নিমতলী ট্র্যাজেডির ১৬ বছর, এখনও বিচারহীনতার আক্ষেপ
প্রকাশিত : ০৮:৫৪, ৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০১, ৩ জুন ২০২৬
আজ ভয়াবহ নিমতলী ট্র্যাজেডির ১৬ বছর। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১২৪ জন মানুষ। কেমিক্যালের গুদামে ছড়িয়ে পড়া আগুন মুহূর্তেই কেড়ে নেয় বহু পরিবারের স্বপ্ন। দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি সেই ঘটনার কোনো মামলা। স্বজন হারানোর বেদনা আর বিচারহীনতার আক্ষেপ নিয়েই বেঁচে আছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নিমতলীর সেই ভয়াল আগুনে হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনরা এখনো অপেক্ষায় ন্যায়বিচারের। তাদের দাবি, এমন দুর্ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।
২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১২৪ জন। দগ্ধ হন অর্ধশতাধিক মানুষ। সেদিন একটি বিয়ে বাড়ির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আশপাশে থাকা কেমিক্যালের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়।
আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে মারা যান বিয়ের কনের আত্মীয়-স্বজন, অতিথি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুড়ে যায় ২৩টি বসতবাড়ি, দোকান ও কারখানা।
নিমতলী ট্র্যাজেডিতে নিজের আট বছরের সন্তান বৈশাখকে হারান মামুন মিয়া। শরীরে এখনও বহন করছেন আগুনে পোড়া ক্ষতচিহ্ন। সেই দুর্ঘটনার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে কাজও করতে পারেন না তিনি।
১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তানের স্মৃতি ভুলতে পারেননি তিনি। তাই এখনো নিমতলীর মোড়ে ছোট্ট দোকানে যত্ন করে টানিয়ে রেখেছেন বৈশাখের ছবি।
যে ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, সেটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ভবন নতুন রূপ পেয়েছে।
শুধু মামুন মিয়াই নন, এই ট্র্যাজেডিতে স্বজন হারানো অনেক পরিবার এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই দুঃসহ স্মৃতি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন আর অনেকে এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।
স্থানীয়দের দাবি, সেই ঘটনার পর এখন আর কেউ এই এলাকায় কেমিক্যালের গুদামের জন্য ভবন ভাড়া দিতে চান না।
নীমতলী ট্রাজেডির পর টাস্কফোর্স গঠন, অঙ্গিকার ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। রাজধানী থেকে রাসায়নিকের গুদাম-কারখানা সরিয়ে নিতে হয় গঠন করা হয় দুটি কমিটি। সেই কমিটি কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে জায়গা ঠিক করার সুপারিশসহ উচ্চ মাত্রার বিপজ্জনক পাঁচ শতাধিক রাসায়নিকের তালিকা করে প্রতিবেদন জমা দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ে।
তবে এসবের কোনো কিছুরই বাস্তবায়ন হয়নি। এর পর কেটে গেছে বছরের পর বছর। কিন্তু বদলায়নি পুরান ঢাকা।
এদিকে, ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নিমতলীর আগুনে হারিয়ে যাওয়া ১২৪ প্রাণের স্বজনদের কাছে এখনো রয়ে গেছে বিচারহীনতার আক্ষেপ। আর সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি আজও তাড়া করে পুরান ঢাকার মানুষকে।
এএইচ
আরও পড়ুন










