কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস
প্রকাশিত : ২৩:০২, ২ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক কূটনৈতিক উদ্যোগের আভাস মিলেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে। এই স্বস্তির জের ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে এবং সোমবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬.৯০ ডলার (৬ শতাংশ) কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন জ্বালানি তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ৬.২৫ ডলার (৬ শতাংশ) কমে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে অবস্থান করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংকট কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে সম্মতি প্রকাশ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে বার্তা পাঠাতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তের সাথে সরাসরি জড়িত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলার আগে তিনি কূটনৈতিক সমাধানকে আরও কিছুটা সুযোগ দিতে চান। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং সামরিক অভিযানের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেননি।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট 'ওপেক প্লাস'-এর সাতটি সদস্য দেশ গত রবিবার একটি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ডিসেম্বর মাসেও তেলের উৎপাদন বাড়ানো হবে না। এর ফলে অক্টোবর মাস থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও এক মাসের জন্য বাড়ল।
আরও পড়ুন










