ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:১৩:৫৪

লঞ্চে যাতায়াতে ভোগান্তিতে হাতিয়া ও ভোলার মানুষ [ভিডিও]

লঞ্চের মাধ্যমে যাতায়াত সমস্যার এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি নোয়াখালীর হাতিয়া এবং দ্বীপজেলা ভোলার ক’টি উপজেলার মানুষের। মাঝে কিছুদিন সমাধান মিললেও, নতুন করে সমস্যা তৈরি করছে একটি চক্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা মিলছে না। নোয়াখালীর হাতিয়া কিংবা ভোলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, মির্জাকালু, মাস্টারহাট, বেথুয়া, শ্যামবাজারসহ আশপাশের ঘাটগুলো থেকে লঞ্চে রাজধানীসহ অন্যান্য স্থানে যেতে ভোগান্তি কমেনি ওই সব এলাকার মানুষের। সহজ যোগাযোগের জন্য যেসব ঘাটে লঞ্চ ভেড়ার কথা ছিল, তাও হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ফেয়ারি শিপিংয়ের একাধিক নতুন লঞ্চ চলাচল শুরু করায় মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিলো। তবে, তা বন্ধের চেষ্টা করছে একটি মহল। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে এলাকাবাসী। যাত্রী হয়রানি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। ভিডিওতে দেখুন বিস্তারিত :  

বরগুনায় পরীক্ষার সময় চলছে কোচিং বাণিজ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনায় এসএসসি পরীক্ষার সময় অবাধে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এ কার্যক্রম। শিক্ষকরা কোচিং বন্ধে সঠিক নির্দেশনা না পাওয়ার কথা জানালেও প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে মাইকিংসহ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সম্প্রতি পরীক্ষা চলাকালীন সব ধরনের কোচিং বন্ধ থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছেও। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনায় চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কেউ কেউ কিন্ডার গার্টেনের সাইনবোর্ড অথবা ডে-নাইট স্কুলের নাম দিয়ে কৌশলে চালাচ্ছেন এই বাণিজ্য। তবে শিক্ষকরা বলছেন, প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে কোচিং বন্ধ রাখার কথাও জানালেন কেউ কেউ। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সরকারি নির্দেশনার আলোকে সব ধরনের কোচিং বন্ধে মাইকিংসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলার সময় ফটোস্ট্যাট মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না অনেকেই। এসএইচ/

মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে। আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করছি। আমরা বিদু্যতের উন্নয়ন করেছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে তিনি এ কথা বলেন।এর আগে, বরিশালের বাকেরগঞ্জের লেবুখালীতে পায়রা নদীর তীরে নবনির্মিত সাত পদাতিক ডিভিশনের `শেখ হাসিনা সেনানিবাস` উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ছয় বছর পর বরিশাল সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই তার প্রথম সফর।আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাকেরগঞ্জে শেখ হাসিনা সেনানিবাস উদ্বোধন এবং ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হল, এসএম ব্যারাক, অফিস ভবনসহ ১৫টি স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তিনি।বিকেল ৩টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জনসভাস্থল থেকে ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ৩৩টি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সফর ও জনসভা উপলক্ষে সাজানো হয়েছে বরিশাল নগরীকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।এসএইচ/

পিরোজপুরের টগড়া মোড় সড়কের বেহাল দশা

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেহাল হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা। টগড়া মোড় থেকে কলারন খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কের ১০ কিলোমিটারের ৯৫ ভাগই চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা, ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ততম এ সড়কে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বেনাপোল, বরিশাল, পিরোজপুরসহ দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে শতশত গাড়ি চলাচল করছে। একদিকে সরু পথ, অন্যদিকে খানাখন্দে দুর্ভোগ বাড়ছে যাত্রীদের। এমন সড়কে ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। এলাকাবাসী বলছে, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সংস্কার করা হচ্ছে না সড়কটি। তবে, বরাবরের মতোই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সড়ক দ্রুত সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এসএইচ/

ঝালকাঠিতে লঞ্চ-কার্গো ধাক্কা, নিখোঁজ ২

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় সিমেন্ট ভর্তি একটি কার্গো ডুবে গেছে। এতে দুই শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বিষখালী নদীতে মশারিবুনিয়া পুরনো লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের মধ্যে মো. হাসান ভোলার লালমোহন উপজেলার আশুলি গ্রামের বাসিন্দা। এবং পান্নু মিয়া রাজাপুরের বাদুর তলা গ্রামের বাসিন্দা। কাঁঠালিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি থেকে ৬০ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে একটি ছোট কার্গো বিষখালী নদী দিয়ে বরগুনার কাকচিড়া যাওয়ার পথে ঘন কুয়াশার কারণে কাঁঠালিয়ার মশারিবুনিয়া পুরনো লঞ্চঘাটে নোঙর করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি পূবালী-১ সকাল ৬টার দিকে ঘন কুয়াশায় দেখতে না পেয়ে কার্গোটিকে ধাক্কা দিলে কার্গোটি ডুবে গিয়ে মো. হাসান ও পান্নু মিয়া নামে দুই শ্রমিক নিখোঁজ হন। একে// এআর

বরিশাল জেলা ইজতেমা কাল

ইজতেমার বরিশাল জেলা পর্ব আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজতেমার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কাল নগরীর নবগ্রাম রোড সরদারপাড়া এলাকায় বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। ইজতেমা শেষ হবে আগামী শনিবার বেলা ১১টায় মোনাজাতের মাধ্যমে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ইজতেমা লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হবে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার মুসল্লি ইজতেমা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। ইজতেমায় একসাথে আড়াই লাখ লোকের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ইজতেমা মাঠে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি একসাথে থাকার মতো সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। তাছাড়া মুসল্লিদের জন্য ৮০০ টয়লেট, ওজুর জন্য ৫০০ ট্যাপ ও ৪টি পুকুর এবং ১৪টি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা হয়েছে। রাতে আলোর জন্য ১৬০০ বৈদ্যুতিক লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমার নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনীর ৩০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।   আর

বরিশালে ঐতিহ্যবাহী মারবেল খেলা অনুষ্ঠিত 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে দুইশত আটত্রিশ বছরের প্রাচীণ মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অংশ গ্রহণ করে সব বয়সী মানুষেরা। উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় শুধু আগৈলঝাড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া, উজিরপুর, ডাসার, মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বয়সের হাজার-হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। মেলা কমিটির সভাপতি দ্বিগবিজয় বিশ্বাস জানান, রামানন্দের আঁক গ্রামে দুইশত আটত্রিশ বছর পূর্বে আউলিয়া মা সোনাই চাঁদের ৬বছর বয়সে বিয়ে হয়। ৭বছর বয়সে স্বামী মারা গেলে নি:সন্তান অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে একটি নিমগাছের গোড়ায় শিবের আরাধনা ও পূজা-অর্চনা আরম্ভ করে। ক্রমশ: তাঁর অলৌকিত্ব ছড়িয়ে পরলে ওই স্থানে বাৎসরিক পূজার আয়োজন করা হয়। মা সোনাই চাঁদ আউলিয়ার জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৭৮০ ইং সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে নবান্নের অয়োজনের মাধ্যমে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাঁর মৃত্যুর পরে ওই বাড়িটি সোনাই আউলিয়ার বাড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর এই দিনটি উপলক্ষে বৈষ্ণব সেবা, নাম সংকীর্ত্তন, কবিগান শেষে সোয়ামণ (৫০ কেজি) চালের গুড়ার সঙ্গে সোয়ামণ আঁখের গুড়, ৫০ জোড়া নারকেল ও প্রয়োজনীয় কলাসহ অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে নবান্ন তৈরী করে মেলায় আগত দর্শণার্থীদের প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৬ কি.মি এলাকা জুড়ে মারবেল খেলা হয়েছে। রাস্তার ওপর, বাড়ির আঙিনা, অনাবাদী জমি, বাগানসহ সর্বত্রই মারবেল খেলার আসর বসে। জমিতে বসে বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী, মনিহারী, খেলনা, মিষ্টি, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান। ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেলা উদযাপন কমিটি এই মেলাকে নিয়ন্ত্রণ করে।        এসি/

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন পটুয়াখালী

কুয়াকাটার অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন। যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় বিরাট এক অগ্নিকুণ্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। আবার সূর্যাস্তের সময় সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় সূর্যটা। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি-ঘর। পূর্ণিমার রাতে সি-বিচের সৌন্দর্য সবকিছুকে হার মানায়। চাঁদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউগুলো যেন কাছে ডাকে। এমন সৌন্দর্য দেখতে হলে ঘুরে আসেতে হবে পটুয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো। যেখানে হাতছানি দেয় নৈসর্গিক সৌন্দর্য। কুয়াকাটার ইতিহাস- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে আরকানদের এদেশে আগমনের ইতিহাস। `কুয়া` শব্দটি এসেছে `কুপ` থেকে। কুয়াকাটা নামকরণের ইতিহাসের পেছনে যে কুয়া সেটি এখনও টিকে আছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরানীপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন কুয়ার অবস্থান। ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আরকানরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তাদের মাধ্যমেই এই স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বার্মিজ রাজা বোদ্রোপা আরকান জয় করে রাখাইনদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ১৫০টি রাখাইন পরিবার বার্মিজদের হাত থেকে মুক্তির জন্য ৫০টি নৌকায় তিনদিন তিনরাত বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন মৌডুবি এলাকায় উপস্থিত হন। উক্ত অঞ্চলটি তখন বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তারা বনের হিংস্র জীব জন্তুর সঙ্গে যুদ্ধ করে, জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে ধান ফল-মূলের বীজ বপন করে জীবীকা নির্বাহ করতো । তখন ওই বনের কোন নাম ছিল না থাকলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন তার নাম জানত না। যার ফলে সাগর পাড়ি দিয়ে ওই স্থানে বসবাস শুরু করায় রাখাইন ভাষায় তারা নামকরণ করে কানশাই। কিন্তু রাখাইন লোকজন এখানে বসবাস করলেও তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়ায় পানি। সাগরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা খাওয়া সম্ভবপর ছিল না। এজন্য তারা নিজ উদ্যোগে একটি কুয়া খনন করে তা থেকে মিঠা পানি পান করত। মিঠা পানির কুয়ার নামানুসারে স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা। কুয়ার কাছেই তারা স্থাপন করে ৩৭ মণ ওজনের ধ্যানমগ্ন অষ্টধাতুর বৌদ্ধ মূর্তি। মন্দিরের নির্মাণ সৌন্দর্যে ইন্দোচীনের স্থাপত্য অনুসরণ করা হয়। দেখলে মনে হবে থাইল্যান্ড, লাওস বা মিয়ানমারের কোন মন্দির। প্রায় সাড়ে তিন ফুট উঁচু বেদির ওপর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮৩ বছর পূর্বে অষ্টধাতুর ওই মূর্তিটি ওই স্থানে স্থাপন করা হয় বলে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়। প্রায় সাত ফুট উচ্চতার এ বৌদ্ধ মূর্তিটি স্থাপন করেন উপেংইয়া ভিক্ষু। মন্দিরের নীচেই হচ্ছে ঐতিহাসিক কুয়াটি। বর্তমানে সেই কুয়ার পানি খাওয়ার অনুপযোগী অর্থাৎ পরিত্যক্ত। তারপরও কুয়াকাটার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কুয়াটিকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য- কুয়াকাটার অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন। যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় বিরাট এক অগ্নিকুণ্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। আবার সূর্যাস্তের সময় সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় সূর্যটা। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি-ঘর। পূর্ণিমার রাতে সি-বিচের সৌন্দর্য সবকিছুকে হার মানায়। চাঁদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউগুলো যেন কাছে ডাকে। আর অমাবস্যায় অন্ধকার রাতে দেখা যায় আরেক দৃশ্য ফসফরাসের মিশ্রণে সাগরের ঢেউগুলো থেকে আলোর বিচ্ছুরণ ছড়ায়। কুয়াকাটার সি-বিচের সৌন্দর্য লিখে শেষ করা সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।  কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সারা বছরই দেখা মিলবে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গা-মতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার এবং বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি কুয়াকাটার যে স্থানগুলোভ্রমণ-পিয়াসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরুপ- কুয়াকাটার কুয়া- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে রয়েছে প্রাচীন কুপগুলোর মধ্যে একটি কুপ। তবে বারবার সংস্কারের কারণে এর প্রাচীন রূপটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়। শুঁটকি পল্লী- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সাত কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। এখানে অনেক জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। দেখতে পায় জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য। গঙ্গা-মতিরজঙ্গল- কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গা-মতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে আছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি। ক্রাব আইল্যান্ড- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেলে আছে ক্রাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জনতা পেলে এ জায়গার সৈকত লাল করে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে। ফাতরার বন-   আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের মত এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। বন মোরগ, বানর আর নানান পাখি আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরের দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। সীমা বৌদ্ধ মন্দির- কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই সীমা বৌদ্ধ মন্দির। কাঠের তৈরি এই মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে দালান তৈরি করা হয়েছে। তবে মন্দিরের মধ্যে এখনও আছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধ মূর্তি। কেরানীপাড়া রাখাইন পল্লী- সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানীপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। শীত মৌসুমে পোশাক তৈরির ধুম পড়ে কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীগুলোতে । দিন-রাত পরিবারের সবাই মিলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক। আর এই পোশাক কিনতে ভিড় করে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। কুয়াকাটা কাঠের নৌকা-   ২০১২ সালে কুয়াকাটা ঝাউবন সংলগ্ন সৈকতে ৬২ হাত লম্বা ও ১৬ হাত চওড়া ঐতিহ্যবাহী একটি সাম্পান বালু ক্ষয়ে ক্ষয়ে শতবছর পর জেগে ওঠে। এটিকে কুয়াকাটা সৈকত লাগোয়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন টিনশেডের একটি বেষ্টনীর ভিতর স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি নৌকা জাদুঘর নামে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত দর্শর্ণাথী এ নির্দশনটি দেখতে ভীড় করে। বাউফলের মৃৎশিল্প- বাউফলের মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিলাস সামগ্রী এখন বিশ্ব বাজারে। পটুয়াখালীর বাউফলের মাটির তৈরি মৃৎশিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে নান্দনিক বৈচিত্রের শৈল্পিক সম্ভার নিয়ে এখন বিশ্ব বাজারের দোকানে ঠাঁই নিয়েছে। মৃৎশিল্পীদের মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন বিলাস সামগ্রী ইটালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইউকে, স্পেন, জাপান, ইউএস ও নিউজিল্যান্ডে বেশ চাহিদা থাকায় ওই সমস্ত দেশে রফতানি হয়। এখানে গার্হস্থ্য জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন হাড়ি, পাতিল, কলস, থালা, বাসন , জলকান্দা, জালের কাঠি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। সোনার চর - পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে জেগে ওঠে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সোনার চর। এখানে রয়েছে বিস্তৃত বনভূমির পাশাপাশি সাত কি.মি. দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংরক্ষিত এ বনভূমি বন্য প্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। সোনার চরকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রুপ দেওয়ার উদ্দেশ্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ, এগুলো বাস্তবায়ন হলে সোনার চর হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আর্কষণীয় বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র। মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে আছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে এ মন্দিরের ভেতরে আছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে আছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি। পায়রা নদীর ইলিশ মাছ-   পটুয়াখালী জেলার পায়রা নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। পায়রা নদীর ইলিশ স্বাদে অতুলনীয় বলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এর কদর রয়েছে। পযটক যারাই পটুয়াখালীতে আসে পায়রা নদীর ইলিশের স্বাদ নিতে কখনোই ভুল করে না।  এই মাছ বেশি লবণাক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। এই মাছ বড় বড় নদী এবং তৎসংলগ্ন  সাগর মোহনায় পাওয়া যায়।  এসএইচ/  

সরকার গ্রাম ভিত্তিক উন্নয়ন করছেন: শিল্পমন্ত্রী

বর্তমান সরকার গ্রাম ভিত্তিক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, যে সমস্ত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, এগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আগামী পাঁচ বছর পরে বাংলাদেশ উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাবে। রাজধানীবাসির মতো গ্রামের মানুষকেও সরকার অনুরূপ সুবিধা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গরিব, অসহায় ও দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। পাকিস্তান আমলে বাঙালিরা কষ্টে ছিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ দেশের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জাতির জনককে হত্যার মধ্যে দিয়ে সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় এসে জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, যুগ্ম-সম্পাদক মোবারক হোসেন মল্লিক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান রসুল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাহার মিয়া। অনুষ্ঠানে চার হাজার ৬১২ জন গরিব শীতার্তদের মাঝে কম্বল তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী।   আর/টিকে

রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

বরিশালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে এখন তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী রোকসানা বেগমের পেটে গজ থাকায় নাড়ীতে পচন ধরে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক সারফুজ্জামান বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রোকসানা বেগমের অভিযোগ, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা নিয়ে বরিশালের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হন বরগুনার স্কুল শিক্ষিকা রোকসানা পারভীন। কয়েকদিন পর অধ্যাপক ডাক্তার সারফুজ্জামান রুবেল তার অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করে দেন তিনি। দিন কয়েক পর পেটের ব্যথায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন রোকসানা। এক বছরে বেশ কয়েকবার অধ্যাপক সারফুজ্জামানের কাছে চিকিৎসা নিলেও ফল মেলেনি।একপর্যায়ে রোকসানাকে রাজধানীর মিরপুরের বিআইএইচএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার পর ডাক্তাররা বুঝতে পারেন তার পেটে গজ আছে। একাধিক অস্ত্রপচারে বের করা হয় গজ। বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডাক্তার সারফুজ্জামানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। / এআর /

পিরোজপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় রাসেল খান (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার গরিপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাটিভাঙা গ্রামে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লিটন হাওলাদার নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত রাসেল ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলার শেলজালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বেলতলা গ্রামের মৃত বারেক খানের ছেলে। কাঠালিয়া থানার ওসি শওকত আনোয়ার জানান, রাসেল খান পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত। তার বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় একটি ডাকাতিসহ আটটি মামলা রয়েছে। ভান্ডারিয়া উপজেলার গরিপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাটিভাঙা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, রাতে উত্তর বেলতলা গ্রামের নতুন বাজার থেকে রাসেল খান বাড়ি ফেরার সময় একদল লোক তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।   একে//এসএইচ

ইঁদুরের ফাঁদে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ইঁদুর মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. রেজাউল করিম (৩৫) ও তার ভাতিজা নান্নু মিয়ার ছেলে মো. ফরিদ মিয়া (১০)। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহম্মেদ জানান, ইঁদুর মারার জন্য ওই গ্রামের আব্দুস সত্তার তার ধানক্ষেতে বিদ্যুতের ফাঁদ পেতেছিলেন। রাতে লোকেরা দলবেঁধে মাছ ধরার জন্য ক্ষেতে গেলে ফাঁদে আটকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন চাচা রেজাউল ও ভাতিজা ফরিদ। স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরূপকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম। একে/

বরিশাল গৌরনদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৭টা ও দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গৌরনদী কাশেমাবাদ এলাকার কাশেম মোল্লার ছেলে ভ্যান চালক মিলন মোল্লা (৩০) এবং পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ঘোষকাঠি গ্রামের বাবুল ফকিরের ছেলে অটোরাইস মিলের শ্রমিক নাঈম ফকির (২৫)। গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মিলন মোল্লা ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালিয়ে বাটাজোর থেকে গৌরনদীর দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গৌরনদীর দক্ষিণ বাটাজোর এলাকা অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস মিলনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিলন মোল্লার মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে বার্থী তাঁরা মায়ের (কালী) মন্দিরের কাছে বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পথচারী বার্থী এলাহী অটোরাইস মিলের শ্রমিক নাঈম ফকিরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পথচারী নাঈম ফকির নিহত এবং ভ্যান চালক বাচ্চু মিয়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বাস দুটি আটক করা হলেওে এর চালক পালিয়ে যায়।   আর

ভোলা মুক্ত দিবস পালিত

জেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ভোলা জেলা মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রোববার সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুব্রত কুমার সিকদারের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন। এসময় উপস্থিতত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ, ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, উপজেলা কমান্ডার মো. অহিদুর রহমান, নিবার্হী মেজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম প্রমুখ, মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন, সেলিম জমাদ্দার। এসময় আও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডর এর আহ্বায়ক হামিদুর রহমান হাসিব, যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিলুর রহমান, কামরুল ইসলাম, সদস্য সচিব আদিল হোসেন তপু, উপজেলা আহ্বায়ক মো. সোহাগ, সদস্য সচিব মো. শিপন। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার মুক্ত হয় ভোলা। এপ্রিলের শুরুর দিকে ভোলা ওয়াপদা ভবনে ক্যাম্প করে অবস্থান নেয় পাক হানাদার বাহিনী। ওই ভবনের ২টি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে নিরীহ মানুষ কে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হত। ওয়াপদা ভবনের পাশেই রয়েছে বধ্যভূমি যেখানে শতশত মুক্তিপাগল মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়ে ছিল। ভোলার দেওলা, বাংলাবাজার এবং দৌলতখানের গুপ্তেরগঞ্জ বাজারে সমুখ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর পাকসেনাদের মনোবল ভেঙ্গে পরে। ভোলার মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ঘিরে শহর দখলের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এমন সময়ে ১০ ডিসেম্বর ভোররাতে ভোলা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চ যোগে পাকবাহিনী ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করে । মুক্তি যোদ্ধারা তাদের আটকানোর চেষ্টা করেও আধুনিক অস্ত্রের কাছে ব্যর্থ হয়। পরে মিত্র বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে চাঁদপুরের কাছে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় পাকসেনাদের বহনকারী লঞ্চটি ডুবে যায়। পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে কালেক্টরেট ভবনের সামনে পতাকা উড়িয়ে ভোলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্দারা। এভাবেই ভোলা হানাদার মুক্ত হয়। এসএইচ/

শেখ হাসিনা সরকারের সময় আইন সবার জন্য সমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় আইন সবার জন্য সমান। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন ঘুরে দাড়িয়েছিল ঠিক তেমনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সফলতার সঙ্গে কাজ করছে এই বাহিনী। এ জন্যই পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসছে। এখানে মন্ত্রী, এমপি, দলের লোক ও নিরাপত্তা বাহিনী এক কথায় কেউ আইন অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ আইনের শাসন থেকে বাদ পরে না। শনিবার দুপুরে ভোলার লালমোহন থানার নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথানিয়মে যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকার এলো গেলো তার বিবেচনা না করে নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব গতিতে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করবে। মন্ত্রী বলেন, দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রুপান্তিত করা হবে। দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ হাসিনাই। তাই উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহব্বান জানান তিনি। লালমোহন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। পরে তিনি একইভাবে তজুমদ্দিনে নতুন আরেকটি থানা ভবনের উদ্বোধন করেন। এসএইচ/

পিরোজপুরে ফেরি ডুবি, ১৮ রুটে নৌ-চলাচলা বন্ধ

পিরোজপুরের কচা নদীর বেকুটিয়া ঘাটে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় একটি ফেরির তলা ফেটে ডুবে গেছে। এতে তলিয়ে গেছে একটি বাস ও দুটি মালবোঝাই ট্রাক। এছাড়া বরিশালসহ এ অঞ্চলের ১৮ রুটে ওই ঘাট থেকে সব প্রকার নৌযান চলাচলা বন্ধ হয়ে গেছে।    গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনার পর থেকে খুলনা-পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমিরমারা-বেকুটিয়ায় ওই ঘাট থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেকুটিয়া ঘাটের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, এ দুর্ঘটনায় দুইজন আহত হলেও বাস তলিয়ে যাওয়ার আগেই যাত্রীরা নেমে যাওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে। তবে পারাপার বন্ধ থাকায় খুলনা-পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই দুই ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটি উদ্ধারে কাজ করছেন। একে// এআর

বরগুনায় আনন্দ শোভাযাত্রা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্বীকৃতিতে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে বরগুনায় শিক্ষক, ছাত্র, প্রশাসনসহ সর্ব স্তরের মানুষ। শনিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্স থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে শেষ হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংগঠন অংশ গ্রহণ করে। এরপর জেলা প্রশাসক মো. মোকলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আলোচনা করেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, পৌর মেয়র মো. সাহাদাত হোসেন প্রমুখ। এসএইচ/

উন্নয়ন ও প্রশ্নোত্তর পর্বে জনতার মুখোমুখি এমপি শাওন

উন্নয়ন জনগনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই প্রথম বারের মতো জনতার মুখোমুখি হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। বুধবার সকালে ভোলার লালমোহনের ‘সজিব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্কে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ শিরোনামে অনুষ্ঠানে তিনি জনগনের মুখোমুখি হন। এ সময় সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন ও তজুমদ্দিনবাসীর বিভিন্ন উন্নয়ন, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে দুই উপজেলার কৃষক, জেলে, ঈমাম, ছাত্র-শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং তৃনমুলের জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। এমপি শাওন তার বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আগামীতে সব ধরনের উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা বৃদ্ধিসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনকল্যাণে কাজ করছে এবং এর ধারা অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে  আগামীতে নৌকা মার্কায়  ভোট দেওয়ার আহবান জানায় তিনি। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/

বরগুনায় সিডর দিবস পালিত

শোক র‌্যালী, স্মরণসভা ও গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে আজ বুধবার বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালী শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোক র‌্যালীতে ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, জেলা প্রশাসক মোকলেছুর রহমান-সহ সাংবাদিকবৃন্দ, সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠন এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সব শেষে গর্জনবুনিয়া গণকবরে সর্ব স্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে বরগুনা প্রেসক্লাব আয়োজন করে। ২০০৭ সালের এই দিনে বরগুনাসহ এই উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে। মাত্র আধাঘন্টার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূল। প্রবল তোড়ে বেরী বাঁধ উপচে এবং ভেঙে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহুর্তে অচেনা এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। সরকারী হিসেব অনুযায়ী বরগুনায় ১ হাজার ৩৪৫ জন মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও ১৫৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। তবে বে-সরকারী হিসেবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার এবং আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০ জন।

ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাথরঘাটা ছাত্রলীগের দু’নেতা রিমান্ডে

বরগুনার পাথরঘাটায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এদিকে দোষীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন। পুলিশের একটি দল সোমবার দুপুরে পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনাল দানিয়াল ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্টকে বরগুনা থেকে পাথরঘাটায় আদালতে হাজির করে। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার ওসি জিয়াউল হক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মো. মঞ্জুরুল হক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে দোষীদের শাস্তির দাবীতে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী নাজমা বেগম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুর রশিদ, নারী নেত্রী সোহেলি পারভিন ছবি প্রমুখ। এসময় বক্তারা আসামিদের শাস্তির দাবী করেন। চলতি বছরের ১০ আগস্ট দুপুরে পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত নামা এক তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকে বরগুনা থানার পুলিশ। পরে তথ্য পেয় শুক্রবার পাথরঘাটা কলেজের নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ। জাহাঙ্গীরের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও রায়হানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রোববার বিকেলে পাথরঘাটার আদালতে মাহমুদ ও রায়হানের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রুহি আনাল দানিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্টকে।   জেআর/এসএইচ  

মুগডালে নতুন স্বপ্ন দেখছেন ভোলার কৃষকরা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ভোলা জেলায় ব্যাপকহারে শুরু হয়েছে মুগডালের চাষ। জেলার ৫টি উপজেলার কৃষকরা ক্রমেই ডাল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ডাল চাষের মাধ্যমেই দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন তারা। এখানকার উৎপাদিত মুগডাল এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। সোনামুগ, অস্ট্রেলিয়ানমুগ ও বারী জাতের মুগডালের চাষ হচ্ছে এখানে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বারী জাতের মুগডাল। জাপানি আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউগ্লেনার’ এ ডাল কিনে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে উচ্চমূল্যে ডাল বিক্রি করতে পেরে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে তারা দেড়শ’ টন মুগডাল জাপানে রপ্তানির আশা করছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশের উৎপাদিত এ মুগডাল জাপানে সালাদ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। জাপানের সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভুষণ এলাকায় কৃষকদের কাছ থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউগ্লেনার’ এ মুগডাল কিনছে।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি