ঢাকা, রবিবার   ০১ মার্চ ২০২৬

আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২৫, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫১, ১ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। কান্নাবিজড়িত কন্ঠে এক ঘোষণায় ওই টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান।

রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। 

সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান।”

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময়েই নিহত হয়েছেন।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে এর আগেই বিবিসি ভেরিফাই লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এটিই তেহরানে খামেনির কার্যালয় ছিল।

ইসলামিক রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সাথে যোগসূত্র আছে এমন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যেসব খবর দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, খামেনি নিহত হয়েছেন।

একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে, তেহরানে নিজ কম্পাউন্ডে চালানো হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন।

এছাড়া নিউজ টুয়েলভ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর দাবি করেছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এবিসি নিউজকে বলেছিলেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুজনেই "সুস্থ ও নিরাপদে" আছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি