ঢাকা, রবিবার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, || পৌষ ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

জমে উঠেছে ডিআরইউ নির্বাচন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১৭ ২০ নভেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ২৩:১৫ ২০ নভেম্বর ২০১৯

আগামী ৩০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০২০ সালের এক বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। ঢাকায় বিভিন্ন দৈনিক, টেলিভিশন, অনলাইন ও রেডিওতে কর্মরত প্রায় দেড় হাজার সদস্য তথা পেশাদার সাংবাদিকদের এ সংগঠনের নেতা নির্বাচিত হওয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেখা গেছে।

সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীরা দৌঁড়াচ্ছেন রাজধানীর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, তেজগাঁওসহ সাংবাদিকদের আড্ডাস্থলগুলোতে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। সাংবাদিকদের নতুন আড্ডাস্থল হিসেবে সরগরম হয়ে উঠেছে ইত্তেফাক মোড় ও  একুশে টেলিভিশনের গলিও। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব আড্ডাস্থলে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রার্থীদের আনাগোনাও বাড়ে এসব জায়গায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার পর নির্ধারিত সময়ে প্রচারণাপত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন একুশের গলিসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন আড্ডা স্থলে। আর প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা-সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারণার কেন্দ্র বিন্দুস্থল হয়ে ওঠে সেগুনবাগিচাস্থ ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। ডিআরইউ ক্যান্টিন ও বাগান হয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবেও জ্যেষ্ঠ্য সাংবাদিকদের দোয়া ও ভোট চাইতে ব্যস্ত থাকছেন প্রার্থীরা।

ডিআরইউ’র বাগানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চলছে বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের যোগ্যতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনমুখর এই আলোচনার মধ্যেই প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। ভোট চাইছেন-দোয়া চাইছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে ডিআরইউ নির্বাচন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০২০ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ২১টি পদে প্রার্থীরা এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থীদের অনেকেই আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ডিআরইউ-এর এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে পাঁচজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। সভাপতি প্রার্থী হলেন- ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিবার্তা টুয়েন্টি ফোরের বিশেষ প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ দুলাল, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ, ডিআরইউ’র সাবেক সহ সভাপতি ও ইংরেজী দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম আজাদ, আনন্দ টেলিভিশনের উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক শামসুল হক বসুনিয়া ও দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক শরিফুল ইসলাম বিলু।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার কবির আহমেদ খান। তিনি সদ্যবিদায়ী ২০১৯ সালেও একবছর মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে আরও প্রার্থী হয়েছেন, ডিআরইউ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও এশিয়ান মেইল টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক রিয়াজ চৌধুরী, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নূরুল ইসলাম হাসিব, ডিআরইউ’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মানবকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ্য প্রতিবেদক শেখ জামাল।  

ডিআরইউ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়াও রয়েছে সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংস্কৃতি সম্পাদক, নারীবিষয়ক সম্পাদক, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক, আপ্যায়ন সম্পাদক ও ৭টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এসব পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী ভোটারদের কাছে দোয়া ও ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এসব পদে ঠিক কতজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি।

এরই মধ্যে প্রার্থীদের মাঝে ভোটারদের পক্ষে টানতে প্রচার প্রচারণা ও উৎসাহ উদ্দীপনা তুঙ্গে। প্রার্থীরা ডিআরইউ ক্যান্টিনে দুপুরের খাবারের পাশাপাশি সদস্যদের জন্য সকালে ও বিকেলে নাস্তার ব্যবস্থা করা, প্রয়াত সদস্য সন্তানদের বৃত্তি প্রদান ও সদস্যদের জন্য গ্রুপ জীবন বীমা কার্যক্রম আরো গতিশীল করা, ডিআরইউ সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য অনুদান এনে প্রশিক্ষণের কাজে অর্থ ব্যয় করা এবং সাগর-রুনি হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করতে অপরাপর সাংবাদিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে আলোচনা করে ধারাবাহিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে ডিআরইউকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানাচ্ছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, গত বছর ২০১৯ সালের নির্বাচনে সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৪৭৭ জন। ভোট পড়েছিল ১১৪৮টি।

সভাপতি পদে ইলিয়াস হোসেন পেয়েছিলেন ৬৪১ ভোট। সহ-সভাপতি পদে খন্দকার কাওছার হোসেন ৪১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে কবির আহমেদ খান ৪৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহসান সিপু। অর্থ সম্পাদক পদে বাংলা ভিশনের জিয়াউল হক সবুজ ৮০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাংলাদেশের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী ৭১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে ৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টার সাজিদা ইসলাম পারুল। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৫৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল হাই তুহিন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৫৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম শামীম।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৫৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন এমদাদুল হক খান। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দফতর সম্পাদক পদে জিহাদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে শেখ মাহমুদ এ রিয়াদ, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে এইচ এম আকতার ও কল্যাণ সম্পাদক পদে কাওসার আজম নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৭০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন জিটিভি’র মহিউদ্দিন। অন্য সদস্যরা ছিলেন খালিদ সাইফুল্লাহ (৬৪৬), বাদল নূর (৫৮০), নঈমুদ্দিন (৫৬৪), মাকসুদুল হাসান (৫৬৪), রাসেদুল হক (৫৩০) ও শাহাবুদ্দিন মাহাতাব (৪৩২)।

ডিআরইউ নির্বাচনের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নিউজ টুডের সাবেক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম শাজাহান মিয়া, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ ও জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি উত্তম চক্রবর্তী।

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি