ঢাকা, রবিবার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

কলারোয়ার দেয়াড়ায় ৩০১টি প্রতিমা দেবীকে বরণ

জুলফিকার আলী,কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: 

প্রকাশিত : ১৭:১৭ ৩ অক্টোবর ২০১৯

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠায় শুক্রবার (৪অক্টোবর) মর্ত্যে আগমন ঘটবে দুর্গাতিনাশিনী দেবী দূর্গার। একই সাথে শুরু হচ্ছে তাদের বৃহৎ উৎসব  শারদীয় দুর্গাপুজা। আজ মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হলো এবছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। 

এরআগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছিলো। কলারোয়া  উপজেলায় ৪৩টি মন্ডপে মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে দূর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। তবে, জেলার আলোচিত দেয়াড়া ইউনিয়নের ঘোষপাড়া মন্দিরে এবছর ৩০১টি প্রতিমা দিয়ে দেবী দূর্গাকে বরণ করছেন। ইতিমধ্যে মন্ডপটি সাতক্ষীরা জেলার সর্ব বৃহৎ ও আকর্ষনীয় পূজা মন্ডপ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তিন মাস যাবত ১১ জন প্রতিমা শিল্পীর নিপুন কারুকাজ ও রং-তুলির নরম পরশে ঘোষপাড়া মন্দিরের প্রতীমা গুলি দেখলে মনে হবে এখানে দেব-দেবীদের মিলন মেলা হচ্ছে। 

এছাড়া দেবী দুর্গাকে মোহনীয় সাজে সজ্জিত করাসহ প্রধান সড়কের একাধিক স্থানে রাজকীয় ফটক নির্মান করা হয়েছে। দেয়াড়া ঘোষপাড়া মন্দিরে সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষ জানান, দেবীর আগমন উপলক্ষ্যে আমাদের মন্ডপে ৩০১টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীর সকল দুর্গতীর অবসান ঘটিয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে কৈশাল থেকে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটেছে। যার জন্যই  তিনি দুর্গাতিনাশিনী। প্রতি বছর দেবীকে বরণ আর বেদনার মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় দেয়ার জন্য আমরা এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। 

তবে জেলার সর্ব বৃহৎ ৩০১টি প্রতিমা তৈরীর বিষয়ে বলেন, দেবী দুর্গাকে বরণ করার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে। আর এই বিশাল আয়োজনের আর্থিক সহায়তা করছেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ‘সাতক্ষীরা যাদব ঘোষ ডেয়ারী’র পরিচালক সমীরণ ঘোষ। কলারোয়া পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু মনোরঞ্জন সাহা জানান, এবছর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মোট ৪৩টি পূজামন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে পৌরসদরে ৮টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩৫টি পূজামন্ডপে দূর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পঞ্জিকামতে, এবছর জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দূর্গা আগমন করেছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমনও হবে ঘোটকে। আগামী ৮ অক্টোবর দশমীতে প্রতীমা বির্ষজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবছরের দুর্গোৎসব।

 তবে উপজেলার দেয়াড়া ঘোষপাড়া মন্ডপে ৩০১টি প্রতীমা তৈরী করে দেবীকে বরণ করার বিষয়টি জেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ দুর্গোউৎসব বলে দাবি করেন। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, উপজেলায় শারদীয় দূর্গাপূজা আনান্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পূজা মন্ডপের নিয়মিত মনিটরিং করা এবং মন্ডপ গুলোতে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দূর্গা পূজা সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্নের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। 

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি