ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯

চট্টগ্রামের চার মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা

একুশে টেলিভিশন

 প্রকাশিত: ২০:২৯ ৭ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২০:৩০ ৭ জানুয়ারি ২০১৯

নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বন্দর নগরী চট্টগ্রাম অঞ্চলের চার নেতা দেশের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের। আর তাগিদ দেন-আঞ্চলিক অবকাঠামো, বন্দরের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার।      

বঙ্গবভনে নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন সরকারের যাত্রা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকর্মী হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের চার নেতা। তাদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. হাসান মাহমুদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আছেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। আর শিক্ষা উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।  

এই চারজন মন্ত্রীর মধ্যে হাসান মাহমুদ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।    

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) সংসদীয় আসনে হ্যাট্রিক বিজয় অর্জন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই মুখমাত্র। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ।

উল্লেখ্য, তিনি ২০০৮ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৫ বছর তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ ছাড়া ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. হাছান মাহমুদ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র এবং জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। 

এবারের মন্ত্রীসভায় তিনি চমক সৃষ্টি করে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তার এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পর চট্টগ্রামবাসী তাকিয়ে আছে এই অঞ্চলের সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে।      

এবারের মন্ত্রী সভায় আরেক চমকের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব। 

চট্টগ্রামের সদর আসন খ্যাত চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে তরুণ এই নেতা মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেক চমকের জন্ম দিয়েছেন। যা ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’। সুদর্শন এই তরুণের রাজনীতিতে আগমন চট্টগ্রামের সাবেক নগর পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে। তার বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে টানা সাড়ে ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আসীন থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর জৈষ্ঠ পুত্র ব্যারিস্টার নওফেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার নওফেল।  

২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাবা মহিউদ্দিনের পক্ষে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। পিতা এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর নির্বাচনে অদৃশ্য শক্তি হিসাবে কাজ করে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সুনজর অর্জন করেছিলেন ব্যারিষ্টার নওফেল। নির্বাচনী প্রচারনায় জনসম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে অধিক জোর দিয়ে বিএনপি শাসনামলে ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে চসিক পরিচালনায় পিতা মহিউদ্দীনের পেছনে শক্তি যুগিয়েছেন তিনি। জনগনের মন জয়ের উদ্দেশ্য চসিককে জনবান্ধব ও জনকল্যাকর কাজের ধারনা দিয়ে নিরবে কাজ করে গিয়েছিলেন এই তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছাতেই ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের মত দেশের সর্বপ্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠনের নীতি নির্ধারনী কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব অর্পণ করেন।

সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করেন নওফেল।

নতুন মন্ত্রী সভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারও তাকে সরকারের নতুন মেয়াদে জায়গা দেওয়া হয়েছে।  

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান রাজনীতিক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সন্তান। যিনি রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধসহ নানান আন্দোলন সংগ্রামে কাটিয়েছেন জীবনের ৭২টি বসন্ত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক কেবল রাজনীতিতে নয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন আজীবন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এ রাজনীতিবিদ মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বেসরকারি সেক্টরে দেশের দ্বিতীয় প্রাইভেট ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।  

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মুখপাত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দফা চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি এ ব্যবসায়ী নেতা দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ওআইসিভুক্ত দেশের চেম্বার সভাপতি হিসেবে। ১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।    

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন বান্দরবানে নৌকা প্রতীকে বীর বাহাদুর উশৈসিং পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ২২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ মার্কায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ০৪৭ ভোট। ৮৪ হাজার ১৯৬ ভোটের ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনেও চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত হন বীর বাহাদূর উশৈ সিং।

তিনি ১৯৬০ সালের ১০ জানুয়ারী বান্দরবান পার্বত্য জেলা সদরের একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম প্রয়াত লালমোহন বাহাদুর এবং মাতা মা চ য়ই, তিনি একজন গৃহিনী। বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ১৯৬৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে বান্দরবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে এবং পরে বান্দরবান সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র জীবনেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ছাত্র জীবনে তিনি বান্দরবান ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯২ সালে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জেলা স্কাউটের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংসদীয় দলের হুইপ নির্বাচিত হন।  

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সময়ে তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেন। তিনি বান্দরবান প্রেস ক্লাব ও রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের আজীবন সদস্য। তিনি ১৯৭৯ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পূর্বে এ সংক্রান্ত সংলাপ কমিটির অন্যতম সদস্য এবং তৎকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রথম বারের মত এবং ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দ্বিতীয় বারের মত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এর ফলে তিনি সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি তথা ভৌত অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনায় সুযোগ পান।

এছাড়া বীর বাহাদুর ঊশেসিং নবম জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ঐ সংসদের একজন প্যানেল স্পীকার ছিলেন যার ফলে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই তিনি খন্ডকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই খেলাধূলা ও সংস্কৃতি চর্চায় গভীর মনোযোগী ছিলেন। তার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল রেফারী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষতার সাথে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল কোয়ালিফাই রাউন্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া গমন করেন এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া  অষ্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত অলিম্পিক ২০০০-এ বাংলাদেশ দলের চীফ অব দ্য মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

স্বরূপ ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ফ্রান্স গমন করেন। বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন-নিউইয়র্ক ফ্লাইট উদ্বোধনের জন্য এবং জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আমেরিকা এবং ২০০৬ সালে চীনা কমিউনিষ্ট পার্টির আমন্ত্রণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চীন গমন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য জাপান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মায়ানমার ও কম্বোডিয়া সফর করেন।

বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয়ভাবে পুরস্কার প্রাপ্ত একজন ব্যক্তিত্ব। একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবেও তার খ্যাতি সমধিক। তিনি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন এবং বর্তমানে এ পদে আসীন আছেন। বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম, ২০০৮ সাালে নবম এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে ০৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান সংসদীয় আসন (৩০০ নং আসন) থেকে টানা পঞ্চম বারের মত জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অধিকার বীর বাহাদুর ঊশৈসিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে গত মেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ১৯৯১ সালে মে হ্লা প্রু’র সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।

মন্ত্রিসভায় নতুন ও তরুণদের প্রাধান্য দেওয়ায়, সরকারের কাজের গতি বাড়বে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদরা।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন হলে, পুরো দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন, নগরীর জলাবদ্ধতাসহ দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের অগ্রযাত্রায় এই চার মন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকা থাকবে বলে প্রত্যাশা সবার।        

এসি 

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি