আটাব নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নতুন বোর্ড ও পুনঃতফসিলের দাবি
প্রকাশিত : ২২:১২, ২২ জুলাই ২০২৬
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী ও সাধারণ সদস্যরা।
তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বিতর্কিত নির্বাচন ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন, বৈধ প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ, নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পুনঃতফসিল ঘোষণা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের সাংগ্রিলা ইন-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আটাবের সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, প্যানেল প্রধান এ এস এম ইব্রাহিম, দিদারুল হক ও মাহমুদুল আলম সিদ্দিকীসহ সংগঠনটির সাধারণ সদস্য ও ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১২ জুন প্রকাশিত আটাবের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাতিল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান, ভুয়া ভোটার এবং মৃত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হলেও ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ ভুলভাবে প্রয়োগ করে আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বক্তারা জানান, এসব বিষয়ে দায়ের করা মামলায় এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল গত ২১ জুলাই রায় দেন। রায়ে বিতর্কিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাতিল, চার নেতার প্রার্থিতা পুনর্বহাল এবং নির্বাচনী তফসিলের কয়েকটি কার্যক্রম বাতিল করে নতুন করে পুনঃতফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আপিল বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, তিন সদস্যের আপিল বোর্ডের একজন সদস্য শুনানিতে উপস্থিত না থাকলেও সিদ্ধান্তে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এটিকে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূলনীতি পরিপন্থী উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হল —
অনিয়ম ও কোরাম ভঙ্গের অভিযোগে বর্তমান নির্বাচন ও আপিল বোর্ড বাতিল করে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন; প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়া চার নেতাসহ অন্যায়ভাবে বাদ পড়া সব বৈধ প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া; ভুয়া ও বাতিল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে নতুন করে আইনানুগ ভোটার তালিকা প্রণয়ন; এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, আটাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এ লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
এমআর//
আরও পড়ুন










