ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৪:৫৬:৫৬

ঢাবি থিয়েটার বিভাগের উদ্যোগে আট দিনব্যাপী নাট্যোৎসব

ঢাবি থিয়েটার বিভাগের উদ্যোগে আট দিনব্যাপী নাট্যোৎসব

‘আমরা ফুরিয়ে যাই তোমাদের তরে অফুরান হতে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের ব্যবস্থাপনা ও প্রযোজনায় আটদিন ব্যপী নাট্যৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাবির ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য ড. মো.আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ, কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান একেএম সাহিদ রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আহমেদুল কবির। আটদিন ব্যপী নাট্যৎসবে মোট ১৭টি নাটক মঞ্চায়িত হবে। সোমবার প্রথমদিনে সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে নাটক নীল দংশন ও কবি গুরুর চণ্ডালিকা নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কখনো ভাবিনি আমি নাটক করবো। নাটকে আমার আগমনও একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আসা। সেটি হলো নাটকের রিহার্সালের সময় অন্য একজন অভিনেতার ঘুষি লেগে আবুল হায়াতের নাক ফেটে যায়। এতে ওই চরিত্রে শিল্পীর সংকট পরার কারণে আমাকে দিয়ে অভিনয় করানো হয়। এই ভাবে আমার নাটকে আগমন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিকে শিক্ষার সাথে যুক্ত করতে না পারলে এদেশের তরুণ সমাজ একদিন আঁধারে হারিয়ে যাবে। নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়াতে না পারলে জীবনটাই স্বার্থক হবে না। এই চর্চা থেকে যদি আপনারা বেড়িয়ে যান তবে ধর্মান্ধতা ভর করবে। শুধু মোটা মোটা বই পড়লে হবে না, নিজ দেশীয় সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে হবে। তবেই সমাজ থেকে কুসংস্কার-জঙ্গিবাদ দূর হবে। অনুষ্ঠানে শিল্পচেতনার নতুন ঋদ্বি ঘটিয়ে নাট্যশিল্পে অসামান্য অবদান রাখায় প্রখ্যাত অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক, সাংস্কৃতিক উদ্যোক্তা ও বীর মুক্তিযোদ্বা আলী যাকেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ বিশেষ সম্মাননা ২০১৭ প্রদান করা হয়।   কেআই/
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাহিনিচিত্র ‘কবি ও কবিতা’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘কবি ও কবিতা’ শীর্ষক একটি কাহিনিচিত্র নির্মিত হয়েছে। সহিদ রাহমানের ‘মহামানবের দেশে’ গল্প অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছেন রোকেয়া প্রাচী। শনিবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এ বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ডাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ম. হামিদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম প্রমুখ। ‘কবি ও কবিতা’ কাহিনিচিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পান্থ শাহ্‌রিয়ার। এতে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, এসএম মহসিন, লুসি তৃপ্তি গোমেজ ও একে আজাদ সেতু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের ক্ষমতা এত বেশি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এর চিত্রনাট্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, তাতে এই প্রজন্ম একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাবে।’ রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘সৃজনশীল এই কহিনিচিত্রের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের চেষ্টা করেছি। আমরা নাটকে, চলচ্চিত্রে যত বেশি বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতাকে আনতে পারবো, ঠিক তত বেশি তার রক্তের ঋণ শোধ করা যাবে।’ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ছবিটি এই প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। কিন্তু যারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি, তাদের কাছে স্বাধীনতার এই মহানায়ককে বিকৃতি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে বেশি করে জানতে হলে, এই প্রজন্মকে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে হবে।’ ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই কাহিনিচিত্রের মাধ্যমে ১৫ অগস্টের কালো রাত সম্পর্কে সবাই সুস্পষ্ট ধারণা পাবে। তবে চিত্রনাট্য কিংবা সংকলন নির্মাণে ইতিহাসের তথ্যগত বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ঐতিহাসিক এই কাজগুলো করতে গেলে সতর্ক হয়ে কাজ করাই ভালো।’ ম. হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন তাৎপর্যপূর্ণ, যা বিশদ আলোচনার দাবি রাখে। তার অকাল মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছে। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে গেছে। এ কারণে একটি প্রজন্ম ভুল রাজনৈতিক পথে পা বাড়িয়েছিল। ইতিহাস বিকৃতি করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। নেতার আদর্শকে তারা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তবে দেশ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে এসেছে। এই চেতনাকে উপলব্ধি করেই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করা সম্ভব।’ বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিসত্ত্বার বীজ মননে বপন করেছিলেন বহু আগেই। হাজার বছরের ইতিহাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু প্রথম কোনো নেতা, যিনি একটি ঘুমন্ত জাতিকে অধিকার আদায়ের প্রশ্নে জাগ্রত করেছিলেন। যার কারণে তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীনতার স্বপ্নকে অঙ্কুরোদগম করতে পেরেছিলেন।   কেআই/ডিডি/

`লোক সাহিত্য পুরস্কার` পেলেন সলিমুল্লাহ খান

সমকালীন সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সাহিত্যবিষয়ক লিটল ম্যাগাজিন ‘লোক’ প্রবর্তিত ‘লোক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭’ পেলেন প্রাবন্ধিক-চিন্তক সলিমুল্লাহ খান। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় গ্রন্থগারের সেমিনার কক্ষে লোক ম্যাগাজিনের এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘লোক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৬’ প্রদান উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘লোক’ কর্তৃপক্ষ। এ সময় পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ ও মোস্তাক আহমাদ দীনের হাতে অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন ‘লোক’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক অনিকেত শামীম। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে ‘লোক’ এর ভূমিকা ইতোমধ্যেই সাহিত্যমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমরা এভাবেই সাহিত্যপ্রেমীদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ ও মোস্তাক আহমাদ দীনকে নিয়ে আমরা এবারের সংখ্যাটি করেছি। আগামী বছর প্রাবন্ধিক-চিন্তক সলিমুল্লাহ খানকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করবো। আমাদের পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি কুমার চক্রবর্তী, কবি সোহেল হাসান গালিব, কবি সরোজ মোস্তফা, কবি ফরিদ কবির প্রমুখ। কবি ও কণ্ঠশিল্পী হাসান মাহমুদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মুজিব মেহদী। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রকাশনা সংস্থা থেকে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে একমাত্র ছোট কাগজ হিসেবে ‘লোক’ গত ২০০৯ সাল থেকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে আসছে। পুরস্কারটির আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা।   /ডিডি/

সিকদার আমিনুল হকের রচনাবলী প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও লোক গবেষক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেছেন, ষাট দশকের শক্তিমান কবি সিকদার আমিনুল হকের রচনাবলী বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যতই দিন যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের পাঠক, এমনকি বর্তমান সময়ের নতুন লেখকরা এই কবির কবিতা পাঠে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কবিতায় সিদকার আমিনুল হক নিজম্ব একটা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার কবিতা আমাদের কাব্যসাহিত্যের জগতে বিশেষ অবস্থান নিয়ে আছে। তিনি কবি সিকদার আমিনুল হক স্মরণে বুধবার সন্ধ্যায় অ্যালিফ্যান্ট রোডের দিপনপুরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কবি সিকদার আমিনুল হকের ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সাহিত্য সংগঠন ‘তিন বাংলার ব্যবস্থাপনায়’ কবি সিকদার আমিনুল হক জন্মদিন উদযাপন পরিষদ এই সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহবায়ক কবি ও গীতিকার জাহিদুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি সালেম সুলেরী। আলোচনায় অংশ নেন কবি ফারুক মাহমুদ, কবি হালিম আজাদ, কবি আসাদ মান্নান, কবি আসলাম সানী, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক-সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব কামরুল আহসান খান, কবি ফরিদা মজিদ প্রমুখ। এতে কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা আজাদ, সীমা ইসলাম, রোকন জহুর, মনসুর আজিজ, শাফাত শফিক, সাকিরা পারভিন, রফিক আনন্দ প্রমুখ।   /ডিডি/ এআর

ইউনেস্কোর সেরা হেরিটেজ সাইটে দ্বিতীয় তাজমহল

ইউনেস্কোর সেরা আন্তর্জাতিক হেরিটেজ সাইটের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ভারতের আগ্রার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র তাজমহল। কম্বোডিয়ার আঙ্করভাটের পরই এখন তাজমহলের অবস্থান। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম আগ্রার তাজমহল। স্ত্রী মুমতাজের মৃত্যুর পর আগ্রায় যমুনার তীরে এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করেছিলেন মোঘল সম্রাট শাহজাহান। কালে কালে স্মৃতিসৌধটি প্রেমের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। এর আগে তাজমহলকে বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এবার ইউনেস্কোর অনলাইন ট্রাভেল পোর্টাল ট্রিপঅ্যাডভাইজারের সমীক্ষায় পেল দ্বিতীয় জনপ্রিয়তম পর্যটনকেন্দ্রের তকমা। ট্রিপঅ্যাডভাইজারের প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় তাজমহলের অপরূপ শোভা তুলনাবিহীন। অঙ্কারভাট তার গঠনগত উৎকর্ষের বিচারে সেরা হতে পারে, কিন্তু তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখার মতো দৃষ্টিসুখ বিশ্বের অন্য কোথাও মিলবে না।   /ডিডি/  

মেহেরপুর থেকে শান্তিনিকেতন

দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এ কারণে পূর্ব বাংলার অধিকাংশ হিন্দুরা জন্মভূমি ছেড়ে হিন্দুস্তান তথা ভারতে পাড়ি জমান। অন্যদিকে ভারতের মুসলমানরা পাকিস্তানে আসেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই তখন হিন্দু-মুসলমানদের জন্মভিটা ছাড়তে হয়েছে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ সব বয়সীদেরই ধর্মীয় এ বিভাজনের রোষাণলে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত দু’দেশে এ ধরনের লোক বিনিময় চলে। আশীষ মজুমদার মেহেরপুরের সবুজ-শ্যামলিমা পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ছয় মাস বয়সেই তাকে দ্বি-জাতি তত্ত্বের কোপানলে পড়তে হয়েছিল। জন্মভিটা মেহেরপুর ছেড়ে তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তারা বসবাস শুরু করেন। ওখানেই তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন শেষে গভর্মেন্ট অফ ইন্ডিয়ায় অল ইন্ডিয়া সার্ভিসে তিনি চাকরি জীবন শুরু করেন। কালচক্রের নানা বাঁক পরিবর্তন সাপেক্ষে একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে চলে আসেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের সুনির্মল পরিবেশে এখন তার অবসর সময় কাটছে। কর্মস্থলে আশীষ মজুমদার। ফাইল ছবি সংস্কৃতিমনা একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন আশীষ মজুমদার। তার বাবা হরিপদ মজুমদার সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ক্রীড়া ও মঞ্চনাটক খুবই পছন্দ করতেন। মা রেনুকা মজুমদার গৃহিনী হলেও কবিতা-সঙ্গীতে ভালো দখল ছিল। ‘গীতবিতান’র প্রতিটি লাইন তার মুখস্ত ছিল। মূলত মায়ের কাছ থেকেই তিনি সঙ্গীতচর্চার পাশপাশি ছড়া লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। তার মেজ ভাই নির্মল্য মজুমদার একজন অধ্যক্ষ। ছোট ভাই কল্যাণ মজুমদার ওমানে থাকেন। একমাত্র বোন সোমা ‍মুখার্জী। তার স্ত্রী স্নিগ্ধা মজুমদার। তিনি একটি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাদের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। মেয়ে ঐশ্বর্য রূপা পিএইচডি করেছেন। ছেলে অর্কজ একটি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। আশীষ মজুমদার ছড়া নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করেন। রবীন্দ্র-সতেন্দ্র-সুকান্তের লেখা তার খুবই পছন্দ। এছাড়া নিজে ছড়া রচনার ক্ষেত্রে ছন্দ-বৈচিত্রকে প্রাধান্য দেন। বিষয়বৈচিত্রে মানবিক ও সচেতনতামূলক দিকটি সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন। উদাহরণস্বরূপ; সম্প্রতি ‘এ কোন সকাল’ নামে একটি ছড়া রচনা করেছেন তিনি। এতে ধর্মীয় কুসংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি মানব সমাজকে ধর্মীয় বাড়াবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি লিখেছেন,                         এ কোন সকাল                         রাতের চেয়েও অন্ধকার                         হে ঈশ্বর                         বল তুমি কার?                         ধর্মের না মানুষের                         প্রকৃতির না ধ্বংসের? এ  পর্যন্ত তিনি দুই শতাধিক ছড়া লিখেছেন। কলকাতার একটি স্বনামধন্য প্রকাশনী থেকে এগুলো নিয়ে খুবই শিগগিরই একটি সংকলন প্রকাশিত হবে। আশীষ মজুমদার নিয়মিত গানের রেওয়াজ করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি আধুনিক সঙ্গীতেও তার ভালো দখল রয়েছে। শান্তিনিকেতনে বাড়ি হওয়ায় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের দেখভাল করা সহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন। বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সাদি মহম্মদও তার সহচার্যে থেকে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছেন। সস্ত্রীক আশীষ মজুমদার। ফাইল ছবি একজন আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে ওপার বাংলায় আশীষ মজুমদারের খুব নামডাক রয়েছে। মঞ্চনাটকের সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। তার লেখা কয়েকটি নাটক কলকাতার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মঞ্চস্থ হচ্ছে। বহু প্রতিভার অধিকারী আশীষ মজুমদার আরও জানান, ছাত্রজীবনে বিতর্ক প্রতিযোগীতায়ও তার অনেক সুনাম ছিল। বিভিন্ন বিতর্কে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বহুবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ভাগ্নির বিয়ে উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। আগামী সপ্তাহে জন্মভিটা মেহেরপুরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। ঢাকায় আসার পর থেকেই এখানকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে ঘুরছেন তিনি। গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে একুশে টেলিভিশনের কার্যালয়ে আসেন। এখানকার কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মতবিনিময়ও করেন। তিনি বলেন, ওপার বাংলায় বাংলাদেশি চ্যানেল দেখার সুযোগ নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। তারপরও তিনি মাঝে মধ্যেই ইউটিউবের মাধ্যমে একুশে টেলিভিশনসহ অন্যান্য চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা ও নাটক দেখেন। তাছাড়া অবসর সময়ে তিনি বাংলাদেশি নিউজ পোর্টালগুলোতে ঢুকে এ দেশের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেন। ইটিভি অফিসে আশীষ মজুমদার সময় তিনি একুশে টিভি অনলাইনের প্রশংসা করে বলেন, `এখানকার সংবাদগুলো খুবই তথ্যনির্ভর। স্বল্প সময়েই সংবাদমাধ্যমটি পাঠকদের দৃষ্টি কেড়েছে। আশা করি, একুশে টিভি অনলাইন এভাবেই তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।` বাংলাদেশের আতিথিয়তার ব্যাপক প্রশংসা করে আশীষ মজুমদার বলেন, ‘এ দেশের মানুষ এতটা অতিথিপরায়ণ তা শুধু লোকমুখে শুনতাম। এবার স্বচক্ষে দেখেছি। এখানে এসে মনে হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আন্তরিক, নির্ভীক ও বন্ধুত্বপরায়ণ। পুনর্বার এ দেশের মাটি ও প্রকৃতির স্পর্শ পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি। এখন থেকে মাঝে মধ্যেই আমার প্রিয় এ জন্মভূমিতে আসবো।’

শীতলপাটি এবার ইউনেস্কোর তালিকায়

বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন সিলেট অঞ্চলের শীতলপাটি। ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির বয়নশিল্প ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ২০১৭ তে (ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউমিনিটি) তালিকায় স্থান পেয়েছে। বুধবার ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি এ স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ২০১৬ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে ইউনেস্কোর Intergovernmental Committee for the Safeguarding of the Intangible Cultural Heritage এর ১২তম অধিবেশনে বিশ্বের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (The Intangible Cultural Heritage of Humanity) হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছিল। সিলেটের ঐহিত্যবাহী শীতলপাটিতে রয়েছে লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা, মসজিদ, চাঁদ, পাখি, ফুল, তারা, পৌরাণিক কাহিনীচিত্র, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনারসহ নানা বৈচিত্র্য। শীতলপাটির আকার-আকৃতিতে ও নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন শীতলপাটি তৈরি হয় বেতগাছের বেতি থেকে। বিশেষ বুননকৌশলে শিল্পরূপ ধারণ করে এ লোকশিল্পটি। এই পাটির বেশির ভাগ শিল্পীই বৃহত্তম সিলেট বিভাগের বালাগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের। সিলেট অঞ্চলের এই পাটির শতবর্ষী ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় একশ গ্রামের চার হাজার পরিবার এই কারুশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ শিল্পীরা পাটিয়াল বা পাটিকর নামে পরিচিত।   আর

বৃহস্পতিবার শুরু সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সার্ক কালচারাল সেন্টারের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী, নৃত্য উৎসব ও কর্মশালা। সার্ক হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও নৃত্য উৎসবে ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশসহ ৫টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। এ প্রদর্শনি চলেবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপত্বিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান, বিশেষ অতিথি থাকবেন সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ওয়াসান্তে কতোয়ালা। সংবাদ বিজ্ঞিপ্তি।   আর/টিকে    

‌পড়ালেখার চাপে ছেলেমেয়েদের জীবনে গান নেই

সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী অাসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, "পড়ালেখার চাপে আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনে এখন গান নেই। এটা ভাল লক্ষণ নয়।" বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আমরা সূর্যমুখীর ৪২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা আকাশ চিনে না, ধানক্ষেত চিনে না। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি, আবার আমরাই পাহাড়িদের ওপর আক্রমন চালাই, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেই। এ মানসিকতা কাম্য নয়। `গান হোক অশুভের বিপক্ষে শৈল্পিক প্রতিবাদ` এই শিরোনামকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, মাসুদ আহমেদ, সংগীত শিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর উদ্বোধনী বক্তৃতায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নিবার্হী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সেলিম। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির উদ্যোগে রেহানা রানু শিক্ষাবৃত্তি-১৭ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল আনোয়ারা দিঠি গান। তিনি একে একে একতারা তুই দেশের কথা বল, আকাশের হাতে আছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, গানের খাতায়, প্রেমের অাগুনে, এক নজর না দেখিলে, তোমাকে চাই আমি আরও কাছে, ইস্টিশনের রেলগাড়ীটা, মধু কই কই - এরকম মেজাজের বেশ কিছু গান গেয়ে দর্শক- শ্রোতাদের অন্যরকম আনন্দ দেন।   এএ/এসএইচ

‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা’ ও ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতিপদক’ প্রদান

নাট্যসংগঠন থিয়েটার প্রবর্তিত ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা ও মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক’ প্রদান করা হয়েছে সোমবার, ২৭ নভেম্বর। এ বছর ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা’ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্দেশক, গবেষক ও অভিনেতা ড. ইসরাফিল শাহীন। অপরদিকে ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক’ পেয়েছেন নাট্যকার রুমা মোদক। ২৭ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে এ সম্মাননা ও পদক তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার। থিয়েটার সভাপতি নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।অনুষ্ঠানে গুণিজনদের হাতে পদক তুলে দেন ড. গওহর রিজভী। আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড এর সৌজন্যে ‘মুনীর চৌধুরী সম্মাননা’র অর্থমূল্য বাবদ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক এবং ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক’র জন্য ২৫ হাজার টাকার একটি চেক গুণিজনদের হাতে প্রদান করেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার। দ্বিতীয় পর্বে মুনীর চৌধুরীর নাটক ‘দণ্ডধর’ পাঠাভিনয় করে থিয়েটার সংগঠনের সদস্যরা। মুনীর চৌধুরী সম্মননা আগে যাঁরা পেয়েছেন : ১৯৮৯ সালে প্রখ্যাত অভিনেতা ও গ্রুপ থিয়েটার চর্চার পথিকৃৎ মোহাম্মদ জাকারিয়া, ১৯৯০ সালে যাত্রা জগতের কিংবদন্তি নট-নাট্যকার-নির্দেশক অমলেন্দু বিশ্বাস (মরণোত্তর), ১৯৯১ সালে কৃতী নাট্যকার-নির্দেশক-অভিনেতা আবদুল্লাহ আল-মামুন, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় অগ্রণী দল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ১৯৯৪ সালে প্রতিভাধর নির্দেশক ও ডিজাইনার সৈয়দ জামিল আহমেদ, ১৯৯৫ সালে কৃতী নাট্য সংগঠক রামেন্দু মজুমদার, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে সর্বাধিক নাট্যগ্রন্থ প্রকাশক মুক্তধারা, ১৯৯৭ সালে কৃতী নাট্যকার ও শিল্প সমালোচক সাঈদ আহমদ, ১৯৯৮ সালে প্রতিভাধর অভিনেতা-নির্দেশক ফেরদৌসী মজুমদার, ১৯৯৯ সালে সব্যসাচী নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক, ২০০০ সালে কৃতী নির্দেশক-অভিনেতা-সংগঠক আতাউর রহমান, ২০০১ সালে প্রতিভাধর নাট্যকার-নির্দেশক-অভিনেতা-সংগঠক মামুনুর রশীদ, ২০০২ সালে কৃতী নির্দেশক-সংগঠক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ২০০৩ সালে প্রতিভাধর নাট্যকার-গবেষক সেলিম আল দীন, ২০০৪ সালে গুণী অভিনেতা-নির্দেশক আলী যাকের, ২০০৫ সালে প্রবীণ নির্দেশক নিখিল সেন, ২০০৬ বহুমাত্রিক অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, ২০০৭ সালে নাট্যশিক্ষার পথিকৃৎ জিয়া হায়দার, ২০০৮ সালে কৃতী নাট্যকার-নির্দেশক মলয় ভৌমিক, ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনেতা পার্থপ্রতিম মজুমদার, ২০১০ সালে বিশিষ্ট অনুবাদক ও সমালোচক অধ্যাপক আবদুস সেলিম, ২০১১ সালে বাংলাদেশে গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় অগ্রণী দল আরণ্যক, ২০১৩ সালে গুণী অভিনেতা-নির্দেশক-সংগঠক লিয়াকত আলী লাকী, ২০১৪ সালে প্রতিভাবান নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা, ২০১৫ সালে কৃতি অভিনেতা-সংগঠক ম. হামিদ, ২০১৬ সালে প্রতিভাধর অভিনেতা কেরামত মাওলা এবং ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্দেশক, গবেষক ও অভিনেতা ড. ইসরাফিল শাহীন। মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতিপদক আগে যাঁরা পেয়েছেন : ১৯৯৭ কৃতী নির্দেশক-অভিনেতা-সংগঠক আহমেদ ইকবাল হায়দার, ১৯৯৮ সালে নাট্যকার-নির্দেশক-অভিনেতা মান্নান হীরা, ১৯৯৯ সালে প্রতিভাধর অভিনেতা-সংগীতশিল্পী শিমুল ইউসুফ, ২০০০ কৃতী আলোক পরিকল্পক ঠান্ডু রায়হান, ২০০১ সালে প্রতিভাবান অভিনেতা-নির্দেশক খালেদ খান, ২০০২ সালে কৃতী সংগঠক-নির্দেশক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, ২০০৩ সালে প্রতিভাধর আলোক নির্দেশক নাসিরুল হক খোকন, ২০০৪ সালে প্রতিভাবান নাট্যকার মাসুম রেজা, ২০০৫ সালে কৃতী নাট্যকার-নির্দেশক আমিনুর রহমান মুকুল, ২০০৬ সালে প্রতিভাবান নির্দেশক ফয়েজ জহির, ২০০৭ সালে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জগলুল আলম, ২০০৮ সালে প্রতিভাধর নাট্যকার-নির্দেশক শুভাশিস সমীর, ২০০৯ সালে নিষ্ঠাবান নাট্য গবেষক বাবুল বিশ্বাস, ২০১০ সালে গুণী নির্দেশক অসীম দাশ, ২০১১ সালে নাট্যপত্রিকা থিয়েটারওয়ালা, ২০১২ সালে প্রতিভাবান নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী, ২০১৩ সালে নিষ্ঠাবান নাট্যকার-অভিনেতা সামিনা লুৎফা নিত্রা, ২০১৪ সালে প্রতিভাধর নির্দেশক আইরিন পারভীন লোপা, ২০১৫ সালে কৃতী নির্দেশক-সংগঠক আকতারুজ্জামান, ২০১৬ সালে নিষ্ঠাবান সংগঠক-নির্দেশক অভিজিৎ সেনগুপ্ত এবং ২০১৭ সালে নাট্যকার-অভিনেত্রী রুমা মোদক। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নাট্যচর্চার আধুনিক চেতনা সঞ্চারে অগ্রণী পুরুষ মুনীর চৌধুরী। পরিবেশের প্রবল বিরুদ্ধাচরণ উপেক্ষা করে তিনি জ্বালিয়েছিলেন আলোকশিখা, অন্তরে এবং বাহিরে। তাই যেমন নিমগ্ন ছিলেন নাট্যরচনার একনিষ্ঠ সাধনায়, তেমনি আলো দিয়ে আলো জ্বালানোর প্রয়াসে নাট্যান্দোলনের সামাজিক ব্রতেও ছিলেন সমভাবে নিবেদিত। একদিন তাঁর সৃষ্টিশীল ও কুশলী হাতে রচিত হয়েছে প্রোজ্জ্বল কতক মৌলিক নাটক, অনূদিত ও রূপান্তরিত হয়েছে শেক্সপীয়র ও বার্নাড শ’, পাশাপাশি এই নাট্যব্যক্তিত্বকে ঘিরে রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-যুবাদের নাট্যাচর্চার ভিন্নতর আরেক অধ্যায়। সর্বপরি তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন কারাজীবনে রচিত ‘কবর’ নাটকের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়লগ্নে ধর্মান্ধ পাশবিক সাম্প্রদায়িক শক্তির নির্মম আঘাতে তাঁর মৃত্যু আমাদের জাতীয় চেতনা ও গৌরবের অঙ্গাঅঙ্গি অংশ করে তুলেছে তাঁকে, যেমনভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তধারায় যুক্ত হয়ে তাঁর রক্তও মিশেছে দেশের কাদামাটির সঙ্গে। মুনীর চৌধুরী তাই আমাদের নাটক ও আমাদের জাতির গৌরবগাথার অংশী। মুনীর চৌধুরী থিয়েটার গোষ্ঠির অন্তহীন প্রেরণা।  মুনীর চৌধুরীর নামাঙ্কিত পদক প্রদানের মধ্য দিয়ে থিয়েটার সম্মান জানায় দেশের নাট্যজগতের নিবেদিতপ্রাণ প্রতিভাবানদের এবং রক্তের ভেতরে পুনরায় অনুভব করতে চায় সেই অঙ্গীকার, নাটকের শিল্পীত চর্চার মধ্য দিয়ে জাতির জাগরণের যে স্বপ্ন সবাই বহন করে চলেছে। অপরদিকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় নাট্যব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জাকারিয়া বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক অনন্যসাধরণ সৌভাগ্য দ্বারা বরিত হয়েছিলেন- চল্লিশের দশকে কলকাতায় বাংলা নাটকে যে যুগান্তর ঘটেছিলো গুটিকয় নবীন প্রতিভার মিলিত প্রয়াসে, তিনি ছিলেন সেই তরুণ কাণ্ডারিদের অন্যতম। আবার সত্তরের দশকের সূচনায় স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে যে নবনাট্যধারা কল্লোলিত হয়ে উঠল তিনি ছিলেন সেই জাগরণেরও প্রবীণ অংশী। মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৯৪৪ সালে যুগসৃষ্টিকারী প্রযোজনা বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’ নাটকে শরণার্থীর ভূমিকায় অভিনয় দ্বারা মঞ্চে প্রবেশ করেন। ১৯৪৮ সালে শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, গঙ্গাপদ বসু প্রমুখের সঙ্গে মিলে তিনি গঠন করেন ‘বহুরূপী’। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে নাটকের আশ্চর্য উত্থান সম্পাদিত হয়েছিল একদল তরুণ নাট্যশিল্পীর দ্বারা এবং অনায়াসে তাঁদের সঙ্গে মিশে তাঁদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন সবার আপনকার জাকারিয়া দাদা। ১৯৭২ সালে তিনি থিয়েটার গোষ্ঠিতে যোগ দেন এবং অভিনয়ে অতীত দক্ষতার নব-রূপায়ণ ঘটান ঢাকার মঞ্চে। নাট্যসংগঠন থিয়েটার মনে করে আগামী দিনের নাট্যকর্মীদের হাতে বাংলা নাটকের নবতর উত্তরণ নিশ্চিত হবে। সেই প্রত্যাশায় ১৯৯৭ সাল থেকে থিয়েটার তরুণ নাট্যকর্মীদের সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এর নামকরণ করে ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতিপদক’। //এসএ  

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু ১২ জানুয়ারি

আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১৬তম আসর। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০ তারিখ পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি ১৯৯২ সাল থেকে এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে। নয় দিনব্যাপী এই উৎসবে বিশ্বের ৬০টি দেশের ১৭০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এতে জুরি হিসেবে থাকবেন আট দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, সমালোচক, লেখক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা। এমনটাই জানিয়েছেন উৎসবের পরিচালক ও রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল।  এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী  ১২-২০ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসব নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার চলচ্চিত্র সমালোচকদের সম্মেলন। উৎসবে জুরি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে থাকবেন মোরশেদুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ, নুরুল আলম আতিক ও বিপাশা হায়াৎ। এছাড়াও থাকবেন নরওয়ের এজ হফার্ট, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারি স্প্রিঞ্জার, সিডনি লেভাইন, ভারতের গিরীশ কাসারাভাল্লি, ইরানের মোহাম্মদ হাসান আমির ইয়োসেফি, ইতালির অ্যানা কোচিয়ারেলা, আন্ড্রেয়া মর্গহেন, নেপালের অরুণ দেও জোশি, রাশিয়ার লিয়া গিলমাতদিনোভা, ফিনল্যান্ডের মেরজা রিতোলা। এশিয়ান চলচ্চিত্র, রেট্রোসপেকটিভ, বাংলাদেশ প্যানারমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, শিশুতোষ ছবি, নারী নির্মাতা, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র এবং স্পিরিচুয়াল সিনেমা বিভাগে উৎসবে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, অলিয়স ফ্রঁসেস ও স্টার সিনেপ্লেক্সে এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি আয়োজকদের সঙ্গে যৌথভাবে এশিয়ার চলচ্চিত্র সমালোচকদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ডে লা প্রেস সিনেমাটোগ্রাফিক (ফিপরেসকি)। উৎসবে বাংলাদেশ প্যানারমা বিভাগে দেশের দুটি চলচ্চিত্রকে পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়াও উৎসব উপলক্ষে আরো থাকবে ‘ফোর্থ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ওমেন ইন সিনেমা ২০১৮’ সম্মেলন এবং নতুন নির্মাতাদের নিয়ে কর্মশালা।   / এআর /      

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি