ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ৩:৩৮:২৭

Ekushey Television Ltd.

কোটা সংস্কার: সিদ্ধান্তহীনতায় আটকা ২০ হাজার নিয়োগ

তবিবুর রহমান

প্রকাশিত : ০৬:৪৬ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৬:০৯ পিএম, ১১ জুন ২০১৮ সোমবার

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল (১১ জুন) সেই ঘোষণার দুই মাস পার হবে। এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। কোটা সংস্কার কিংবা বাতিল-এই মারপ্যাঁচে আটকে আছে ২০ হাজার নিয়োগ। এর ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীর হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটা বাতিলের ঘোষণার পর অঘোষিতভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। এছাড়া বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ৩৭তম বিসিএসের ভাইভা শেষ করেও কোটা সংস্কার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এ সংক্রান্ত কাজ বন্ধ রেখেছে। এছাড়া ৩৬তম বিসিএসের রেজাল্ট হলেও সরকারি আদেশ এখনও জারি করা হয়নি।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, নন-ক্যাডার বিভিন্ন পদে নিয়োগের ভাইভা হচ্ছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে। এখন চলছে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের ভাইভা। সম্প্রতি পুলিশ হাসপাতালের জন্য নার্স নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি-মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিয়োগ চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না কোটা সংস্কার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ার কারণে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই এসব নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সরকারি চাকরি নিয়োগের ৮০ শতাংশই হতো কোটায়। তবে, সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী কোটায় পদ ছিল ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা ও নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার এতোদিন পার হলেও কেন প্রজ্ঞাপন হচ্ছে না আমাদের বুঝে আসে না। রাজপথ আন্দোলনের জন্য আবারও মসৃণ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটি শতভাগ শক্তি ও সাহস নিয়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। ঈদের আগে যদি প্রজ্ঞাপন না হয় তাহলে ঈদের পরে বড় আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জা্না গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং এসব মন্ত্রণালয়-বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান, সংস্থা-দপ্তর-অধিদপ্তরে অন্তত ২০ হাজার পদে নিয়োগের সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু ফল ঘোষণার অপেক্ষা। কিন্তু ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এক ধরনের ‘সেলফ সেন্সর’ আরোপ করে বসে আছেন। আইনগত কোনো অসুবিধা না থাকলেও কেন তারা এমনটি করছেন তার কোনো সদুত্তরও তারা দিচ্ছেন না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, কোটা নিয়ে অ্যাডভান্স কথা বলার সুযোগ নেই। কোটা বাতিল হলেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন কোটা বাতিলের কথা বলেছেন তার মুখ থেকেই আমরা শুনেছি তিনি সংসদে বলেছেন, যারা নৃ-গোষ্ঠী ও যারা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ব্যবস্থার রূপরেখা আমরা এখনও সেভাবে প্রকাশ করিনি। সেটি আমাদের মাথায় আছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই সেটা চিন্তা করছেন।

কোটা নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে এটা কি বলা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা তো আশাবাদী, দ্রুত হওয়াই ভালো। তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিনই এটা নিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিনই কাজ হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিতব্য একটি সচিব কমিটি কোটার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার কথা। অবশ্য কমিটি এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ বিষয় বলেন, কমিটিতে আলোচনা করে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষু-নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মত রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, জেলা ইত্যাদি কোটা বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। সেখানে কোনো বিশেষ কোটার কথা না বলে সব মিলিয়ে কোটা ১০শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি তোলা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। তখন ঢাকার বাইরেও সড়ক বন্ধ করে অচল করে দেওয়া হয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এরপর জাতীয় সংসদে কোটা তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কার করতে গেলে, কয়দিন পর আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই হবে সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই। এখনো পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

টিআর/ এআর

 

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি