রামেবি ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
প্রকাশিত : ১৪:৫১, ৭ অক্টোবর ২০২৬
‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) নাজমুল হোসাইনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসাইন।
মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে গভীর রাতে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, উপাচার্যকে অপমান, লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহীর চিকিৎসক এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছাড়াও মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
ঘটনার পর থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এর আগেও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। বিভিন্ন সময় তাঁরা ঠিকাদারি কাজ চেয়েছেন এবং তাঁদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।
উপাচার্য বলেন, ‘মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা হঠাৎ আমার অফিসে জোর করে ঢুকে পড়ে। তাদের অভিযোগ, আমি তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারকে দিয়েছি। এ সময় তারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে লাঞ্ছিত করে। মব সৃষ্টি করে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের লেখা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পর আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে যায়। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদসহ অন্যরা।
দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাঁরা উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে আব্দুস সালাম ও হারুনুর রশীদ উপাচার্যের টেবিলের সামনে দাঁড়ান। এ সময় সাগর নামে এক বিএনপিকর্মী আগে থেকে লেখা একটি পদত্যাগপত্র এনে হারুনুর রশীদের হাতে দেন। পরে হারুনুর রশীদ ও আব্দুস সালাম উপাচার্যকে ওই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এএইচ
আরও পড়ুন










