ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:১৯:৩০

রবীন্দ্রনাথের খোঁজে পতিসরে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:১৮ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০৬:৫১ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭ শনিবার

বর্ষায় নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর ভ্রমণের মজাই আলাদা এসময়টা পতিসর নবরূপে পর্যটককে আকৃষ্ট করে আপনি যে প্রান্ত দিয়েই পতিসরে যান না কেন, প্রতিমুহূর্তে প্রকৃতির হাতছানি আপনাকে অনাবিল আনন্দে মাতিয়ে তুলবে

পতিসরের পরতে-পরতে মিশে আছেন রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘ কর্মময় সময় কাটে এ পরগনায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর কালিগ্রাম পরগনার সদর কাচারি পতিসরে আবারও আসেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন `পতিসর কৃষি ব্যাংক`।

আর সেসব আকর্ষণের খোঁজে আজও দর্শনার্থীরা যান পতিসরে। যান্ত্রিক নগরী ছেড়ে পতিসরে যেতে হলে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে আত্রাই স্টেশনে যেতে হবে। আত্রাই স্টেশনটি বেশ পুরনো ও ছিমছাম। ইতিহাসখ্যাত আত্রাই নদীর কারণে এই স্টেশনের নামকরণ।

প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ট্রেনে কলকাতা থেকে সরাসরি এখানে এসে নামতেন। এর পর তিনি তার বিখ্যাত `পদ্মা বোট`-এ নদীপথে সোজা চলে যেতেন পতিসরের কাচারিবাড়িতে। কখনও কখনও পালকি ব্যবহার করতেন কবি।

কিন্তু এখন না আছে পদ্মাবোট, না আছে পালকি। তাই সময় বাঁচাতে দ্রুতযান সিএনজি অটোরিকশাই বেছে নিতে হবে আপনাকে। রাস্তায় চলতে আপনাকে স্বাগত জানাবে প্রকৃতি।

পতিসরের প্রবেশপথে এক জোড়া সিংহমূর্তি আপনাকে স্বাগত জানাবে। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই মাঝের ফাঁকা জায়গায় গুরুদেবের কংক্রিটের ভাস্কর্য। দরজার দু`পাশে আছে মার্বেল পাথরে খোদিত পতিসরে সৃষ্ট রবীন্দ্র রচনার কিছু কথা।

কবির স্ত্রী মৃণালিনী দেবীকে লেখা চিঠি থেকে জানা যায়, পতিসর যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল কবির জমিদারি দেখাশোনা নয়, স্বাস্থ্যোদ্ধার। স্ত্রীকে লিখেছিলেন, `একদিন জলের পরিপূর্ণ নির্জনতার মধ্যে নিঃশব্দে বাস করে আমার শরীরের অনেক উপকার হয়েছে। আমি বুঝেছি আমার হতভাগা ভাঙ্গা শরীরটা শোধরাতে গেলে একলা জলের উপর আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আমার কোন উপায় নেই।

এখানে রয়েছে মিউজিয়াম। রবীন্দ্রনাথের চেনা-অচেনা বিভিন্ন ছবি দিয়ে তিনটি ঘর সুন্দর করে সাজানো। রবীন্দ্রনাথের অন্য দুটি কুঠিবাড়ি শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের চেয়ে এটি অনেক বেশি গোছানো। এখানে রবীন্দ্র ব্যবহৃত আরাম কেদারা, লোহার সিন্দুক, গ্গ্নোব, বাথটাব, চিঠিপত্রের অনুলিপি, পদ্মা বোটের নোঙর, জানালার কাচ প্রভৃতি সামগ্রী পরম যত্নে সংরক্ষিত।

দেখা মিলবে রবীন্দ্রনাথ মাথা উঁচু করে যেন দাঁড়িয়ে অভয়বাণী দিচ্ছেন। কাচারিবাড়ির সামনে রয়েছে রবীন্দ্র সরোবর, ফাঁকা মাঠ এবং মাঠ সংলগ্ন নাগর নদী।

কাচারিবাড়ির উত্তরদিকে খননকৃত বিরাট দীঘি। দক্ষিণ দিকে রয়েছে কবির হাতে গড়া স্কুল `কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন`। সেখানে রয়েছে মাটির দেয়াল ও টালির ছাউনিতে তৈরি স্কুলের প্রথম ভবন।

নদীপারের দিকে যেতে চোখে পড়বে আহমদ রফিক গ্রন্থাগারের। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকসহ কয়েকজন রবীন্দ্রপ্রেমিক মিলে বছরপাঁচেক ধরে গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরিটি। অজ-পাড়াগাঁয়ে এ ধরনের লাইব্রেরির কথা ভাবাই যায় না। প্রচুর সংগ্রহ; অধিকাংশই রবীন্দ্র বিষয়ক।

যেভাবে যাবেন: নওগাঁর আত্রাইয়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ খুবই ভালো। তাই আত্রাইয়ে যেতে হলে ট্রেনই উত্তম। ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসে চড়ে প্রথমে আত্রাই যেতে পারেন। এ ছাড়াও নওগাঁ ও নাটোরের সঙ্গে আত্রাইয়ের যোগযোগ ভালো।

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাস কিংবা ট্রেনে নওগাঁ/সান্তাহার বা নাটোর এসে পরে আত্রাই যেতে পারেন। নাটোর ও নওগাঁ থেকে বাস, ট্রেন ও নদীপথে নৌকায় আত্রাই যাওয়া যায়। আত্রাই থেকে পতিসর কাচারিবাড়ি যেতে হবে নছিমনে চড়ে, যা পর্যটকদের ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ট্রেন স্টেশনের নিচেই রয়েছে নছিমন/ভটভটি স্ট্যান্ড। আত্রাই থেকে পতিসরের দূরত্ব ১৪ কিমি।

পতিসরে রাত্রিযাপনের জন্য কোনো হোটেল না থাকলেও সরকারি একটি ডাকবাংলো আছে। পূর্ব অনুমতি থাকলে এখানে রাত্রি যাপন করা যায়। তা না হলে নওগাঁ শহরের যে কোনো আবাসিক হোটেলই ভরসা।

 

//আর//এআর

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি