭৫ ডব্লিউ জি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা আরো জানান, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধক জাত হিসেবে আমরা বারি গম ৩৩ উদ্বাবন করেছি। তবে আগামীতে রোগ প্রতিরোধে আরো শক্তিশালী নতুন গমের জাত উদ্ভাবনে আমাদের গবেষণা চলছে। এরই মধ্যে গবেষণার ৩ বছর পেরিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগে আমাদের বীজের নমুনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে আমরা কৃষকদের মাঝে আরো উন্নত জাতের গমের বীজ তুলে দিতে পারবো। বাংলাদেশ এগ্রিকালসার রিসার্স কাউন্সিলের ফসল বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ব্লাস্ট রোগটি ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম ব্রাজিলে দেখা যায় এবং পরে ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা এসব দেশে এর বিস্তার হয়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলা জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব  দেখা যায়, যা মোট গম আবাদি জমির প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমানে এ রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আক্রান্ত এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকাতেও কৃষকদের সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগটি অনেকটাই কমে এসেছে। আশা করছি আরো কমে আসবে। বাংলাদেশ এগ্রিকালসার রিসার্স কাউন্সিল সূত্র জানায়, গমের জাত ও বপনের সময়ভেদে রোগের মাত্রা এবং ফলনের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এ রোগের কারণে আক্রান্ত  গমের ফলন শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো ক্ষেতের ফসল প্রায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়। একই প্রজাতির ছত্রাক হলেও গমের প্যাথোটাইপ ধানে এবং ধানের প্যাথোটাইপ গমে ব্লাস্ট রোগ সংঘটিত করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সেইনসবারি ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েনসিংয়ের মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু ধানের ব্লাস্টের জীবাণু থেকে আলাদা। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাস্ট আক্রান্ত গম ক্ষেতের কোনো কোনো স্থানে শীষ সাদা হয়ে যায় এবং অনুকূল আবহাওয়ায় তা অতি দ্রুত সারা ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। গমের কিছু শীষের উপরিভাগ শুকিয়ে সাদাটে বর্ণ ধারণ করে যা সহজেই নিম্নভাগের সবুজ ও সুস্থ অংশ থেকে আলাদা করা যায়; আবার কোনো কোনো শীষের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই শুকিয়ে সাদাটে হয়ে যায়। এটি গমের ব্লাস্ট রোগের আদর্শ লক্ষণ। প্রধানত গমের শীষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শীষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত স্থানের উপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শীষের দানা অপুষ্ট হয় ও কুঁচকে যায় এবং দানা ধূসর বর্ণের হয়ে যায়। পাতায়ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে পাতায় চোখের মতো ধূসর বর্ণের ছোট ছোট নেক্রোটিক দাগ পড়ে। আক্রান্ত বীজ এবং বাতাসের মাধ্যমে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। বৃষ্টির কারণে গমের শীষ ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ভেজা থাকলে এবং তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা এর  বেশি হলে এ রোগের সংক্রমণ হয় এবং রোগের জীবাণু দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্লাস্ট রোগের জীবাণু কিছু ঘাস জাতীয় বিকল্প পোষক আগাছার যেমন- চাপড়া, শ্যামা, আংগুলি ঘাসের মধ্যে বাস করতে পারে; তবে সেখানে রোগের স্পষ্ট লক্ষণ সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। অনুকূল পরিবেশে বিকল্প পোষক আগাছায় ব্যাপকভাবে উৎপন্ন জীবাণু ব্লাস্ট রোগের মহামারী সৃষ্টি করতে পারে। / এআর /  

৮০ কোটি টাকার বীজ-সার পাচ্ছেন কৃষক

এগারোটি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এলক্ষ্য গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকার বীজ-সার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এতথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রী  বলেন, চলতি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ এবং পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদনের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার পাবে। কৃষিমন্ত্রী জানান, ৬৫ হাজার ৭০০ জন কৃষক গম বীজ, দুই লাখ ২১ হাজার ৫০০ জন ভুট্টা বীজ, দুই লাখ ১০ হাজার ২০০ জন সরিষা, ১০ হাজার ১০০ জন চিনাবাদাম, ১৮ হাজার জন গ্রীষ্মকালীন তিল, ৪৮ হাজার ৪০০ জন গ্রীষ্মকালীন মুগ, ২৪ হাজার ৩০০ জন শীতকালীন মুগ, ১৩ হাজার ৬০০ জন খেসারী, পাঁচ হাজার ৪০০ জন ফেলন, দুই হাজার ৭০ জন বিটি বেগুন এবং ৭১ হাজার ৭০০ জন কৃষক বোরো বীজ পাবেন। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি গম, পাঁচ কেজি ধান, দুই কেজি ভুট্টা, এক কেজি সরিষা, ১০ কেজি চীনাবাদাম, এক কেজি গ্রীষ্মকালীন তিল, পাঁচ কেজি গ্রীষ্মকালীন মুগ, আট কেজি খেসারী, পাঁচ কেজি মাষকলাই, সাত কেজি ফেলন এবং ২০ গ্রাম বিটি বেগুনের বীজ পাবেন। ধান, গম, ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন তিল, সরিষা ও বিটি বেগুন চাষে প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পাবেন। আর চীনাবাদাম, গ্রীষ্মকালীন মুগ, শীতকালীন মুগ, খেসারী, মাষকলাই ও ফেলন চাষে প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি করে ডিএপি ও পাঁচ কেজি করে এমওপি সার দেবে সরকার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষককের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে মতিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম হলে তা আপনারা তা তুলে ধরবেন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। প্রণোদনার অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে; এজন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না বলে জানান মন্ত্রী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। টিআর/

মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে রংপুরের কৃষকদের জীবন (ভিডিও)

রংপুরে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে মাল্টার। গুনগত মান আর মিষ্টি এবং সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে।  মাল্টা চাষ লাভবান হওয়ায় উৎসাহিত হচ্ছেন অন্যরাও। পুরো বাগানজুড়ে মাল্টা। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৭০টির ফল। মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় মিঠাপুকুর, রানীপুকুর এলাকায় প্রথম মাল্টার আবাদ শুরু হয়। দু’বছর পর গাছে ফল ধরা শুরু করেছে। যার গুনগত মানও ভালো। কৃষকরা বলছেন, মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ২ লাখ টাকারও বেশী মাল্টা বিক্রি হবে এবার। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এখন মিঠাপুকুরের বিভিন্ন এলাকায় ৩৬টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। দিন দিন আবাদ বাড়ছে। মাল্টা চাষের সফলতা দেখে আশেপাশের কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ব্যাপকভাবে মাল্টার আবাদ সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে এই ফলটির আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও জানান তারা।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি