ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

গ্রেনেড হামলা মামলার মোড় ঘুরিয়েছিল যে জবানবন্দি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:০৪ ১০ অক্টোবর ২০১৮

বাংলাদেশে যেসব শীর্ষ জঙ্গির নাম গত ২০ বছর ধরে আলোচনায় ছিল তাদের মধ্যে মুফতি হান্নান একজন। ২১ শে আগস্ট আওয়ামী লীগ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়াকে হত্যা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল মুফতি হান্নান। সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়।

মামলায় রাষ্ট্র-পক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল জানান, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুফতি হান্নানের এক জবানবন্দিতে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়েছিল।

শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রথম চিন্তা মাথায় আসে মুফতি হান্নানের। এতো বড় একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য যুতসই প্লাটফর্ম খুঁজছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দীনকে একটি প্রস্তাব দেয় মুফতি হান্নান। সে প্রস্তাব ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

মাওলানা তাজউদ্দীন এবং মুফতি হান্নান পরস্পরের সাথে পরিচিত ছিল। ২০০৪ সালের প্রথম দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার সাত মসজিদে তাদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সে বৈঠকে তারা তারেক রহমান এবং লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথে দেখা করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

মামলার অভিযোগ-পত্রের কথা উল্লেখ করে মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, মাওলানা তাজউদ্দীন তাকে (মুফতি হান্নান) আব্দুস সালাম পিন্টুর কাছে নিয়ে যায়। আব্দুস সালাম পিন্টু লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছে যায়। তখন লুৎফুজ্জামান বাবর এবং কায়কোবাদ মিলে হাওয়া ভবনে আসে। মি: কায়কোবাদ তখন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।

মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে জানান, হাওয়া ভবনের বৈঠকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হারিছ চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই-এর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুর রহিম উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতির কিছুক্ষণ পর তারেক রহমান সেখানে আসেন। এমনটাই জানা যাচ্ছে আদালতে দেয়া মুফতি হান্নানের জবানবন্দি থেকে।

মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগীরা যাতে হাওয়া ভবনে আর না আসে সেটি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা বাবর সাহেব এবং আব্দুস সালাম পিন্টুর সাথে যোগাযোগ করে কাজ করবেন। এমনটাই জবানবন্দীতে জানিছিলেন মুফতি হান্নান।

মুফতি হান্নান এবং মাওলানা তাজউদ্দীন বাংলাদেশকে উগ্র ইসলামপন্থী ধারায় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মতো বানাতে চেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মামলায় রাষ্ট্র-পক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল।

তিনি বলেন, মুফতি হান্নানের সাথে হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের কথা হয়েছে, যোগাযোগ হয়েছে। এগুলো আমরা এভিডেন্সের মাধ্যমে এনেছি। এগুলো আমরা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছি।

মুফতি হান্নান ভেবেছিল এভাবে ছোট-ছোট কাজ করে কোন লাভ হবে না। একবারে শেখ হাসিনাকে যদি হত্যা করা যায় তাহলে হয়তো বাংলাদেশে একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারবে তারা।

পাকিস্তানী নাগরিক মাজেদ ভাট এবং মাওলানা তাজউদ্দীন পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড এনে মুফতি হান্নানকে দিয়েছিল। আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে সে গ্রেনেডগুলো বিতরণ করা হয় বলে মামলা নথিপত্রে উল্লেখ আছে।

সূত্র- বিবিসি

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি