ঢাকা, রবিবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, || আশ্বিন ১২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

করোনা মোকাবেলায় দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:৩৩ ৪ জুন ২০২০ | আপডেট: ১৩:৪৪ ৫ জুন ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবজাতিকে করোনা ভাইরাসের মত মহামারী থেকে রক্ষা করতে দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টিকাদানই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ মোকাবেলার অন্যতম উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল বৈশ্বিক টিকা সম্মেলনে এসব কথা বলেন। জিএভিআই প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন দেশের সরকার, ফাউন্ডেশন, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিশ্ব টিকা সম্মেলনের আয়োজন করছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান কোভিড মহামারী প্রমাণ করেছে কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সত্যিকার অর্থে কতটা শক্তিহীন।

জাতিসংঘের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি চার মাসে মানুষের মধ্যে একটি নতুন সংক্রামক রোগ দেখা দেয়। আর গ্লোবাল ভিরোম প্রজেক্টের অনুমিত হিসেব মতে প্রায় সাত লাখ ভাইরাস রয়েছে যেগুলো মহামারী ঘটাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাসের অনেকগুলো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকির সৃষ্টি করতে পারে। তাই মানবজাতির টিকে থাকার জন্য বিদ্যমান ও আরো নতুন টিকার প্রয়োজন হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জিএভিআই অ্যালায়েন্স (সাবেক গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এন্ড ইমিউনাইজেশন)-এর সহায়তা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই লড়াইয়ে জিএভিআই অ্যালায়েন্স আমাদের সর্বোত্তম সহায়তা দিতে পারে এবং আমরা তাদের করতে দিলে ভবিষ্যতেও তারা তা দেয়া অব্যাহত রাখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিএভিআই সারাবিশ্বে ৭৬ কোটির বেশি মানুষকে মারাত্মক রোগের টিকা দিয়েছে এবং এক কোটির বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল আমাদের সদিচ্ছাই জিএভিআই’র পূর্ণ তহবিল ও তাদের টিকাদান অবকাঠামো জোরদার নিশ্চিত করতে পারে এবং অতিরিক্ত ৩০ কোটি শিশুকে টিকাদান ও জিএভিআই সহায়তাপুষ্ট দেশগুলোর ৮০ লাখ পর্যন্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই কেবল আমি নই, সারা দুনিয়া জিএভিআই’র সহায়তায় আপনাদের বক্তব্য শুনতে অপেক্ষা করছে। বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মোকাবেলায় মরিয়া হয়ে একটি কার্যকর টিকা খুঁজছে তেমন সময় টিকা বিষয়ক সহায়তায় মিলিত হওয়ার চেয়ে উত্তম সময় আর হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে এমন একটি উদ্যোগের একজন অংশীদার হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অভিযাত্রায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও এসডিসিজ অর্জনে জিএভিআই বাংলাদেশের সময়ের সমীক্ষায় উত্তীর্ণ অংশীদার প্রমাণিত হয়েছে। ’অনুদান ছাড়া আমাদের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সফল হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকাদান উদ্ভাবনে জিএভিআই’র সঙ্গে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য সিস্টেমই-এর অন্যতম অগ্রসর ব্যবহারকারী হিসেবে এ অঞ্চলে ডিজিটাইজিং এবং ডাটা সিস্টেম শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রদূত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিনপ্রিন্টস ও এনইসির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিকাদান সেবা উন্নয়ন একটি শিশু বায়োমেট্রিক্স-এর ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার আইডি ২০২০, জিএভিআই ও এটুআই’র অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি অনন্য ডিজিটাল আইডেনটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমীক্ষা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির বিনিময়ে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সেখানে ৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বারকিনা ফেশোর প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিস্টিয়ান কাবোরে, ইথিউপিয়ার প্রেসিডেন্ট শাহলে ওয়ার্ক জিউডে, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেডরোজ এ্যাডানোম গিব্রেসিউস এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং বিল এন্ড মিলেন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস এতে মূল বক্তব্য রাখেন। সমাপনি বক্তব্য রাখেন জিএভিআই বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাগোজি ওকোনজো আইওয়েলা।

এসি

 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি