ঢাকা, রবিবার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২০

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৩৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নাইজেরিয়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে এসে এ হামলা চালিয়েছে।

শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এটিই সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই তারাবা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম বিন্নারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি বিদ্রোহীদের সহিংসতায় আক্রান্ত। তবে দেশটির মধ্যাঞ্চলের দিকে অবস্থিত তারাবা রাজ্যে মতাদর্শভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ ডাকাত দলগুলোর তৎপরতাও রয়েছে।

নাইজেরিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় এসব সশস্ত্র দল গ্রামে হামলা চালিয়ে আসছে। তারা  মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে এবং কৃষক ও খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে। এসব এলাকায় সরকারি উপস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সশস্ত্র দলগুলো সহজেই তৎপরতা চালানোর সুযোগ পায়।

বিন্নারি গ্রামের বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা বলেন, ‘হামলা থেকে বাঁচতে মানুষ চারদিকে ছুটে পালাচ্ছিল। কেউ জানত না, কোথায় গেলে নিরাপদ থাকা যাবে।’

মুসা ও সাইদু নুহু—দুজনই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

নুহু এএফপিকে বলেন, ‘হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আমরা ২০টির বেশি মরদেহ গুনেছি। তখনো কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন।’

তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়া বলেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বারবার হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে কার্যত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব গোষ্ঠী প্রায় বিনা বাধায় নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও বলেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক ব্যর্থতা তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে এবং অপরাধের দায়মুক্তির প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহি জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে ব্যক্তি ছিলেন। এরপর তারা গ্রামে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালায়।

সাইফুল্লাহি বলেন, হামলাকারীরা দোকানপাটে লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়। হামলার সময় আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়া লোকজনের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলও তারা নিয়ে যায়।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাতদের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। এসব গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য আদর্শিক লড়াই নয়, বরং অর্থ উপার্জন। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় তাদের সঙ্গে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে।

এদিকে, শনিবার নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি