ঢাকা, বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মানুষের হাতের মুঠোয় ব্যাংকিং পৌঁছে দেয়া এক স্বপ্নদ্রষ্টা

ফারহানুর রহমান

প্রকাশিত : ১৬:২৬, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

একসময় ব্যাংকিং সেবা মানেই ছিল বড় শহরকেন্দ্রিক কার্যক্রম। গ্রাম কিংবা মফস্বলের মানুষের জন্য ব্যাংক ছিল দূরের এক বিষয়। এই বাস্তবতাকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন একজন মানুষ—তিনি আবুল কাশেম মো. শিরিন।

তাঁর উদ্যোগেই ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সেবা পৌঁছে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে—মানুষের একেবারে হাতের নাগালে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে, ডিজিটাল লেনদেন সহজ হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য, আর ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ যে আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপ ধারণ করেছে—তার পেছনে রয়েছে কিছু নীরব কর্মযোদ্ধার নিরলস পরিশ্রম ও দূরদৃষ্টি। সেই মানুষগুলোর তালিকায় যাঁর নাম সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে উচ্চারিত হয়, তিনি আবুল কাশেম মো. শিরিন। তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেননি, বরং বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবার ধরনটাই পাল্টে দিয়েছেন।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আজকের অবস্থানের পেছনে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ডাচ-বাংলা ব্যাংক আজ শুধু একটি ব্যাংক নয়—বরং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার এক অনুকরণীয় মডেল।

বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতে তিনি এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। দেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সরাসরি আইটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে এসে প্রথমে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পরে একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছেন।

যেখানে ব্যাংকিং নেতৃত্ব সাধারণত ব্যবসা বা ফাইন্যান্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই আসে—সেখানে প্রযুক্তি থেকে উঠে আসা একজন মানুষের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানো সত্যিই এক নতুন যুগের সূচনা। এটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—বাংলাদেশের কর্পোরেট সংস্কৃতিতেও এক নতুন বার্তা। তিনি প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ব্যাংকিংয়ের আসল শক্তি প্রযুক্তি—এবং প্রযুক্তিজ্ঞানী নেতৃত্বই পারে ব্যাংককে সত্যিকারের ভবিষ্যতমুখী করে তুলতে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর পথচলা মানেই উদ্ভাবন ও পরিবর্তনের গল্প। তিনি শুধু একটি ব্যাংক পরিচালনা করেননি—বরং ব্যাংকিং সেবার ধারণাটাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, পাল্টে দিয়েছেন চিরায়ত গতানুগতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাটি। তাঁর নেতৃত্বে ডাচ-বাংলা ব্যাংক হয়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

সবচেয়ে যুগান্তকারী অবদান তিনি রেখেছেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে যখন ডিজিটাল লেনদেনের ধারণাটিই নতুন, তখন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই চালু হয় দেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। আজ কোটি কোটি মানুষ যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে, বিল দিচ্ছে ও ব্যবসা করছে—তার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনিই। এই এক সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে দেশের আর্থিক লেনদেনের পুরো চিত্র।

তবে এত সাফল্য ও এত অর্জনের পরও মানুষ হিসেবে তিনি থেকে গেছেন ভীষণ সাদামাটা। কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি কোনো দিনই প্রচারের আলো খোঁজেননি—কিন্তু তাঁর কাজই তাঁকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা। মিষ্টভাষী, বিনয়ী ও প্রযুক্তিপ্রেমী এই মানুষটি সবসময় বিশ্বাস করেছেন—প্রযুক্তির আসল উদ্দেশ্য মানুষের জীবন সহজ করা।

আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রমাণ করেছেন—নেতৃত্ব মানে কেবল ক্ষমতার চেয়ার নয়; নেতৃত্ব মানে দৃষ্টিভঙ্গি, সাহস ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। হয়তো এ কারণেই ডাচ-বাংলা ব্যাংক আজ শুধু একটি ব্যাংক নয়—বরং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম প্রতীক।

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, তাঁর কাজের ছাপ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে থেকে যাবে বহুদিন।

তাঁর অবসর মানে কেবল একটি পেশাগত অধ্যায়ের সমাপ্তি—কিন্তু তাঁর ভাবনা, কর্মপদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে। বাংলাদেশের আইটি ও ব্যাংকিং খাতের মানুষ তাঁকে মনে রাখবে একজন নীরব বিপ্লবী হিসেবে—যিনি শব্দ না করে বদলে দিয়েছেন অনেক কিছু।

বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং বিপ্লবের ইতিহাস লিখতে গেলে আবুল কাশেম মো. শিরিন থাকবেন অনিবার্যভাবে সর্বাগ্রে।

লেখক: ফরহানুর রহমান,ডাইরেক্টর সেলস, এসইসিএল

এমআর//


** লেখার মতামত লেখকের। একুশে টেলিভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে।
Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি