ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯, || আশ্বিন ২৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

অনলাইন ফ্যাশন হাউস বিডি’র প্রতারণা 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:১৪ ১৬ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ২১:২১ ১৬ জুলাই ২০১৯

তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে অনলাইনে কেনাকাটায় জীবনযাত্রা সহজ করছে ঠিকই, তবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগও কম নয়। প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে পণ্য কিনে নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ক্রেতারা দাবি করছেন, তারা যে পণ্য অর্ডার করেন, অনেক সময় সেটা না দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য কিছু দেওয়া হয়।

কেউ কেউ অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য কেনেন, ফলে এ ক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না। 'ক্যাশ ইন ডেলিভারি'র ক্ষেত্রে আবার পণ্য ফেরত পাঠাতে হলে দিতে হয় মাশুল। ফলে সঠিক পণ্যও পান না ভোক্তারা, আবার সময়ের পাশাপাশি গচ্চা যায় টাকাও।

এমনই একজন প্রতারণার শিকার পারভীন সুলতানা, গত ১৯ জুন ফ্যাশন হাউস বিডি নামক একটি অনলাইন হাউস থেকে তিনটি কাতান শাড়ি কেনেন। শাড়ি তিনটির মূল্য ৫ হাজার ১৩০ টাকা। সেই অনুযায়ী টাকাও পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু প্যাকেট খুলে যে তিনটি শাড়ি পেলেন, তার সঙ্গে অনলাইনে অর্ডার করা শাড়ির কোনো মিল নেই। সবচেয়ে বড় কথা সেগুলো কাতান শাড়িও নয়, সেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের শাড়ি।

এবিষয়ে পারভীন সুলতানা একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, ১৯ জুন অনলাইনে অর্ডার করেন। পরদিন এস এ পরিবহনে শাড়ি তিনটি আসে। সেখানেই দাম ও অন্যান্য খরচ পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু হাতে পাওয়া প্যাকেট বাসায় এনে খুলেই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এস এ পরিবহন থেকে যে মানি রিসিটটি দেওয়া হয়েছে সেখানেও প্রেরকের জায়গায় লেখা রয়েছে লুনা ফ্যাশান নামে একটি দোকানের নাম। ফ্যাশন হাউস বিডি’র কথা উল্লেখ করা নেই। 

পারভীন সুলতানা জানালেন, গত রোববার তিনি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ‘অনলাইন শপিং হাউসের বিরুদ্ধে অর্ডারমাফিক পণ্য না দেওয়ায়’ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পারভীন সুলতানা জানালেন, ‘বাসায় এসে প্যাকেট খুলে দেখি একেবারে অন্য তিনটা শাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলাম, ফোন ধরল । সমস্যা বলার পর মেসেঞ্জারে উত্তর দিল-‘ শিট, ভুল হয়ে গেছে, আমরা এক্সচেঞ্জ করে দিব’। আসল শাড়িগুলো আবার এস এ পরিবহনে পাঠানো হবে বলে জানায়। কিন্তু ২২ জুন বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও এস এ পরিবহন থেকে ফোন না আসায় আবার ওদের ফোন দিলাম। কিন্তু ফোন ধরছে না। অন্য ফোন থেকে ফোন করলাম, তাও ধরছেনা। খুদে বার্তা পাঠালাম। মেসেঞ্জারে লিখলাম । মেসেঞ্জার তারা সিন করছে, কিন্তু উত্তর দেয় না। এরপর আমার মেসেঞ্জার বাউন্স হচ্ছে অর্থাৎ তারা আমাকে ব্লক করেছে।’

তিনি আরো জানান, ‘অনলাইনে যে শাড়ির ছবি তা অনেক সুন্দর ছিল। তবে অন্যান্য অনলাইন ফ্যাশন হাউসের তুলনায় দাম অনেক কম লেখা ছিল। তখন একবার খটকা লেগেছিল। তবে এভাবে ধরা খাব তা বুঝতে পারিনি। চেয়েছিলাম কাতান শাড়ি, আর আমাকে যেগুলো পাঠানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের শাড়ি। আকাশ-পাতাল ফারাক।’

অনলাইন ফ্যাশন হাউস বিডির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ,সাভার হেমায়েতপুর হাউজিং কমপ্লেক্স, লেভেল ৪/৭১৪ ।

ই–কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক নাসিমা আক্তার এই ফ্যাশন হাউসটির বিরুদ্ধে পারভীন সুলতানার অভিযোগ প্রসঙ্গে বললেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে জানার পর পেজের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের কয়েকজনের জন্য আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হচ্ছে। এবিষয় পেজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হবে।

ফ্যাশন হাউসটির পেজে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আশিক একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, অভিযোগটা আমরা পেয়েছি। তার শাড়ীর টাকা ফেরত পাঠানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এতোদিন ফোন রিসিভ করেননি কেন। এবং পেজ থেকে তাকে ব্লক রাখা হয়েছিলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখানে চাকরি করি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাদের সিনিয়র অনিক হাসান স্যার ভাল বলতে পারবেন। সেই কর্মকর্তা থেকে অনিক হাসানের মোবাইল নাম্বার নিয়ে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল জব্বার মন্ডলকে মুঠোফোনে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

 টিআর/এসি

  
 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি