ঢাকা, রবিবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:১৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। এতে বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। 

রোববার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভিতরে যানবাহনের চলাচল নেই বললেই চলে। জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙরেও (আউটার লাইটারেজ) পণ্য খালাস ও পরিচালনা কাজ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। 

তবে আন্দোলনকারীরা এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। গতকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে। দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না।

পরিষদের অন্য সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করেছেন। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত ছিল, কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১শে জানুয়ারি থেকে আট ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

পরে মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। যা বুধবার থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।

তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এরপরই আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার ঘটনায় বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এই অচলাবস্থা নিরসনে শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধর্মঘট শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি