লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সন্তান ফিরে পেল সেই কিশোরী মা জুঁই
প্রকাশিত : ১৮:০০, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৯, ২৮ জুলাই ২০২৬
ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম, এরপর বাল্যবিয়ে। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই মা হয় জুঁই। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে তার কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয় ৭ মাসের শিশুসন্তান। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আড়াই মাস পর সন্তান ফিরে পেয়েছেন সেই কিশোরী মা।
মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
বয়স মাত্র ১৩। অথচ কোলজুড়ে ৭ মাসের সন্তান। শিশুমা অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের জীবনের গল্প যেন বাস্তবের চেয়েও অবিশ্বাস্য।
ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম। এরপর মাত্র ১১ বছর বয়সে ২২ বছরের শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে বিয়ে। চলতি বছরের শুরুতে জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান। কিন্তু অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সন্তানকে রেখে জুঁইকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সন্তানকে ফিরে পেতে শুরু হয় তার আইনি লড়াই।
গত ১ জুলাই ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন জুঁই। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে চকবাজার থানাকে নির্দেশ দেন বিচারক মো. সায়েম খান।
সোমবার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। আর মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
শুনানিতে বিচারকও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে বিশ্বাসই হয়নি তার সন্তান রয়েছে। কারণ, জুঁই নিজেও তো একটি শিশু।
জুঁইয়ের পক্ষের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিল। সন্তানকে রেখে সে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলাও করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, শিশুটিকে যেহেতু আদালতে আনা হয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী মঙ্গলবার।
এএইচ
আরও পড়ুন










