ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১, || চৈত্র ৩০ ১৪২৭

চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:২৮, ১ মার্চ ২০২১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে যেভাবে ইটপাটকেল ছুড়েছিলো সে সময় চরম ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে পুলিশ।

তিনি আজ সোমবার ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২১’ উপলক্ষে মিরপুর-১৪ পুলিশ স্টাফ কলেজের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা এবং স্বীকৃতি স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিহত হন। তারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা যেন আমাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যগণ আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো চরম আত্মত্যাগ প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেজন্য পুলিশ বাহিনীসহ সারাদেশ আজ গর্বিত। তিনি বলেন, শুধু দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, করোনাকালেও পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছি আমরা। উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়তো যদি নিরাপত্তা বিধান করা না যেত। পুলিশ বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে বলেই দেশ নিরাপদ রয়েছে।

সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, ২০১৯ সালে দায়িত্ব পালনকালে ১৭৯ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, ২০২০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ালো ২০৮। আমরা এ ধরণের অকাল মৃত্যু, অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। আমরা চাইবো কারো যেন অকাল মৃত্যু না হয়, অস্বাভাবিক মৃত্যু না হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এখন যে কোন সংকট মোকাবেলায় সক্ষম। মানবিক পুলিশ হিসেবেও পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়ে তখনই পুলিশের শরণাপন্ন হয়। তাই আমরা বলি, পুলিশ হবে মানবিক, পুলিশ হবে জনতার।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় প্রতি বছর আমরা আমাদের অনেক সহকর্মীকে হারাই। কোন সহকর্মীকে হারাতে চাই না। কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও পেশাগত তাগিদে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতে হয়। এ আত্মত্যাগ অত্যন্ত দুঃসহ। করোনাকালেও আমরা আমাদের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৬ জন সদস্যকে হারিয়েছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সবধরণের সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান ও জনগণের জানমাল রক্ষার মত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে ২০২০ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০৮ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়।

এতে অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) মো. মাজহারুল ইসলাম। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজে নির্মিত অস্থায়ী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর ১ মার্চ কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানী ঢাকায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। এছাড়া, সকল রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হয়।

আরকে//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি