ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৮:০৩

কমছে লালবাগ কেল্লার দর্শণার্থীর সংখ্যা

কমছে লালবাগ কেল্লার দর্শণার্থীর সংখ্যা

ইট-পাথরের কর্মব্যস্ত নগরীর মানুষগুলো ছুটির দিনে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শণ করে। সময়ের সল্পতায় অনেকেই আবার রাজধানীর মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোই পরিদর্শণ করে। রাজধানীর দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে পুরানো ঢাকায় অবস্থিত লালবাগ কেল্লা। ১৬৭৮ সালে নির্মিত বিশাল জায়গা জুড়ে কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে এর ভেতরে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে সামনের জায়গা জুড়ে কয়েকটি স্থাপনাই রয়েছে এর ভেতরে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে একটু সামনে গেলেই চোখে পড়ে একটি সমাধি। সমাধিটি পরী বিবির। বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র আদরের কণ্যা। রহমান বানু নামে পরী বিবির অপর নাম থাকলেও অনেকেই সেটা জানতো না। দেখতে পরীর মত সুন্দরী হওয়ায় নাম রাখা হয়েছিল পরী বিবি। পরী বিবির অকাল মৃত্যু হলে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ দু:খে ‘অপয়া’ ভেবে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় লালবাগ কেল্লার। কেল্লার ভেতরে সমাধি করার পর পরী বিবির অন্তিম শয্যার ওপর যে সৌধ নির্মাণ করা হয় সেটা সৌন্দর্যময় একটি মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শণ। শায়েস্তা খাঁ সমাধি নির্মাণের জন্য সুদূর রাজমহল থেকে কালো ব্যাসল্ট পাথর ও জয়পুর থেকে এনেছিলেন সাদা মার্বেল পাথরের বড় বড় ফলক। এছাড়াও শ্বেত চন্দন কাঠ এনেছিলেন দরজা ও খিলান নির্মাণের জন্য। সমাধি ফলকগুলো রাখা হয় আস্ত। তার ওপর কাটা হয় নকশা। সমাধি সৌধের বিভিন্ন অংশ নির্মাণ করা হয় ফুলের নকশা খচিত জালি ও ফলক দিয়ে। গত শতকের আশির দশকে কেল্লাটি যথা সম্ভব সংস্কার করে এর আগের রুপ ফিরিয়ে এনে শনিবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন দেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা ও বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করে টিকিটের ব্যাবস্থা করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কেল্লাটি ১৯১০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রাচীণ সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেওয়া হয়। রাজধানীর মিরপুর থেকে স্বপরিবারে ঘুরতে আসা ফায়সাল আহমেদ বলেন, শহরের ইট-পাথরের মধ্যে থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই ছুটির দিনে এখানে ঘুরতে আসি। স্থানটি দেখতে অনেক সুন্দর হলেও এখানে স্থানীয় কিছু ছেলে আছে যারা খুবই বিরক্ত করে। অনেক সময় মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এখানে এসে অনেককে অপদস্ত হতে হয়। কখনো কখনো মেয়েদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়। কিছু বলতে গেলে উল্টা মারতে আসে। প্রশাসনের লোকদের চোখ ফাকি দিয়েই এরা এ সব কাজ করে বেড়ায়। এদের জন্য দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। কেল্লার পাশের এলাকার লোকমান নামে এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আগে এখানে অনেক দর্শনার্থী আসতো কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা অনেক কম।  আরএ/এসি   
ঢাবি ভাস্কর্য বিভাগের ৫৫ বছর পূর্তিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।শুক্রবার সকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।বিভাগের অনারারি অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।দিনব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে  প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।উল্লেখ্য, চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগ ১৯৬৩ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উৎসাহে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে। আধুনিক ভাস্কর্যশিল্প শিক্ষা চর্চার ক্ষেত্রে এ বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে ভাস্কর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।কেআই/  

চারুকলায় ছাপচিত্রের আন্তর্জাতিক মেলা শুরু

ছাপচিত্রে আঁকা যায় যা খুশি তা-ই। টেবিলে বিছিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য ক্যানভাস। গ্যালারির দেয়ালেও ঝুলছে অজস্র ছবি। সে সব চিত্রপটে উদ্ভাসিত হয়েছে বিচিত্র বিষয়। দেশের নবীন-প্রবীণ ও প্রখ্যাত শিল্পীদের সেসব সৃষ্টিকর্ম সংগ্রহে কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছে শিল্পানুরাগীরা। চারপাশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এভাবেই সূচনা দিনেই জমে ওঠে সাধারণের জন্য স্বল্পমূল্যে শিল্পকর্ম সংগ্রহের আয়োজনটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে সপ্তম আন্তর্জাতিক কিবরিয়া ছাপচিত্র মেলা। প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ মেলার উদ্বোধন করেন। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাপচিত্র শিল্পী কালিদাস কর্মকারকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এসময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। মেলায় অংশ নিয়েছে চারুকলা বিভাগ চালু থাকা দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সঙ্গে আছে ছাপচিত্র স্টুডিওসমূহ এবং দেশের বাইরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান। এতে উৎসাহিত হচ্ছে তরুণ ছাপচিত্রীরা। ঘটছে নবীনের সঙ্গে প্রবীণের সমন্বয়। সব মিলিয়ে দেশের ছাপচিত্রীদের প্রধানতম উৎসবে পরিণত হয়েছে এই মেলা। চারুকলা অনুষদের করিডরসহ ১ ও ২নং গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে এই মেলা। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় শিল্পানুরাগীরা সংগ্রহ করতে পারছেন নবীন থেকে প্রখ্যাতদের সৃজিত ছাপাই ছবি। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার ছাপচিত্রীদের ছাপচিত্র ঠাঁই পেয়েছে মেলায়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মেলায় অংশ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্ব-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স আর্ট ডিপার্টমেন্ট ও কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ, ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগ। সংগঠনের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইমপ্রেস প্রিন্টমেকিং স্টুডিও ও ব্রিসবেন গ্যালারি, দিল্লির মাল্টিপল এনকাউন্টার, স্পেনের সিডি এডিশন্স, সফিউদ্দীন বেঙ্গল প্রিন্টমেকিং স্টুডিও, ঢাকার কারখানা আর্ট স্পেস, কসমস আতেলিয়ার ৭১ , বাংলাদেশ প্রিন্টমেকারস স্টুডিও ইত্যাদি। একে/

ঋতু রাজ বসন্তের আগমন

পহেলা ফ্লাগুন আজ। প্রকৃতি সেজে উঠছে নানা রঙে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির মতো মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ। বসন্তকে বরণ করে নিতে তাই প্রকৃতির রঙে রঙ মিলিয়ে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে। ‘ফুল ফুটুক-আর নাই বা  ফুটুক-আজ বসন্ত।’ বাঙালির প্রিয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে প্রতিভাত করে গেছেন এই একটি বাক্যেই। বসন্ত আজ এসেছে ফুলবনে, পাতায় পাতায় পল্লবে, পল্লবে।  ডালে ডালে পলাশ, শিমুল আর বকুলের সৌরভে শীতের ঝড়া পাতার মর্মরে মর্মরে আজ থেকে ধ্বনিত হবে বসন্তের কোকিলের কহু কহু  তান। পৌষ আর মাঘের শীতার্ত দিনগুলোর পরে ফ্লাগুন মাসের প্রথম দিনে বাঙালি বরণ করে নেবে তাদের প্রিয় বসন্তকে। বাঙালি ললনার পরনে হলুদ রঙের শাড়ীতে লাল পাড় আর তরুণ-যুবাদের হলুদ পাঞ্চাবী, কোর্তা গায়ে দিয়ে বসন্তের প্রথম দিনে আজ জমজমাট হয়ে উঠবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির চত্বর, শাহবাগ আর রমনার সবুজ প্রান্তর। ‘আজি নব বসন্তের প্রভাতের লেশমাত্র ভাগ আনন্দের / লেশমাত্র ভাগ, আজিকার কোনো ফুল/ বিহঙ্গের কোনো গান/ আজিকার কোনো রক্তরাগ/ অনুরাগে সিক্ত করি পারিবো কি পাঠাইতে তোমাদের তরে!’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি জাতির কাছে  বসন্তের প্রথম দিনটিকে এভাবেই সম্বোধন করে গেছেন আজ থেকে এক শ’ বছর আগে। আজ বেজে উঠবে সুরে সুরে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  সেই গান‘ফুলে ফুলে দুলে দুলে বহে কে বা মৃদু বায়ে/ কে জানে কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায়।’ রেকর্ডে বেজে উঠবে লতা মুঙ্গেশকরের সেই গান-‘পাখি আজ কোন সুরে গায়/ কোকিলের ঘুম ভেঙে যায়/ আজ কোনো কথা নয়/ শুধু গান/ আরো গান/ আজ বুঝি দু’জনের মন/ কতো সুরে করে আলাপন/ আজ কোনো কথা নয়/ শুধু গান আরো গান...।’   আর/টিকে

একুশের চেতনায় কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য সভা

ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে "অমর একুশের চেতনায় কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের চকবাজারস্থ চারচক্কা রেস্টুরেন্টে  এ সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি লেখক, মাসিক দ্বীন দুনিয়ার গবেষক ও সম্পাদক জাফর উল্লাহ বলেন, শুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা পরিবার। গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবি ও সাহিত্যিকদের তুলে আনার এক সেতু বন্ধন তৈরি করেছে এই সংগঠনটি। আমি এই সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা পরিবর “শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশ সাধন আমাদের লক্ষ্য” এই স্লোগানকে  সামনে রেখে বহুমুখী স্বপ্নযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্বপ্নযাত্রার সহযাত্রীরা সারা দেশে এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থেকে স্বপ্ন বুনে যাচ্ছে। এই সংগঠন সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি মানবিক কাজেও এগিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরন ও শীতার্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ সহ বিভিন্ন আর্তমানবতার সেবাই এগিয়ে যাচ্ছে ভালবাসার গান, কবিতা ও গল্পকথা পরিবার। উক্ত সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক সিনিয়র শিক্ষিকা ও কবি আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক তুষার আহাম্মেদ, পরিচালক তফসির কিং, প্রকৌশলী রফিক, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, বশির আহমেদ সহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আগামী মাসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান কিভাবে সম্পন্ন করা যায় এই নিয়ে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। এমএইচ/টিকে

বই মেলায় পেন্সিলের নয় বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নয়টি বই নিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ পেন্সিল। এর মধ্যে জাগৃতি প্রকাশনীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্ত বই সাতটি। এছাড়া একটি পেন্সিল-উদ্যোগে মেলায় এসেছে গ্রুপ এডমিন তরুণ কথাসাহিত্যিক মাহরীন ফেরদৌসের গল্পগ্রন্থ- গল্পগুলো বাড়ি গেছে ও গ্রুপ সদস্যদের লেখা নিয়ে সংকলন গ্রাফাইটের গুঞ্জন। সংকলনটিতে প্রায় দেড় শতাধিক সদস্যের লেখা-কবিতা, গল্প, ভ্রমণকাহিনী, নিবন্ধ ও শিশুতোষ লেখা স্থান পেয়েছে। পেন্সিল-উদ্যোগের বই নয়টি পাওয়া যাচ্ছে একুশে বইমেলায় জাগৃতি প্রকাশনীর স্টলে। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যাবে চট্টগ্রাম বইমেলায়, মুসলিম হল প্রাঙ্গণে পেন্সিল স্টলে। পুরস্কারপ্রাপ্ত বই সাতটি হলো নাঈমা পারভীন অনামিকা`র গল্পগ্রন্থ বনলতা নই, দেবদ্যুতি রায়ের আড়াল, স্মৃতি ভদ্রের অলোকপুরীর ডাক, সালমা সিদ্দিকা`র গল্পটা কাল্পনিক, ইমরান নিলয়ের ইঙ্গিত, নুরুল চৌধুরী`র এক মুঠো গল্প এবং শেখ মুকিতুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ ফিরতে হবে? নবীন এই সাত লেখকের মধ্যে সালমা সিদ্দিকা পেয়েছেন প্রথম ফয়সল আরেফিন দীপন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার। এমন স্বীকৃতিতে অভিভূত পেন্সিল গ্রুপের জনপ্রিয় এই গল্পকার বলেন, `লেখা জমা দেওয়ার সময় একবারও মনে হয়নি পাণ্ডুলিপিটি নির্বাচিত হবে। বিভিন্ন সময়ে লেখা পুরানো গল্প আর একেবারে নতুন কিছু লেখা এই সুযোগে একসাথে গোছানো হবে সেটাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। সেজন্য পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে কি বলবো বুঝতে পারিনি। নতুন লেখকদের জন্য এমন অভাবনীয় সুযোগ করে দিয়েছে পেন্সিল এবং জাগৃতি। আমি শুধুই লেখাটা জমা দিয়েছি, বাকি সব কাজ করেছে পেন্সিল। পেন্সিল যদি এভাবে কাজ করতে থাকে ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রতিভা আমরা খুঁজে পাবো, আমি নিশ্চিত।` প্রাণের মেলায় প্রথম বই প্রকাশ- অনুভূতি জানাতে গিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ গল্পকার স্মৃতি ভদ্র বলেন, `ছাপাঘরের আঁধার পেরিয়ে নিজের লেখা যখন নতুন বইয়ের সোঁদা গন্ধ গায়ে মেখে, মলাটবদ্ধ হয়ে লেখকের সামনে হাজির হয়; তখন সেই অনুভূতির ছবি আঁকতে ঠিকঠাক শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। আর নতুন লেখক হিসেবে তো তা পৃথিবী জয়ের শামিল। পেন্সিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা এক্ষেত্রে আমার মতো নতুন লেখকের স্বপ্নপুরণে সারথী হয়ে কাজ করেছে।` শেখ মুকিতুল ইসলাম- কবি। পুরস্কারপ্রাপ্ত সাত বইয়ের মধ্যে একটাই কাব্যগ্রন্থ, সেটি তার- ‘ফিরতে হবে?’। তিনি বলেন, `পেন্সিল নামের সাহিত্য গ্রুপের জমিনে যে অনুভুতি বৃক্ষের শেকড়টা ছড়িয়ে পড়েছে সে অনুভুতির বৃক্ষ ডাল পালা ছড়িয়ে মহীরুহ হয়ে উঠছে এবং উঠবে। কারণ, জমিনটা যে খুব উর্বর। তাই সেই ভালবাসার শেকড়ে আটকে থেকেই ভালো লাগা এখন আকাশ ছোঁয়ার পথে।` পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পগ্রন্থ ইঙ্গিত-এর লেখক ইমরান নিলয় বলেন, `নিজের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ফয়সাল আরেফিন দীপনের নামটা জড়িয়ে আছে, এটা একটা ভালোবাসার ব্যাপার। পেন্সিলের মতো চমৎকার একটা জগতকে সাথে পাওয়াটাও ভীষণ আবেগের। সবমিলিয়ে এই আনন্দটুকু প্রকাশের শব্দ খুঁজে পাওয়াই একটু জটিল। ভালো লাগা মাপার কোনো যন্ত্র নেই।` এই নবীন লেখকদের প্রথম বই প্রকাশের স্বপ্ন পূরণের চিন্তা থেকেই একুশে বই মেলায় `একটি পেন্সিল উদ্যোগ`- এমনটা জানান দেড় বছর বয়সী অর্ধলক্ষাধিক সদস্যের ফেসবুক গ্রুপ পেন্সিল-এর এডমিন মোহাম্মদ আনোয়ার। একুশে টিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, `জাগৃতি প্রকাশনীর আন্তরিক সহায়তায় `পেন্সিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার` মাধ্যমে প্রায় দেড়শ` পান্ডুলিপির মাঝ থেকে সাতজন লেখকের বই উপহার দেয়া এবারের একুশে বইমেলার পাঠকদের। বইমেলার একেবারে শুরুতেই পেন্সিল ফতুয়া, কবিতা লেখা শাড়ি পরা পাঠকরা প্রমাণ করেছে একটি বই বিপ্লবের সূচনা হয়ে গেছে গ্রুপ সদস্যদের মাধ্যমে। পেন্সিল এনেছে পেন্সিলের কবি-লেখকদের গল্প-কবিতা নিয়ে সংকলন গ্রাফাইটের গুঞ্জন। এই লেখকদের অনেকেই পরের বইমেলায় একক বই উপহার দেবেন আশা করে ইতালী প্রবাসী এই তরুণ সাহিত্য অনুরাগী সংগঠক স্বপ্ন দেখেন, বইবিপ্লবের; আলোর পথে সম্মিলিত যাত্রার।` এমজে/

এখনও জমে ওঠেনি বইমেলা

১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ পাঁচদিন অতিক্রম করলেও এখনো আশানুরূপভাবে জমে উঠেনি বলে জানালেন মেলায় অনেক প্রকাশক। এজন্য কর্তৃপক্ষের ভুল সিদ্ধান্তকেই দায়ি করলেন প্রকাশনীগুলো। মেলা শুরু হওয়ার পাঁচদিন অতিক্রম করলেও এখনো পর্যন্ত অনেক স্টল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়নি। যা মেলার সৌন্দর্য নষ্ট করছে বলে বিভিন্ন স্টল কর্তৃপক্ষের অভিমত। মেলায় কোন তথ্যকেন্দ্র নেই। একটি মাত্র তথ্য কেন্দ্র আছে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসে। এটি দূরত্বের কারণে মেলায় আগত ক্রেতাদের কোন উপকারে লাগছে না বলে অভিযোগ করলেন ইত্যাদি প্রকাশনের জিতু। জিতু আরও বলেন, তথ্যকেন্দ্রের অভাবে একদিকে যেমন ক্রেতারা স্টল নির্দিষ্ট স্টল খুঁজে পায় না তেমনি কোন কোন প্রকাশনী এবার কী কী বই আনছে তা নিয়ে সহজে জানার কোন উপায় নেই। তবে বাঙালি প্রকাশনের নুসরাত জাহানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটায় মেলার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কর্মজীবী মানুষ মেলায় আসতে পারছে না। অথচ রাত ৯টার পরেই সবচেয়ে ভাল বেচা কেনা হওয়ার কথা। জোনাকী প্রকাশনির কাজী গিয়াস উদ্দিনও মেলার গেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার পক্ষে।  একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে কাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছর এরকম দিনে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার  টাকার বই বিক্রি হলেও এবার এখনো সাত আট হাজার টাকার বেশি বই বিক্রি করতে পারছি না। কেন পারছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগের আশেপাশের এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকার মানুষ এখনো জানেই না বইমেলার কথা। খান ব্রাদার্সে কর্মরত তোতামিয়ার চোখে মুখেও অনেকটা হতাশা। তিনি বলেন, আমাদের একাডেমিক বই বেশি। অন্যান্যবার এসময়ে মেলা যতোটা জমজমাট থাকতো এবার এখনো তেমন হচ্ছে না। তবে আমি আশা করছি খুব শিগগিরই মেলা জমজমাট হয়ে উঠবে। গ্রন্থমেলা নিয়ে বাংলা একাডেমীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বাতিঘর প্রকাশনীর দীপঙ্কর। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলা বা সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য ইভেন্ট নিয়ে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম যতোটা ব্যস্ত থাকে বইমেলা সে বিবেচনায় কোন প্রচার থাকে না। ঢাকা শহরে বইমেলা নিয়ে কোন ব্যানার বিলবোর্ড নেই। টিভি চ্যানেলগুলোতে নির্দিষ্ট খবরের বাইরে বইমেলা নিয়ে কোন আলাদা অনুষ্ঠান নেই। ফলে বইমেলা আশানুরূপ জমে উঠছে না। মেলায় বই কিনতে এসেছেন ফৌজিয়া হাসনাত ও মিষ্টি বড়ুয়া। কাকলী প্রকাশনীর সামনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাদের। তারা মনে করেন এখনো হুমায়ুন আহমেদ তাদের পছন্দের শীর্ষে। তবে সবজায়গায় মাত্র ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় সন্তুষ্ট নন তারা। দুজনেই একসঙ্গে বলেন, বাইরে সব লাইব্রেরিতে সারা বছর ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়। তাহলে মেলার বিশেষত্ব কী? তবে মেলায় বিকাশে লেনদেন করার সুবিধা থাকাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তারা। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শুধু অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন,  ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় বড় পরিসরে বইমেলা আয়োজনে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বাংলা একাডেমীর পরিচালক মোবারক হোসেন কে মেলার গেট তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত ৯টার আগে কখনো বন্ধ হয় না। এরপরও প্রকাশক বা ক্রেতারা অভিযোগ করলে বিবেচনা করে দেখা হবে। বর্ধমান হাউসের তথ্যকেন্দ্রটি মেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি মেলা কমিটি ও বাংলা একাডেমীকে জানাব।   আর/এসএইচ

‘ছোট মানুষ দিয়ে বড় জাতি হয়না’

ছোট মানুষ দিয়ে কখনো বড় জাতি তৈরী হয়না। মানুষ কে বড় হতে হলে তার হৃদয় বড় হতে হয়। আর হৃদয় বড় করার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষ আলাদা আলাদা ভাবে চিন্তা করেছে, লিখেছে। কিন্তু সব ধারণ করেছে লাইব্রেরী। তাই মহাকালকে ধারন করার জন্য লাইব্রেরীর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি দোকান হচ্ছে খাবারের। মাঠ, ঘাট, পার্ক নেই। বিনোদনের জন্য মানুষ ছুটছে খাবারের দোকানে, কাপড়ের দোকানে। এটা সভ্যতার জন্য ভাল লক্ষণ নয়। মানুষের চিন্তার আশ্রয় হতে পারে বই। তিনি আরো বলেন, পাঠকরাই পৃথিবীর পরিবর্তন ঘটায়। বই হচ্ছে সেটাই যেটা মানুষকে তার চাইতে বড় করে। দূরকে দেখতে পায়। পৃথিবীকে পরিবর্তন করে। উল্লেখ্য দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। গত ৩০ অক্টোবর মন্ত্রীসভা দিনটিকে গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে পালনের জন্য অনুমোদন দেয়। পরে মন্ত্রীপরিষদ সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।    

অসাম্প্রাদায়িকতা রুখতে কবিতা

জঙ্গিবাদ ও  অসাম্প্রাদায়িকতা রুখতে কবিতার মাধ্যমে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কবি, সাহিত্যিক ও লেখকরা। এসময় তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আর্দশে দেশ গড়তে  কবিতা, গল্প ও সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’ এই শ্লোগানে  গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। আজ রাত ১০টার দিকে অনুষ্ঠাটি শেষ হতে যাচ্ছে। এবছরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের বিশিষ্ট কবিগণ এতে অংশ নিয়েছেন। কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও মুক্ত আলোচনা মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিন। দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার  সকালে ১১টায় নূহ-উল- আলম লেনিন এর সভাপতিত্বে ‘আমদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের কবিতা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগরে শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কবি আবুল হাসনাত, সৈয়দ আজিজুল হক প্রমুখ। শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে কবিরা বলেন, দেশহারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এবারের কবিতা উৎসবের শ্লোগান-দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা। জাতীয় কবিতা উৎসবের মর্মবাণীতে, কবিতায়, গানে ও কথামালায় তুলে ধরা হয়েছে দেশহারা মানুষের সংগ্রামের কথা, থাকছে তাদের প্রতি সকলের গভীর সহমর্মিতার । মুক্ত আলোচনায় ভারত, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, ক্যামেরুনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট কবিরা জানান কবিতা উৎসব নিয়ে তাদের ভালবাসার কথা। এ উৎসবে প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা, সেমিনারসহ ছিলো কবিতা পাঠের আয়োজন। ভিনদেশীদের স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং বাংলা ভাষা ব্যবহারের চেষ্টাও মুগ্ধ করে দর্শক শ্রোতাদের।   টিআর/টিকে

বইমেলায় আবদুল্লাহ আল ইমরানের ৩ উপন্যাস

আবদুল্লাহ আল ইমরান সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। শৈশব, কৈশোরের মোহগ্রস্ততা থেকে লিখছেন এক যুগ। মফস্বলের সবুজ অনুভূতি বুকে খুলনা ছেড়ে ঢাকা এসেছিলেন। ঝলমলে নাগরিক প্রলোভনেও সে গেরুয়া অনুভূতি মুছে যায়নি। যায়নি বলেই ইমরানের লেখাজুড়ে থাকে প্রান্তিক মানুষের নিয়ত সংগ্রাম, উঠে আসে বারোয়ারি উপলব্ধিতে ঠাসা মোহান্ধ জীবনের গল্প। এবারের মেলায় রয়েছে ইমরানের তিনটি উপন্যাস। এইসব ভালোবাসা মিছে নয়, কালচক্র এবং দিবানিশি। ইমরানের কাছে পৃথিবীটা বৈচিত্রময় গল্পের মায়াবী এক জাদুঘর। স্মৃতির পুরাকীর্তি নিয়ে যাতে সবারই বিচরণ। এর ভেতর দুটি ভিন্ন মানুষের অদ্ভুত এক কাছে আসার গল্প নিয়েই ‘এইসব ভালোবাসা মিছে নয়’ উপন্যাস। দেওয়ান আতিকুর রহমানের প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে ভাষাচিত্র। মেলার ৫৮৫-৮৭ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে। কালচক্র উপন্যাসে জীবনের অজস্র জটিল হিসাব-নিকাশের গল্প বলেছেন ইমরান। গল্প অসংখ্য হারিয়ে ফেলা অনুভূতিরও। কাহিনী যত এগোবে, তত উন্মোচিত হবে মৃত এক শিল্প অঞ্চলের বহুমাত্রিক মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনবোধ। ‘কালচক্র’ পাটকলনির্ভর নদীঘেরা জনপদের ওপর রচিত এমন এক মানবিক আখ্যান, যেখানে জীবনের ভাঙা-গড়া, আনন্দ-বেদনার গল্পেরা চক্রাকারে বয়ে চলে অবিরাম। বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন কালচক্র-এর ব্যাক কাভারে লিখেছেন, ‘বিষয়কে ধরা, ধরে উপস্থাপন করা, তার জন্য ভাষা ও চরিত্র নির্মাণ এবং এ সবকিছুর মধ্য দিয়ে একটি শিল্পিত উপন্যাস পাঠককে উপহার দেয়া একজন লেখকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কালচক্র উপন্যাসে এ দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল ইমরান। কালচক্র যদি একটি সময়কে ধরে চক্রের আবর্তন হয় তবে এ উপন্যাসে লেখক খুব ভালো ভাবে তা ধরতে পেরেছেন। আর এই ধরার ভেতর দিয়ে আমাদের সাহিত্যে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ঘটেছে।’ইমরানের তৃতীয় উপন্যাস ‘দিবানিশি’। মারফতি নূরে উদ্ভাসিত অলক্ষে বহমান এক জনপদের কাহিনী এ উপন্যাসে বিবৃত হয়েছে সহজিয়া জীবন দর্শনে। আছে শেকড়ে ফিরতে চাওয়া এবং জলের গর্ভে সব হারানো দুই নারীর অদম্য লড়াই। এ গল্প মনসা দেবীর শাপে বংশ বাতি নিভতে বসা চমকপ্রদ এক লোকজ মিথেরও। কালচক্র ও দিবানিশির প্রচ্ছদ করেছেন সানজিদা পারভীন তিন্নি। প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। মেলার ২২ নম্বর প্যাভেলিয়নে বই দুটি পাওয়া যাবে। এসএ/

বইমেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে:ডিএমপি

অমর একুশে বইমেলায় কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। আজ মঙ্গলবার বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সস্মলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ, লেখক ও প্রকাশক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনের আওয়াত আনা হবে। ৮ তারিখের রায় কেন্দ্র করে কেউ যদি বিশৃঙ্লা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ আইনের উদ্ধে নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মতো দেশে আর অরাজকতা করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক দর্শনার্থীকে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা তল্লাশির মাধ্যমে মেলায় প্রবেশ করতে হবে। বইমেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশ ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবে। সিসিটিভি দিয়ে মেলার ভিতরে ও চারপাশে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইভটিজিং ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে থাকবে পুলিশের টহল। বইমেলার আশেপাশে হকার মুক্ত করা হবে। বাংলা একাডেমির স্টিকার ব্যতীত কোনো গাড়ি মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করবে পুলিশ। টিআর/এসএইচ

আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

অন্য রকম আয়োজনে উদ্বোধন করা হলো ১১তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের। আজ বিকালে রাজধানীর গণগ্রন্থাগারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল, চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মুনীরা মোরশেদ মুননী এবং উৎসব পরিচালক আবীর ফেরদৌস। উৎসবের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও উৎসব  পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিরা। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়ানো হয়। একঝাঁক শিশুর সরব উপস্থিতিতে অতিথিরা শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ, শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে চলচ্চিত্রের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। দেশের  আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ কতোটা দুরূহ তাও আলোচনায় উঠে আসে। সবশেষে মেক্সিকোতে নির্মিত একটি শিশু চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য এবার আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবটি ২৭ জানুয়ারী থেকে ২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ সহ ৫৮ টি দেশ থেকে আসা ২২০টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে ঢাকার ৬ টি ভেন্যুতে। উৎসবে ভিনদেশী চলচ্চিত্র ছাড়াও থাকছে শিশু কিশোরদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা। শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সেরা চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করা হবে ৫ জন শিশু কিশোর নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের মাধ্যমে। শিশু চলচ্চিত্র ছাড়াও এবার আরো ৪ টি বিভাগে পুরষ্কার দেওয়া হবে। / এআর /

মূল্যবোধ আজ কোথায়?

সমাজ থেকে ক্রমান্বয়ে মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য কবি অসীম সাহা। এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যে মূল্যবোধ আর বিবেকের তাড়নায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে মূল্যবোধ আজ কোথায়। কেন লেখক সমাজ আজ এত অবহেলিত?’ আজ শুক্রবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভিআইপি গ্যালারিতে আয়োজিত `ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা` নামের একটি সংগঠন কর্তৃক গুণীসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। শুদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ আমাদের লক্ষ্য এ স্লোগানকে সামনে রেখে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন ও গুণীজন সম্মাননা ২০১৭ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। আজ বিকাল ৫টায় শুদ্ধতার কবি অসীম সাহা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এসময় চার গুণী শিল্পীকে সংবর্ধিত করা হয়। কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে সাহিত্য ক্যাটাগরিতে, দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজকে কবি ক্যাটাগরিতে, বিশিষ্ট নাট্যকার ড. ইনামুল হককে সংস্কৃতি ক্যাটাগরিতে ও বিশিষ্ট আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলাম মাহিকে আবৃত্তি ক্যাটাগরিতে সংবর্ধিত করা হয়। প্রয়াত কবি শওকত আলীর স্মৃতিচারণ করে কবি অসীম সাহা বলেন, দেশের সূর্য সন্তানদের জাতি মূল্যায়ণ করে মরে যাওয়ার পর। কিন্তু এ সম্মানে তাঁর কি কিছু আসে যায়? সমাজের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন লেখক সমাজ আজ এতোটা অবহেলিত? চিরতরে বিদায় নেওয়ার আগে তাঁরা কেন কোন চিকিৎসাসেবা পান না? এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, এখনো দেশে নারী নির্যাতন হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান নিয়ে একটি বিভ্রান্তি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা তার সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনেনি, তারা স্বাধীনতা এনেছে শক্তির বিনিময়ে। তাই নারী নির্যাতনসহ সব ধরণের মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে সৃজনশীল সমাজের প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভালবাসার গান কবিতা ও গল্প কথার প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদের পুত্র নিজামুল হক মোস্তফা শহীদ ও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান সোহান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন তরুণ কবি তাদের কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। এসময় দেশ বরেণ্য আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলাম মাহি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। এছাড়া নিজের রচিত দুটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ। এমজে/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি