আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১২:৩৪, ২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৮, ২ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে বা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম চালাবে, স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, কিছু পতিত শক্তির দোসর এখানে রয়েছে। এই কয়েকদিন দেশকে অস্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চলেছে সেখানে কোনো শ্রমিক ভাইবোন ছিলেন না৷ ভিন্ন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় অনেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিসের এই ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন? ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এ মাসে আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে এবং থাকবে। কোনো পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদি চায় তাহলে অতিশীঘ্রই যেন প্রত্যাবর্তন করে। তাদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী সুবিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, পলাতক আওয়ামী সরকারের অনেক নেতাকর্মীরা ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন। তারা যদি চায় আজকেই এন্ট্রি নিতে পারে। তাদের ফেরত আনতে তো আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই দেশের সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী জানিয়েছি। এই ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করে তারা তাদের পলাতক নেতাকর্মীদের বুস্টআপ করতে চাইছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।
শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজ হয়তো তাদের প্রথম সভা হতে পারে বা সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথা শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন, তাদের তালিকা দিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর নামও চাওয়া হয়েছে।
পোশাকশিল্পের কিছু কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকট, রফতানি আদেশ কমে যাওয়া কিংবা নিজস্ব সমস্যার কারণে কিছু কারখানা বন্ধ থাকতে পারে। তবে চলমান অস্থিরতার কারণে যেসব কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো চালু রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
এএইচ
আরও পড়ুন










