ঢাকা, ২০১৯-০৭-১৬ ০:৫১:৫২

জাহানারা ইমামের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ২৬ জুন ২০১৯  

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই লেখক ও শিক্ষাবিদ।

তিনি একাধারে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত জননী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংগঠক। অন্যদিকে তিনি ছিলেন ক্র্যাক প্লাটুন গেরিলা যোদ্ধা শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমির সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়া, অস্ত্র আনা-নেয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে তা পৌঁছে দেয়া ইত্যাদি ভূমিকা পালন করেন জাহানারা ইমাম। যুদ্ধ যখন প্রায় শেষের দিকে, নিশ্চিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে প্রিয় মাতৃভূমি, এ সময়ে পাক হায়েনাদের হাতে ধরা পড়েন রুমি। পাক হায়েনাদের নির্যাতনে রুমি অকালে শাহাদাৎবরণ করেন।

পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে মুক্তিযোদ্ধাদের মা হিসেবে বরণ করে নেন রুমির বন্ধু ও সহযোদ্ধারা। তাকে দেয়া হয় ‘শহীদ জননী’র মর্যাদা।

এই মহীয়সীর নেতৃত্বে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তীব্র আন্দোলন। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে দেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। তিনি হন এর আহ্বায়ক।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জাহানারা ইমামের বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের ওপর স্মৃতিচারণমূলক তার অমর গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এর দুই বছর পর ‘একাত্তরের দিনগুলি’র কিশোর সংস্করণ ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’ এবং ১৯৯২ সালে ডায়েরি আকারে লেখা স্মৃতিকথা ‘প্রবাসের দিনলিপি’। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম নিজ কর্মগুণে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় এক রক্ষণশীল বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

শিরোনাম