ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ছাড়, তবুও আবদার মেটেনি মোবাইল অপারেটরদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:০৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

আগামী ১০ নভেম্বর দেশের শীর্ষ তিন মোবাইল অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের হাতে থাকা মোট ৭৯.২ মেগাহার্জ তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। 

এই তরঙ্গ নবায়নে অপারেটরগুলো সরকারের কাছ থেকে একের পর এক বড় ছাড় ও সুবিধা পেতে যাচ্ছে। বিটিআরসির সুপারিশ অনুযায়ী, তরঙ্গের দাম আগের চেয়ে গড়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হচ্ছে এবং মূল্য পরিশোধের কিস্তি ৮টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

কিন্তু এত সুবিধার পরও অপারেটরদের সংগঠন এমটব নিয়মিত বার্ষিক চার্জ তুলে দেওয়াসহ আরও অকল্পনীয় সুযোগ দাবি করেছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘মামাবাড়ির আবদার’বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মোবাইল অপারেটররা সরকারের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নিলেও গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দায় নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের গ্রাহকেরা অপারেটরদের কাছে জিম্মি। তারা বিপুল মুনাফা করলেও নিম্নমানের নেটওয়ার্ক, চরম কলড্রপ এবং ধীরগতির ইন্টারনেটে মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপারেটরদের এই বড় ছাড় দেওয়ার আগে তাদের কাছ থেকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত সেবার সুস্পষ্ট লিখিত অঙ্গীকার আদায় করা উচিত। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে এই ছাড় প্রত্যাহারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিটিআরসি প্রথমে ১৫ বছরের জন্য প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম বিভিন্ন ব্যান্ডে ১৭২ থেকে ২৩Metrics কোটি টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল, যা পরে অপারেটরদের দাবিতে সংশোধন করে লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর ও কিস্তি ১২টি করার প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে ২৫ অক্টোবর এমটবের পক্ষ থেকে বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে ১৫ বছরের নির্ধারিত দামেই ২০ বছরের লাইসেন্স মেয়াদ এবং বার্ষিক চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপারেটরদের এই অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হতে পারে। বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল 
জানিয়েছেন, দাম নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রস্তাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি