ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০:১৭:১৯

মৃত্যুর গতি নিয়ে বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য 

মৃত্যুর গতি নিয়ে বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য 

মৃত্যু ধীরে ধীরে আসে। কবিরা তাদের কবিতায় এমনটাই লিখে থাকেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই? মৃত্যু কি শ্লথ গতিতে প্রবেশ করে মানব শরীরে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিন-এর বিজ্ঞানীরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাদ্যম ‘মিরর’-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরে মৃত্যু প্রবেশ করার পরে ফুটবল স্টেডিয়ামে ‘মাস ওয়েভ’ যেমন ভাবে দেখা দেয়, তেমন গতিতেই নাকি জীবকোষগুলি একে একে মারা যেতে শুরু করে। আর এই তরঙ্গের গতি অতি দ্রুত। প্রতি মিনিটে ৩০ মাইক্রোমিটার। যতক্ষণ না পর্যন্ত দেহের সব কোষ মারা যাচ্ছে, ততক্ষণ এই ওয়েভ চলতে থাকে। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য জেমস ফেরেল এবং জিয়নরুই চেং এক প্রকার ব্যাঙের ডিমের উপরে পরীক্ষা চালিয়ে দেখান, আণবিক স্তরে ‘ডেথ সিগন্যাল’ কতটা দ্রুত গতিতে কাজ করছে। কোষগুলির মৃ্ত্যু-তরঙ্গকে তাঁরা স্পষ্ট দেখিয়েছেন এবং এই তরঙ্গকে তাঁরা ‘ট্রিগার ওয়েভ’ বলছেন। ব্যাঙের ডিম যেহেতু এক বৃহদাকৃতির কোষ, সেহেতু এই তরঙ্গ এখানে খালি চোখেই দৃশ্যমান। এই গবেষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বে। এ থেকে ক্যানসারের মতো রোগের প্রকৃতি নির্ণয় সংক্রান্ত পদ্ধতি উপকৃত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। সূত্র: এবলো  এসি   
হ্যাকিং থেকে বাঁচার ৫ কৌশল

বর্তমানে হ্যাকারের হাত থেকে নিরাপদ নন কেউই। বড় বড় প্রতিষ্ঠান, বিখ্যাত কোনো তারকার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট, এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করে হ্যাকিং-এর হাত থেকে বাঁচতে পারেন আপনিও। ১) টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন / টু স্টেপ-ভেরিফিকেশন: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত, সব জায়গাতেই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনের অপশন চালু করতে পারেন আপনি। এই অপশন চালু করা থাকলে প্রতিবার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার সময়ে আপনার মোবাইলে মেসেজ আকারে একটি কোড আসবে। এছাড়া আপনি লগ ইন করতে পারবেন না। এই অপশন চালু থাকার সুবিধাটি হল, হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জেনে ফেললেও আপনার মোবাইলে আসা কোডটি ছাড়া সে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। ২) একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না: অনেকেই একাধিক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারেন না। কিন্তু তাই বলে সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাটা মোটেই নিরাপদ নয়। এমন করলে খুব সহজেই আপনার অ্যাকাউন্টে হ্যাক করতে পারে হ্যাকাররা। ৩) আপডেট দিতে ভুলবেন না: উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে আপডেট নেওয়াটা অনেকেরই অপছন্দ। অনেকেই একে অযথা ‘সময় নষ্ট’ বলে মনে করেন। কিন্তু এসব আপডেট আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখতেই সাহায্য করে। তাই সব সময় আপডেটেড রাখুন আপনার কম্পিউটারকে। ৪) সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবধান: হ্যাকাররা আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখতে পারে। আপনি কত খরচ করছেন, কোথায় খরচ করছেন, কখন দেশের বাইরে থাকবেন, কখন মিটিং-এর জন্য ফোন বন্ধ রাখবেন এ সব তথ্যই তারা ফেসবুক বা টুইটার থেকে সংগ্রহ করতে পারে।  হয়তো আপনি কোনও ই-কমার্স সাইট থেকে কোনও পণ্যের ডেলিভারি নেবেন। তারা ওই সংস্থার কর্মচারী হিসেবে আপনাকে ফোন করে আপনাকে বলতে পারে নতুন করে লগ ইন করে ডেলিভারি কনফার্ম করতে হবে। লগ ইন করতে গিয়ে আপনি হয়ত ভুয়া ওয়েবসাইটে নিজের তথ্য দিয়ে ফেললেন। এভাবে তারা আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার সুযোগ পেয়ে যায়। প্রশ্ন হল, আপনি যে ই-কমার্স সাইট থেকে ডেলিভারি নেবেন তারা জানল কী করে? হয়তো ফেসবুকে আপনি এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। সুতরাং, এসব বিষয়ে খুব সতর্ক থাকুন। ৫) ব্যক্তিগত তথ্য: অনেক সময়েই দেখা যায়, আপনাকে ফোন করে বলা হচ্ছে ব্যাঙ্কের জন্য আপনার ন্যাশনাল আইডি নম্বর অথবা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর দিতে হবে।  অনেকেই না বুঝে নম্বর দিয়ে দেন। কিন্তু কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনও এভাবে ফোন করে ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইবে না। এমন ফোন কল পেলে সবার আগে ওই প্রতিষ্ঠানের নম্বরে ফোন করুন এবং জানতে চান কোনও কারণে এমন ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন সত্যিই আছে কিনা! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ফোন আসলে প্রতারকদের পাতা ফাঁদ হয়ে থাকে। সূত্র : জিনিউজ। / এআর /

মধ্যরাত থেকে সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা

নতুন কলরেট নির্ধারণ করেছে সরকার আজ সোমবার রাত ১২টা থেকে। সরকারের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরগুলো ৪৫ পয়সার নিচে কোনও কলরেট নির্ধারণ করতে পারবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। অপারেটরগুলো এই নির্দেশনা কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, এখন থেকে আর মোবাইল ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে অফ নেট ও অন নেট সুবিধা থাকছে না। কলরেটের নতুন সীমা সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা। আর সর্বোচ্চ সীমা দুই টাকা। বিটিআরসি থেকে জানানো হয়েছে যে, এই রেটের কমে কোনও মোবাইল নম্বরে কল করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের পছন্দমতো রেট সাজিয়ে নতুন কলরেট গ্রাহকদের অফার করতে পারবে। কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা হবে দুই টাকা, যা আগেও ছিল। কোনও অপারেটর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মিনিটের কলের জন্য দুই টাকার বেশি চার্জ করতে পারবে না।  মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রামীণফোন থেকে ৯০ শতাংশ কল হয় অননেটে, ১০ শতাংশ কল অফনেটে হয়। অন্যদিকে সরকারের মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটকের ১০ শতাংশ কল অননেটে ও ৯০ শতাংশ কল অফনেটে হচ্ছে। রবি ও বাংলালিংকের অননেট-অফনেট কলের পরিমাণ ৭০ ও ৩০ শতাংশ। একাধিক মোবাইল ফোন অপারেটরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বেশিরভাগই আজ সোমবার রাত ১২টার পরে (মঙ্গলবারের প্রথম প্রহরে) নতুন কলরেট কার্যকর করবে। উল্লেখ্য, দেশে দুই ধরনের কলরেট চালু আছে, অননেট ও অফনেট। অননেট হলো একই মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করার (কথা বলার) পদ্ধতি এবং অফনেট কল হলো এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ফোন করা। নতুন নিয়মে এই অননেট ও অফনেটের কলরেট পদ্ধতি আর থাকছে না।   এমএইচ/ এসএইচ/

বাংলাসহ ২২টি ভাষায় কিনতে পারবেন নতুন ডোমেইন

তথ্য-প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। এখন ডোমেইন হবে না অন্য দেশের ভাষা। নিজের দেশের স্থানীয় ভাষায় নিতে পারবেন ডোমেইন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ডোমেইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন)। পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইসিএএনএন ইন্ডিয়া থেকে ২২টি ভাষায় ডোমেইন নাম দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে। বিষয়টি অনুমোদন পেয়ে গেলে ইংরেজি নামের ডোমেইন আর না কিনলেও চলবে। চাইলে বাংলা ভাষাসহ স্থানীয় বিভিন্ন ভাষায় ডোমেইন নাম কেনা যাবে। আইসিএএনএন ইন্ডিয়ার প্রধান সমীরণ গুপ্তা জানিয়েছেন, নয়টি ভারতীয় স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ চলছে। তার মধ্যে আছে বাংলা, দেবনাগরী, গুজরাটি, গুরুমুখী, কানাড়া, মালায়ালম, ওডিশি, তামিল ও তেলেগু। এ স্ক্রিপ্টগুলো আরও অনেক স্থানীয় ভাষার ডোমেইন নামের সঙ্গে কাজ করবে। আইসিএএনএন বর্তমানে এসব ভাষার ডোমেইনের জন্য নিরাপত্তা ও টেকসই সংজ্ঞা নির্ধারণে কাজ করছে। বিশ্বের অন্যান্য স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম পালন করা হয়, এ ক্ষেত্রেও তা-ই অনুসরণ করা হবে। এতে যারা ইংরেজি জানে না বা বোঝে না, তারাও অনলাইনে আসতে পারবে। এতে স্থানীয় বা নিজস্ব ভাষার ডোমেইন ব্যবহারের সুযোগ হবে।আইসিএএনএন ভারতের প্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে ৫২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আছে। আইসিএএনএন বর্তমানে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করছে। অনলাইনের বাইরে থাকা বাকি ৪৮ শতাংশ মানুষের অনেকেই ইংরেজি বলতে পারে না বা টাইপ করতে পারে না। স্থানীয় ভাষায় ডোমেইন পাওয়া গেলে অনেকের জন্য সুবিধা হবে। বর্তমানে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে বাংলাসহ অনেক স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট সার্চ করা যায়। তবে স্থানীয় ভাষায় ডোমেইন পাওয়া গেলে স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট প্রকাশ করা সহজ হবে বলে মনে করেন সমীরণ গুপ্তা। স্থানীয় ভাষায় ডোমেইন নাম আনতে নিও-ব্রাহ্মী জেনারেশন প্যানেল তৈরি করেছে আইসিএএনএন। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের ৬০ জন কারিগরি বিশেষজ্ঞ, ভাষাবিদ অংশ নিয়েছেন। এ অঞ্চলগুলোর জন্যও নতুন স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেবনাগরী, গুজরাটি, গুরুমুখী, কানাড়া, ওডিশি ও তেলেগু স্ক্রিপ্ট জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। www.icann.org/idn লিংকে মতামত দেওয়া যাবে। তবে বাংলা ভাষার জন্য এখনে মতামত চাওয়া হয়নি। আইসিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৪২০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা ২০২২ সাল নাগাদ ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। টিআর/

সন্ধান মিলেছে ৪০ হাজার বছর আগের ঘোড়ার

বিজ্ঞানীরা উদ্ধার করেছেন চল্লিশ হাজার বছর আগের একটি ঘোড়া শাবকের হিমায়িত দেহ । বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতোদিন ঘোড়া শাবকটি সাইবেরিয়ার ভূগর্ভস্থ হিমায়িত অঞ্চলে সংরক্ষিত ছিলো। বাতাগাইকার নিম্নাঞ্চল থেকে এ ঘোড়া শাবকটি উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকে বাতাগাইকার এ নিম্নাঞ্চলকে ‘পাতালে যাওয়ার রাস্তা’ হিসেবেও অভিহিত করেন। এটি সাইবেরিয়ার শীতলতম স্থানগুলোর একটি। রুশ ও জাপানি বিজ্ঞানীরা চল্লিশ হাজার বছর আগের এ ঘোড়া শাবক উদ্ধার করেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘোড়া শাবকটি উদ্ধারের ফলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তাদের ধারণা, মাত্র তিন মাস বয়সে ঘোড়া শাবকটি মারা যায়। উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘোড়া শাবকটির অটুট মৃতদেহটি ভূগর্ভস্থ হিমায়িত অঞ্চলে সংরক্ষিত ছিলো। তারা বলছেন, এ ঘোড়া শাবকটিই প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত বিশ্বের সবচেয়ে সুপ্রাচীন ঘোড়ার নজির। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের নর্থ-ইস্টার্ন ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্টেফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইকোলজি এবং জাপানের কিনদাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তারা বলছেন, পুরাতন প্রস্তরযুগের এ ঘোড়া শাবকটি উদ্ধারের ফলে অনেক মূল্যবান বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যাবে। ঘোড়া শাবকটির অবিকৃত মৃতদেহটি ভূমি থেকে ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) গভীর থেকে উদ্ধার করেন বিজ্ঞানীরা। এটির গায়ের রঙ ছিলো ঘন বাদামি। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হলো ঘোড়া শাবকটির গায়ের পশম, শিং, লেজ, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সবকিছুই অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এর শরীরে কোনো ক্ষতও পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ অঞ্চলের মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে চল্লিশ হাজার বছর আগের সময়ের অনেক অজানা তথ্য পাওয়া যাবে। আরকে//

গর্ভধারণ রোধে আসছে নতুন অ্যাপ

সম্প্রতি একদল গবেষকদের গবেষণায় জানা গেছে, স্মার্টফোনের বিশেষ এক অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে গর্ভরোধ। এদিকে গর্ভধারণ রোধে বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও এবার গর্ভরোধের নতুন ব্যবস্থা হচ্ছে এই অ্যাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এমনই একটি অ্যাপের অনুমোদন দিয়েছে। এই অ্যাপটির নাম ‘ন্যাচারাল সাইকেলস’। এই অ্যাপটি কীভাবে কাজ করে? গবেষকরা মূলত এটি হিসেব করে দেখে যে, মাসের কোন দিনগুলোতে ব্যবহারকারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং সে দিনগুলোতে যৌনতা থেকে বিরত থাকতে বলে অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (যেমন কনডম) ব্যবহার করতে বলে। এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন সকালে নারীর শরীরের তাপমাত্রা মাপতে হয় একটি থার্মোমিটার দিয়ে এবং এই তাপমাত্রা ওই অ্যাপে লিখতে হয়। ওভুলেশন বা ডিম্বপাতের সময়ে নারীর শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। সেটাই ওই অ্যাপ ধরতে পারে। এই তথ্য এবং নারীর মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের কিছু তথ্য ব্যবহার করে অ্যাপটি বুঝতে পারে সেদিন ব্যবহারকারীর শরীর উর্বর কী না। সাধারণত প্রতি মাসে মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন একজন নারীর শরীর উর্বর থাকে। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো একটি পদ্ধতিই আদতে নিখুঁত নয়, জানিয়েছেন এফডিএর কর্মকর্তা ড. টেরি কর্নেলিসন। তাই এই অ্যাপটি সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনাও থাকতে পারে। অ্যাপটির কার্যকারিতার বিষয়ে এফডিএর বাইরের বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মূলত এ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার ছিল বলে তারা মনে করেন। ‘ন্যাচারাল সাইকেলস’ অ্যাপটি জন্ম নিরোধক পিলের মতোই কার্যকরী, অর্থাৎ তা ব্যবহারের পরেও ৯ শতাংশ ক্ষেত্রে গর্ভধারণ ঘটতে পারে। ইউরোপে ইতোমধ্যেই অনুমোদিত এই অ্যাপ। তবে যুক্তরাজ্য এবং সুইডেনে এই অ্যাপ নিয়ে তদন্ত চলছে। কারণ সুইডেনে ৩৭ নারী অভিযোগ করেন, এই অ্যাপ ব্যবহারের পরেও গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন তারা। ন্যাচারাল সাইকেলস অ্যাপটি ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের ব্যবহার করতে বলা হয়। যারা হরমোনাল বার্থ কন্ট্রোল ব্যবহার করছেন, বা যারা গর্ভধারণ করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে, তাদের এই অ্যাপ ব্যবহার করা নিষেধ। কেএনইউ/ এআর

হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার

কিছুদিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নতুন ফিচার গ্রুপ চ্যাটে ভয়েস এবং ভিডিও কল এনে জনপ্রিয়তা বেশ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এবার আরও একটি ফিচার যুক্ত করে চমক দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এটি হচ্ছে ডিলেট করে দেওয়া চ্যাট হিস্ট্রি আবারও দেখতে পাওয়া যাবে। এই নতুন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপের ২.১৮.২৪৬ বেটা ভার্সানটিতে চালু হয়েছে। যাতে সংযোজিত হয়েছে নতুন ফিচার। এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে কোনও একটি নম্বরকে ব্লক করা অথবা কোনও গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অপশন পেতেন ব্যবহারকারীরা। সেই কথোপকথন মুছেও ফেলা যেত খুব সহজে। কিন্তু এবার গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গেলেও ইচ্ছে হলে সেই চ্যাট হিস্ট্রি ফিরে পাওয়া যাবে। এতদিন এমন সুবিধা ছিল না এই মেসেজিং অ্যাপে। হোয়াটসঅ্যাপে এই ফিচারটি আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছিল। অবশেষে তৈরি হয় তার বেটা ভার্সানটি। এবার জেনে নিন কীভাবে মুছে ফেলা চ্যাট হিস্ট্রি ফিরে পাওয়া সম্ভব- যে গ্রুপ বা বিশেষ ব্যক্তিকে আপনি ব্লক বা রিপোর্ট করতে চান, সেই চ্যাট বক্সটি খুলুন। ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে উপরের ডান দিকের তিনটি ডট মেনুতে ক্লিক করুন। এবার স্ক্রোল ডাউন করে পাবেন রিপোর্ট অপশন। সেখান থেকেই ওই ব্যক্তিকে ব্লক করা যাবে। গ্রুপের ক্ষেত্রেও একইভাবে তিনটি ডট থেকে গ্রুপ বাছাই করে রিপোর্টে ক্লিক করুন। তাহলেই গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন এবং মেসেজও ডিলিট হয়ে যাবে। তবে পরীক্ষা করে দেখা দিয়েছে, যে নম্বরটি কনট্যাক্টের তালিকায় নেই, শুধুমাত্র তাদেরই ব্লক করা যাচ্ছে। আবার একই অপশনের মাধ্যমেই ফিরে পাওয়া যাবে মুছে ফেলা চ্যাট। তবে আপাতত অ্যান্ড্রয়েডের বেটা ভার্সানে রয়েছে ফিচারটি। অর্থাৎ এখনই এটি ইউজাররা ব্যবহার করতে পারবেন না। এর পাশাপাশি আরও একটি ফিচার আনার চেষ্টা চলছে। পিচকার-ইন-পিকচার ভিডিও মোড। অর্থাৎ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ের সময়ও ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের ভিডিওর প্রিভিউ দেখে নেওয়া যাবে অনায়াসে। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন। কেএনইউ/ এআর

বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনে নতুন এক রংধনু

বিজ্ঞান মহলে রংধনুর ব্যবহার কম নয়। বেশিরভাগ সায়েন্টিফিক পেপারেই রংধনুর রংগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের মাঝেই তর্কের অভাব নেই। অনেকেই বলেন, রংধনু ব্যবহার করলে তা রংকানা মানুষের কোনো কাজেই আসে না। এমনকি অন্যদের জন্যও তা খুব একটা কার্যকরী নয়। সায়েন্টিফিক আমেরিকান জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় রাসায়নিক এবং জৈবিক ডাটা অ্যানালিস্ট জেমি নুনেজ মন্তব্য করেন, চট করে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রংধনু কার্যকর বটে। কিন্তু রংধনু ব্যবহার করে তথ্য উপস্থাপন করলে সেটা বুঝতে পারাটা মোটেই সহজ নয়। কারণ রংধনু আসলে যে ক্রম অনুযায়ী সাজানো, তা খুব একটা কাজের না। বিজ্ঞান গবেষণার তথ্য দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক সেই রংগুলোকেই দরকারি মনে করে, যেগুলো উজ্জ্বল। গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যবহার করা হয়েছে (বাম থেকে) সাদাকালো বা গ্রে স্কেল, রংধনু বা জেট এবং নতুন রংধনু বা সিভিডিস। ছবি: সংগৃহীতএমনকি এটাও দেখা গেছে, রংধনু ব্যবহার করে হৃৎপিণ্ডের একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করার কারণে সে হৃৎপিণ্ডে হৃদরোগ শনাক্ত করতে অনেক ভুল করেন গবেষকরা। অন্যদিকে লাল-কালো রঙের একটি টুডি মডেল ব্যবহারে অনেকটাই সঠিকভাবে হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এসব সমস্যার সমাধান করতে জেমি নুনেজ এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির কিছু গবেষক একটি কালার স্কেল তৈরি করেন যা প্রচলিত রংধনুর তুলনায় কার্যকরী। আমাদের পরিচিত রংধনুকে বিজ্ঞান মহলে বলা হয় জেট, আর নতুন এই রংধনুকে বলা হচ্ছে সিভিডিস। এর রংগুলো হলো গাড় নীল থেকে হালকা হলুদ পর্যন্ত। রংকানা মানুষও এই রংধনুর রংগুলোর মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারবে এবং কোনটি গাড় ও কোনটি হালকা তা বুঝতে পারবে। তবে সিভিডিস রংধনুতে রং কম বলে এটা তেমন একটা জনপ্রিয় হবে না বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। আরকে//

সাইবার আক্রমন থেকে বাঁচার উপায়    

ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাচ্ছে সাইবার আক্রমণের শিকারও হচ্ছে মানুষ তত বেশি। অপরাধীরা বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ তৈরি করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা প্রয়োজনীয় জিনিস। আইডি হ্যাক থেকে শুরু করে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বা অশ্লীল বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে করছে হেয়। কিন্তু সামান্য একটু সচেতন হলেই অনেকাংশে হ্যাকিং বা সাইবার আক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা যে সব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি সেখানেই রয়েছে আমাদের সুরক্ষা। একটু সচেতনতাই পারে ভয়াবহ অবস্থার হাত থেকে বাঁচাতে।    সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার আগেই আমাদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। সে বিষয়গুলো যদি মাথায় থাকে তাহলে অনেকাংশে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি। এ বিষয়ে সাইবার প্রতিরোধ নিয়ে কথা বলেছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) আলীমুজ্জামান।    তিনি সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বললেন। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো-   ১. সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে প্রথমত প্রয়োজন সাইবার সচেতনতা।   ২. আপনি অন্ধকারে হাঁটতে পারবেন না। সাইবার একটি অন্ধকার জগত। এই জগতে এমন অনেক কিছু আছে যা আপনি জানেননা। এখানে এমন অনেক বিষয় আছে যা সম্পর্কে আপনার ধারণাও নেই। তাই প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে। ৩. কেউ আপনার কাছে একটা লিঙ্ক পাঠিয়েছে। এখন আপনাকে দেখতে হবে সেটায় আপনি ক্লিক করবেন কি না। লিঙ্কটা ক্লিক করার পর দেখা যাচ্ছে তারা আপনার পাসওয়ার্ড চাচ্ছে। এখন আপনি কি করবেন? পাসওয়ার্ড কি দিয়ে দেবেন? এ বিষয়ে ভাবতে হবে, জানতে হবে। কেউ আপনাকে একটা লিঙ্ক পাঠালো আপনি সেটা ডাউনলোড করলেন, এরপর তারা একটা নাম্বার চাইলো; ই-মেইল চাইলো, এসব দেওয়া যাবে না। তারা একটা অ্যাপ বা সফটওয়্যার পাঠিয়েছে, কন্ট্রাক নাম্বার চাচ্ছে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আপনার ছবি চাচ্ছে, সহজেই বুঝে নিতে হবে এখানে কোনো সমস্যা রয়েছে। এসব তথ্য দেওয়া যাবে না। ৪. কোনো ই-মেইল আসলে আগে দেখতে হবে মেইলটা পরিচিত কি না। আনট্রাস্ট কোনো কিছুতে ক্লিক দেওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে নিজের সব তথ্য অন্যের কাছে চলে যাবে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ৫. কেউ কোনো তথ্য চাইলে আমাকে আগে নিশ্চিত হতে হবে আমার তথ্য আমি কাকে দেব আর কাকে দেব না। আমার প্রয়োজন কতটুকু। কতটুকু আমি তাকে বিশ্বাস করবো। এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ৬. ফেসবুকে অনেকেই এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য আমাকেই ঠিক করতে হবে আমার ফেসবুক আইডি কতটুকু অপেন রাখবো আর কতটুকু বন্ধ রাখবো। সব ধরণের পদ্ধতি দেওয়া আছে। এখন নিজেকেই সেটা ঠিক করতে হবে আমি কী করবো। ফেসবুকে অনেকগুলো অপশন আছে যেগুলো বন্ধ রাখলে আপনি নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু এ বিষয়গুলো অনেকে জানেননা। তাই ফেসবুক হ্যাক হওয়া বা হয়রানি হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজে না জানলে কাউকে দিয়ে এ ব্যবস্থাগুলো করে নিলে আপনি নিরাপদ থাকবেন। সাইবার আক্রমনের শিকার হলে করণীয় কী?    এ বিষয়ে আলীমুজ্জামান বলেন, কেউ যদি সাইবার আক্রমনের শিকার হয় সেক্ষেত্রে কিছু করণীয় রয়েছে। তাকে প্রথমে পুলিশে রিপোর্ট করতে হবে। ঢাকা মহানগর হলে ডিএমপি’তে আমাদের সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে। এখানে এসে অভিযোগ জানাতে হবে। ঢাকার বাহিরে হলে সংশ্লীষ্ট থানায় যোগাযোগ করতে হবে। ঢাকা মহানগরে যোগাযোগের জন্য আমাদের ফেসবুক সাইট https://www.facebook.com/cyberctdmp এখানে যে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। অথবা ০১৭৬৯৬৯১৫২২ এই নাম্বারে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে স্বশরীরে আসলে খুবই ভালো। কারণ পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে কাজটি করতে হবে। তাই নিজে এসে অভিযোগ জানালে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।     এসি      

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি