আগামী দুই বছরে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব: ডিএসসিসি প্রশাসক
প্রকাশিত : ২০:৫৫, ১২ আগস্ট ২০২৬
জনগণ, গণমাধ্যম ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
বুধবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুস সালাম বলেন, নগরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের সমালোচনাকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখেন না বলেও জানান।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
রাজধানীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় পথ বা কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই পথ পুনরায় কার্যকর করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে এ ধরনের কাজ এক-দুই মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা কমাতে পাম্প কেনার কথা জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, আগে কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পানি কয়েক দিন জমে থাকত। এখন পাম্প ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে খননকাজে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সহযোগিতা চান
ড্রেনে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
দোকানিদের নিজ নিজ দোকানের সামনে বিন বা বালতি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। তবে বিভিন্ন মার্কেট ও হকার এলাকা থেকে রাতে বিপুল পরিমাণ ময়লা ফেলে যাওয়ার কারণে পরিষ্কার করার পরও অনেক এলাকা আবার নোংরা হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত জায়গার দায়িত্ব মালিকদের
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, কোথাও পানি জমে না থাকলে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কমে যায়। যেসব ব্যক্তিগত স্থানে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই জমে থাকা পানি অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছুটির দিনে হলিডে মার্কেটের পরিকল্পনা
ফুটপাত ও হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, রাস্তার ওপর কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। নির্ধারিত এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার সুবিধা রাখারও পরিকল্পনা রয়েছে।
হকারদের একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আনার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে হকারি করতে দেওয়া হবে না। প্রত্যেক হকারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই তিন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এএইচ
আরও পড়ুন










