ভোলায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক, শ্রমিক বিক্ষোভ
প্রকাশিত : ১৬:৩৮, ৯ মার্চ ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশনে বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস ও মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। এর আগে,যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে ভোলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টার দিকে বাস শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখে বাসস্ট্যান্ডের সামনের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় ২০ মিনিট সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে সড়কের গাছের গুঁড়ি সরিয়ে অন্যান্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। এছাড়া সড়কে কোনো সিএনজি পেলে সেসবের গতিরোধ করে বাসস্টান্ডের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে রাখছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে চরফ্যাশন সরকারি টাফনাল বারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সিএনজিতে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে বাস শ্রমিকরা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে বাস সরানো হলেও শ্রমিকরা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
ভোলা জেলা বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চরফ্যাশন উপজেলা শহরের সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে তারা যাত্রী ওঠানামা করে। আজ দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলায় আমাদের বাস শ্রমিকদের ওপর সিএনজি শ্রমিকরা হঠাৎ হামলা চালিয়েছে এবং একটি বাস ও বাস কাউন্টারে ভাঙচুর চালিয়েছে তারা।
তিনি আরও বলেন, এ হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে আমরা ভোলার ৫টি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিএনজিচালক ও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বাস স্ট্যান্ডে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাস শ্রমিক ও বাস মালিক সমিতির কমিটির লোকজন নিয়ে সমঝোতায় বসা হবে।
এমআর//
আরও পড়ুন










