ঢাকা, শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬

যুবদলের সেই বহিষ্কৃত নেতা সাইমন চার দিনের রিমান্ডে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১৪, ২ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে মারধর ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে চার দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামি ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওনকে তিন দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাইমনের চার দিন এবং অন্য তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটর এলাকার নিউ ইস্কাটনে একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। সেখানে সাইমন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। সোহান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তাঁর বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয় এবং অন্য আসামিরাও তাঁকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে চলে যান। আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তাঁর ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন সেখানে আসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে করে আবারও সেখানে ফিরে আসেন এবং সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া করেন এবং কয়েকজনকে আটকে ফেলেন। পালানোর সময় প্রধান অভিযুক্ত সাইমনও আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় পরে সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ ছাড়া পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি