চীনের পুডং গংলি হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামকে বিশেষ সংবর্ধনা
প্রকাশিত : ২০:০৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
চীনের সাংহাইয়ের পুডং গংলি হাসপাতালে বিশেষ সংবর্ধনা পেয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। রোবোটিক সার্জারির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসার উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পুডং গংলি হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং। তিনি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পেশাগত দক্ষতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি নিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজিসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে তাঁর উদ্যোগের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত সেবার সম্প্রসারণ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
রোবোটিক সার্জারির যাত্রা শুরু হওয়াকে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির টেকসই বিকাশের জন্য শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দক্ষ সার্জন ও প্রশিক্ষিত অপারেশন থিয়েটার দল তৈরি, নিয়মিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, উপযুক্ত রোগী নির্বাচন ও দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হলে রোবোটিক সার্জারি জটিল অস্ত্রোপচারে সূক্ষ্মতা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়াতে পারে। ইউরোলজির বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এন্ডোইউরোলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চীনের চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোবোটিক সার্জারিতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। এ জন্য দুই দেশের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য রোবোটিক সার্জারিতে উচ্চতর ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ, পর্যবেক্ষণমূলক প্রশিক্ষণ, যৌথ কর্মশালা এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা-প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে টেলিসার্জারির সম্ভাবনাও তুলে ধরেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নত যোগাযোগপ্রযুক্তি ও দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থা, রোগীর নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশীয় দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে পুডং গংলি হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াংয়ের কাছ থেকে সম্মাননাসূচক স্মারক গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ এসআইইউ ফেলো হিসেবে পুডং গংলি হাসপাতালের আমন্ত্রণে রোবোটিক সার্জারির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে চীনে যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
এমএইচ
আরও পড়ুন










