ঢাকা, শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতেই মিন্নিকে গ্রেফতার!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:১২ ১৭ জুলাই ২০১৯

বরগুনার রিফাত হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির গ্রেফতারের আলোচনা এখন সবখানে। এমনকি আজ মিন্নিকে ৫ দিনের রিমাণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আলোচনা যতোটা রিফাতের খুনিদের নিয়ে হওয়ার কথা, তার থেকে মিন্নিকে নিয়েই দেশের গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া তোলপার। ফলে, রিফাত হত্যার ঘটনায় মূল্য রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে সামনে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হোন স্বামী শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ। 

হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা মূলহোতা নয়নকে প্রধান করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এর কয়েকদিনের মাথায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হোন নয়ন। 

হত্যার ঘটনার পর থেকে আলোচনায় রিফাতের স্ত্রী। আলোচনার বাহিরে থাকলেও সময়ের ব্যবধানে রিফাত হত্যার প্রধান আসামী সন্ত্রাসী নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কের মধ্যদিয়ে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হতে থাকে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে। 

প্রথম ভিডিও প্রকাশে মিন্নি নায়িকার চরিত্রে উত্তীর্ণ হলেও, দ্বিতীয় আরেকটি ভিডিও প্রকাশ হলে মিন্নিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। যেখানে অনেকেই রিফাত হত্যার ঘটনায় মিন্নির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

রিফাত হত্যার পর স্ত্রী মিন্নি বলেছিলেন, খুনি নয়ন তাকে বিয়ের আগে নানাভাবে উত্যক্ত করতো। নয়নের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিলনা। 

কিন্তু স্যোশাল মাধ্যমে নয়নের সঙ্গে বিয়ের কাবিননামাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশিত হলে সমালোচনারমুখে পড়েন মিন্নি। 

যদিও এ সম্পর্ককে উড়িয়ে দিয়েছেন মিন্নি। বলেছেন, নয়নের সহযোগীরা বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই এসব করছে। 

সবশেষে রিফাতের খুনি নয়নের মা গণমাধ্যমে দেয়া সংবাদ সম্মেলনে নয়নের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়ে বলেন, মিন্নি তার ছেলে ও রিফাতের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে গেছে। 

মিন্নিকে কলেজে রেখে আসলে মিন্নি গোপনে নয়নের কাছে চলে আসতো বলে জানান তিনি। বলেন, রিফাত হত্যার আগের দিনও মিন্নি নয়নের সঙ্গে দেখা করেছেন। 

এর দুদিন পর রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ সংবাদ সম্মেলনে রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত অভিযোগ করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। 

মিন্নির সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি বেশকিছু যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এবং পরের দিন প্রেসক্লাবের সামনে মিন্নির গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। 

নয়নের মা ও রিফাতের বাবার তোলা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা দাবি করে মিন্নি বলেন, বিচারকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতেই তার উপর এমন অভিযোগ। সন্ত্রাসীরা তাকে  ফাঁসাতে আমার শুশুরকে ভুল বুঝিয়েছে। এর মাধ্যমে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এজন্য প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা দাবি করেন মিন্নি। 

সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার রিফাত হত্যার এক নম্বর সাক্ষী স্ত্রী মিন্নিকে একজন আসামীকে শনাক্তের কথা বলে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। 

কিন্তু দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বরগুনা পুলিশ সুপার জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও সুদীর্ঘ সময় যাবৎ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণপূর্বক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও তদন্তের স্বার্থে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেফতার করা হলো।

সেসময় মিন্নিকে রিমাণ্ডে নেয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার মারুফ। সে অনুযায়ী আজ মিন্নিকে ৫ দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়েছে। ফলে স্বামী হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন মিন্নি। 

মূলত রিফাত হত্যার মূল নায়ক নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই মিন্নিকে আইনের আওতায় আনা হলো। কিন্তু আসলে কি ছিল সে সম্পর্কের মাঝে?

নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল ঠিক, যা রিফাত ও তার পরিবারের কাছে গোপন করে মিন্নি। নয়নের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। তারা দেখছে রিফাত হত্যায় মিন্নির যোগসাজস ছিল কিনা।

এলাকা সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীমহল যারা নয়ন বন্ডকে লালন পালন করেছে, বিশেষ করে স্থানীয় সাংসদের ছেলে মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এ কাজ করছেন বলে অনেকে দাবি করছেন। এমনকি মিন্নিকে নিয়ে নয়নের মা ও রিফাতের বাবা যে অভিযোগগুলো তুলেছেন এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। নিজেদের গা বাঁচাতেই মূলত এ ব্যবস্থা বলে মনে করছেন অনেকেই। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, যেখানে মূল আসামীদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে সেখানে মিন্নিকে নিয়ে সব মহলের সরব থাকায় সংশয় দেখা দিয়েছে। এ মামলা এখন কোন দিকে যাচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে তো। পুরো বরগুনা জুড়েই এখন এমন আলোচনা। সবার প্রত্যাশা বিচার যেন সঠিক পথেই চলে।

তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে রিফাতের খুনিদের বাঁচাতেই মিন্নিকে এ মামলায় আটক করা হয়েছে কি-না। তবে পুলিশের দাবি, কে দোষি আর কে নির্দোষ তা মামলার তদন্ত ও বিচার শেষে জানা যাবে।

আই/এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি