ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিমানের এইচএমভি চেক ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিদিন কোটি টাকার ক্ষতি !

ইমন চৌধুরী, একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৫০, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:০০, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজের এইচএমভি (হেভি মেইনটেন্যান্স ভিজিট) চেক ঘিরে অনিয়ম, গাফিলতি ও পরিকল্পিত বিলম্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ‘এএইচএম’ নিবন্ধনের উড়োজাহাজটি এইচএমভি চেকের জন্য ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইতালিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এটিটেক (Atitech)-এর সঙ্গে ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে, যা একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থ রক্ষার অংশ হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, উড়োজাহাজটি দীর্ঘদিন গ্রাউন্ডেড থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্ভাব্য টিকিট বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিমান। এতে কয়েক মাসে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এইচএমভি চেক তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনাকারী ও চুক্তি কমিটির সদস্যরা ইতালিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ভাতা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কার্যকর তদারকির দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তদারকির জন্য পাঠানো অনেকেই নিরাপত্তা অনুমতি (সিকিউরিটি পাস) না পাওয়ায় সরাসরি কাজের স্থানে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে তারা দূর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তদারকির দাবি করেছেন, যা কার্যকর তদারকি হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগের তীর উঠেছে বিমানের শীর্ষ প্রকৌশল কর্মকর্তাদের দিকেও। প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী সামসুল আলম এবং মুখ্য প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস বিভিন্ন সময়ে ইতালিতে অবস্থান করলেও তাদের ভূমিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, হিসাব শাখা বৈদেশিক ভাতা প্রদানে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও সুশাসনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। অতীতে একই ধরনের চেক নির্ধারিত ৪৫ দিনের পরিবর্তে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার নজিরও রয়েছে।

বিমান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, সামনে আরও অন্তত সাতটি উড়োজাহাজের একই ধরনের এইচএমভি চেক নির্ধারিত রয়েছে। তাই এখনই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্ত নিশ্চিত না হলে একই অনিয়ম পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এইচএমভি চেক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআর// 


 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি