ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংকটে ক্ষুব্ধ ফরাসিরা আবার রাজপথে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:৫৬, ৫ নভেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সংকটের জেরে আবারও দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই কর্মবিরতিতে যোগ দিয়েছেন।

চলমান এই নাগরিক অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস বাকি থাকতে এই বিক্ষোভের পুনরুত্থান সরকারকে বেশ কোণঠাসা করে তুলেছে। বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-সহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠন যৌথভাবে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

সিজিটি প্রধান সোফি বেনে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফ্রান্সের প্রায় ২৬০টি শহর ও নগরে একযোগে এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজপথে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে মার্সেই, লিওঁ এবং নঁতে শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং রাজধানী প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে মূল সমাবেশটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্যারিসে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। রাস্তা অবরুদ্ধ করতে বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার পাত্র ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, লিওঁ শহরের বিক্ষোভকারীদের অনেককে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে আগেভাগেই মাস্ক ও সুরক্ষাচশমা পরে রাজপথে নামতে দেখা গেছে।

গত ১৭ অক্টোবরের আকস্মিক দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত ছিল না, যা নিয়ে ম্যাক্রোঁ সরকারের সমালোচনা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সহিংসতা রুখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তের বিক্ষোভে ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন।

ধর্মঘটের কারণে দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হলেও গণপরিবহন এখনো মোটের ওপর স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শিক্ষা খাতে এর বড় প্রভাব পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষক এই ধর্মঘটে শামিল হতে পারেন। জরাজীর্ণ বিদ্যালয় পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের মারমুখী আচরণের কারণে রাজপথে নামতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ফরাসি সরকার পুলিশি পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গাইলেও কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেলে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল স্লোগান এখন একটাই—সব পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই।

অস্থিরতা সামাল দিতে বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। তার ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হলো পরিস্থিতি শান্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশে আগামী নির্বাচনের দিকে যাওয়া। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো জনগণের এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি