ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১০:৫৯

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গেলো ৪৮ ঘন্টায় জেলার খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে ঢুকে পড়ায় তলিয়ে গেছে ৫৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। ফসলের এমন ক্ষতিতে দিশেহারা কৃষক। এদিকে নেত্রকোণায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।  চলতি মাসের শুরুর দিকে হওয়া বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের হাওড় এলাকার আবাদ করা মোট ১ লাখ হেক্টর ফসলের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি জমি কিছুটা রক্ষা পেলেও গেলো ৪ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সব শেষ।বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। নদীগুলোর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের ফসল। কোন উপায় না পেয়ে যেটুকু পারছেন কাঁচা ও আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষক।শুধু লাখাই উপজেলাতেই প্রায় ১৬ হাজার কৃষি-পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।এদিকে আগাম বন্যায় নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রতিমাসে চাল, আটা, তেলসহ নগদ টাকা সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। দেখুন ভিডিও সংবাদ  

হাওরের পানিতে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি

সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওরের পানিতে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরমানু শক্তি কমিশনের গবেষক দল। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা এ তথ্য জানালেন। তবে পরমাণু গবেষণা ইন্সস্টিটিউটে পরীক্ষার পর আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান গবেষক দলের সদস্যরা। র্বষা মৌসুমের অনেক আগেই এবার পাহাড়ি ঢলে হাওরে পানি বেড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ডুবে যায়। পঁচে যায় বোরো ধান। এরপর থেকে হাওরাঞ্চলে মাছ মরে ভেসে উঠছে। হাঁসসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢলের পানিতে বাইরে থেকে কোনও দূষণ এসে মিশছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একাধিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পানি পরীক্ষা করেন। পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে এসে মিশলেও তেজস্ক্রিয় পদার্থের অস্বাভাবিক উপস্থিতি ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছেন পরমানু শক্তি কমিশনের বিশেষজ্ঞরা। রোববার সকালে সুনামগঞ্জের পাঁচটি হাওর ও একটি নদীর পানি, মরা মাছ ও মাটি পরীক্ষার পর তারা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, হাওর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরমাণু গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পরই আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগও সুনামগঞ্জে হাওরের পানি পরীক্ষা করে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির বিষয়টিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করে। মৌলভীবাজারেও শনিবার হাকালুকি হাওরের পানি পরীক্ষার পর রাসায়নিক গুণাগুণের পরিমাপ সন্তোষজনক বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ ক ম শফিকুজ্জামান।  

হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল

দ্বিতীয় দফায় টানা বর্ষণে হবিগঞ্জে তলিয়ে গেছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল। পানির নিচে থাকার কারণে কাচা ও আধাপাকা ধানে পচন ধরছে। এ অবস্থায় কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে নিতে শুরু করেছেন। কষ্টের ফসল হারিয়ে সর্বশান্ত তারা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। চৈত্রের শেষে প্রবল বর্ষণে আর উজান থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢলে দেখা দেয় অকাল বন্যা।মাঝে কয়েকদিন বৃষ্টি না থাকায় আশার সঞ্চার হয়েছিল কৃষকদের মনে। কিন্তু গত দু’দিনের টানা বর্ষণে আবারও তলিয়ে গেছে হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরি, গণকি, ভরগাও হাওর, কালুয়ার বিল, খাগাউড়া হাওরসহ ৩৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। পানি বাড়তে থাকায় কৃষকরা জমি থেকে আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।সরকারি সহযোগিতা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন- এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের কৃষকদের।  

মাছে মড়ক আর পানি দূষণের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিশেষজ্ঞরা

সুনামগঞ্জে হাওরগুলোতে মাছে মড়ক আর পানি দূষণের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাওয়ায় এমন সমস্যা হতে পারে। এদিকে, অকাল বন্যায় ফসল হারিয়ে, মাছের মড়কে আগামী দিনগুলো দিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় কৃষক ও জেলেরা। অকাল বন্যায় বাধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় হাওরের কাঁচা ধান। পচে দূষিত করে হাওরের পানি। মাছে দেখা দেয় মড়ক।হাওরে মাছের মহামারি আর পানি দূষণের কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন, পানি, মরা মাছ, জলজ জীব ও উদ্ভিদ। তারা বলছেন, উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই। হাওরের পানি ও মাছ পরীক্ষা করে দেখছেন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি ৩টি সংস্থার বিজ্ঞানীরাও। তাদের পরামর্শ আপাতত মাছ ধরা বন্ধ রাখা।এদিকে, ২০ টি হাওরে মড়কে এরিমধ্যে মারা গেছে ৪৪ টন মাছ মারা গেছে। এতে উদ্বিগ্ন জেলে সম্প্রদায়। ফসল হারিয়ে দিশেহারা প্রান্তিক কৃষক। জেলার মৎস্য অফিস বলছে, মাছ মরে যাওয়ার হার কমেছে। তালিকা করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের।  

পঁচা পানিতে মরছে মাছ

অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জে হাওরের ৯০ শতাংশ ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর এখন পঁচা পানিতে মরছে মাছ। মৌলভীবাজারের ৩টি হাওরের একই দশা। প্রতিদিন মাছ মরে ভেসে উঠছে। ফসল পঁচে পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা। হাওরের পানিতে প্রতিদিন ভাসছে দেশীয় নানা প্রজাতির মরা মাছ।দু’সপ্তাহ আগে অতি বৃষ্টি আর উজানের পানিতে তলিয়ে যায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চেলের প্রায় ৯০ ভাগফসল। কাচা ধান পঁচে এখন দূষিত হাওরের পানি। মারা যাচ্ছে মাছ। মৎস্য বিভাগ বলছে জেলায় এ পর্যন্ত মরে যাওয়া মাছের পরিমাণ এক দশমিক এক শূন্য টন।বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যায় মৌলভীবাজারের হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদিঘি হাওরের ১০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল। কৃষকের স্বপ্নের ফসল পঁচে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস। মারা যাচ্ছে মাছ।মৎস্য বিভাগের পরামর্শ মাছ ধরা বন্ধ রেখে পানিতে চুন ছড়ানোর।দেখুন ভিডিও

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি