ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ৮:১৪:২৩

নভেম্বরে হবে ফোক ফেস্টিভ্যাল

নভেম্বরে হবে ফোক ফেস্টিভ্যাল

তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ শুরু হচ্ছে আগামী ৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ১১ নভেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্মি স্টেডিয়ামে রোজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দর্শকরা উপভোগ করবেন এই উৎসব। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভেন্যু ও তারিখ চূড়ান্ত হলেও এখনও শিল্পী নির্বাচন চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই বিশ্বের নানা প্রান্তের লোকশিল্পীদের নির্ধারণ করা হবে উৎসবের জন্য। গেল বারের উৎসবের চেয়ে আরও বেশি বর্ণিল করে তুলতে সবরকম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যবারের আসরের মতো এবারও দর্শকরা বিনামূল্যে শুধুমাত্র অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এজন্য dhakainternationalfolkfest.com ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের নম্বর বা স্কুল/কলেজের আইডি কার্ড প্রয়োজন হবে। রেজিস্ট্রেশন সফল হলে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপত্র প্রিন্ট বা সংগ্রহ করতে হবে। কবে থেকে শুরু হবে রেজিস্ট্রেশন তা জানতে চোখ রাখতে হবে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেজটিতে। ফেসবুকের ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেজটি এবং এর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখার সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে হবে ১৬৩৭৪ নম্বরে।   এসএ / এআর
বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাতিল

ভেন্যু জটিলতায় চলতি বছর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে না। রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন উৎসবের আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে এবারই প্রথম এই উৎসব হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বড় পরিসরের এ উৎসব আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা ও মানুষের জমায়েতের জন্য উপযুক্ত জায়গার বিষয়টি সময়মতো মীমাংসা না হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০১৭ সালের বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর এ উৎসব হওয়ার কথা ছিল। উৎসবে দুই শতাধিক শিল্পী-কলাকুশলীর অংশ নেওয়ারও কথা ছিল। তাঁদের এরই মধ্যে উৎসব বাতিলের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।   এসএ / এআর

আরণ্যকের ৪৫ বছর পূর্তিতে সপ্তাহব্যাপী নাট্যোৎসব

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে আরণ্যকের সাত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ‘পুষ্প ও মঙ্গল উৎসব’। নাট্যদল আরণ্যক-এর ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী এ নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব চলবে ২২ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে উৎসবের উদ্বোধন করবেন অভিনয়শিল্পী ও শহীদ মুনীর চৌধুরীর সহধর্মিণী লিলি চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন নরওয়ে ও ইরানের রাষ্ট্রদূত। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুছ ও লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আরণ্যক নাট্যদলের প্রধান সম্পাদক মান্নান হীরা। উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আরণ্যক নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ।  উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালায় প্রদর্শিত হবে আরণ্যকের নাটক ‘ইবলিস’। পরদিন বিকেল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালার সামনে থাকছে পরিমল ও তার দলের পরিবেশনায় গম্ভীরা। সন্ধ্যায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের নাট্যদল ঋত্বিকের পরিবেশনায় ‘আঁধারে সূর্য’। জাতীয় নাট্যশালায় প্রদর্শিত হবে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’। উৎসবে অন্যান্য নাটকের মধ্যে থাকছে- আরণ্যকের ‘অরণ্য মঙ্গল’, ‘রাঢ়াঙ’, ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’, ‘আগুনের জবানবন্দী’সহ আগরতলা নাট্যভূমির ‘রাইমা সাইমা’, শান্তিপুর সাংস্কৃতিক দলের ‘বৃষ্টি বৃষ্টি’, নরওয়ের ড্রাগ প্রডাকশনের ‘হেরিটেজ’, ইরানের ‘মানুষ’, কলকাতার আয়ন্দার ‘অনুসূচনা’, প্রাচ্যের নিউ আলিপুরের ‘সখারাম’ এবং হংকংয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের এশিয়ান পিপলস থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল সোসাইটি প্রযোজিত ‘প্লে’।   এসএ/ এআর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য উৎসব শুরু

মঞ্চনাটক বাংলা সংস্কৃতির একটি অন্যতম অংশ। অসাধারণ মঞ্চনাটকগুলো এদেশের সংস্কৃতিমনা মানুষদের সবসময় বিনোদন দিয়ে গেছে এবং নিয়মিত সংস্কৃতি চর্চার সাথে সংযুক্ত রেখেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ (ডিইউসিএস) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির সব শাখার সঙ্গে সাধারণের এক আত্মিক সেতুবন্ধন তৈরি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে আজ ২২ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য উৎসব’ এর আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নাট্যে ৎসব উপলক্ষ্যে দেশের সেরা তিনজন তরুণ নাট্য ব্যক্তিত্বকে সম্মাননাও প্রদান করবে সংগঠনটি। উৎসব উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান নাট্য ব্যক্তিত্ব আফসার আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী। নাট্যোৎসবের প্রথম দিন ময়মনসিংহের নাট্যদল ‘বঙ্গলোক` এর নাটক ‘রূপচান সুন্দরীর পালা‘, দ্বিতীয় দিন সংস্কার নাট্যদলের বিশেষ নাটক ‘বশীকরণ’ এবং উৎসবের শেষ দিনে ‘প্রাঙ্গণে মোর` নাট্যদলের আয়োজনে ‘কনডেমড সেল` নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রতিটি নাটকই শুরু হবে বিকাল পাঁচটা থেকে। প্রাচ্যনাটের প্রতিষ্ঠাতা আজাদ আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্ট্যাডিস বিভাগের শিক্ষক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব তিতাস জিয়া এবং প্রাঙ্গণে মোর নাট্যদলের রামিজ রাজু-কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।     এসএ / এআর

খান আতাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা, সংগীত পরিচালক, গায়ক ও গীতিকার খান আতাউর রহমানকে রাজাকার বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যজন ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। খান আতার পরিচালিত সিনেমা ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নিয়েও মন্তব্য করেন বাচ্চু। আর তাতেই ফুঁসে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া, চলচ্চিত্র পাড়াসহ বিভিন্ন মহল। তাই এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় বিএফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমাটিও প্রদর্শিত করা হবে। চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক  বলেন, ‘দুঃখের কিছু কথা বলতে চাই’- শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে খান আতা সাহেবকে নিয়ে কথা বলা হবে এবং ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এমনকি সিনেমাটি নিয়েও আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি পরিচালক আখতার জং কারদার পরিচালিত ছবি ‘জাগো হুয়া সাভেরা’তে মূল ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবনের সূত্রপাত হয় খান আতাউর রহমানের। তার অভিনীত প্রথম বাংলা ছবি ছিল ‘এদেশ তোমার আমার’। যেটি মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালে। অভিনেতা এবং সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ‘কখনো আসেনি’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘সোনার কাজল’-এর মতো সফল চলচ্চিত্রে। ৭০ এবং ’৮০-এর দশকে উপহার দেন সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে ‘এ কি সোনার আলোয়’, শহনাজ রহমতুল্লাহের কণ্ঠে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’-এর মতো গান। খান আতাউর রহমান প্রায় ৫০০ গানের গীতিকার। ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে তিনি ‘এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে’ শীর্ষক গানের কথা লিখেছেন এবং নিজেই কণ্ঠ দেন।   খান আতাকে নিয়ে বাচ্চুর বক্তব্যের ভিডিও :     এসএ/এআর

শিল্পকলায় প্রাঙ্গণেমোরের ‘বিবাদী সারগাম’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা অডিটোরিয়ামে ১৬ অক্টোবর, সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হচ্ছে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের ১১তম প্রযোজনা নাটক ‘বিবাদী সারগাম’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য শিশির রহমান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের আলোয় বাংলার তিন বীর সেনানী বিনয়, বাদল, দীনেশের কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ নাটকের নাম ‘বিবাদী সারগাম’। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যে সব বিপ্লবী প্রাণ বলিদান করেছেন গুটি কয়েকজনকে বাদ দিলে আর সবাইকে ভুলে গিয়েছে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। এমন কি বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই জানেন না বিপ্লবীদের মধ্যে কাদের উঠতে হয়েছিল ফাঁসির মঞ্চে? আর কারাই বা কারাগারে আত্মবিসর্জন করেছিলেন অথবা ইংরেজ সরকারের প্রশাসনের অত্যাচারে বিনা বিচারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছিল। অবশ্য দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন তারা কিছু ব্যক্তি স্বার্থ চানওনি। ওরা দিতে এসেছিল কিছু নিতে নয়। বিনয়, বাদল, দীনেশের কথা অভিবিভক্ত বাংলার অধিকাংশই ভোলেননি। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের অনেকেই এই তিন অকুতোভয় বীরের নাম অনেকেই জানেন না। আবার অনেক প্রবীণ দেশ প্রেমিক সচেতন সাধারণ এই মহান বীর সেনানী বিনয়, বাদল, দীনেশের নাম জানলেও তাদের সমগ্র বিপ্লবী জীবনের কথা অনেকেই জানেন না। সেই সঙ্গে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের কথা ভালভাবে না জানলে বিনয়, বাদল, দীনেশের কথাও সঠিকভাবে জানা যায় না। ঘটনার বিন্যাসের প্রয়োজনে বিনয়, বাদল ও দীনেশকে তুলে ধরতে গিয়ে সমসাময়িক ঘটনাগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে। বিনয়, বাদল, দীনেশ এর মধ্যে বিনয় ও বাদল আত্মহত্যা করেছিল আর দীনেশকে উঠতে হয়েছিল ফাঁসির মঞ্চে। দেশ, মাটি, মানুষ ও মায়ের ভাষাকে ভালবেসে যারা নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন একাতরে সেই সব অকুতোভয় বীর সেনানীদের এই নাটকের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। ‘বিবাদী সারগাম’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- রামিজ রাজু, মাইনুল তাওহীদ, বন্ধু তুহিন, রিগ্যান সোহাগ রত্ন, শুভেচ্ছা রহমান, সবুক্তগীন শুভ, লিটু রায়, আহমেদ সুজন, চৈতালী চৈতী, রাহুল, নিরঞ্জন নীরু, সুজন গুপ্ত, প্রীতি, মাহমুদুল হাসান, সোহাগ রহমান, স্বাধীন আরুশ, নূপুর, মিঠুন, উর্মিল, মৌসুমী মৌ, পরশ ও বাঁধন সরকার।   এসএ/এআর

লন্ডনে চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বৃহন্নলা’

লন্ডনের করোয়াইতে ১৫ অক্টোবর রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ৭ দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবে অংশ নিতে ইতিমধ্যে লন্ডনে গিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়ক ফেরদৌস। সেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিসহ নানান বিষয় তুলে ধরবেন তিনি। একই সঙ্গে উৎসবের শুরুর দিন তাঁর অভিনীত মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হবে। প্রদর্শনী শেষে সেখানে দর্শক এবং সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নেবেন ফেরদৌস। উৎসবটিতে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, নিঃসন্দেহে এই উৎসবে অংশ নেয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। কারণ লন্ডনের মতো একটি স্থানে আমি দেশ এবং দেশের চলচ্চিত্রের একজন হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবো। এটা অনেক ভালোলাগারও বিষয়। উল্লেখ্য, এই উৎসবে প্রতি বছর একটি দেশকে, সেই দেশের সংস্কৃতিসহ নানান বিষয়ে দর্শকের সামনে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়। এবার এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ এবং এর সংস্কৃতিসহ আরো নানান বিষয় তুলে ধরা হবে। যার প্রতিনিধিত্ব করতে ফেরদৌসকে নিমন্ত্রণ করা হয়।   গেল শুক্রবার সকালের ফ্লাইটে ফেরদৌস লন্ডনের উদ্দেশে রওয়ানা হন। আজ এই উৎসবের শুরুর দিনে উপস্থিত থাকবেন ফেরদৌস। যেখানে প্রদর্শন করা হবে ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্র। প্রদর্শনী শেষে সেখানে দর্শক এবং সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নেবেন ফেরদৌস। আগামী ১৭ অক্টোবর ফেরদৌস দেশে ফিরবেন। দেশে এসে তিনি একে সোহেল পরিচালিত ‘পবিত্র ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের কাজ শেষ করবেন বলে জানা গেছে।   এসএ/এআর

ভাবসাগরে ডুবিয়ে দেয় ‘মহাজনের নাও’

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম আমাদের শিল্পসংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। করিমের গানে মুগ্ধ হয়নি, ভাবসাগরে ডুব মারেনি এমন মানুষ নেই বললেই চলে। এ সাধককে নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছে। নানাজন নানাভাবে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাউলকবির মূল্যায়নে প্রতিভাবান লেখক-নাট্যকার শাকুর মজিদও পিছিয়ে থাকেননি। করিমকে নিয়ে তার উল্লেখযোগ্য দুটি কাজ হচ্ছে- ভাটির পুরুষ ও মহাজনের নাও। করিমের ওপর দীর্ঘ ৭ বছর গবেষণা করে শাকুর মজিদ বানিয়েছেন প্রামাণ্যচিত্র- ভাটির পুরুষ। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছিলো করিমের জীবদ্দশায়। তাঁর দেহাবসানের পর লিখেছেন গীতিনাট্য ‘মহাজনের নাও’। জীবিত করিম এবং লোকান্তরিত করিম- দুইভাবে শাকুর মজিদ ‘বন্দি’করেছেন তাঁকে। ‘মহাজনের নাও’ প্রকৃতপক্ষে একটি মঞ্চনাটক। নাটকটি সুবচন নাট্যসংসদ’র ৩৩তম প্রযোজনা। নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী। আজ ১৪ অক্টোবর, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকটি প্রদর্শীত হবে। নাটকটি শতবারের অধিক মঞ্চ আলোকিত করার পরেও দর্শকদের কাছে এর কদর একটুও কমেনি। বরং কোন কোন দর্শক নাটকটি দেখেছেন বেশ কয়েকবার। এমনই একজন দর্শক ফার্মগেট বিজ্ঞান কলেজের সিনিয়র শিক্ষক ফাতেমা কাশেম। যিনি নাটকটি দেখেছেন ২৫ বার। আজও তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে নাটকটি দেখবেন। এমনটি জানালেন তিনি। নাটকটি নিয়ে ফাতেমা কাশেম বলেন, ‘আমি নাটকটি ২৫ বার দেখেছি। এখনও আমি নাটকটি দেখার আগ্রহ রাখি। যতবার দেখি ততবারই আমার মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত হয়। বিশেষ করে নাটকে আবদুল করিমের গানগুলো আমাকে ভাবসাগরে ডুবিয়ে দেয়। তাই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব যখনই যাকে সঙ্গে পাই তাকে নিয়ে আসি নাটকটি দেখানোর জন্য।’ আসলেই তাই। বাংলা গানের জগতের অপ্রতিরোধ্য কবি শাহ আবদুল করিম। প্রকৃতি, জীবন, মানবিক আবেগ; হাজার বছরের বহমান বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রত্যাবীক্ষক তিনি। বাংলাদেশের গানের জগতে ‘বাউল সম্রাট’ উপাধিপ্রাপ্ত চারণকবি। তাঁকে নিয়ে গীতিকাব্যময়তায় উপস্থাপিত হয়েছে নাটক ‘মহাজনের নাও’। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবনদর্শন ও তার কর্মজীবনকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে নাটকটি। ‘বিসমিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ’- বন্দনা দিয়ে শুরু এবং শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নাট্যের শেষ। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এরিনা বা চারদিকের খোলা মঞ্চে প্রদর্শীত হয় নাটকটি। যা ইতিমধ্যে দেশে ও বিদেশে ব্যপক প্রশংসা লাভ করেছে। বাঙালি জীবনের সংস্কৃতির বহমান ‘পালা’ রীতি অবলম্বনে নাট্যটি প্রদর্শিত হয়। এরিনা মঞ্চে গানের মধ্য দিয়ে শাহ আবদুল করিমের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কাহিনিবর্ণন নাট্য-উপস্থাপনাটির মূল বিষয়। ‘মহাজনের নাও’ নাটকের বর্ণনা ও সংলাপগুলো ছন্দোবদ্ধ। পালা পরিবেশনারীতির নিয়মতান্ত্রিকতা মানা হয়েছে নাটকটিতে। সুবচন নাট্য সংসদের এ নাটকটি মূলত দেহতত্ত্বনির্ভর। এতে গানের মানুষ আবদুল করিমের জীবন ও জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়েছে গীতল ভাষায়। পুঁথির ঢঙে পয়ার ছন্দ ব্যবহার করে নাটকটি নিবেদন করেছেন কথাশিল্পী শাকুর মজিদ। যেখানে করিমের জীবনের নানা জটিলতা, সংকট এবং তার থেকে উত্তরণের বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে। ব্রিটিশ শাসনকালে জন্ম এ শিল্পীর। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সংগ্রামময় জীবনে শিল্পী নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। সাধনা করে গেছেন আমৃত্যু। শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্চের ভাটি অঞ্চলের মানুষ ছিলেন। তার গানে তিনি নৌকা শব্দটি অনেকবার ব্যবহার করেছিলেন। অভিনেতাদের দক্ষতায় একজন সহজাত শিল্পীর জীবনবোধ ও দর্শন দর্শককে নিয়ে যায় অন্য জগতে। করিম নিজেকে ভেবেছিলেন যেন কোনো এক মহাজনের কাছ থেকে ধার পাওয়া এক নৌকা। যে নৌকার মালিক তিনি নন। শাহ্ আব্দুল করিমের জীবনকে নাটকের মাধ্যমে তুলে আনতে নাট্যকারকে তার গান নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। জীবনের প্রতিটি বাঁকেই যেন তার গান আমাদের কাছে মূর্ত হয়ে ধরা দেয়। শাহ্ আব্দুল করিম তার সারাটি জীবন মানুষের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন তার গানের মাধ্যমে। তার গানে প্রতিনিয়ত উঠে এসেছে শ্রেণিসংগ্রামের কথা; সাধারণ মানুষের দৈন্যতার কথা। শোষক শ্রেণি যে সবসময় আমাদের দমিয়ে রাখতে চায়, আর সেখানে যে শিল্পী শ্রেণি শুধু তাদের কাছে ব্যবহূত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে তারও প্রমাণ বাউল শাহ্ আব্দুল করিম নিজেই। তাকেও কয়েকটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তার যথাযোগ্য সম্মান বা সম্মানী কোনোটাই তাকে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলের নেতারা যে শিল্পীদেরকে শুধু তাদের প্রয়োজনেই ব্যবহার করে, সে কথা নাটকে শাহ্ আব্দুল করিমের মুখেই উঠে আসে। কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়/ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় … এই গানের সুরে সুরে একসময় বিদায় নেয় ‘মহাজনের নাও’। নাটকটির বিশেষত্ব হচ্ছে, সুবচন নাট্য সংসদের সকল অভিনয়শিল্পীই একেক জন গানেরও শিল্পী। গান ও অভিনয়ে তারা মুগ্ধ করেন দর্শকের মন।   মহাজনের নাও নাট্যটি প্রযোজনায় বিভিন্ন সময়ে যাঁরা কুশলী – চরিত্রাভিনয়ে : করিম – ফজলুল হক রাসেল, ইমরান হোসেন, রূপা নাসরিন, মেহেদী হাসান সোহাগ, আহাম্মেদ গিয়াস, আমিরুল ইসলাম বাবুল, ইমাম : আসাদুল ইসলাম আসাদ, আনসার আলী, ডিসি : আনসার আলী/ সাইফুল ইমাম দিপু/ মনিরুল হোসেন শিপন, ইউএনও : রফিক, রুহি : তানভীর আহম্মেদ, আকবর : রনি আলম লিমন, সুনন্দ : প্রশ্ন, সরলা : তাসলিনা হক লিনা, রূপা নাসরিন/ সোনিয়া হাসান সুবর্ণা, সাত্তার মিয়া : লিঠু রানী মন্ডল, আবদুর রহমান : আমিরুল ইসলাম বাবুল। গায়েন ও কথক – আমিরুল ইসলাম বাবুল, আহাম্মেদ গিয়াস, রূপা নাসরিন, ইমতিয়াজ, লিঠু রানী মন্ডল, ফজলুল হক রাসেল, ইমরান হোসেন, মেহেদী হাসান সোহাগ, সোহেল খান, শাহ সালাউদ্দিন, তানভীর আহমেদ, সাঈদ বাবু, আসাদুল ইসলাম আসাদ। গীতিতে – তানভীর আহমেদ ভুঁইয়া, সোহেল খান, শাহ সালাউদ্দিন, মেহেদী হাসান তাসলিনা হক লিনা, পান্থ, সম্ভব, পাভেল, নোবেল, তানিম, প্রশ্ন, রফিক, আনসার আলী, আসাদুল ইসলাম আসাদ, সাঈদ বাবু, রনি আলম লিমন, শ্রীনিবাস দাস। নেপথ্যে – আলো, মঞ্চ, পোশাক ও দ্রব্য : সুদীপ চক্রবর্তী, আবহসংগীত : আহসান হাবীব নাসিম, পোস্টার ও প্রচ্ছদ : সাইফুল, ইমাম দিপু, মুখোশ : শ্যামল সরকার, আলোক পরিকল্পনা সহযোগ : গর্গ আমিন, পোশাক পরিকল্পনা সহযোগ : কাজী তামান্না, সৈয়দা ইফাত আরা, সুশান্ত সরকার, রনি আলম লিমন, পোশাক নির্মাণ : আরিফ, দ্রব্য পরিকল্পনা সহযোগ : সোহেল খান, পাভেল, মুনিম তরফদার, বেলাল মিয়া, আবহসংগীত সহযোগ : ইমতিয়াজ, বাদ্যযন্ত্র সমন্বয় : ইমতিয়াজ, রংপট অঙ্কন : রঘুনাথ চক্রবর্তী, বাউল করিমের গান ও সুর প্রশিক্ষণ : বাউল আবদুর রহমান ও শাহ আবদুল তোয়াহিদ, সহযোগ : দোলন, লাঠি খেলা প্রশিক্ষণ : আবদুল হেলিম বয়াতী ও তাঁর দল (নেত্রকোনা), মঞ্চ ব্যবস্থাপনা : সোহেল খান, প্রচার ও প্রকাশনা : সাইফুল ইমাম দিপু, বিশেষ সহযোগিতা : ড. ইস্রাফিল শাহীন, প্রযোজনা অধিকর্তা : আহাম্মেদ গিয়াস। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ‘মহাজনের নাও’ নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসে সুবচন নাট্য সংসদ। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুটি প্রদর্শনী ছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, জলপাইগুড়ি, অসম, কলকাতা, লন্ডন ও বাংলাদেশের কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, সিলেট, সাভার, বিয়ানীবাজার, বরিশালসহ আরও অনেক জায়গায় সফল প্রদর্শনী হয়েছে। //এআর

সায়িকের প্রতিবাদের ভাষা ঐতিহ্যবাহী পালা

বাংলাদেশের আবহমান নাট্যধারা ‘পালা’। সাধারণত বন্দনা, বর্ণনা, নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে পালা উপস্থাপিত হয়ে থাকে। আরও সহজ করে বলতে গেলে, গ্রামে পরিবেশনযোগ্য কাহিনী নির্ভর নাট্য পরিবেশনাকে ‘পালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এখনও গ্রামগঞ্জে প্রতিনিয়ত শত-শত পালা, জারি, যাত্রা মঞ্চস্থ হয়ে চলেছে। যদিও আধুনিকতার দোহাই দিয়ে এসব পরিবেশনাকে ‘ফোক’ স্টাডিজে আবদ্ধ করে দূরে ঠেলে রাখা হচ্ছে। তবে আজও গ্রামীণ বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় পরিবেশনা ‘পালা’। কাহিনীর প্রাধান্য বা নির্ভরতা বিদ্যমান থাকে বলেই এ-শ্রেণির নাট্যকে ‘পালা’ বলা হয়। সেই পালা যখন হয় প্রতিবাদের ভাষা তখন শিল্পীর সঙ্গে দর্শকের রসায়ন ঘটতে বাধ্য। বিলুপ্ত প্রায় এই শিল্পটিকে নিজের মত করে পরিবেশন করে চলেছেন তরুণ শিল্পী সায়িক সিদ্দিকী। তিনি ঐতিহ্যবাহী ‘পালা’কে নিয়েছেন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। সমসাময়িক ঘটনার অবলম্বনে নিজেই ‘পালা’ রচনা করেন। সেই পালাগুলোতে নিজেই একক অভিনয় করেন। শিল্পী সায়িক সিদ্দিকী একাধারে একজন অভিনয় শিল্পী, নির্দেশক, লেখক ও সংগঠক। যখনই সমাজে কোনো অন্যায়, অবক্ষয় ও ইস্যু এসে উপস্থিত হয় ঠিক তখনই লেখক হিসেবে কলম ধরেন সায়িক। রচনা করেন সমসাময়িক ওই ইস্যু বা ঘটনার উপর পালা। এরপর তা মঞ্চে দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করেন একক অভিনয়ের মধ্যমে। বিষয়েটি নিয়ে সায়িক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর মধ্যে পালা অন্যতম। এই শিল্পটিকে আমি নিয়েছি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। আমি সাধারণত সমসাময়িক বিষয়ের উপর ‘পালা’ রচনা করি। যেমন ধরুন- রোহিঙ্গা ইস্যু, ফেসবুক, ভারতীয় সিরিয়ালের মত বিষয়। এখানে আমি পালার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে একটা ম্যাসেজ দেওয়ার চেষ্টা করি। থিয়েটার, নৃত্য, গান শিল্পের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সায়িক কেন পালাকে বেছে নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি পালা ছাড়া আর কিছুই পারিনা। নিজে যা ভেবেছি, যা দেখেছি তাই পালার মাধ্যমে মঞ্চে আনার চেষ্টা করেছি। আমি এ শিল্পটি নিয়েই কাজ করতে চাই। কারণ এখানেই আমি আমাকে খুঁজে পাই।’ সায়িক ইতিমধ্যে বেশকিছু পালা মঞ্চে এনেছেন। এরমধ্যে- জয়গুন বিবির পালা, রুপচাঁন সুন্দরীর পালা, ভানুচন্দ্রের পালা, গুনজান বিবির পালা অন্যতম। তিনি আরও বলেন, আমি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অমর প্রেমাখ্যান রোমিও-জুলিয়েট অবলম্বণে রচনা করেছি ‘ভানু-চন্দ্রের পালা’। এটি একটি ভিন্ন ধরণের পালা। শেক্সপিয়ারের গল্প আমাদের লোকজ আঙ্গিকে নিয়ে আসার এই কাজটি অসাধারণ হয়েছে। যেমন ধরুন : ‘আসর জুড়ে রসের ভানু পাল তুলিয়া যায়/আইসো গো মা স্বরস্বত্তি আমার বন্দনায় …’ এমন বন্দনা গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভানু-চন্দ্রের পালা। এখানে তৎকালীন শেক্সপিয়ারের রোমিও-জুলিয়েটকে সম্পূর্ণ লোকজ আঙ্গিকে ভানুমতি ও চন্দ্রকুমার রূপে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। গীত-বাদ্য ও নৃত্যের তালে অভিনয়ের মাধ্যমে পালার কাহিনী বর্ণনা করেন সায়িক। সাধারণত কিশোরগঞ্জের ভাষায় পালা রচনা করেন তিনি।  সায়িকের অন্যতম পালার মধ্যে রয়েছে ‘রুপচাঁন সুন্দরীর পালা’। ১৬ বছরের যুবতী কন্যা রুপচাঁন সুন্দরী। যার প্রণয় হয় মজলিসপুর গ্রামের যুবক সুজনের সাথে। মা হারা এই মেয়ের ঘরে রয়েছে সৎ মা। রুপচাঁন আর সুজনের প্রেমের শেষ পরিনতি হিসেবে তাদের বিয়ে হয়। রুপচাঁনের সৎ মায়ের ভাই-এর ছেলে সেফা মিয়ার পরামর্শে রুপচাঁনের সৎ মা বিয়ের দিন রুপচাঁন আর সুজনকে বাড়িতে রেখে দেন। বাসর রাতে সুজনকে খাওয়ানোর জন্য রুপচাঁনের মা রুপচাঁনের হাতে তুলে দেন বিষ মিশানো শরবতের গ্লাস। বাসর রাতেই সেই বিষ মিশানো শরবত খেয়ে সুজন মারা যায়। ওই রাতেই রুপচাঁনের বাবাকে মেরে কন্যাকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্ত সেফা মিয়া। তার নিজের বাড়িতে নিয়ে রুপচাঁনকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়। রূপচাঁন এই লজ্জা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে। এমনই কাহিনি উঠে আসে সায়িকের ‘রুপচাঁন সুন্দরী’র পালায়। সায়িক তার পালার আকর্ষণীয় স্থানের কোনো একটি অংশে সচেতনতামূলক ম্যাসেজ দেন দর্শকদের সামনে। এখানে উঠে আসে সমস্যার সমাধান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তার এমনই একটি পালার মধ্যে রয়েছে ‘গুলেজান গুলেজা’। ফেসবুকের অপব্যবহার ও ভারতীয় সিরিয়ালে আসক্তির প্রভাবে পরিবার ও সমাজের যে অবক্ষয় ঘটছে তা উঠে এসেছে এ পালার মধ্যে। ‘গুলেজান গুলেজা’ কাহিনী সম্পর্কে সায়িক একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, একটি মেয়ের নাম গুলেজান আক্তার গুলেজা। সে ফেসবুক ব্যবহার করতে এসে নিজের নাম বদলে রাখে গুলেজান গুলেজা। মেয়েটি ফেসবুকের প্রতি এতো বেশি আসক্ত হয়ে ওঠে যে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও বিরক্তি বোধ করে। মায়ের সঙ্গে মেয়ের দূরত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে এই পালার মধ্যে। মেয়ের ফেসবুক আসক্তি দেখে মা যখন তাকে মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করেন তখন মেয়েটি প্রতিবাদ করে। সে বলে ওঠে- তুমি তো তোমার সিরিয়াল বাদ দিয়ে আমাকে সময় দিতে পারো না। তাহলে আমি কেনো ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিবো! সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সায়িকের এই যে প্রচেষ্টা তা ইতিমধ্যে প্রশংসা লাভ করেছে। দেশের গণ্ডি পাড়ি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পালা প্রদর্শিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে। সম্প্রতি স্পেনের সেগোভিয়ায় সায়িক তার পালা প্রদর্শন করেন। গত ১৪ থেকে ২২ জুলাই হয়ে গেল স্পেনের সেগোভিয়া শহরে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) ৩৫তম কংগ্রেস। সেখানেই তরুণ নাট্যকর্মী (ইয়াং প্র্যাকটিশনার্স) হিসেবে আমন্ত্রণ পান সায়িক সিদ্দিকী। সেই বিশ্ব মঞ্চ জয় করে সায়িকের পালা। সায়িক এ বিষয়ে জানান, আমাদের পালাগুলো এতো বেশি শক্তিশালী যে ভিন্ন ভাষার মানুষগুলোও এই পালার অভিনয় ও গাথুনি দেখে আকৃষ্ট হয়েছেন। তারা আমার প্রদর্শনীর সময় আমাকে সহযোগিতা করতে নিজে থেকেই মঞ্চে উঠে আসে। সেদিনেই বুঝতে পেরেছি আমাদের পালার ঐতিহ্য ও মান কতটা উর্বর ও সমৃদ্ধ। উল্লেখ্য, ‘পালা’ আঙ্গিকটি বাঙালি জীবনের মধ্যযুগের অত্যন্ত জনপ্রিয় শিল্প। বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্য ধারার উপস্থাপনরীতি ছিল প্রধানত পাঁচালি কিংবা পালাকেন্দ্রিক। বৈশিষ্ট্য ও বিষয় অনুসারে ‘পালা’ ভিন্ন-ভিন্ন নামেও পরিচিত। মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্য দিনে পরিবেশিত হলে বলা হতো দিবাপালা আর রাত্রিকালে উপস্থাপিত হলে বলা হতো নিশাপালা। সমকালীন বাংলাদেশে মানবীয় প্রেমাখ্যান নিয়ে নানা নামকরণে ‘পালা’ পরিবেশিত হয়ে থাকে। এসএ/ডব্লিউএন

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে কনসার্ট

‘মানবাধিকার দাও, ফিরিয়ে নাও’- এই শ্লোগান সামনে রেখে কনসার্টের আয়োজন করেছে ‘প্রভাতফেরী’। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ মানবাধিকার দিয়ে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে  ‘কনসার্ট ফর রোহিঙ্গা’ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি)’ কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রভাতফেরী’র সাধারণ সম্পাদক সরদার মনসুর হেলাল এ কথা জানিয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান শিকদার বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের দেশে পূর্ণ মানবাধিকারসহ ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এই আয়োজন করেছি। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানের দিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আমাদের সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। এরপর সেমিনার, বাঁশি ও সারেঙ্গী বাদন চলবে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। সারেঙ্গী বাজাবেন দেশের একমাত্র সারেঙ্গীবাদক মতিয়ার রহমান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ব্যান্ড দল ‘ওয়েব’, ‘মানব’ ও ‘কৃষ্ণপক্ষ’ কনসার্টে গান করবে।   এসএ/এআর      

তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে ধরছে ‘লালজমিন’

‘যুদ্ধের কথা অনেক বলেছি, শুনেছি; আজই প্রথম অনুভব করলাম। তারাই তো বীর যাদের কারণে আজ আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা।’ ‘আবার নতুন করে ’৭১ দেখলাম। দুর্দান্ত কিশোরীর চঞ্চল চরিত্রায়ন অসাধারণ লেগেছে। ‘লালজমিন’ সত্যিই বাস্তব গল্প মনে হয়েছে। সত্যিই অসাধারণ, দুর্দান্ত, সাহসিকতাপূর্ণ।’ এমন হাজারও অনুভুতি প্রকাশ পেয়েছে তরুণ শিক্ষার্থীদের। একটি একক মঞ্চ নাটক দেখে এই অভিব্যাক্তি ব্যক্ত করে তারা। কেউ দাঁড়িয়ে স্যালুট দেয়। আবার কেউ নাটক শেষে মঞ্চে এসে অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একক মঞ্চ নাটক ‘লালজমিন’র সার্থকতা এখানেই। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ ‘লালজমিন’। ৭১এর স্বাধীনতা যুদ্ধ। দীর্ঘ ন’মাস। এই সময়ের স্বাধীনতা সংগ্রামের খন্ডখন্ড চিত্রগুলো একটি কাতারে এনে বিরতীহীনভাবে তুলে ধরে দর্শক শ্রোতাকে কাঁদিয়ে ইতিহাসের কথা জানাচ্ছেন নাট্যাভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী। ‘লালজমিন’ নাটকটি স্বাধীনতার কথা বলে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বর্বরোচিত ঘটনার কথা বলে। নাটকের গল্পে দেখা যায় তের ডিঙিয়ে চৌদ্দ বছর ছুঁইছুঁই এক কিশোরীকন্যার গল্প। কিশোরীর দুচোখ জুড়ে মানিকবিলের আটক লালপদ্মের জন্য প্রেম। তার কৈশরেই শোনে বাবা মায়ের মধ্যরাতের গুঞ্জন। শুধু দু’টি শব্দ কিশোরীর মস্তকে আর মনে জেগে রয়, মুক্তি- স্বাধীনতা। ওই বয়সে কিশোরী এক ছায়ার কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পায়। বাবা যুদ্ধে চলে যায়, অগোচরে- কিশোরী নানা কৌশলে যুদ্ধ যাওয়ার আয়োজন করে,সশস্ত্রযুদ্ধ। বয়স তাকে অনুমোদন দেয় না। এবার কিশোরীর সেই ছায়া-প্রেম সামনে দাঁড়ায়, কিশোরী তার সেনাপতিকে চিনতে পারে। তারপর যুদ্ধ যাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহীদ হন,কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ তরুণীসহ যুদ্ধযাত্রী এই কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা ঘটনা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদাজমিন যুদ্ধকালীন নয় মাসে রক্তরাঙা লাল হয়ে উঠে। লালজমিন কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধও যুদ্ধোত্তর এই নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্যপ্রকাশ। মান্নার হীরার রচনা, সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনা, জুলফিকার চঞ্চল ও রহিম রাজুর সঙ্গীতপরিকল্পনা, বারীসিদ্দিকী, রামিজ রাজু, নীলাসাহার কন্ঠের গানে এই লালজমিনকে সাজানো হয়। ২০১১সালের ১৯মে লালজমিন প্রথম মঞ্চায়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমন্ডলে। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৫টি প্রদর্শনী হয়েছে লালজমিনের। সেই ধারাবাহিকতায় লালজমিন দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। শিল্পবোদ্ধাদের কাছেও নাটকটি অনেক প্রশংসিত হয়েছে। অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে  বলেন, নাটকটির পেছনে অনেক শ্রম, মেধা, সময় এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। শুরুর দিকে কারোরই সহযোগিতা ছিলো না। তখন ২০টি শো হবে কিনা তা নিয়েই চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু লালজমিন এমন একটি নাটক যার সংলাপ, অভিনয়, সঙ্গীত, মিউজিক, লাইটিং, কোরিওগ্রাফী সবকিছুই শতভাগ উপস্থাপন হয়েছে। হয়তো এ জন্যই দর্শক নাটকটিকে গ্রহণ করেছে। এছাড়া এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটি আগ্রহ থেকেই যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে নাটকটি বিভিন্ন কলেজে প্রদর্শিত হচ্ছে। যাতে সহযোগিতা করছে- বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র ও কিছু নাটকপ্রেমী মানুষ। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার নাটকটি দেখে ঘোষণা দিলেন যে, এটি স্কুল-কলেজে প্রদর্শিত হওয়া উচিত। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এখন বিভিন্ন কলেজে নাটকটির প্রদর্শনী করছি। তিনি আরও বলেন, আমার নাটক দেখে একজন নারী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে চাইলেন। ওই শিক্ষকের কথা না বলে পারছি না। তিনি আমাকে বললেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। এখন ইচ্ছে থাকলেও তা সম্ভব না। আমি মুক্তিযুদ্ধকে বুকের মধ্যে লালন করি। এ নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে। যা সবার দেখা জরুরী। তাই একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি চাই নাটকটির অসংখ্য প্রদর্শনী হোক। আর এই প্রদর্শনীতে যে খরচ হয় তার একটি অংশ আমি দিয়ে থাকি। দিতে চাই এই কারণে যে আমি এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। মুক্তিযুদ্ধের নাটক হিসেবে লালজমিন এতোটাই দর্শকদের ভেতরে দেশপ্রেম বোধ জাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে যার উদাহরণ সাধারণ মানুষও। সুদীপ্ত সাহা নামে এক দর্শক বলেন, অসাধারণ উপস্থাপনা। নাটক হলেও মনে হয়েছে যেনো সত্যি ঘটনা নিজের চোখের সামনে দেখছি। আর সেইসঙ্গে যেমনটা শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়েছে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তেমনি আগের থেকে আরও আগ্রহী হয়েছি নাট্যশিল্পের প্রতি। সত্যি অসাধারণ। এ বিষয়ে মোমেনা চৌধুরী বলেন, আমি নাটকটি করে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। তারা নাটকটিকে গ্রহণ করেছেন, এটা দেখেই আমি তৃপ্ত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি যখন সিরাজগঞ্জে লালজমিনের শো করলাম তখন একজন রিক্সা চালক ভাই আমাকে তার সারাদিনের আয় ১৭৫ টাকা হাতে দিয়ে বললেন, আপু আপনার নাটক দেখে আমি মুগ্ধ। আমার সারাদিনের পরিশ্রমের সব টাকা সম্মানী হিসেবে আপনাকে দিতে চাই। তিনি আমাকে হাতে গুজে দিলেন। একইভাবে বর্তমানে যে বিভিন্ন কলেজে প্রদর্শনী করছি সেখানেও তরুণ প্রজন্ম নাটক শেষে তাদের অনুভুতিগুলো চিরকুটে আমাদের লিখে দেয়। সেসব অনুভুতিগুলো সত্যিই প্রেরণা জোগায়। মোমেনা চৌধুরী আরও বলেন, এরইমধ্যে আমরা ১২৫টি প্রদর্শনী করেছি। দেশের বেশ কিছু জেলায় প্রদর্শনী হয়েছে। বিদেশেও হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র ও আমাদের সংগঠন শূন্যনবিভিন্ন কলেজে প্রদর্শনী করছে। নতুন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও ৪৪টি জেলা ও উপজেলায় প্রদর্শনীর জন্য সহযোগিতা করছে। //এআর

লোকজ সংস্কৃতি দিয়ে মাদক জয়

নাটক, পালা গান, থিয়েটার আর লোকজ সংস্কৃতি যে সমাজের অন্ধকার ভেদ করে আলোকবর্তিকা নিয়ে আসতে পারে তার অনন্য দৃষ্টান্ত হচ্ছে ময়মনসিংহের অন্বেষা থিয়েটার। মাদক, ইভটিজিং, বখাটেপনা থেকে উঠতি তরুণদের বের করে এনে সমাজের কল্যাণের পথে ধাবিত করছে। সংগঠনটি এলাকার শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও সচেতন তরুণদের পাশাপাশি সম্পৃক্ত করেছে নারীদেরও। তরুণ-যুবক-মধ্যবয়সীসহ কেওয়াটখালির নানা বয়সী মানুষকে এক সুঁতোয় বেধেছে সংস্কৃতি দিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী একটা সময় মাদকাসক্ত, বখাটে ও নেশাগ্রস্থদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ জগত থেকে বের করে আলোর পথে আনতে উদ্যোগী হন এলাকার কিছু সংস্কৃতিমনা তরুণ। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন তরুণ নাট্যকর্মী সায়িক সিদ্দিকী। তিনি নাটক, পালা গান ও লোকজ সংস্কৃতি দিয়ে মাদকের ছোবল থেকে উঠতি বয়সী ছেলেদের বের করে আনার প্রত্যয় গ্রহণ করেন। গড়ে তোলেন সংস্কৃতি চর্চার প্লাটফর্ম অন্বেষা থিয়েটার। দীর্ঘচেষ্টার পর লোকজ সংস্কৃতি দিয়ে মাদক জয় করতে সক্ষম হন তারা। বর্তমানে পাল্টেছে কেওয়াটখালী গ্রামের চিত্র, বদলেছে এর দৃশ্যপট। অন্বেষা থিয়েটার ভবনটি এখন নাট্যচর্চার এক মহালয়ে পরিণত হয়েছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলাসহ সব ধরনের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক জনসচেতনতা সৃ্ষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অন্বেষা থিয়েটারের কর্মীরা। অন্বেষার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেওয়াটখালী এলাকায় রেলওয়ে কলোনীর পরিত্যাক্ত একটি ভবনে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গুটি কয়েক শিক্ষার্থীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ‘অন্বেষা’ । বর্তমানে অন্বেষায় পঞ্চাশেরও বেশি  সংস্কৃতিকর্মী রয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। অন্বেষা নামকরণের পটভূমির কথা জানিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা তরুণ নাট্যকর্মী সায়িক সিদ্দিকী একুশে টেলিভিশন (ইটিভি)অনলাইনকে বলেন, ১৯৭২ সালে ক্রীড়াচক্রের জন্য থিয়েটার ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখানে প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ দুটি ঐতিহাসিক জাতীয় দিবসে শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। একটা সময় ভবনটি মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়। ক্রীড়া-সংস্কৃতির বদলে শুরু হয় মাদকসেবনসহ নানা অপকর্ম। মাদকের ছোবল থেকে তরুণদের বের করে আনতে আমরা উদ্যোগী হই। ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভবনটি পুনরুদ্ধার করি। মূলত তখন থেকেই শুরু হয় অন্ধকার থেকে তরুণ প্রজন্মকে বের করে আনার সংগ্রাম। সায়িক সিদ্দিকী ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আরও জানান, ২০১৫ সালে একুশের প্রথম প্রহরে আমরা অন্বেষা প্রতিষ্ঠা করি। এরপর মঞ্চস্থ করি লোকজ নাটক ‘গুলেজান-গুলেজা’ । সেদিন থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি । যেখানে গিয়েছি, পেয়েছি আতিথেয়তা, পেয়েছি গ্রহণযোগ্যতা । শুধু তাই নয়, সম্পৃক্ত করতে পেরেছি এলাকার নারীসহ অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে ।   অন্বেষা প্রতিষ্ঠার গোড়ার দিকের কথা জানিয়ে তরুণ এই নাট্যকর্মী বলেন, অন্বেষা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন, তাদের বেশিরভাগই এলাকার নারী। প্রথমদিকে মঞ্চটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও বর্তমানে এর মঞ্চ, কক্ষের দরজা-জানালা ও আসবাব আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে । মঞ্চের অর্থায়নে সরকারি কোনো সহযোগিতা না পেলেও কেওয়াটখালির খেটে খাওয়া মানুষজন নিজেদের অর্থায়নে মঞ্চটিকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তবে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখছেন বলেও তিনি জানান । ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার অন্বেষার কার‌্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এক লাখ টাকা স্পন্সরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অন্বেষার বর্তমান অগ্রগতির কথা জানিয়ে সায়িক সিদ্দিকী বলেন, অন্বেষার সদস্যরা বাড়ি  বাড়ি গিয়ে সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে লোকজ নাটক করে থাকে । অন্বেষার জনপ্রিয় নাটক ’গুলেজান গুলেজা’ নিয়ে তিনি বলেন, ফেসবুক আসক্তি ও সিরিয়াল এ দুটির সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে নাটকটি তৈরি করা হয়েছে। নাটকটির দুটি চরিত্রে একটিতে মা, যিনি সিরিয়ালে আসক্ত; অপরটি হলো মেয়ে যিনি ফেসবুকে আসক্ত। গুলেজান আক্তার গুলেজা থেকে ফেসবুকে গুলেজান গুলেজা হয়ে উঠার পরিণতি ও মায়ের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টির কাহিনী নাটকটিতে প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মেয়ের ফেসবুক আসক্তি কমাতে মুঠোফোন ব্যবহারের উপর মায়ের নিষেধাজ্ঞা ও তার বিপরীতে মেয়ের বিদ্রোহী আচরণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে নাটকটিতে। নাটকটিতে দেখা যায়, মা যখন মেয়েকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেন, বিপরীতে মেয়ে গুলেজান মাকে সিরিয়াল দেখা বন্ধ করার পরামর্শ দেন । গুলেজান মাকে জিজ্ঞেস করেন, ’তুমি কি আমাকে তোমার সিরিয়াল ফেলে সময় দিয়েছো যে, আমি পড়াশোনা করবো’ । মূলত এভাবেই এগিয়ে চলে নাটকটি । বর্তমানে সংগঠনটি রোহিঙ্গা ইস্যু, মাদক বিরোধী প্রচারণাসহ বিভিন্ন সামাজিক নাটক মঞ্চস্থ করে যাচ্ছে । গুলেজান থেকে অদ্যাবধি যত নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে সেগুলোর কলাকুশলীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এলাকার নারীরা। নিজেদের ঘরের চাল-ডাল-সবজি দিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। এতে করে সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতিতে নারীর অংশগ্রহণও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন অন্বেষার প্রতিষ্ঠাতা। এলাকার নারীদের দেওয়া চাল-ডাল-সবজি-তেলে তৈরি করা ’সিন্নি’(খিচুরি) খাওয়ার নিমন্ত্রন দিয়ে তিনি সবাইকে অন্বেষা থিয়েটারে আসার আমন্ত্রন জানান । //এআর          

কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিন আজ

`এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়` কবিতাপ্রেমী ও সাধারণ পাঠকের মুখে উচ্চারিত এই পঙক্তিটি যাঁর তিনি হলেন সবার প্রিয় মুখ হেলাল হাফিজ। আজ প্রিয় কবির জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে (৭ অক্টোবর) নেত্রোকোনায় জন্ম নেন প্রতিভবান কবি হেলাল হাফিজ। তাঁর বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার আর মা কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাস করে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক, ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।  তাঁর কবিতা সংকলন `যে জলে আগুন জ্বলে` ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর ১২টি সংস্করণ হয়েছে। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ `কবিতা একাত্তর`। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা `নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়`। ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।   /আর/এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি