ঢাকা, সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, || ফাল্গুন ১২ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আন্তর্জাতিক জুয়াড়ী চক্রে ৩ কোটি টাকা খোয়ালেন ব্যাংক কর্মকর্তা

রাজশাহী অফিস

প্রকাশিত : ১৮:০০ ২৯ জানুয়ারি ২০২০

আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভল্ট থেকে চুরি করেছিলেন রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল। জুয়া খেলে এই টাকা তিনি হেরেছেন। 

এই টাকা ব্যাংক থেকে আত্মসাতের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ফয়সাল। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সাল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-২ এ হাজির করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত বিচারক মো: সাদেকীন হাবীব বাপ্পী ১৬৪ ধারায় ফায়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানান বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। 

এদিকে, টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত টিম রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছে। তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলম জানান, এই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফয়সাল একাই নাকি ব্যাংকের আরো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভোল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দুই জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে। এক্ষেত্রে কী হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ফয়সাল ব্যাংকের টাকা দিয়ে নিজের নামে সুবর্ণভূমি আবাসিক এলাকায় প্লট ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছে বলে প্রথমে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন প্রায় দুই বছর আগে বীট-৩৬৫ অ্যাপেসর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়ী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাংকের ভোল্ট থেকে টাকা নিয়ে তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন।

ফয়সাল পুলিশকে জানিয়েছেন, জুয়া খেলতে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরি করেছিলেন। ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ভোল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। টাকা রাখার ভল্টের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে তিনি টাকাগুলো সরাতেন। এতে করে ব্যাংকের কোন কর্মকর্তার সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গড়মিল ছিল না।

বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, গত ২৩ জানুয়ারি ভোল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এসময় তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি বলেন, টাকাগুলো তার দুই বন্ধুকে এবং তার ব্যবসার একটি প্রকল্পের কিস্তি দিয়েছি। টাকাগুলো ফেরত দেয়ার জন্য সময় চান তিনি। 

তবে তার কথায় সন্দেহ হলে রাত ১২টার দিকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা খান বাদি হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

আরকে//

New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি