ঢাকা, রবিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রিতে প্রভাব নেই স্থানীয় বাজারে 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:২১ ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বাগেরহাটে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি শুরু করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

পেঁয়াজ বিক্রির খবর পেয়ে আশেপাশে বিভিন্ন কাজে আসা শত শত নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। দাম কম হওয়ায় আদালতের আইনজীবীরাও লাইনে দাঁড়াতে ভুল করেননি। তারাও পেঁয়াজ কিনেছেন।

তবে সরকারি উদ্যোগে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। 

তাদের অভিযোগ, টিসিবি কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই সোমবার দুপুর দিকে খোলা ট্রাকে করে আকস্মিকভাবে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও, আজও বাজারে ২০০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও দাম অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এই সমস্যা দূর করতে টিসিবি খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়। 

সাধারণ পথচারীরা বলেন, দুপুরে হঠাৎ করে দেখি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড়। সামনে এগিয়ে দেখি ৪৫ টাকা কেজি দরে মিশরীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। লাইনে দাড়িয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই লাইনে যে পরিমাণ মানুষের ভিড়, তাতে  পেঁয়াজ পাওয়াটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাদের এই উদ্যোগ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভালো, অল্প দামে এখানে আমরা পেঁয়াজ কিনতে পেরে দারুণ খুশি। কিন্তু টিসিবির এই পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগের প্রচার-প্রচারণা দরকার ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ত্রেতা অভিযোগ করেন, বাগেরহাটের বিভিন্ন হাট বাজারে এখনো ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে টিসিবি খোলা বাজারে বিদেশী পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। টিসিবি কোনো প্রচারণা ছাড়াই এভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করলে স্থানীয় বাজারে তার কি প্রভাব পড়বে বুঝতে পারছি না।

টিসিবির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, স্থানীয় বাজারে চলমান পেঁয়াজের দাম ও সংকট দূর করতে বাগেরহাটের খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য তুরস্ক থেকে আমদানি করা ৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

টিসিবির যেহেতু জেলা শহরে কোনো কার্যালয় নেই, তাই স্থানীয় প্রশাসনই ঠিক করবে এই পেঁয়াজ কোথায় কতটুকু বিক্রি হবে।

প্রচারণা ছাড়াই খোলা বাজারে এভাবে পেঁয়াজ বিক্রিতে জেলায় চলা পেঁয়াজ সংকট ও চড়ামূল্যে কি প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। বাগেরহাটে প্রতিদিন এক মেট্রিক টন পেঁয়াজ খোলা বাজারে বিক্রি হবে। ৪৫ টাকা কেজি দরে একজন এক কেজির বেশি কিনতে পারবেন না। 

প্রতিদিন এক হাজার মানুষকে পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন এভাবে বাগেরহাটের খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হলেই স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাবে। বর্তমান বাজারে যে উচ্চমূল্য রয়েছে তা পড়তে বাধ্য হবে।

বাগেরহাট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জি এম মহিউদ্দিন বলেন, সোমবার স্থানীয় বাজারে বিদেশী পেঁয়াজ ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা এবং দেশি ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাগেরহাটে পেঁয়াজের সংকট ও উচ্চমূল্য দূর করতে রোববার তিন মেট্রিক টন পেঁয়াজ টিসিবি বরাদ্দ দিয়েছে। এই পেঁয়াজ জেলার কোথায়, কখন কতটুকু বিক্রি করবে তা প্রশাসন ঠিক করবে। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

এআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি