ঢাকা, শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০:১৬:২৬

জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন (ভিডিও)

জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন (ভিডিও)

জয়পুরহাটে আগাম জাতের আলু তোলা শুরু হয়েছে। রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবার ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। আর ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। আলুর ক্ষেতে সবুজের সমারোহ। ভালো আবহাওয়ার কারণে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে আগাম জাতের এই ফলন তোলার কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ মণ আলু। জাতভেদে প্রতি মণ বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৭ শ টাকা। জয়পুরহাটের এই আগাম আলু ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে এ সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাত চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। জয়পুরহাটের আলু বিদেশে পাঠানো গেলে, কৃষকরা আরও বেশি পয়সার মুখ দেখবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
নাটোরে শীতের সবজির বাম্পার ফলন (ভিডিও)

অনুকুল আবহাওয়ায় নাটোরে এবার শীতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই বাজারে সবজির দাম ক্রেতার নাগালেই আছে। আর আবাদের খরচ কম হওয়ায় কৃষকও মুনাফা করছে। নাটোরে এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়। এরইমধ্যে সবধরনের সবজি বাজারে উঠেছে। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সবজি আবাদে খরচও হয়েছে কম। নেই পোকা মাকড়ের উপদ্রবও। অনেক কৃষক একই জমিতে তিন রকমের সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। লোকসানের শংকা কম হওয়ায় আগামীতে আরো বেশী জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেক কৃষক। মার্চ মাস পর্যন্ত শীতের সবজি চাষের শেষ সময় নির্ধারিত হলেও এখনই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। নাটোর সবজি চাষের উপযোগী এলাকা ও লাভ বেশী হওয়ায় চাষ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

সাগরে নিম্নচাপ, ভোটের আগেই বাড়তে পারে শৈত্যপ্রবাহ

বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, এটি কেটে গেলে শীত জাঁকিয়ে বসতে পারে বলে আভাস মিলেছে। পৌষের শুরুতেই নিম্নচাপের কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নিম্নচাপটি কেটে গেলেই শীত জেঁকে বসতে পারে। ডিসেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, মাসের শেষার্ধে উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)/মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। ওই সময় শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই সবাইকে যেতে হবে ভোটকেন্দ্রে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক শনিবার বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।। এটি সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ছিল। ওমর ফারুক বলেন, “এটি আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।” উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে বলেছে অধিদপ্তর। আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আরকে//

কম্বাইন্ড হারভেস্টারে কৃষকের লোকসান কমলো(ভিডিও)

কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের কারণে, মৌলভীবাজারে শ্রমিক সংকট কেটেছে। তাই এবার সহজে আমন ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকরা। সরকারি এই যন্ত্র ব্যবহারে খরচও কমেছে অনেক। বিভিন্ন মৌসুমে মৌলভীবাজারে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত সময় ফসল মাঠে পড়ে থাকার কারণে, ৩০ ভাগ ধান জমিতেই নষ্ট হয়। ফলে প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়েন চাষিরা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কৃষকদের জন্য চীন থেকে নিয়ে আসলো অত্যাধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন। এটি এক একর জমির ধান কেটে, মাড়াই ও ঝাড়াই করতে পারে এক ঘণ্টায়। এতে খরচ হয় মাত্র ৫ শ টাকা। আগে এই কাজ করতো ১৫ জন শ্রমিক। তাদের পরিশোধ করতে হতো ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। সরকারের কৃষকবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে এই মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানায় কৃষি অধিদপ্তর। মৌলভীবাজারে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জয়পুরহাটের সবজি চাষীরা লাভবান  (ভিডিও)

সবজি চাষে বরাবরই দেশের মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন জয়পুরহাটের চাষীরা। তবে পোকামাকড় আর রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ বাড়ায় উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনটা বাড়েনি ফলন। এর ফলে উৎপাদিত সবজি বেশি দামে বেচেও লাভবান হচ্ছেননা কৃষকরা। কৃষক গফুর মিয়া; প্রতিবছরই নিজ জমিতে পরিশ্রম করে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। এবারও তিনি দুই বিঘা জমিতে ফুল কপি চাষ করেছেন। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ আক্কেলপুরের এই কৃষক। প্রায় একই অবস্থা অন্যান্য চাষীদেরও। তাদের অভিযোগ, সবজি চাষে খরচ বেশি। সার-কীটনাশকের দাম আর শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজারে সবজির দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা সুবিধা করতে পারছেননা। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কম দামে সবজি কিনে চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।  তাদের পাল্টা দাবি, বেশি দামে কেনা তাই বেশি দামেই বিক্রি। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম সবজিতে ফলন কিছুটা কম আসবেই। তবে আগাম জাতের বীজ বুনলে তা বাড়বে। জেলায় এ’বছর সবজি চাষ হয়েছে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে।

চালু হলো ‘গাছের ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’

গাছেরও প্রাণ আছে, শত বছর আগে বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এ কথার প্রমাণ করে গেছেন। তাই গাছেরও যত্ন দরকার। অযত্ন আর বিভিন্ন রোগ বা পোকার আক্রমণে গাছ মরে যেতে পারে। পাতা শুকিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন রকমের অসুখ হয় গাছেরও। এই অসুস্থ গাছের পরিচর্যায় চালু হলো ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। গ্রিন সেভারস অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই হাসপাতাল চালু করেছে।গতকাল ৩০ নভেম্বর ছিল মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এদিন শুক্রবার সকালে বনানী কবরস্থানে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ‘ভ্রাম্যমাণ গাছের হাসপাতাল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা। ডিএনসিসির পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ গাছের হাসপাতালের এ কার্যক্রম শুরু হয়। গাছের হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ, আনিসুল হক ট্রাস্টি, স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব, ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সোলায়মান, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (বিপণন) মোহাম্মাদুল হক, ডিএনসিসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান প্রমুখ।প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন ছিল সবুজ ঢাকা গড়ার। ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে গেছেন। তার এই কাজ এগিয়ে নিতে ‘ভ্রাম্যমাণ গাছের হাসপাতাল’ কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। এই হাসপাতালের মাধ্যমে গাছের সেবা ও পরিচর্যার কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় বিনা মূল্যে পৌঁছে দেবে সংগঠনটি। ভ্রাম্যমাণ এই হাসপাতাল চালানোর জন্য গাড়িটি দিয়েছে ডিএনসিসি।সংগঠনটির উদ্যোক্তা আহসান রনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে গাছের পরিচর্যার জন্য কিছু সরঞ্জাম থাকবে। যেমন—গাছের আর্দ্রতা মাপার জন্য পিএইচ মিটার, পানির মাত্রা মাপার জন্য হাইড্রোমিটার, সিম্পল মাইক্রোস্কোপ, নিড়ানি, স্প্রে, কাঁচি ইত্যাদি। তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে গ্রিন সেভারস অ্যাসোসিয়েশন। এ পর্যন্ত তারা ৩ হাজার ৯০০ ছাদে বাগান তৈরিতে সহযোগিতা করেছে। ঢাকায় সাড়ে চার লাখ ছাদ আছে। এগুলোতে গাছ লাগালে শহর সবুজ হবে। প্রয়াত মেয়রের সবুজ ঢাকার কাজ এগিয়ে যাবে। ভ্রাম্যমাণ এই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে—০১৯০৯১১০৬০৬, ০১৯০৯১১০৬০৭, ০১৯২০১১১৬৬৬ নম্বরে কল করতে হবে।এসএ/  

পোকামাকড় ডেকে এনে চাষের উন্নতি!

আজকের বিশ্বে খাদ্যের বেড়ে চলা চাহিদা মেটাতে বিশাল আকারে কৃষিকাজ চলছে৷ সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ করে দ্রুত ফসল তোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা পোকামাকড় আকর্ষণ করে এর এক বিকল্প পদ্ধতি তুলে ধরছেন। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কাছের একটি শহরের খেতে নিয়মিত কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন৷ কীটপতঙ্গ দূর করার বদলে কৃষিকাজকেই তাদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তারা৷ সবার আগে খেতের আলের দিকে চোখ চলে যায়৷ ঝোপঝাড় ও জংলি ফুল দিয়ে সাজানো সেই সীমানা। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর টোমাস ড্যোরিং ও তার টিম এভাবে খেতে আরও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করতে চান৷ সেই ঝোপের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির গুবরে পোকা শীতযাপন করে৷ বসন্তকালে তারা আবার জেগে উঠলে খেত বেশি দূরে থাকে না। ড্যোরিং বলেন, ‘এটা এক ধরনের গুবরে পোকা, সেটি নানা রকম অনিষ্টকারী কীট খেয়ে ফেলে৷ তাদের বিশাল ঝাঁক খেতের উপর উড়ে বেড়িয়ে সেই সব কীট ধ্বংস করে। কৃষি পরিবেশবিদরা খেতের ধারে এমন সব উপকারী পোকামাকড়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যারা ক্ষতিকারক কীট খেয়ে ফেলে৷ ফলে কীটনাশকের আর প্রয়োজন পড়বে না বলে তাদের আশা৷ টোমাস ড্যোরিং বলেন, ‘এখানেই লেডিবাগ প্রজাতির শূককীট রয়েছে, যারা অ্যাফিড বা জাবপোকা খায়৷ সার্বিক একটা প্রণালী হিসেবে আমরা উপকারী পোকামাকড়ের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কীটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারি৷ তবে তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না৷ তা সত্ত্বেও আমরা গোটা কাঠামোকে স্থিতিশীল করে তুলতে পারি৷’ খেতের ধারে গবেষকরা ফুলের সারি সৃষ্টি করেছেন৷ ফুলগুলি একসঙ্গে ফোটে না, একের পর এক তাদের বিকাশ ঘটে৷ ফলে পোকামাকড়ের খাদ্যের অভাব হয় না৷ ড্যোরিং বলেন, ‘এখানে যেমন দেখা যাচ্ছে, নানা ধরনের পোকা এই ফুল ব্যবহার করতে পারে৷ খেতের ফাঁক দিয়ে ট্রাকটর চলে৷ ফলে সেখানকার মাটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়৷ সে কারণে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর তেমন উপযোগিতা নেই৷ মাটির এমন বৈশিষ্ট্যের ফলে সেখান থেকে আয়ের অঙ্ক কম৷ আয়ের চিন্তা না থাকায় সেই জায়গা পোকামাকড় আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷’ শুধু ধারে নয়, এই খেতের উপরের অংশও জার্মানির বেশিরভাগ খেতের থেকে ভিন্ন৷ গবেষকরা আগাছা ধ্বংস করতে কোনো রকম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না৷ ফলে পোকারা খেতের মধ্যেও খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে, যেমন বীজ, পরাগ, ক্যামোমিল ইত্যাদি৷ খেতের ধারে ফুলের মেলা, কোনো কীটনাশক নয়, সারের পরিমাণও কম এবং ফসল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বেশ সফল হচ্ছে৷ প্রচলিত কৃষিক্ষেত্রের তুলনায় এখানে জীববৈচিত্র্য প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি৷ সেইসঙ্গে পরাগবহনকারী পোকাদের মাত্রা ৫০ শতাংশ বেশি৷ তথ্যসূত্র : ডয়েচে ভেলে এমএইচ/

বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ(ভিডিও)

মৌলভীবাজারে বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে মনিপুরী অধ্যুষিত এলাকায় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে শত শত পরিবার। মনিপুরি সম্প্রদায়ের এই সাফল্যে এবার পুরো জেলায় বিস্তৃতি লাভ করছে। টমেটো এখন এই অঞ্চলে হয়ে ওঠেছে ১২ মাসী ফসল। কয়েক বছর আগে ১২ মাসি টমেটো চাষ শুরু হয় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুনিপুরি অধ্যুষিত এলাকায়। কৃষি বিভাগের প্রাক্তন উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুরেন্দ্র কুমার সিংহা গ্রীষ্মকালে বনবেগুনের সাথে বারি-৪ জাতের টমেটোর চারা গ্রাফটিং করে পরীক্ষামুলক চাষ শুরু করেন। পরে সফলতা পায় এ চাষ পদ্ধতি। এখন এ এলাকায় ধানের পর ২য় কৃষিজ ফসলে রূপ নিয়েছে এই টমেটো। তারা জানালেন প্রতিক’ল আবহাওয়ায়ও এটি ফল দেয়। রোগবালাইও কম। আর কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা জানালেন অনান্য জাতের তুলনায় এই টমেটো বেশি সময় ধরে ফল দেয় এবং দেরিতে পঁচে। খরা সহিষ্ণু এই জাতটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিলে সারাবছরই টমেটোর সরবরাহ থাকবে, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিত্যক্ত জমিতে আলু চাষ(ভিডিও)

শীত ঘিরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে বীজ রোপণের কাজ। পরিত্যক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন ও বাড়তি উপার্জনের আশা করছেন চাষীরা। এবারও নিলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চলছে আগাম আলু চাষ। এখানে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি অফিস। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় আগের চেয়ে এবার ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হচ্ছে কিশোরগঞ্জে। চাষীরা বলছেন, দুই মাসের মধ্যেই আলু তুলে বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এদিকে, আগাম আলু চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তা। পরিত্যক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে, বাড়তি উপার্জন নিশ্চিতে, দেশে আগাম আলু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। 

দিনাজপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ(ভিডিও)

দিনাজপুরের বিরামপুরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফলের চাষাবাদ। এখানকার মাটি চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাই ফলটির আবাদে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। দিনাজপুরের বিরামপুরে কুন্দনহাটের আয়ড়ামোড় গ্রামে ২ বছর আগে স্বল্প পরিসরে ১০০টি ড্রাগনের চারা দিয়ে চাষ শুরু করেন প্রকৌশলী কামরুজ্জামান। এক বছরের মাথায় ফল ধরা শুরু হয়। আর দেড় লাখ টাকা খরচ করে তার লাভ হয় ৫০ হাজার টাকা। বেশ চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়িয়ে এখন প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আড়াই হাজার ড্রাগন ফল লাগিয়েছেন কামারুজ্জামান। স্থানীয়ভাবে কিছু বিক্রি হলেও বেশিরভাগই ঢাকাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ফল দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ বাড়লে এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।   

৮ কেজি ওজনের আলু

আলুর ওজন ৮ কেজি। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? হ্যাঁ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এক কৃষকের জমিতে এমন একটি মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। আলুটি দেখতে চাষীর বাড়িতে রীতিমতো ভিড় পড়ে গেছে। ওই কৃষকের নাম বেলায়েত হোসেন। বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে। বুধবার তার ক্ষেত থেকে আলুটি তোলা হয়। একটি আলুর এত ওজন হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজন। আলুটি দেখতে লোকজন ছুটে যাচ্ছে কৃষকের বাড়িতে। বেলায়েত হোসেন বাড়ির সামনে নিচু জমি বালুমাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করেন। এরই সঙ্গে সিন্ধি প্রজাতির (লাল) মিষ্টি আলু রোপণ করেন। ছয় মাস পর গত বুধবার মাটি সরিয়ে দেখতে পান, একটি আলু অনেক বড়। পরে মেপে এর ওজন পান সাত কেজি ৭০০ গ্রামের বেশি। আরো কিছু আলু হয়েছে তা আকারে ছোট। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, ‘সাধারণত এক-দেড় কেজি ওজনের মিষ্টি আলু হয়। এত বড় আলু হয় না। এটা অস্বাভাবিক বড় হয়েছে। তবে বিষয়টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।’ / এআর /

দক্ষিণাঞ্চলে নারিকেলে নতুন প্রজাতির মাইট সনাক্ত

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে (বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও বাগেরহাট) নারিকেলে নতুন প্রজাতির একটি মাইট (মাকড়) সনাক্ত করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এক দল গবেষক। তারা নতুন প্রজাতির মাইটটির বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছেন Acarus cocosi Mondal, Rahman & Jahan, 2018। নারিকেলে নতুন মাইট সনাক্তকরণ ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে গবেষণা প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ”বাংলাদেশে ২০০৪ সালে যশোরে সর্বপ্রথম নারিকেলে বাদামী রঙে শুকিয়ে যাওয়া বা নারিকেলের অসম বৃদ্ধি বা ফেটে যাওয়া লক্ষণ পরিলক্ষিত হলেও ২০০৬ সালে যশোরে (RARS (BARI) সর্বপ্রথম নারিকেলে ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis ) আক্রমন সনাক্ত করেন। কিন্তু নারিকেলে এধরনের আক্রমন শুধু কী একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis ) আক্রমনে হচ্ছে নাকি ভিন্ন কোন প্রজাতির উপস্থিতি আছে, তা অনুসন্ধানে আমাদের গবেষক দল পবিপ্রবি’র রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের আর্থিক অনুদানে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং নারিকেলের বৃতির নীচে এবং আক্রান্তস্থান থেকে দুটি প্রজাতির মাইট সনাক্ত করেন যার একটি বিশ্বে নতুন প্রজাতি: Acarus cocosi sp. nov. ও অন্যটি বাংলাদেশে প্রথম রেকর্ড করা হয়েছে: Sancassania (Caloglyphus) berlesei)। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনসেক্ট মলিকুলার ফিজিওলজি ল্যাবের সহযোগীতায় নতুন সনাক্তকৃত মাইট দুটির জিনোম সিকুয়েন্স (আংশিক) সম্পন্ন করে ঘঈইও জিন ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হলো যে নারিকেলে এধরনের আক্রমন শুধু একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের (Aceria guerreronis) আক্রমনে হচ্ছে না বরং ভিন্ন প্রজাতির মাইটেরও উপস্থিতি রয়েছে। আমাদের গবেষণা দল শুধু প্রজাতি সনাক্তকরণই নয় বরং কীভাবে তার বিস্তার প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন। কারন এই মাইটের মারাত্মক আক্রমনের কারনে প্রায় ৬০% ফলন এবং ৩৬% নারিকেলের শুষ্ক শাঁস কমে যায়।” এ গবেষণা দলের অন্যান্য গবেষক হলেন প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, প্রফেসর ড. কিয়ং ইয়ল লী, পিংকী মন্ডল ও পিযূষ কান্তী ঝাঁ। এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি