ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা হলে বিশ্ববাজারে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে: আব্বাস আরাঘচি
প্রকাশিত : ১৯:১৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৫, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ইসরায়েলের প্ররোচনায় ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইসরায়েলি উসকানির জেরে পারস্য উপসাগরে যেকোনো ধরনের সামরিক হঠকারিতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস ও তেল সরবরাহকারী এবং এর ক্রেতা—উভয় পক্ষের জন্যই এটি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় নতুন কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের সূত্রপাত ঘটলে তা কেবল জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোকেই নয়, বরং আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশগুলোকেও চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
এদিকে, গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান বা সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে সামনে আসছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন আশঙ্কার সৃষ্টি হলো।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার মস্কোয় আয়োজিত গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার সাথে উপস্থিত রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্মেলন থেকেই মূলত জ্বালানি নিরাপত্তার এই বার্তাটি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই কথিত ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ চিরতরে দূর করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একযোগে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বর্তমানে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল রুট হলো পারস্য উপসাগর। এই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন










