ঢাকা, রবিবার   ১০ মে ২০২৬

পরকীয়া সন্দেহে শিক্ষার্থী ইয়াছিনকে হত্যা, ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:৩২, ১০ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বেইজ স্কুলের মেধাবী ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত হত্যার প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই। পরকীয়া ও ভুল সন্দেহের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন- আজিম হোসাইন, ফয়সাল ও নুসরাত জাহান মিম।

পিবিআই জানায়, গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি আজিম হোসাইন, তার সহযোগী ফয়সাল এবং আজিমের স্ত্রী নুসরাত জাহান মিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসা থেকে ওষুধ কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হন ইয়াছিন আরাফাত। দুই দিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার আশরাফ আলী অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ তদন্ত করেও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত ইয়াছিন ছিলেন নুসরাত জাহান মিমের ফুফাতো ভাই। মিম ও তার স্বামী আজিমের মধ্যে দাম্পত্য কলহ এবং উভয়ের পরকীয়া নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে মিমের মোবাইলে ইয়াছিনের বার্তা দেখে তাকে পরকীয়া প্রেমিক বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন আজিম। যদিও মিম বারবার ইয়াছিনকে নিজের আত্মীয় বলে দাবি করেছিলেন।

পিবিআই আরও জানায়, মিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অন্য এক যুবকের, যার নামও ইয়াসিন। কিন্তু ভুলবশত ওই সম্পর্কের জন্য নিহত ইয়াছিন আরাফাতকেই দায়ী মনে করেন আজিম। পরে বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওষুধ কিনতে বের হলে কৌশলে ইয়াছিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় আজিম ও ফয়সাল। পরে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ লেকের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডেমরা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিরআখরা থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে মিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিমের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আজিম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া ফয়সাল ও মিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি