ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আবরার হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে সুনসান নিরবতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১:৫৯ ৮ অক্টোবর ২০১৯

আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের গ্রামের বাড়িতে চলছে সুনসান নিরবতা। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়াস্থ রাসেলের গ্রামের বাড়ির সামনের উঠোনে ছড়ানো ছিটানো রয়েছে কয়েকটি চেয়ার। ছেলের কৃতকর্মের কথা শুনে চরম আতঙ্কের মাঝে সময় পার করছেন মেহেদীর বাবা-মা। 

স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গারদিয়া গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য রুহুল আমিন ও ঝর্না বেগম দম্পতির বড় ছেলে মেহেদী হাসান রাসেল। রুহুল আমিনের চার সন্তানের মধ্যে মেহেদী হাসান সবার বড়। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেয়া মেহেদী হাসান তার পিতার চাকুরীর সুবাদে লেখাপড়া করেছেন দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে। 

রাসেল রংপুরের একটি স্কুল থেকে এসএসসি ও ময়মনসিংহ সৈয়দ নজরুল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ২০১৩ সালে বুয়েটে ভর্তি হন। রাসেলের বাবা রুহুল আমিন ২০০৮ সালে ময়মনসিংহে পোস্টিংকালে চাকুরী থেকে অবসরে যান। 

ছেলে সম্পর্কে রাসেলের বাবা রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, সামান্য বেতনে চাকুরী করে ছেলেকে বুয়েটে ভর্তি করাতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেছিলাম। কিন্তু মাঝপথে এসে এমন একটা দুর্ঘটনার শিকার হবে এটা আমার কল্পনারও বাইরে। 

তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে আমার ছেলেকে আমি চিনি। সে এই ধরনের কাজ করতে পারে না। 

এসময় রাসেলের মা ঝর্না বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের স্বীকার। আমার ছেলে কাউকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, এটা আমি বিশ্বাস করতে পারি না।

রাসেলের মেজো বোন জান্নাতী মীম গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। আর সেজো বোন গ্রামের যোগারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। আর ছোট ভাই একই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। বাবা রুহুল আমিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন।
 
এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এলাকার বাড়িতে তেমন কিছু সংবাদ পেলে সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত রোববার রাতে বুয়েটের আবাসিক হল থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়, বেদম প্রহারে তার মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যায়ের শেরে বাংলা হলের নীচতলা ও দ্বিতীয় তলার সিড়ির কেরিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকটিক্যাল এ্যান্ড ইলেট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

এনএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি