ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ ১০:২৯:০৮

ত্বকের সুস্থতার জন্য ৮ ফল

ত্বকের সুস্থতার জন্য ৮ ফল

ফল ত্বককে সুস্থ রাখে এবং তারুণ্যকে ধরে রাখতেও সাহায্য করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফলের বিকল্প হয় না। তাই নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন। শুধু ত্বকের উপরের যত্নই নয়, ভিতর থেকে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে ফল। তাহলে জেনে নেওয়া যাক ত্বকের সুস্থতা দানকারী কয়েকটি ফলের নাম- আপেল আপেলে প্রচুর পরিমাণে ম্যালিক এসিড রয়েছে। ম্যালিক এসিড অন্যান্য এসিডের সঙ্গে মিশে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়া আপেলের ভিটামিন ত্বকের কোষকে ঠিক রাখে এবং ত্বককে টানটান রাখে। এর উপস্থিত খনিজ পদার্থ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ফুসকুড়ি, চোখের নিচে কালো দাগ দূর করে দেয়। এর সঙ্গে ত্বককে স্বাস্থ্যেজ্জ্বল করে তোলে। ডালিম ডালিমকে সুপার ফুড বলা হয়। ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ডালিম খুব প্রয়োজনীয়। এর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের বলিরেখা পড়া রোধ করে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে তিনদিন করে ডালিমের জুস খাদ্য তালিকায় রাখুন। স্ট্রবেরি লাল রঙের স্ট্রবেরিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি ও ম্যাঙ্গানিজ। এটি খুব ভালো ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ত্বককে যেমন উজ্জ্বল করে তেমনি ত্বকের চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করে। স্ট্রবেরির অ্যালার্জিক অ্যাসিড সূর্যের ক্ষতিকারক বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। কালো জাম গরমের সময় কালোজাম দেখা যায়। এটি বেশ সুস্বাদু এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে। ত্বকের যত্নে বিশেষভাবে সাহায্য করে। আঙুর আঙুরে রয়েছে পলিফেনল নামে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি পূরণ করে। এছাড়া আঙুর ত্বকের বয়সের প্রভাব কমিয়ে আনে। ত্বকের ক্লিনজার হিসেবে আঙুরকেই প্রধান উপাদান হিসেবে ধরা হয়। তরমুজ ভিটামিন-এ, বি, সি সমৃদ্ধ এই ফলটি ত্বককে সজীব করার পাশাপাশি উজ্জ্বল ও নরম রাখে। ত্বকের পানির চাহিদা পূরণের জন্য তরমুজ খাওয়া বেশ উপকারী। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে লাবণ্যময় করে তোলে। আনারস আনারসে রয়েছে ব্রোমিল্যান নামক এনজাইম যা ত্বকের জ্বালা পোড়া এবং ত্বক ফুলে যাওয়া রোধে ভালো কাজ করে। এটি জ্বরের ঔষধ হিসেবেও বেশ পরিচিত। পেঁপে এই ফলে রয়েছে পেপাইন এনজাইম। যা ওজন কমানোর পাশাপাশি ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ফলের সাহায্যে ত্বকের মৃত কোষকে পরিত্রাণ দিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত পেঁপে খেলে বয়সের ছাপ দূর হয়। কেএনইউ/ টিকে
অনিদ্রা থেকে মুক্তির ৯ উপায়

প্রথমে অনিদ্রার কারণ অনুসন্ধান করুন। মনোদৈহিক সমস্যার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তায় তা দূর করার চেষ্টা করুন। ঘুমের ওষুধ অনিদ্রার সমাধান নয়। সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক-মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ১. ঘুমানোর জন্যে প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোষাক পরুন। ঘরে হালকা আলো জ্বেলে রাখুন। ২. ঘুমাতে যাওয়ার ১ ঘন্টা আগে থেকে পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। ৩. সন্ধ্যার পর চা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। ৪. ঘুমানোর আগে ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ৫. ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঝগড়া, বিবাদ, বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। ৬. রাতে উত্তেজনাপূর্ণ হরর, ভায়োলেন্স, পরকীয়াপূর্ণ টিভি সিরিয়াল ও মুভি দেখবেন না। এগুলো স্নায়বিক উত্তেজনা, উৎকন্ঠা, অনিদ্রা, দু:স্বপ্ন ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। ৭. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে জেগে উঠুন। ৮. বিছানায় যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। ৯. ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ গো-মুখাসন (যোগ ব্যায়াম) করুন। এরপর শবাসনে মেডিটেশন বা ধ্যানে সুন্দর কল্পনা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ুন। নিয়মিত দু‘বেলা ধ্যান বা মেডিটেশন একদিকে যেমন আপনাকে স্ট্রেস বা টেনশনমুক্ত করবে, অন্যদিকে মেডিটেশনের ঘুমের টেকনিক আপনাকে নিয়ে যাবে প্রশান্তিময় ঘুমের রাজ্যে। লেখক : ডা. মো. খায়রুল ইসলাম (চিকৎসক, মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা)। একে/

ছাতু খেলে যেসব উপকারিতা

একেবারেই! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ছাতু খেলে শরীরের নানাবিধ উপকার তো হয়ই, সেই সঙ্গে অনেকক্ষণ পেট ভরে থাকার কারণে বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে। ফলে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন... ১. শরীরকে রোগমুক্ত করে:বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত এই পানীয়টি খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে তার প্রভাবে রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছোট-বড় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। ২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এই দুটি উপদান ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, আর অন্যদিকে, প্রোটিন শরীরের ভিতরে যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করে। ফলে সার্বিকভাবে শরীর, ত্বক এবং চুলের জেল্লা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, এইসবকটি উপাদানই ছাতুতে প্রচুর মাত্রায় রয়েছে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পয়েছেন কেন প্রতিদিন ছাতু খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ৩. এনার্জির ঘাটতি দূর হয়:ছাতু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিমেষে উপকারি উপাদানগুলি রক্তে মিশে যায়। ফলে সঙ্গে সঙ্গে এনার্জির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরের ভিতরে ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি পূরণ হওয়ার কারণে সার্বিকভাবে শরীর এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই কারণেই তো চিকিৎসকেরা নিয়মিত প্রাতঃরাশে ছাতুর সরবত খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ৪. বয়স্কদের জন্য উপকারি পানীয়:বয়স যত বাড়তে থাকে, তত নানাবিধ শারীরিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এক্ষেত্রেও কিন্তু ছাতু বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ৬০ বছরের পর থেকে যদি নিয়মিত ছাতু খাওয়া যায় তাহলে একাধিক বয়সকালীন রোগ শরীরে বাসা বাঁধার কোনও সুযোগই পায় না। ফলে শেষ বয়সটা বেজায় নিশ্চিন্তেই কেটে যায়। ৫. স্টমাকের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে ছাতুর সরবত নিয়মিত খেলে কনস্টিপেশনের মতো সমস্যার প্রকোপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। এখানেই শেষ নয়। আরও নানা উপকারে লাগে ফাইবার। যেমন ধরুন, প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে যে পরিমাণ তেল আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, তা স্টমাক থেকে বের করে দিতে এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ৬. সুস্থ থাকতে শিশুদের খেতেই হবে:শরীরের যথাযত বৃদ্ধির জন্য যে যে উপাদানগুলির প্রয়োজন পরে তা সবই উপস্থিত রয়েছে ছাতুতে। তাই তো বাজার চলতি হেলথ ড্রিঙ্কের পরিবর্তে নিয়মিত যদি শিশুদের ছাতু খাওয়ানো যায়, তাহলে দারুন উপকালে লাগে। ৭. ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারি পানীয়:গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ার কারণে ছাতুতে উপস্থিত শর্করা খুব ধীরে ধীরে রক্তে মিশে থাকে। ফলে এই ধরনের খাবার খেলে হঠাৎ করে শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। সেই কারণেই তো ডায়াবেটিক রোগীরও ইচ্ছা হলে ছাতু খেতে পারেন। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ছাতুর সরবত খেলে রক্তচাপ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই যারা হাই ব্লাড প্রেসারে ভুগছেন, তারা এই খাবারটি নিয়মিত খেলে উপকার পেতে পারেন। ৮. মেয়েদের শারীরিক ক্ষমতা বাড়ে:পিরিয়ডের সময় শরীরে দেখা দেওয়া পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে ছাতুর সরবতের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। ছাতুতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ এবং ভিটামিন থাকে, যা শরীরের সচলতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই। এসএইচ/

নাশতায় ডিম খেলে পেটের মেদ কমে : গবেষণা

ডিম খেলেই স্বাস্থ্য ভালো হয়, এটি প্রায় অনেকেরই জানা। কিন্তু গবেষণা অন্য কথা বলছে। গবেষণার মতে, ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডি, যা পেটের মেদ গলাতে ভালই সাহায্য করে। বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশটি পেটের মেদ কমাতে খুব উপকার করে। তাছাড়া ডিমের সাদা অংশটি অনেকটা সময় ধরে পেটে থাকে যার কারণে ক্ষুধা লাগে কম। আর ক্ষুধা কম লাগলে পেটে খাওয়া তেমন পরে না। তাই রোজ সকালে নাশতায় খালি পেটে একটি করে ডিম খেলে সারাদিনের ক্ষুধা কমে যাবে। ঘন ঘন খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে পেটের মেদ বাড়ার কোন উপায় থাকবেন না। এছাড়াও শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রকাশিত এক সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সকাল ৮টার আগে যেমন ইচ্ছা তেমন করে খেলে হবে না। আধ চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ডিম রান্না করুন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, প্রোটিন ও বায়োটিন রয়েছে। অনেকেরই মনে হতে পারে, ডিমের কুসুম খাবেন, নাকি খাবেন না। যাদের মনে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তারা জেনে রাখুন, দুটো ডিমের কুসুম শরীরে কোনও ক্ষতি করবে না। অনায়াসেই খাওয়া যেতে পারে। তবে, কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্রিটিশ একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সকালে হাই প্রোটিন খেলে অ্যাবডোমেনাল টিস্যু কমে যায়। এতে পেটের মেদ কমে৷ তবে রিপোর্ট বলছে ওজন বা শরীরের মেদ অনেক কারণেই বাড়তে পারে। এরমধ্যে হরমোনাল জটিলতাও অন্যতম। সেক্ষেত্রে মেদ কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শই প্রথম প্রয়োজন। যারা হার্টের রোগী বা কোলেস্টোরেল সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য ডিম একরকম নিষিদ্ধই বলা চলে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই দরকার চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ। সূত্র : কলকাতা টুয়েন্টিফোর। কেএনইউ/ এআর

আম খেলে যে ৬ উপকার পাবেন

নিয়মিত আম খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে। সম্প্রতি কয়েকজন আমেরিকান গবেষক দল বেঁধে আমের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। আর তাতে এমন তথ্যই সামনে চলে এসেছে। তবে ভাববেন না আম শুধু হার্টেরই খেয়াল রাখে। অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমের ভেতরে উপস্থিত বেশ কিছু বায়ো-অ্যাকটিভ কম্পাউন্ড নানাভাবে শরীরের উপকারে লাগে। বিশেষত, ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি একাধিক মারণ রোগকে দূরে রাখতে বাস্তবিকই ফলের রাজার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। নিয়মিত আম খাওয়া শুরু করলে যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়- প্রসবকালীন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমে বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, প্রেগন্যান্সির সময় প্রতিদিন একটা করে আম খাওয়া শুরু করলে মেয়েদের শরীরে আয়রন, ভিটামিন এ, সি এবং বি৬-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানগুলি শুধু মেয়েদের শরীরের উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে বাচ্চার শরীরের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে প্রসবকালীন কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কমে। ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১২ সপ্তাহ এক পিস করে আম খাওয়া শুরু করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে ডায়াবেটিসের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। আসলে আমের ভেতরে উপস্থিত ফাইবার এবং অন্যান্য অ্যান্টি-ডায়াবেটিক প্রপাটিজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই পরিবারে যদি এই মারণ রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ফলটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করতেই পারেন। দেখবেন উপকার পাবেনই পাবেন! শরীরে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে আমের মধ্যে থাকা টার্টেরিক, ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরের ভেতরে ‘অ্যালকালাইন ব্যালেন্স’ ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে, শরীরকে সুস্থ রাখতে অ্যাসিডের ভারসাম্য ঠিক রাখাটা কতটা জরুরি। ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩-৪ বার আমের রস দিয়ে যদি ভাল করে ত্বকের মাসাজ করা যায়, তাহলে স্কিনের বেতরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিদ্রগুলিও খুলতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়তে শুরু করে। হজম ক্ষমতা বাড়ায় আমের ভেতরে বিশেষ এক ধরনের এনজাইম উপস্থিত রয়েছে, যা খাবার হজম যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। তাই তো এই ফলটি খেলে হজমের সমস্যা মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসই পায় না। প্রসঙ্গত, চিকিৎসকদের মতে আমের মধ্যে থাকা ফাইবারও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার জন্য বাড়ছে চোখের পাওয়ার? কোনও চিন্তা নেই! আম খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দৃষ্টিশক্তি নিয়ে আরও কোনও চিন্তা থাকবে না। আসলে আমে উপস্থিত ভিটামিন এ, এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই। একে// এসএইচ/  

নিয়মিত ফাস্টফুড খেলে গর্ভধারণে প্রভাব পরে: গবেষণা

যে নারীরা নিয়মিত ফাস্টফুড খান তারা গর্ভধারণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে। পাঁচ হাজার ৫৯৮ জন নারীর ওপর চালানো গবেষণার পর দেখা গেছে, যারা ফাস্টফুড খান না, তাদের তুলনায় যারা সপ্তাহে চার বা আরও বেশিবার ফাস্টফুড খান, তাদের গর্ভধারণে অন্তত একমাস সময় বেশি লাগে। তাদের সন্তান ধারণ করতেও বেশি সময় লাগে বলে ওই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এটা প্রমাণ করছে, ভালো খাবার খেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।’ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য আর আয়ারল্যান্ডের নারীদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রথম সন্তান ধারণের কয়েক মাস আগে তারা কোন ধরণের খাবার খেয়েছিলেন। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যে নারীরা মাসে তিনটার কম ফল খেয়েছেন, তাদের গর্ভধারণে নিয়মিত ফলাহারীদের তুলনায় দেড় মাস সময় বেশি লাগে। তারা দেখেছেন, যারা ফল কম খায় বা ফাস্টফুড বেশি খাচ্ছেন, তাদের অনেকে পুরো বছর জুড়ে চেষ্টা করেও গর্ভধারণ করতে পারেননি। তবে ফাটিলিটি চিকিৎসা নিয়েছেন এমন কোনও যুগলের পুরুষ সঙ্গীকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গবেষণা দলের প্রধান, ইউনিভার্সিটি অব এডিলেডের অধ্যাপক ক্লারি রবার্টস বলছেন, `এই পর্যবেক্ষণ বলছে যে, ভালো মানের খাবার খাওয়া আর ফাস্টফুড এড়িয়ে চলতে পারলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং তাড়াতাড়ি গর্ভধারণ করা যায়।` তবে অনেকে এর সমালোচনা করে বলছেন, এই গবেষণায় অল্প কিছু খাবারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গর্ভধারণে হয়তো আরও অনেক বিষয়ের প্রভাব থাকতে পারে। এমনকি বাবাদের খাবারের বিষয়ে এখানে তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। তারপরেও এই গবেষণাটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত নন, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের অধ্যাপক জিনো পেকোরারো বলছেন, `সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যা মনে করেন, এই গবেষণা সেটিকেই সমর্থন করেছে যে, যে যুগলরা সন্তান নিতে চান, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে।` সূত্র: বিবিসি একে// এআর

বাদশাহি পনির কালিয়া বানানোর কৌশল

বাঙালির অতি প্রিয় একটি রান্নার পদ ‘কালিয়া’। তবে কালিয়া বলতেই আমরা বুঝি মাছের কালিয়া। আজ শিখে নেওয়া যাক প্রায় একই পদ্ধতিতে পনির কালিয়া বানানোর কৌশল। পেঁয়াজ-রসুন না থাকায় এই কালিয়া একদমই নিরামিষ। যেভাবে তৈরি করবেন মুখোরোচক পনির কালিয়া- বাদশাহি পনির কালিয়া বানাতে লাগবে ৫০০ গ্রাম পনির পাকা টমেটো: ৬টা আদা বাটা: ২ চা চামচ গুঁড়ো হলুদ: ১ চা চামচ লাল মরিচ গুঁড়া: ২ চা চামচ জিরা গুঁড়া: ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া: ১ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়া: ১ চা চামচ ঘি: ১ চা চামচ তেল: ৪ টেবল চামচ আলু: ২-৩টা মাঝরি (গোল করে কাটা) দারচিনি: ১টা বড় (১-২ ইঞ্চি) ছোট এলাচ: ৩টা লবঙ্গ: ৩টা তেজপাতা: ২টা লবন: স্বাদ মতো বাদশাহি পনির কালিয়া বানানোর পদ্ধতি ছোট ছোট টুকরো করে পনির কেটে নিন। এরপর কড়াইয়ে তেল গরম করে করে আলু সোনালি করে ভেজে তুলুন। ওই তেলেই পনিরের টুকরোগুলো ভেজে নিন। টমেটো ভাল করে বেটে নিন। ফ্রাইং প্যানে তেল দিয়ে দারচিনি, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, তেজ পাতা দিয়ে টমেটো বাটা দিয়ে কষতে থাকুন যতক্ষণ না তেল ছাড়ছে। এবার এর মধ্যে সামান্য লবন দিয়ে আদা বাটার সঙ্গে হলুদ, লঙ্কা গুঁড়া, জিরে, ধনে গুঁড়া দিয়ে নাড়তে থাকুন। এক-দেড় কাপ পানি দিয়ে দিন, সুন্দর গন্ধ বের হলে ভেজে রাখা আলু দিয়ে ঢেকে দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। আলু সিদ্ধ হয়ে গেলে পনিরের টুকরোগুলো দিয়ে ঢেকে দিন। আরো মিনিট খানেক কষিয়ে নামানোর আগে গরম মশলা, ঘি ছড়িয়ে দিন। এবার পোলাও, সাদা ভাত, লুচি, পরোটাসহ যে কোনো কিছুর সঙ্গেই খেতে পারেন বাদশাহি পনির কালিয়া। আর/টিকে

অতিরিক্ত ঠান্ডা খেলে মারাত্মক যে ৪ ক্ষতি

বাইরে থেকে গরমে ঘেমে বাড়ি ফিরেই ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি ঢক ঢক করে খান অনেকেই। কিন্তু জানেন কি, গরমে এভাবে ঠান্ডা পানি খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে? আসুন এ বিষয়ে কিছু জরুরি তথ্য জেনে নেওয়া যাক- দাঁতের ক্ষতি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস নার্ভের উপর। এই ভেগাস স্নায়ু হল আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বেশি ঠান্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। যার ফলে হৃদগতি অনেকটাই কমে যেতে পারে। হজমের সমস্যা শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠান্ডা পানি একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ, ওয়ার্কআউটের পর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময় ঠান্ডা পানি খেলে তা দেহের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর যদি সামান্য উষ্ণ পানি খাওয়া যায়, তবে উপকার পেতে পারেন। রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে তার প্রভাবে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হজমের সময় যে সমস্ত পুষ্টিগুণ আমাদের দেহে মিশতে থাকে, তাও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। শ্বাসনালীতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠান্ডা পানি খাওয়া একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে শ্লেষ্মার অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। সূত্র: জিনিউজ একে//

চায়ের ৭ উপকার

এক কাপ ধূমায়িত চা যে কেবল আমাদের চাঙাই করে তা কিন্তু নয়, চায়ের রয়েছে ব্যতিক্রমী আরও কিছু গুণ৷ জেনে নিন, হয়ত কাজে লেগে যেতেও পারে৷ গাছের সার চা তৈরি হয়ে গেলে পাতা বা ‘টি ব্যাগ’ ফেলে দেবেন না কিন্তু! ব্যবহার করা চায়ের পাতা গাছের গোড়ায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন। দেখবেন সেই গাছের আর অন্য কোনও সারের প্রয়োজন হবে না৷ আর চায়ের তিন-চারটি ভেজা ব্যাগ যদি গাছের গোড়ায় রেখে দেন। তাহলে তা যে শুধু সারের প্রয়োজন মেটাবে তা নয়, গাছে পানিও দিতে হবে কম৷ কাপড় রং করতে চা পাতা সাদা রঙের সুতি, সিল্ক বা উলের কাপড়ে রং করতে চান? তাহলে প্রথমেই চা পছন্দ করে নিন৷ কালো চা হবে বাদামি রং আর লাল জবা ফুলের চায়ে কাপড়ে আসবে লালচে ভাব৷ পছন্দের গরম চায়ে ১৫ মিনিট ধরে কাপড় ভিজিয়ে রাখুন, দেখবেন কী সুন্দর রং বদলে গেছে৷ এই রং কিন্তু উঠবে না বা অন্য কালারও হবে না৷ মনে রাখতে হবে, ১০০ গ্রাম কাপড়ের জন্য ২৫ গ্রাম চায়ের পাতা লাগবে৷ জুতোর দুর্গন্ধ দূর করে চা খাওয়ার পর চায়ের ব্যাগ শুকিয়ে নিয়ে জুতোর ভেতরে রেখে দিন৷ চা জুতোর দুর্গন্ধ শুষে নেবে৷ আর যদি পুদিনা পাতার চা হয়, তাহলে তো কথাই নেই! পুদিনার মিষ্টি গন্ধ বের হবে আপনার জুতো থেকে৷ চা পাতায় কার্পেট ঝকঝক কার্পেটের ওপর কয়েক চামচ গুড়ো চা ছড়িয়ে দিন, এবার কার্পেটটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন৷ দেখবেন, কার্পেটটি শুধু পরিষ্করই লাগছে না, কেমন মিষ্টি গন্ধও ছড়াছে৷ গ্লাস পরিষ্কার করে চা ব্যবহার করা চায়ের পাতা একটি কাপড়ে রেখে একটি পুটলি করে নিন৷ এবার এই পুটলিটি গ্লাস বা আয়নার বা ঘরের কাঁচের জানালার ওপর আস্তে আস্তে ভালো করে ঘষে দিন৷ দেখবেন কী সুন্দর ঝকঝক করছে আপনার বাড়ির জানালা বা গ্লাস৷ তাছাড়া চামড়ার আসবাবপত্রও ঝকঝক করবে যদি আপনি ভেজা টি-ব্যাগ আস্তে আস্তে ঘষে দেন৷ সৌন্দর্যচর্চায় চা কালো, সবুজ কিংবা ভেষজ চা– যা-ই হোক না কেনও, সব চা পাতায়ই রয়েছে রূপচর্চার নানা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ যেমন পুদিনা পাতা তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণের জন্য খুব উপকারী৷ এ কথা জানা যায় অ্যামেরিকান ডার্মাটোলজি অ্যাকাডেমির করা এক সমীক্ষায়৷ দিনে মাত্র দু’কাপ পুদিনা পাতার চা পান করাই নাকি ব্রণমুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট৷ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাইরের ধুলো-বালি, সূর্যের কিরণ কিংবা সিগারেটের ধোঁয়া ইত্যাদিতে ত্বক বুড়িয়ে যায়৷ এক্ষেত্রে ত্বক সুরক্ষায় গ্রিন টি বা সবুজ চা খুবই উপকারী৷ বিছানায় যাওয়ার আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন৷ এবার সবুজ চায়ের মাস্ক লাগিয়ে নিন৷ এতে ত্বকে সতেজ ভাব ফিরে আসবে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে// এআর

ওজন কমাতে খেতে পারেন গোলমরিচ

স্বাস্থ্য বাড়লে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। পড়েন বড় ধরণের সমস্যায়ও। তাই ওজন কমাতে চেষ্টার কমতি নেই মানুষের। তবে গোলমরিচের মাধ্যমে ওজন কমাতে পারেন। বাঙালি শুধু যে ভোজনরসিক তা নয়, ভালোমানের মসলাখোরও বটে। আর এই গোরমরিচ পেটের চর্বি কমায়। ‘ব্ল্যাক পেপার’ অর্থাৎ গোলমরিচ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের এমনটাই মন্তব্য। ভিটামিন এ, সি এবং কে, খনিজ উপাদান, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ‘পিপেরাইন’ সবগুলোর সমন্বয় থাকায় গোলমরিচ প্রাকৃতিকভাবে বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়, ফলে কমে ওজন। তবে অবশ্যই পরিমাণের দিকে নজর রাখতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য পরিমাণে মেশালেই খাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা ক্যালরি খরচ করাবে এই মসলা। গোলমরিচ খাওয়ার স্বাস্থ্যকর পন্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন ভারতের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ নমামি আগারওয়াল এবং মেহের রাজপুত। * গোলমরিচের ঝাঁঝালো স্বাদ সইতে পারলে প্রতিদিন সকালে এক থেকে দুইটি দানা মুখে ফেলে চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে সকাল থেকেই বিপাকক্রিয়া চলবে দুর্দান্ত গতিতে। * চায়ের কাপে এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে স্বাদেও আসবে ভিন্নতা। * সালাদ যে পুষ্টিকর খাবার তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাকে আরও মজাদার ও স্বাস্থ্যকর করতে মিশিয়ে দিতে পারেন গোলমরিচের গুঁড়া। জিভও খুশি, পেটও খুশি। * গরমের দিনে ঠাণ্ডা পানীয় যেন অমৃত। আর তাতে যদি গোলমরিচ মেশানোর সুযোগ মেলে তবে তা বাঙালির চাটপ্রিয় মুখে হবে আরও সুস্বাদু। লেবুর শরবতের চনমনে স্বাদের সঙ্গে হবে মসলাদার চমক, ওজন কমার পাশাপাশি অন্ত্র থাকবে সুস্থ, বাড়বে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও। * গোলমরিচের তেলও আছে, যার এক ফোঁটা এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে পারেন। এছাড়াও সালাদের তেল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। * লিপিড প্রোফাইল এবং রক্তরস বা প্লাজমাতে ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রাইগ্লিসারাইডস, ফসফোলিপিডস ‍এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। পাশাপাশি শরীরে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের উৎপাদন বাড়ায় ও নতুন চর্বি কোষ গড়ে উঠতে বাধা দেয়। এসএইচ/

৩০ পেরুনোর পর নারীদের যা করণীয়

পুরুষ এবং নারীদের শরীরের গঠনে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে সেইসব পার্থক্যগুলো চোখে না পরলেও বাস্তবে কিন্তু পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের শরীর অনেক বেশি জটিল। তাই তো মেয়েদের বেশি করে নিজেদের খেয়াল রাখা উচিৎ।  সুস্থ থাকতে ৩০ পেরুনোর পর নারীরা যে নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন- ১. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে: ৩০-এর পর থেকে নারীদের হাড়ের স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটতে শুরু করে। তাই তো এই সময় বেশি করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করতে হবে। সেই সঙ্গে সকাল ৭-৮ পর্যন্ত গায়ে রোদ লাগাতে হবে। এমনটা করলে দেহের অন্দরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হবে। ফলে হাড়ের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার আশঙ্কা যাবে কমে। প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারগুলির অন্যতম হলো- দুধ, দই, বীজ, পনির, ব্রকলি, বাদাম প্রভৃতি। ২. ভ্যাকসিন:যে যে রোগের ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া য়ায়, সেগুলি আপনি নিতে পারেন কিনা সে বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। আর একটি বিষয় মাথায় রাখবেন। বেশিরভাগ মেয়েরাই ক্যালসিয়াম ডেভিসিয়েন্সি এবং অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। এই দুটি ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া য়ায়, সে বিষয়ে জেনে নেওয়াটা জরুরি। ৩. হরমোনের ফাংশন ঠিক রাখতেএকাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ৩০ এর পর থেকে নারীদের শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে হরমোনাল ফাংশন ঠিক মতো হয় না। ফলে নানাবিধ রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই কারণেই তো নিয়মিত অশ্বগন্ধা এবং তুলসির মতো প্রকৃতিক উপাদান খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এমনটা করলে হরমোনের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়বে চোখে পরার মতো। ৪. ডায়েটের দিকে নজর দিন: প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন। প্রসঙ্গত, যাদের বয়স একটু বেশি তারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর চিকিৎসকের পরমর্শ নিন। তাহলে দেখবেন অনেক রোগকেই গোড়াতেই সারিয়ে ফেলতে পারছেন। ৫. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার: বেশ কিছু স্টাডিতে দেখে গেছে নানা কারণে ৩০-এর পর থেকে নারীদের শারীরিক ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর এতো মাত্রায় ক্লান্ত হয়ে পরে যে কোনও কাজ করতেই মন চায় না। এমনটা যাতে আপনার সঙ্গে না ঘটে তা যদি সুনিশ্চিত করতে রোজের ডায়েটে মাংস, ডিম, নানাবিধ বীজ, বাদাম এবং ব্রাউন রাইসের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে ভুলবেন না যেন! ৬. জটিল রোগ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে: যেসব রোগ শুধু মাত্র মেয়েদেরই হয়, যেমন- পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের বিষয়ে একটু জেনে নিন। বিশেষত লক্ষণগুলি সম্পর্কে। এমনটা করলে দেখবেন অনেক রোগকেই আপনি প্রথম স্টেজে আটকে দিতে পারবেন। ফলে দীর্ঘ কষ্টের হাত থেকে বাঁচবেন। ৭. সুস্থ থাকতে স্ট্রেস কমাতেই হবে: স্ট্রেস হলো এমন একটি বিষ, যা একটু একটু করে শেষ করে দেয় মানব জীবন। বিশেষত মেয়েদের শরীরের ওপরে তো স্ট্রেসের খুব বাজে প্রভাব পরে। তাই আজ থেকেই স্ট্রেসকে টাটা-বাই বাই বলুন। প্রয়োজনে নিয়মিত প্রণায়ম করুন। এমনটা করলে দেখবেন অনেক রোগ দূরে থাকবে। প্রসঙ্গত, যারা মা হওয়ার কথা ভাবছেন, তারা স্ট্রেস থেকে নিজেদের দূরে রাখুন। কারণ মানসিক চাপ শুধু আপনার ওপর নয়, আপনার বাচ্চার ওপরও কিন্তু কুপ্রভাব ফেলবে। আর এমটা হোক আপনি নিশ্চয় চান না। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই। এসএইচ/

ভাত শরীরের জন্য ক্ষতিকর : গবেষণা

ভাত ছাড়া বাঙালির খাদ্য তালিকা অসম্পূর্ণ থেকে যায়৷ সব মানুষই এর উপর নির্ভরশীল৷ আর সেই ভাতেই নাকি সমস্যা৷ ভাতের মধ্যেই লুকিয়ে এই ক্ষতিকারক উপাদানটি৷ ভাত নারীদের মেনোপজকে সময়সীমাকে তরান্বিত করে৷ গবেষণায় উঠে এল এমনই তথ্য৷ ইতিমধ্যেই ওজন বাড়ানোর জন্য ভাতকে দায়ী করেছেন অনেকে৷ শুধুমাত্র ভাত নয়, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ যে কোনও উপাদানই থাকছে সেই তালিকায়৷ বাদ যায়নি পাস্তাও৷ জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি অ্যাণ্ড কমিউনিটি হেলথ গবেষণার ফলটি প্রকাশ করে৷ বিষয়টি নিয়ে এক গবেষক মন্তব্য করেন, আর্লি মেনোপজের অনেক কারণ থাকতে পারে৷ তার মধ্যে জেনেটিক কারণ হতে পারে অন্যতম৷ এবার গবেষকরা আলোকপাত করছেন অন্য দিকে৷ বিষয়টি ডায়েট৷ চার বছর পর একই মহিলাদের ওপর আবার একটি ফলো-আপ সার্ভে করা হয়৷ মেনোপজ শুরু হওয়ার স্বাভাবিক সময় ধরা হয় ৫১ কে৷ কিন্তু খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটের সংযোজন মেনোপজকে তরাণ্বিত (১ বছর) করতে পারে৷ অন্য এক গবেষক জানান, সঠিক সময়ের পূর্বে মেনোপজ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে৷ হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ দেখা দিতে পারে৷ অন্য দিকে নির্দিষ্ট সময়ের পরে মেনোপজ ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়ায়৷ একটি সঠিক খাদ্য তালিকা বহু রোগ মুক্তির কারণ হতে পারে বলে জানাচ্ছেন একদল বিশেষজ্ঞ৷ তারা বেশি পরিমানে কড়াইশুঁটি, গ্রিন বীনসহ ওমোগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন৷ সূত্র: কলকাতা২৪x৭ একে// এআর

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এড়িয়ে চলুন ৬ খাবার   

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে প্রতিদিন শরীর থেকে মল স্বাভাবিক ভাবে নির্গত হতে পারে না। খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ বা ইচ্ছার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে। এ সমস্যা ছোট-বড় সবার ক্ষেত্রে দেখা গেলেও পঞ্চাশের বেশি বয়ষ্ক মানুষের ক্ষেত্রে খুব বেশি দেখা যায়। অনেক সময় গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত ডায়েট, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা বংশানুক্রমিক। সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর না করলে তা কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ১) কাঁচকলা অনেকেই বলেন, কাঁচকলা শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তারা কাঁচকলা খেলে ফলাফল একেবারে উল্টো। তবে পাকা কলায় যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার আছে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পাকা কলা খাওয়া যেতে পারে। ২) মাংস রেড মিট (খাসির মাংস বা যে সব মাংসে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে)। এই জাতীয় খাবার অন্ত্রে বহুক্ষণ থাকে, হজম হতে সময় লাগে। এই জাতীয় মাংস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ৩) দুধ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (যেমন: পনির, আইসক্রিম ইত্যাদি) কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়। আসলে এ ধরনের খাবারে ফাইবারের পরিমাণ খুব কম। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধ থাকাটা খুবই জরুরি। হজমে সহায়ক হিসেবে টক দই খাওয়া যেতে পারে। ৪) তেলেভাজা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, পটেটো চিপস বা ওই জাতীয় তেলে ভাজা খাবার অন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর। এগুলি অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। এগুলি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। ৫) হিমায়িত খাবার ঠান্ডায় সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে জল শুকিয়ে ফেলা হয় এবং এই খাবারগুলোতে লবনের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এ ধরনের খাবারে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। ৬) বেকারি পণ্য বেকারি পণ্য যেমন, বিস্কুট, ক্র্যাকার্স বা পেস্ট্রি জাতীয় খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। শুধু তাই নয় বেকারির খাবারে জলীয় অংশ বা ফাইবারের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। উপরে উল্লেখিত খাবার-দাবারগুলি এড়িয়ে চললে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে এই সমস্যায় অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। এমএইচ/এসি   

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি