ঢাকা, সোমবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবানে নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিষু ও বিজু উৎসব শুরু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৪৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বছরের পুরোনো দুঃখ-কষ্টকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বিষু উৎসব। একই সঙ্গে ফুল ভাসানোর এই আয়োজনের মাধ্যমে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবেরও সূচনা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান শহরের রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন-সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা সবার মঙ্গল কামনায় কলাপাতায় ভক্তি-শ্রদ্ধাভরে গঙ্গাদেবীর পূজা করেন। পরে দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুভকামনা করেন।  বিষু উৎসবে ফুলবিষু, মূলবিষু ও নয়া বছর মোট তিন দিন নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠী। 

সূর্যোদয়ের আগেই সাঙ্গু নদীর তীরে ফুল ভাসাতে শত শত তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় জমে। গঙ্গাদেবীর পূজা শেষে সকাল থেকে ঘরে ঘরে ২০ থেকে ৩০ ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাঁজন। নতুন পোশাক পরিধান করে একে অপরের বাসায় পাঁজন খেতে যাচ্ছেন প্রত্যেকে।

রোববার সকাল ৮টায় আলীকদম সেনা জোন-সংলগ্ন মাতামুহুরী ব্রিজ এলাকায় বিষু-বিজু উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির আয়োজনে মাতামুহুরী নদীতে ফুল ভাসানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলীকদম ভারত মোহনপাড়া উৎসব কমিটির আহ্বায়ক দিপু তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ‘আজ গঙ্গা মায়ের উদ্দেশ্যে বিগত বছরের দুঃখ-কষ্ট ভুলে এবং বিশ্বশান্তি কামনায় নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আমাদের বিষু উৎসবের সূচনা হয়েছে।’

এদিকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে জেলার মার্মা সম্প্রদায় জেলা শহরের রাজার মাঠ ও সাঙ্গু নদীর চরে পৃথক দুটি কমিটির আয়োজনে বর্ষবরণ উপলক্ষে জলকেলিতে মেতে ওঠার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদ্‌যাপনের সদস্যসচিব অমিত ভূষণ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও বিষু উৎসব পালনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে আমরা উৎসব শুরু করেছি। আশা করি, উৎসব সুন্দরভাবে শেষ হবে।’

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি