বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর, অনুমোদন দিলো বায়েরা
প্রকাশিত : ২০:১৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া সফলতার সাথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ধাপে যাওয়ার আগের সমস্ত কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে রাশিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় প্রথম ইউনিটের ‘বি-ওয়ান’ পর্যায়টি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের ১৮ মেগাপাসকেল চাপের জটিল ও নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষাতেও ইতিবাচক ফল আসায় সব বাধা কেটে গেছে।
অনুমোদনের পর এবার পরবর্তী ধাপ ‘বি-টু’ এর কার্যক্রম শুরু হবে। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার পর শুরু হবে আসল ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়। এটি এমন একটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থা যেখানে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন ঘটানো হবে, যার মাধ্যমে চুল্লিতে স্থায়ী, নিরাপদ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে যখন তা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে, ঠিক তখনই প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বা গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এমএইচ
আরও পড়ুন










