ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ৭:৫৮:৫৩

ঢাকায় অবসরে কি করেন তরুণীরা? 

ঢাকায় অবসরে কি করেন তরুণীরা? 

ঢাকা সবচেয়ে ব্যস্ততম নগরী। এই শহরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ তরুণী চাকরি করেন। তাদের অনেকে ঢাকায় যেমন পরিবারের সঙ্গে থাকেন, আবার অনেকে একাই বসবাস করছেন। কিন্তু নিয়মিত চাকরির বাইরে কেমন তাদের অবসর জীবন? এত বড় একটি শহরে তাদের বিনোদনের কতটা সুযোগ রয়েছে?    ঢাকায় নানা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কয়েক লাখ তরুণী চাকরি করছেন। কিন্তু অফিস আর বাসার নিয়মিত রুটিনের বাইরে তারা কি করেন? ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আমেনা আখতার। তিনি ভালো আয় করেন, কিন্তু বলছেন, নিজের বিনোদনের কথা চিন্তা করার সময় তাকে পারিবারিক অনুশাসন আর সমাজের কথাও চিন্তা করতে হয়। তিনি বলছেন, ``আমার একজন স্বাধীনতা মতো, নিজের ইচ্ছামতো নিরাপদে ঘুরবো ফিরবো সেটা এখানে সম্ভব না। যেমন হয়তো অফিসের পর বন্ধুদের সাথে ঘুরলাম, এরপর রাত ৯টা বা ১০টায় বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিলাম, যাতে আমার রিফ্রেশমেন্টও হল, ঘোরাফেরাও হল আবার কাজও হল, কিন্তু এই ঢাকাতে সম্ভব না।`` এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন ``আমি যে সোসাইটিতে থাকি, সেখানে রাত ১০টার সময় যদি কোন মেয়ে বাসায় যায়, তখন অনেক কথা উঠবে। এজন্য সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য সমাজেরও পরিবর্তন দরকার।`` বাংলাদেশের তরুণীরা বলছেন, ঘুরে বেড়ানো বা রেস্তোরায় খাওয়া তাদের বিনোদনের অন্যতম উপায় ঢাকার তরুণী চাকরিজীবীরা বলছেন, ঢাকায় চলাচলের সমস্যা, যানজট আর নিরাপত্তা অভাবের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের ঘরে সামাজিক মাধ্যমে বা টেলিভিশন দেখে সময় বেশি কাটে। তার বিবাহিত তরুণীদের অফিসের বাইরে সংসার সামলাতে অনেক সময় কেটে যায়। তাহেরা সুলতানা নামের একজন তরুণী বলছেন, ``একজন ছেলের মতো আমরা ইচ্ছা করলেই বাইরে যেতে বা ঘুরাফিরা করতে পারছি না। এ কারণেই সামাজিক মাধ্যম গুলোতেই আমাদের বেশি সময় কাটছে। এর মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বেশিরভাগ সময় কাটে।`` অনেকে শপিং মলে ঘুরে বেড়াতে বা কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। এর বাইরে তাদের কাটানোর আরেকটি উপায় কোন উপলক্ষ ধরে রেস্তোরায় খাওয়া দাওয়া করা। আমেনা আখতার যেমন বলছেন, ``অনেক সময় পরিবার বা বন্ধুদের কেউ বলে, ভালো লাগছে না, চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি। কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাবো? পার্কের যে অবস্থা, সেখানে তো যাওয়া যায় না। নিরাপত্তার অভাব। তখন চিন্তা করি, একটা ভালো রেস্তোরায় গিয়ে আজ একজন খাওয়াচ্ছে, কাল আরেকজন। এটাই যেন এখন আমাদের সবচেয়ে বড় বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে।`` তবে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী কানিজ ফাতেমা বলছেন, মেয়েদের জন্য ঢাকার মতো একটি মহানগরীতে আরো কিছু সুযোগ সুবিধা থাকা উচিত। তিনি বলছেন, ``এরকম যদি কোন জায়গা বা সংস্থা থাকতো, যেখানে গিয়ে মেয়েরা ছেলেদের মতো সময় কাটাতে পারবে, যেমন টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা গলফ খেলতে পারবে, তাহলে খুব ভালো হতো। ঢাকায় যে দুই একটি ক্লাব রয়েছে, সেখানে সবাই যেতে পারে না বা অনেকগুলো মেয়েদের জন্য নিরাপদও না। তাই সবার জন্য এরকম জায়গা হলে অনেকে যেতে পারতো।`` এসব ক্ষেত্রে সমাজের মনোভাবেরও পরিবর্তন দরকার বলে তিনি মনে করেন। সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, গত দুই দশকের তুলনায় বিনোদনের বিষয়ে নারীদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, গত দুই দশকের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের সামাজিক অবস্থানের যেমন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি তাদের অবসর বা সময় কাটানোর ধরনেরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, এক সময় বই পড়া বা সপ্তাহে একদিন সিনেমা দেখার মধ্যে যে বিনোদন সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন গণ্ডি পেরিয়ে দেশের ভেতরে বাইরে ভ্রমণেও রূপান্তরিত হচ্ছে। সামিনা লুৎফা বলছেন, ``গত দুই দশকে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত নারীরা অনেক বাইরে এসেছে। অবসর নিয়ে তাদের ধারণাও অনেক পাল্টে গেছে। অনেকে হয়তো কর্পোরেট চাকরি শেষে, যানজট ঠেলে আসা যাওয়ার পর বিনোদনের ইচ্ছাটাও থাকে না। আবার নিরাপত্তারও অনেক অভাব আছে। তারপরেও নিজের বিনোদন নিয়ে নারীদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।`` ``হয়তো আমাদের দেশে ক্লাব, পাব এগুলো সে অর্থে নেই বা যা আছে, তাও হাতেগোনা উচ্চবিত্তদের গণ্ডির মধ্যে। কিন্তু সেটাই তো একমাত্র বিনোদন নয়।`` সামিনা লুৎফা বলছেন, ``আগে যেমন শুধু সিনেমা দেখতে যাওয়া ছাড়া বা বই পড়া ছাড়া নারীদের তেমন কিছু করার ছিল না। কিন্তু এখন তারা সামাজিক মাধ্যমে অনেক সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি দল বেধে ঘুরতে যাচ্ছেন। আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বেড়েছে। এখন তারা একা বা দল বেধে ঘুরতে যেতে পারেন। এগুলো কিন্তু দুই দশক আগেও ছিল না।`` সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি মহানগরী হিসাবে ঢাকার বাসিন্দাদের বিনোদনের যেসব সুযোগসুবিধা থাকা উচিত তার অনেক কিছুই হয়তো এখনো পর্যাপ্ত নয়, আর মেয়েদের জন্য তা আরো অপ্রতুল। তবে তাদের মতে, ধীরে হলেও সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা   এস ইউ আহমদ /এসি    
অঙ্কে কাঁচা ছেলেটি আজ শীর্ষ কোম্পানির মালিক

ছাত্রজীবনে সবচেয়ে সঠিন সময়ের মুখোমুখি দশম শ্রেণিতে ওঠে। ছোটকাল থেকেই আমি অঙ্কে কাঁচা। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। ফাইনালের আগে টেস্ট পরীক্ষা বা  অ্যালাও পরীক্ষা পাস করতে হবে। নইলে এসএসসি দেওয়া যাবে না। মানে ছাত্র জীবনের যবনিকাপাত। অনেক চেষ্টা করেও অঙ্কে মেলাতে পারি না। সহজ-সরল অঙ্কেও শূন্য পাই ক্লাস টেস্টে। তারপরও প্রচুর খাটাখাটনি করে। কিছুটা নকলের ওপর ভর করে টেস্ট দিলাম। রেজাল্টের দিন অঙ্কের শিক্ষক জহরলাল ধর স্যার ডেকে বললেন, তোকে অঙ্কে ৩৩ মার্কস দিয়ে পাস দিলাম। এখন চেষ্টা করে দ্যাখ ফাইনালে পাস করিস কি না। ওখোনে আমি থাকবো না। জীবনে প্রথম এবং শেষবারের মতো অঙ্কে পাস। এসএসসিতে যথারীতি ওই অংকেই ফেল। ২৩ মার্ক পেলাম। ১০ গ্রেস পেয়ে ৩৩। ৫৭৩ মার্ক পেয়েও গ্রেসের কারণে তৃতীয় শ্রেণি। উচ্চ মাধ্যমিক, অর্নাস মাস্টার্স, ছাত্রভীতির প্রতিটি অধ্যায়েই অঙ্ক, আর অঙ্কের প্রথম শ্রেণির কাছাকাছি পৌঁছেও দ্বিতীয় শ্রেণি তকোমা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। হায়রে অঙ্ক এখানো যোগ ৯ এর ফল মেলাতে ভাবতে হয় তিন মিনিটি! ১৯৭৭ সাল। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বছরটি শেষ হয়ে গেলো। মধ্যমিক পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি পাওয়া এক কিশোরের জীবনের নতুন বাঁক। একদিকে অভাব আর দারিদ্র্যের কষাঘাত অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণি পাওয়ার গ্লানি সব মিলিয়ে পড়ালেখা পালিয়ে যাওয়াতে কেমন যে অনিশ্চিয়তা উঁকি দিয়ে গেলো। তারপরও মায়ের স্বপ্ন আর বড় ভাইয়ের উৎসাহকে সম্বল করে ভর্তি পরীক্ষায় হাজির হলাম। চট্টগ্রাম সরকারি বাণিহ্য কলেজ। দেশের নামকরা কলেজগুলো একটি। লিখিত পরীক্ষায় টিকে গেলাম। মৌখিক পরীক্ষায় মুখোমুখি হলাম লম্বা, রাশভারি সাহেবি চেহারার অফসার খান স্যারের প্রথম আমি সাঁতরাতে পারি ইংরেজি কি বলো। বেশিক্ষণ না ভেবে বললাম, আই নো হাউ টু সুইম! আর প্রশ্ন করলেন না । স্যার বলেন গুড। কয়েকদিন পর জানলাম ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। মুখে হাত বুলিয়ে অনুভাব করলাম সদ্য গজানো দাড়ি-গোঁফের অস্তিত্ব। মনের ভেতর যুবক-যুবক অনুভূতি। প্রতিদিন আগ্রবাদ থেকে বাসে চকবাজার নেমেই সেই সবুজ হোটেল। দুটো সিঙাড়া আর এক কাপ চা ….  অর্ডার দিয়েই বসে যাওয়া। কমার্স কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। একদিকে আন্দনে মাথায় উত্তেজনা অন্যদিকে শংকা। অভাবের সংসারে বাবা সবেমাত্র দীর্ঘ কালাজ্বর সেরে বিছনায় উঠে বসেছেন। বড়ভাই একা স্কুলপড়ুয়া আরও চার ভাই এক কোনের পড়ালেখা  বোনটা ভালো জায়গায় পাত্রস্থ করা। এসব ভেবে ভেবে পড়াশোনা চালিয়ে পাওয়ার হিসেবটা আর মেলে না।  এই ভাবনা মাথায় রেখে চকবাজার থেকে কালুর ঘাট বাসা ধরে মোহরা মৌলভিবাজার যায়। সেখান থেকে এক মাইল পথ হেঁটে বাড়ি। মা ও বাবাকে মালাম করে নিয়ে বড় ভাইয়ের অপেক্ষা। আমার ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট শুনে মা আমার যেন আকাশে চাঁদ হাতে পেলেন। এমন আনন্দ তাঁর চোখেঁমুখে। কর্মাস কলেজের প্রথম ক্লাস করতে গিয়ে বন্ধু শওকত, হাফিজ, নওশাদ, মুস্তাফিস, প্রদীপ, শহীদ, হারুন, সেলিম, সুফিয়ান, মকসুদ, আইয়ুব হাবিবুল্লাহ বাজার কেই নেই কাছে। সুফিয়ান অসুস্থ যে কারণে সে এসএসসি দিতে পারেনি। হারুন, মকসুদও কেন যানি ড্রপলি অন্যেরা সবাই ভালো ছাত্র। বিজ্ঞান-মানবিক নিয়ে পড়ালেখা করবে। তাদের চোখেমুখে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কবি, সাহিত্যিক সাংবাদিক হবার স্বপ্ন। সবাই চট্টগ্রাম কলেজে আর মহসিন কলেজে (তখন ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট আই আই কলেজে) ভর্তি হলো। আমি একা কমার্স কলেজে। কলেজ জীবনের প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে। স্যার রহিম চৌধুরী ক্লাসরুমে ঢুকেই আমাদের ক’জন দাঁড়াতে বললেন। হাত-পায়ে মৃদু-কাঁপন রয়ে গেলো। অনেকটা চাটগাঁইয়া ভাষা বললেন, এখনি পাশের নাপিতের দোকানে যাও তোমরা, চুল কেটে আসো। এটা কমার্স কলেজ এখানে রোমিও তাকিয়ে মুচকি হাসলো। মনটা একেবারেই দমে গেল। মনের ভেতরের যুবক-যুবক ভাবটা মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেলো।  চলবে… লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল গ্রুপ অব   এসএইচ/

পানিতেও চলবে জমিরের বাইসাইকেল (ভিডিও)

বাইসাইকেল সড়কে তো চলেই, এবার চলছে পানিতেও। বিষ্ময়কর এই সাইকেল তৈরি করেছেন ফরিদপুরের তরুণ জমির হোসেন। সাইকেলটি তৈরিতে তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকার মতো। সহায়তা পেলে আরও নতুন কিছু আবিস্কার করতে পারবেন বলে জানান জমির। পুকুরে চলছে সাইকেল। গতিবেগ ঘন্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।  পাড়ে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে দেখছেন উৎসুক মানুষ। কিছু পরেই পুকুর থেকে উঠে সাইকেলটি চলছে সড়কে। বিষ্ময়কর এ সাইকেল তৈরি করেছেন ফরিদপুরের জমির হোসেন। স্কুলের গণ্ডি পার হলেও অর্থের অভাবে কলেজ থেকেই ঝরে পড়েছেন মেধাবী এ তরুণ। তবে নতুন আবিস্কারের চিন্তা সবসময় ঘুরতে থাকে তার মাথায়। জমির জানান, ছোটো নদী কিংবা খালের উপর সেতু না থাকলে এই সাইকেল দিয়ে চলাচল করা যাবে। পানি দিয়ে চলার জন্য পায়ে চালিত প্যাডেলের সাথে পেনিয়াম সেট করে পেছনে স্পিডবোটের আদলে লাগানো হয়েছে শক্তিশালী পাখা। সহযোগিতা পেলে জমির আরো নতুন জিনিস তৈরী করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয়রা।

মনীষা দিয়ে শুরু এখন সফল ব্যবসায়ী

সেশনজটে পড়ে ১৯৮৩-এর ব্যাচ ১৯৮৬ পর্যন্ত পড়ালো। ওই বছর মাস্টার্স করে বাড়ি ফিরলাম। বড় ভাইয়ের ব্যবসার কারণে পরিবারে সচ্ছালতা ফিরেছে। ছোটো বোনটারও বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাইগুলোও বড়  হয়ে গেছে। কেউ স্কুলে কেউ বা কলেজে পড়ছে। আমাকে নিয়ে মা-বাবার অনেক উচ্চাশা। বড় চাকরি করব। বড় ভাইয়ের পাশে থেকে পরিবারের দায়িত্ব নেবো। এদিকে আমার মাথায় তখন কেবল ব্যবসা আর বিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিন খাবার টেবিলে বড় ভাই জানতে চাইলেন আমার ভবিষ্যৎ প্লান কী? চাকরির চেষ্টা-তদ্বির করছি কি না। নাকি রাজনীতি আর সবুজ হোটেলের আড্ডায় দিন কাটাচ্ছি। ভাবলাম বলেই দিবো আমাকে দিয়ে চাকরি-বাকরি হবে না। আমি ব্যবসা নিয়ে ভাবছি। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ে করতে চাই। সাহস করে বিয়ের কথাটা বলতে পারলাম না। ব্যবসার চিন্তা করছি শুনে একটু চিন্তিত মনে হলো বড় ভাইকে। খাবার প্লেট চোখে রেখে বললেন, ব্যবসা করবি ক্যাপিটাল কোথায় পাবি? আমার তো বাড়তি টাকা নেই। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। খাবার শেষ না করেই উঠে গেলাম। পরদিন সকালে বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে এলাম তার অফিসে। বড় ভাই ফোন করে তার বন্ধু মামুন সাহেবকে বললেন, নুরু ব্যবসা করতে চায়। আপনার ক্লিয়ারিং ব্যবসা শেখান ওকে সঙ্গে রেখে। সময় সুযোগ হলে লাইসেন্স একটা করে দেব। এই প্রান্ত থেকে মামুন সাহেব কি বললেন বুঝলাম না। ফোন রেখে বড় ভাই বললেন, মানুন সাহেবের অফিসে যাও ঠিকানা লিখে দিলেন : রহমান করপোরেশন, ৫৯৯ রামজয় মহাজন লেন, খাতুনগঞ্জ। আমার ব্যবসায়িক জীবনের প্রথম ঠিকনা। রিকশা নিয়ে চলে গেলাম রমজয় মহাজন লেন। অন্ধকার চিপা সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে দেখি বড় বড় অক্ষরে লেখা সইনবোর্ড: রহমান করপোরেশন। টুকেই পেলাম মামুন সাহেবকে। বললেন, ওয়েলকাম আসো বসো। একজনকে ডেকে পরিচয় করিয়ে দিলে বললেন কাশেম সাহেব, আমাদের ম্যানেজার পরদিন ৯টার মধ্যে চলে এলাম অফিস। কাশেম সাহেবের সঙ্গে বেটিট্যাক্সি চেপে গেলাম কাস্টামস হাউজ। তারপর পোর্ট। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ব্যবসায়িক জীবনে শুরু হলো যেভাবে। সপ্তাহ-দশ দিন কাস্টমস-পোর্টে ঘুরে সিদ্ধান্ত নিলাম ক্লিয়ারিং ব্যবসা আমাকে দিয়ে হবে না। রাতের খাবার টেবিলে কথাটা পাড়তেই বড় ভাই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। জানতে চাইলেন তাহলে কি করবি? বললাম ইন্ডেন্টিং ব্যবসা করবো। সাহাব উদ্দিন ভাইয়ের সূত্রে পরিচিত হারুন ভাই ঢাকায় ইন্ডেন্টিং ব্যবসা খুব ভাল করছেন। আমাকে হেপ্ল করবেন। টাকা-পয়সা তেমন লাগবে না। ছেটো একটা অফিস রুম। একটা ভালো টাইপারইটার, কিছু স্টেশনারিজ আর পোস্টল খরচের জন্য কিছু টাকা দিলেই হবে। আপনি তো আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালে মাসে ৮০০ টাকা দিতেন। ওই ৮০০ টাকা আরও ৬ মাস দেন। আমি ভালো করব। এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে খুশিতে উনার চোখ দুটো ছলছল করছে… পরদিন সকালে মোটলসাইকেলের পেছনে বসে বড় ভাইয়ের অফিস ঘুরে খাতুনগঞ্জে। মামুন সাহেবকে বললাম, আমি কাস্টমসে যাব না আর। ক্লিয়ারিং ব্যবসা আমাকে দিয়ে হবে না। আমি ইন্ডেন্টিং নিয়ে ভাবছি। বড় ভাইও রাজি। তিনি বললেন খুব ভালো আইডিয়া। আমার পুরনো একটা  ইন্ডন্টিং লাইসেন্স আছে। ওটার কাগজপত্র ঠিক করে  নিয়ে শুরু করে দাও। জিগ্যেস করলাম নাম কি? মনীষা ইন্টারন্যাশনাল। নামটা আমার বেশ পছন্দ হলো। বললাম, আমি আজ থেকেই শুরু করতে চাই। সেই মনীষা। আমার প্রথম কোম্পানি। যার উপরে দাড়িয়ে আমি  দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প  গ্রুপ ওয়েল গ্রুপ একদূর এসেছে। আজ  আমি সফল একজন ব্যবসায়ী। চলবে… লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ) টিআর/এসএইচ/

কানাডার নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী ডলি

কানাডার অন্টারিওর প্রদেশের মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট (এমপিপি) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক ডলি বেগম। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির গ্রে এলিস। ডলি বেগম ভোট পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৪২ ভোট, যা তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্যারি এলিস পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৭১ ভোট। প্রথমবারের মতো কানাডার কোনো নির্বাচনে জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এই বাংলাদেশি। যুক্তরাজ্যের এমপি বাংলাদেশি রুশনারা আলী, রূপা আশা হক ও টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, নরওয়ের এমপি বাংলাদেশি সায়রা খান এবং মালয়েশিয়ায় এমপি বাংলাদেশি আবুল হুসেনদের সারিতে এবার যুক্ত হলো ডলির নাম। ডলির জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি কানাডায় চলে যান। কানাডায় গিয়ে জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে অনেক বছর হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। ২০১২ সালে ডলি টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে উন্নয়ন প্রশাসনে মাস্টার্স করেন টরেন্টো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে। একে//

যে গল্প পথের, সে গল্প আনন্দের....

ইচ্ছা মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে না। প্রবল ইচ্ছা শক্তি মানুষকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তেমনই একজন মানুষ মো. আদনান হোসাইন। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাধনার ফলে গড়ে তুলেছেন অসহায় বঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি সংগঠন। নাম "ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন"।  এই সংগঠনটির পেছনে রয়েছে  আদনানের ঘাম ঝরানো স্বপ্ন।   ২০০৯ সালের দিকে আদনান তখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। বাবা সৈয়দপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,বলা যায় সৈয়দপুর কেন্দ্রীক নামী পরিবার তাদের। ২০০৯ এর ডিসেম্বরেই ইষ্ট ওয়েষ্টে পড়ুয়া বড়ভাইর বন্ধুরা যাবেন কুড়িগ্রাম একটি "উইন্টার ক্যাম্পেইন" করতে। বড়ভাইর কাছে আদনান আবদার করলেন তাকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য। পরিবারকে রাজি করিয়ে আদনান বড় ভাইদের সঙ্গে চলে গেলেন কুড়িগ্রাম। সেখানে গিয়ে প্রথমবার বেশ কিছু বিষয় তার মনকে নাড়া দেয়। সাধারণ গরীব মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তার মনটা উদাস হয়ে যায়। তাদের কষ্ট এবং অসহায়ত্ব দেখে তার কাছে খারাপ লাগে। ফিরে এসে আদনান তার বাবাকে বলেন, ‘এসব অসহায় সাধারণ মানুষদের জন্য আমি কিছু করতে চাই। বাবা সরাসরি না করে দিয়ে বলেন, এসব করার দরকার নেই, পড়াশোনা করে ব্যবসা দেখ।’ আদনান বাবার কথায় কষ্ট পেলেও সে দমে যায়নি। সে তার মতো চেষ্টা করতে থাকে। ২০১০ সালের জানুয়ারীতে একজন ব্রিটিশ ভদ্রলোকের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। তার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলেন। তিনি সাড়া দিয়ে বললেন, "তুমি উদ্যোগ নাও,আমি পাশে থাকবো।" এরপর বন্ধু সৈয়দ ফজলে নিয়াজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়াজ তাকে পরামর্শ দিলেন, তোমার মানসিক শান্তির জন্য এখানেই আশাপাশে কিছু কর। এ বিষয়টা পরিবারকেও জানালেন আদনান। বাবা-মা তার এমন কাজে খুব অবাক হন। এসময়ই সবচেয়ে বড় ধরনের সমর্থন দিলেন তার বড়বোন নিলুফার আক্তার, তিনি তাকে বললেন, "ভাই, তুই সৈয়দপুরেই এই কাজ শুরু কর। আমি তোর সঙ্গে আছি।"  বড়বোনের আশ্বাস, পাশাপাশি সৈয়দপুরস্থ মেডিক্যাল শিক্ষার্থী মনিরের সহযোগীতায় আদনান চলে গেলেন সৈয়দপুর। সেখানে একটি খ্রিষ্টান বাড়ির মালিক তার বাড়ির বারান্দাতে তাদেরকে ব্যবহারের জন্য দেন। হতাশ হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে সেখানেই ২০১০ সালের জুনের ৪ তারিখ ১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে "কাইটস একাডেমী"। সেখানে তারা একজন অভিভাবকও পেয়ে গেলেন। বর্তমানে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা ইভা রহমান। যার সাথে পরামর্শ করে চলছিলো স্কুলটির নানাদিক। স্কুল চলছে ঠিক মতো কিন্তু সংকট দেখা দিল অর্থের। আদনান সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের ভার্সিটির দুই সেমিস্টারের টাকা এনে বানালেন বাচ্চাদের ড্রেস, আইডি কার্ড আর বসার বেঞ্চ। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়ে গেলো তিনমাসে ৪০ জন, ছয়মাস শেষে ১০০ তে। এরপর বারান্দায় তাদের আর হচ্ছেনা। ফলে খ্রিষ্টান পরিবারটি তাদের শিক্ষার্থীদের বেড়ে যাওয়া দেখে একটি রুম ছেড়ে দিলেন। এরপর বন্ধু নিয়াজসহ পরামর্শ করে তাদের কার্যক্রমের নাম দিলেন "ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন"। এসময় আদনান আবার কাজ করছিলেন বিবিসির একটি প্রজেক্টে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে। এর মধ্যে হঠাৎ শিক্ষার্থী কমে যেতে লাগলো স্কুলের। আদনান ও তার দল চিন্তিত হয়ে পড়লো। স্থানীয়রা জানালেন, ‘‘যে সময়টাতে স্কুল, সে সময়টা কোনো হোটেলে কাজ করলে টাকা পাবে তাদের বাচ্চারা। আবার একটি স্থানীয় এনজিও পড়ালেখার বিনিময়ে তাদের টাকা দিচ্ছে বলে তারা কাইটস একাডেমীতে আসা বন্ধ করে দিচ্ছে।" সম্পূর্ন বিনামূল্যের এই স্কুলের বাচ্চাদের জন্য বিবিসির দুজন কলিগের পরামর্শ মতো টিফিনের ব্যাবস্থা করলেন তারা। আগ্রহ কিছুটা বাড়লেও মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা তারা জর্জরিত এই গ্রামের মানুষগুলো। তখন তারা বাচ্চাদের মায়েদের জন্য একটি প্রজেক্ট হাতে নেন। তাদের বলেন, "আপনাদের যদি আমরা সেলাই এর ট্রেনিং দেই এবং আপনাদের তৈরী পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করে দেই বাচ্চাদের আমাদের স্কুলে রাখবেন?" মায়েরা কথা দিলেন, তারা স্বাবলম্বী হলে বাচ্চাদের পড়াশোনাতেই রাখবেন। শুরু হলো নতুন কার্যক্রম "প্রতিভা"। যেটির মাধ্যমে নারীদের ফ্রি প্রফেশনাল ক্রাফটিং ট্রেনিং" করান, পাঁচজন নারী সেখানে প্রথম প্রশিক্ষন নেন। তাদের কাজের মান ভালো হবার ফলে ফলাফলটাও ভালো হয়। দেখা গেলো এই মা`দের তৈরী পণ্য আদনান ঢাকায় এনে বিভিন্ন ফেস্টের মাধ্যমে বিক্রয় করিয়ে তাদের ভালো লাভ দিতে পারছেন। আদনান ভাবলেন, এটা থেকে উঠে আসতে পারে স্কুলের সব খরচও! যেই ভাবা সেই কাজ। প্রশিক্ষিত পাঁচজন নারীকে বললেন," এখন সবাইকে শেখাবেন আপনারা।" যেহেতু তারা তখন হাতে নিয়মিত অর্থ পাচ্ছেন, তারাও প্রস্তাবটা নিলো। অন্য যারা প্রশিক্ষন নেয়নি তারাও ভিড়তে লাগলো এদিকে। বর্তমানে সৈয়দপুর ও টঙ্গী মিলিয়ে ২৫৫ জন নারী ট্রেনিং শেষ করে স্বাবলম্বীতা অর্জন করেছেন বলে জানালেন আদনান। পাশাপাশি বর্তমানে সৈয়দপুর ছাড়াও টঙ্গী, পাটোয়ারী পাড়ায় রয়েছে তাদের আরো দুটো স্কুল, সেগুলোও সম্পূর্ন বিনাখরচে গরীব পরিবারের সবার জন্য উন্মুক্ত। আদনানের কাছে এর খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, " আমাদের স্টুডেন্ট স্পন্সরশীপ পোগ্রাম চলছে নিয়মিত, আমরা চ্যারিটি গালা নাইট করি যেখানে ২৫০০ টাকা করে টিকেট। ২০১৬ এবং ১৮ তে আমরা এটি করেছি। সর্বশেষ গালা নাইটে ইউএস অ্যাম্বাসেড়র স্বয়ং চিফ গেষ্ট ছিলেন। এছাড়া হোটেল সেরিনার সহযোগীতায় আমরা "চ্যারিটি কফি মর্ণিং" করি। সবমিলিয়ে আমাদের চারপাশে "ফ্যামেলি ফ্রেন্ডস আর বিভিন্ন দেশের ভালো মানুষজন রয়েছেন" এমনটাই বিশ্বাস মো.আদনান হোসাইনের। এর ধারাবাহিকতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগীতায় স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে করেছেন " সায়েন্স ফেয়ার"। কোনোদিন সায়েন্স না বোঝা বাচ্চাগুলো চমকে দিয়েছিলো তাদের ছোটছোট প্রজেক্ট দাঁড় করিয়ে। ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চিফ এডভাইজর স্টিভ উইলস, যিনি আরএনএলআই এর হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল পোগ্রাম। তার পরামর্শ পুরো ফাউন্ডেশনকে জমিয়ে রাখে। বর্তমানে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে ১৫ জন কর্মী নিয়ে চলছে আদনানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। পরিবারতো প্রথম বাধা দিয়েছিল, পরে উৎসাহে যুক্ত হলো কিভাবে? আদনান বলেন, " ২০১৫ তে আমি মোষ্ট প্রমিজিং সোশ্যাল এন্টারপ্রিনিয়রশীপ বাই জলকনা ক্যাটালিষ্ট" এর জন্য ইউএসএ থেকে মনোনীত হই, বলা যায় তখন প্রথম বাবা আমার কাজে অবাক হয়ে উৎসাহ দেয়া শুরু করেন।’’ এরমধ্যেই মো. আদনান হোসাইন টেডএক্স বেইলি রোড, ওভার৩০ গেস্ট স্পিকার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ছিলেন গেষ্ট লেকচারার হিসেবে। স্টার্টাপ ইস্তাম্বুলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করছেন মো. আদনান হোসাইন। ক্যারিয়ার বিসর্জন সম্পর্কে আদনান বললেন, "আমি সত্যিকারে আনন্দ পাচ্ছি এই কাজগুলোতে এসে, বাচ্চাগুলোর হাসি আমার সবকিছুর অনুপ্রেরণা। আমি মনে করি এটা একটা লাইফস্টাইল যা সবাই ভাবতে পারেনা নিজের জন্য। আমি গর্বিত আমার কাজগুলো নিয়ে।" এসি   

একশ’ দেশ ভ্রমণ বাংলাদেশি তরুণীর

শততম দেশ ভ্রমণের নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণী নাজমুন নাহার। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে পা রেখেই  তিনি শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। জানা গেছে, তাঁর ভ্রমণ তালিকায় পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়া ছিল ৯৯তম দেশ। দেশটির লিভিংস্টোন শহর থেকে হেঁটে তিনি জিম্বাবুয়ে পৌঁছান। বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের জিম্বাবুয়ে অংশে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে তিনি আবার জাম্বিয়ায় ফিরে আসেন।  নাজমুন নাহার তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘১০০তম দেশ ভ্রমণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের ১০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো নিঃসন্দেহে যে কারও  জন্য গর্বের ব্যাপার, আমারও তাই হচ্ছে। জাম্বিয়ার লিভিংস্টোন শহরের গভর্নর আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সময় থাকতে পারিনি। ৫ জুন আবার জিম্বাবুয়ে ভ্রমণে যাব।’ শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্যে সুইডেন থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১১ মে। তিনি প্রথমে পৌঁছান আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়ায়। সে দেশ থেকে ১৭ তারিখ তিনি পৌঁছান কেনিয়ায়। এভাবে উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া হয়ে ১ জুন পা রাখেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে। নাজমুন নাহার বলেন, ‘পুরো ভ্রমণটি আমি সড়কপথে করেছি। অনেক সময় দীর্ঘ পথ বাসে কাটাতে হয়েছে। কষ্ট হলেও যাত্রাটা আমি উপভোগ করেছি।’ আফ্রিকার দেশগুলোতে তিনি শুধু ঘুরে বেড়িয়েছেন এমনটি নয়-  স্থানীয় অনেক স্কুলে গেছেন,  খুদে ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজের গল্প বলেছেন। দেখেছেন প্রত্যন্ত আফ্রিকানদের জীবনযাপন। ২০০০ সালে ভারত ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর বিশ্বভ্রমণের  যাত্রা শুরু হয়। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসেন নাজমুন। এরপরে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলে যান সুইডেন। লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়াশোনার ফাঁকে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। কয়েক মাসের জমানো টাকায় জাহাজে ভ্রমণ করেন ফিনল্যান্ড। সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন। খরচ বাদে যা জমাতেন, তা নিয়েই  নতুন কোনো দেশে যেতেন। বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। এ তালিকায় আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ। এই দুই সাল মিলিয়ে এটাকে তাঁর ‘ভ্রমণবর্ষ’ বলা যায়! অনূঢ়া নাজমুন নাহার ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে যাবেন। বর্ণনা করবেন নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। তিনি বললেন’ ‘টাকা জমিয়ে মানুষ সম্পদ গড়ে। আমার স্বপ্নই নতুন কোনো দেশ ভ্রমণ। আপাতত দেশে ফেরার লক্ষ্য  ঈদের পরপরই দেশে ফিরব। এরপর পরিকল্পনা করব নতুন কোনো দেশে যাওয়ার।’ কেআই/ এআর

একসময়ের কবুতর ব্যবসায়ী এখন সফল উদ্যোক্তা

‘স্কুলজীবনে বাড়ির আঙিনায় নিয়মিত সবজি চাষ করতাম। শীতে আলু, বেগুন, টমোটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচামরিচ আর কত কি। বর্ষায় কচু লাউ কাকরল। সাথে কবুতর পালন করতাম। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি সবজি বিক্রি করতাম। কয়েকটি হাটে বিক্রির টাকা জমিয়ে গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে গোপনে চলে যেতাম চট্টগ্রাম শহরে। আলমাস, লায়ন, সিনেমা প্যালেস, খুরশীদ মহল, রঙ্গম জলসা ইত্যাদি নামকো সব সিনেমা হলে ছবি দেখতাম। গ্রামের বখে যাওয়া ছেলেরা পয়াসা খেলা নামের এক প্রকার জুয়া বসতো যততত্র হরহামেশা। মাঝে মাঝে সিকি আধুলি হাতে তাদের সাথেও ওই পয়সা খেলায় নেমে পড়তাম আমিও। একদিন সবজি আর নিজের পোষা কিছু কবুতর ছানা নিয়ে গেলাম কাজির বাজারে বেচাবো বলে, সাথে আর কবুতর ছানা কোনেকাচাই আর বিক্রি হয়নি। মনে খারাপ। সবকিছু গুছিয়ে বাড়ি ফিরবে এমন সময় এক ভদ্রলোক বললেন ২০০ টাকা দেবো। তাতেই রাজি হয়ে গেলাম। ভদ্রলোক আবার শর্ত দিলে তার বাড়ি পর্যন্ত যেতে হবে আমাদের। ওতেও রাজি হয়ে গেলাম। গ্রামের কাঁচা পথ। চার পাশে ঘুটঢ়ুটে অন্ধকার। মাথায় সবজির খাঁচা, হাতে কবুতর ছানা। ভদ্রলোক সামনে আমরা তার পিছু পিছু হাটঁছি।... প্রায় ২০ মিনিট হাঁটার পর ভদ্রলোক বললেন, এখানে দাঁড়াও। আমি টাকা নিয়ে আসছি।  সবজির খাঁচা আর কুবতর কার হাতে তুলে দিয়ে আমরা দুজন অপেক্ষায় থাকলাম। ভদ্রলোক আর আসেন না। ঘুটঘুটে অন্ধকারে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ভ্রগ্ন মনোরথে বাড়ি ফিলে দেখি মা লণ্ঠন হাতে উঠানে দাড়িয়ে আছেন আমার পথ চেয়ে। নিজের ৩০ বছর ব্যবসায়ী জীবনে কত হাজার কোটি টাকার পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করেছি তার সঠিক হিসাব রাখা হয়নি। কখনো ডিসকাউন্ট কখনো অর্ডার বাতিল কখনো এয়াফ্রেইট কখনও নন-পেমেন্ট, সব মিলিয়ে কত কোটি টাকা যে কতদিকে চলে গেছে, মনে রাখিনি। কিন্তু এখনো ঠিক মনে রেখেছি সেদিনের সেই ২০০ টাকা খোয়ানোর কথা। কখনো ভুলবো না সবজি আর কয়েকটি কবুতর ছানা নিয়ে প্রতারিত হওয়ার কথা। জীবনের প্রতিটি পাতায় যেন নতুন বাঁক। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হল, ফলাফল নিয়ে নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। কারণ এই মধ্যে ফ্রিজ-টেলিভিশনের মিস্ত্রি হিসেবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে সার্টিফিকেট পেয়ে গেছি। মা’য়ের অজানাতে মামাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলাম ভিসা পাঠানোর জন্য। মামা আমার সে চিঠি পেয়েছিলো কি না জানিনা। ইতোমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক রেজান্ট রেরুলো। দ্বিতীয় শ্রেনিতে পাস করলাম। একদিন সন্ধ্যায় আমার প্রিয় বন্ধু আইয়ুব আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বলল, দোস্ত তুই কোন সাবচেক্টে পড়বি। আমার দুবাই যাওয়ার স্বপ্নের কথা বন্ধু মহলে তখনো অজানা। প্রথমে আইয়ুব জানালো আমি দুবাই নিয়ে ভাবছি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে না। চোখ কপালে তুলে আইয়ুব আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ তারপর যা বলল তার অর্থ হচ্ছে তাকে ছেড়ে আমি দুবাই যেতে পারব না। কিন্তু কি আশ্চর্য! আমি আইয়ুবকে ছাড়িনি। আইয়ু্ব আমাকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছে  কোন অজানায়। প্রিয় বন্ধু আমার.... আইয়ুবের পীড়াপীড়িতে অবশেষে রাজি হলাম। ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে অর্নাস করবে । আমি  অ্যাকাউন্টিং এবং ম্যানেজমেন্টে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। অবশেষে দুবাই যেতে প্রস্তুত গরিবের ঘরে জন্ম নেওয়া যুবকের উড়োহাজটি থাকলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। আমার পিতৃতুল্য বড়ভাই এই একবিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকের মধ্যপর্বে চট্টগ্রাম উন্নয়নের রূপকার চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তখন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের দানু মিয়া মার্কেটে দুই রুমের অফিস ভাড়া নিয়ে কামফ্যাক্টারি নামে চালাত সেলাই সুতো প্যাঁচানোর কারখানা। সব সময় এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন ভাই আমার। ভাইয়ের নতুন ও কুটির ব্যবসার কথা শুনে গেলাম ভাইয়ের কাছে। মিনিট দশেক ‍বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমার সবকিছু উজাড় করে তোর পড়াশুনা চালাব। তারপর থেকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি……………..চলবে লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ)  

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে একদল তরুন

নওগাঁয় বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘আশার আলো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় অছিম উদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। আর সেখানে সেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন একদল তরুন। শিক্ষিত করে গড়ে তুলছেন অবহেলিত শিশুদের। স্বাভাবিক শিশুর মতো শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পায়নি সোহেল রানা। ১৫ বছর বয়সে এখন সে আশার আলো বিদ্যালয়ে। সহপাঠিদের সঙ্গে পড়ালেখা আর বিনোদনে ব্যস্ত সময় কাটে তার। শিক্ষার সুযোগ পেয়ে উজ্জল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে সোহেল। ছোট্ট বিদ্যালয় ’আশার আলো’। এখানে শিক্ষার সুযোগ হয়েছে সোহেলের মতো আরো ৩৫ জনের। এতে খুশি শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা। প্রতিবন্ধীদের জন্য নওগাঁয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান আশার আলো। কিন্তু নানা সমস্যা নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। বিনা বেতনেই শিক্ষাদান করছেন ১২ জন শিক্ষক। সমাজে অবহেলিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সহযোগিতা চাইলেন বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে শহরের উকিলপাড়া মহল্লায় চালু করা হয় অটিষ্টিক, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় ’আশার আলো’। একে//

ভাঙা ঘড়ি-মোবাইল যন্ত্রাংশ দিয়ে ড্রোন নির্মাণ (ভিডিও)

মৌলভীবাজারে দশম শ্রেনীর ছাত্র কিবরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ড্রোন। উদ্ভাবন করেছে পানি থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রক্রিয়া। এলাকায় কিবরিয়া পরিচিতি পেয়েছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে। দেয়াল ঘড়ি ও মোবাইলের ভাঙা যন্ত্রাংশ, ছাতার ভাঙা অংশ, প্লাস্টিকের বোতল, নষ্ট টেলিভিশনের সেন্সর, খেলনা গাড়ি এবং পুতুলের মোটর ও সার্কিটসহ বিভিন্ন ফেলনা সামগ্রী দিয়ে ড্রোন তৈরি করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী কিবরিয়া। ড্রোনটির সাথে সে সংযুক্ত করেছে একটি সোলার। আকাশে উড়ার সময় এর মাধ্যমে ড্রোনটি নিজে নিজেই চার্জ নিতে পারবে। এতে সংযুক্ত করেছে মেটাল ডিটেক্টরও। স্কুলের আর্থিক সহায়তায় ও দুই সহপাঠীর সহযোগিতায় বিজ্ঞানমেলায় প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় কিবরিয়ার ড্রোনটি। ড্রোন ছাড়াও কিবরিয়া আবিষ্কার করেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশলও। প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে কিবরিয়া একদিন বড় বিজ্ঞানী হতে পারবে, আশা তার শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের। প্রত্যন্ত জনপদে লুকিয়ে থাকা কিবরিয়ার মতো প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

হুইল চেয়ারে বসে মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

জটিল স্নায়বিক রোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত অ্যাডওয়ার্ড। তার সম্পর্কে বলা হয়েছিল, তিনি পাঁচ বছরের বেশি বাঁচবেন না। সেই তরুণই কিনা মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন, তাও আবার হুইল চেয়ারে বসে। অ্যাডওয়ার্ড সম্প্রতি ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম কোনো আফ্রিকান গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তার লক্ষ্য এখন শুধু পৃথিবী নয় মহাকাশ জয় করা। তার পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য, স্টিফেন হকিংন্সকে শ্রদ্ধা জানানো। যিনি নিজেও মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছিল স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি নামক স্নায়ুবিক সমস্যা নিয়ে। তিনি বড় জোর পাঁচ বছর বেঁচে থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এখন তার বয়স ২৭। এ বছরের শেষে তার বয়স হবে ২৮ বছর। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বেঁচে আছেন। তার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পেশিগুলো দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে।অ্যাডওয়ার্ড বলেন, এমন এক মহাদেশে বাস করছি যেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি আছে এমন অধিকাংশ শিশুই স্কুলের ক্লাসরুম কেমন তা কখনোই জানে না। আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করতে পারি। সেসব শিশুদের কথা ভেবেই আমি সেটি করেছি।বিশ্বের সব প্রতিবন্ধী মানুষই আমার অনুপ্রেরণার উৎস। যারা রোজ ঘুম থেকে উঠে নতুন একটি দিনের সঙ্গে লড়াই শুরু করে। আমি তাদের জন্য এমন একটি বিশ্ব চাই যা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।অ্যাডওয়ার্ড এখন এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে চান যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সব সুযোগ-সুবিধা অধিকারী হবেন। তাদের স্বপ্নগুলো হয়ে উঠবে বাস্তব।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

তাঁত ব্যবসা করে স্বাবলম্বী (ভিডিও)

আফজাল হোসেন লাভলু। অভাব অনটনে লেখাপড়া করতে না পারলেও সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এখন তিনি সফল তাঁত ব্যবসায়ী। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারেও রয়েছে তার তৈরী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া, অসহায় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা অনাহারেই সময় কাটতো মেধাবী কিশোর আফজাল হোসেন লাভলুর। অর্থের অভাবে লেখা-পড়ায়ও খুব একটা অগ্রসর হতে পারেননি তিনি। তবে অভাব-অনটন দমাতে পারেনি লাভলুকে। তাঁতের সুতি শাড়ীতে দক্ষতার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে এনেছেন নিজেস্ব বৈচিত্র। আর এই বৈচিত্রই তাকে দিয়েছে খ্যাতী, এখন তিনি দেশের অন্যতম তাঁত ব্যবসায়ী। ৬টি দিয়ে শুরু করা লাভলুর তাঁতের সংখ্যা এখন আড়াইশ। দেশে প্রথম ঝর্না শেড শাড়ীর জনক লাভলুর তাঁতে প্রতিদিন তৈরী হয় প্রায় ৩ হাজার শাড়ী। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতেও বেশ সমাদৃত এই শাড়ী। এছাড়া লাভলুর তাঁতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকেই। শুধু ভারত নয়, বিশ্ববাজারে তাঁতের শাড়ীর প্রসারে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক প্রাপ্ত আফজাল হোসেন লাভলু।

মেট্রিকে থার্ড ক্লাস পাওয়া ছেলেটাই আজ সফল উদ্যোক্তা

বন্ধু প্রফেসর তাহের ক`দিন আগে ফোন করে বলল, দোস্ত তোকে ২৪ তারিখ দূপুর ৪ টায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে। কারণ জানতে চাইলে বলল, এমবিএ কোর্সে নবাগত ছাত্র ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে একজন উদ্যোক্তা হিসাবে কিছু বলতে হবে। বন্ধুর অনুরোধে না করতে পারিনি।মনে মনে ভাবলাম হয়ত ছোট খাট কোন অনুষ্ঠান। উপস্থিত থেকে বন্ধু তাহেরকে খুশী করব। বৃহস্পতিবার ঠিক চারটায় সাউথইস্ট এশিয়া ইউনিভার্সটির অডিটোরিয়ামে হাজির হয়ে দেখি আমার নামের সাথে লেখা প্রধান অতিথি। উপস্থিত  আছেন ভিসি সাহেব,রেজিস্ট্রার সাহেব,আইবিএর একজন সিনিয়র প্রফেসর,বন্ধু প্রফেসর তাহের। আরো উপস্থিত শ`দুয়েক এমবিএর ছাত্র ছাত্রী।সবার সামনে  আমাকে কথা বলতে হবে সবার শেষে।কথা বলতে  আমি কখনো ভয় পাইনা।কিন্তু এত্ত এত্ত ইন্টেলেকচুয়ালদের সামনে কথা বলতে হবে দেখে কিছুটা ভাবনায় ছিলাম।কিন্তু কথা বলতে দাঁডাতে দেখি উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীরা নড়ে চড়ে বসছে। তৃতীয় শ্রেনীতে মেট্রিক পাশ, দ্বিতীয় শ্রেনীতে উচ্চ মাধ্যমিক,সম্মান ডিগ্রীসহ মাস্টার্স করা একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে এ`ধরণের একটি একাডেমীক সেশনে কথা বলার সুযোগ দানের জন্য বন্ধু তাহেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশির দশকে শূন্য হাতে শুরু করা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা একজন তরুণ কিভাবে ৩০ বছরে ২৫ হাজারের উপর মানুষের কর্ম সংস্থানের ঠিকানা হতে পারে। যখন তার গল্প বলতে শুরু করলাম তখন দেখি চারিপাশে পিনপতন নিরবতা। ....আমি স্বপ্ন দেখি নির্ঘুম রাতে আর সেই স্বপ্নের পেছনা ছুটে চলি,একটি স্বপ্ন পুরণ হতেই নতুন স্বপ্ন  আবার স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা...কখন যে রাত জেগে দেখা সেই সব স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে ৩০ টি বছর চলে গেল বুঝতেই পারিনি...এভাবেই তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে রাত জেগে  আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে হবে  আর একটি স্বপ্ন সৃষ্টির লক্ষে। ....জীবনে এমন একটি গল্প বানাও যে গল্প শুনে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নতুন গল্প বানানোর স্বপ্ন দেখবে...। এমবিএ শেষ করে চাকুরীর খোজে ছুটাছুটি নাকরে নিজে চাকুরী সৃষ্টির চেষ্টা করো.... ১৭ মিনিট কথা বলে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্টেজ থেকে নামতে গেলে ঘিরে ধরল বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রী।একজন জানতে চাইল, ‘স্যার  আপনি কি সত্যি সত্যি মেট্রিকে তৃতীয় শ্রেনীতে পাশ, না   আপনার গল্প বলতে গিয়ে মজা করেছেন।’ হাসতে হাসতে বললাম, না মোটেই মজা করিনি। সর্বমোট ৫৮৬ নাম্বার পেয়েও অংকে পেয়েছিলাম ২৩। এর সাথে ১০ গ্রেস মার্কস যোগ পাশ মার্ক ৩৩ করে  আমাকে তৃতীয় শ্রেনীতে পাশ দিয়েছে কুমিল্লা বোর্ড ।  আমাদের সময় কোন সাবজেক্টে গ্রেস মানেই থার্ড ডিভিশন। আমি সত্যি সত্যি তৃতীয় শ্রেনীতে মেট্রিক পাশ। লেখক: সৈয়দ নুরুল সালাম  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ)  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি