ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জ অগ্নিকাণ্ডে ইমান উল্লাহ মাস্তান ৩ দিনের রিমান্ডে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৫৮, ৬ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমান উল্লাহ মাস্তানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালতের এই রিমান্ড আদেশ দেন।

গত ৫ এপ্রিল আসামি মাস্তানকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। ওই দিন শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার তারিখ ধার্য করেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে মজুতকৃত দাহ্য পদার্থ বা গ্যাস লাইটারের কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও বলা হয়, আসামি এই মামলার ঘটনার মূল হোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামী আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরীটি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণে ঘটনাটির সূত্রপাত । এর ফল অনেক লোক মারা যায় ও গরুতর আহত হয় ঢাকা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি আছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ।

এই আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ অভিযান পরিচালনা করলে মূল রহস্য উদঘাটন ও তার সহযোগী এজাহারনামীয় অপরাপর পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাতনামা আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও তার সহযোগী এজাহারনামীয় অপরাপর পলাতক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে গ্রেপ্তার এবং এই হত্যা মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বিপদজনক দাহ্য পদার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে দশ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডে নেয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিন কেরাণীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। এতে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রাথমিক তদন্তাকলে জানা যায় যে, আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮ থেকে ১০ বছর ধরে অনুমান ৫০/৬০ জন শিশু, মহিলা, পুরুষ শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরীটি পরিচালনা করে আসছে।

একাধিক সময়ে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহীনি, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাক্টারী বন্ধ ও সিলগালা করা হলেও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুনরায় ফ্যাক্টরীর সামনের গেইটে তালাবদ্ধ করে ভিতরে লুকিয়ে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কার্যক্রম চলমান রাখে।

এর ফলে বহু মানুষ অগ্নিকাণ্ডের মৃত্যু হয়। উল্লেখিত আসামিরা এলাকায় পেশী শক্তির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরীতে অবৈধ ভাবে শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়।

এ ঘটনায় ইমান উল্লাহ মাস্তানসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল রানা। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি