ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:১৪ ১৯ জুলাই ২০১৯

ভারত ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। গত সপ্তাহ থেকে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় সেখানে এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি লোক মারা গেছে। যেখানে হাজার হাজার লোক ঘরবাড়ি ছাড়া এবং লাখ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর সিএনএন।

খবরে বলা হয়, নেপালে গত মঙ্গলবার বৃষ্টি বন্ধ হলেও দেশটিতে বন্যা পরবর্তী বিপর্যয় এখনও অব্যহত রয়েছে। অন্যদিকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আগামী দিনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বভাসে বলা হচ্ছে।

নেপালে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বন্যা দেশটিতে সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে এখন পর্যন্ত ৮৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও বিহারে মারা গেছে আরও ২৯ জন। 

এদিকে ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তবর্তী পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে। যাতে, দেশ দুটির কর্তৃপক্ষের মতে, পাকিস্তানে ২8 জন এবং বাংলাদেশে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। 

সরকারি বিবৃতিতে জানা গেছে, ভারতে ৬৭ লাখেরও বেশি লোক বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যে বিহার ও আসামে ক্ষতিগ্রস্থ লোকের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ২৫ লাখ এবং ৪২ লাখেরও অধিক।

এসব দেশের সীমান্ত এলাকা জুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। এছাড়া বহু রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গৃহপালিত পশুগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, না হয় মারা গেছে। সেইসঙ্গে সমগ্র বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
 
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্থ এ চার দেশের সরকারি সংস্থাগুলো তাদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে সরিয়ে নিতে দেশজুড়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। নেপালের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীসহ ৪২ সহস্রাধিক নিরাপত্তা কর্মী দেশটিতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ১৭ হাজারেরও বেশি লোককে ইতিমধ্যে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, ভারতে দুর্যোগ ও ত্রাণ সংস্থাগুলি এখন দেশটির ঘরবাড়ি হারা পরিবারগুলির জন্য হাউজিং এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। 

ভারতের রাজ্য সরকারের দেয়া তথ্য মতে, বিহারের প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার এবং আসামে প্রায় ৮৩ হাজার লোককে অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে নেয়া হয়েছে এবং সরকারি সংস্থাগুলি শত শত ত্রাণ কেন্দ্র থেকে চাল, বিস্কুট, শিশুর খাদ্য এবং মোমবাতি বিতরণ করছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অফ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসের বাংলাদেশ (আইএফআরসি) অফিসের প্রধান আজমত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের অধিবাসীদের মধ্যে অনেকেই বাঁশ, মাটি বা কাঠের তৈরি ঘরে বসবাস করে। যা তাদেরকে বন্যার হাত থেকে কোন সুরক্ষা প্রদান করে না। ফলে বন্যায় এদের অধিকাংশই চরমভাবে খতিগ্রস্থ। 

দেশটিতে চলমান বন্যায় প্রায় ৩ লাখ বানভাসীকে অস্থায়ী ত্রাণ শিবির ও আশ্রয়স্থলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী।

আজমত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থানরত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবির বিশেষত অরক্ষিত। মিয়ানমারের প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান যারা মিয়ানমারে প্রায়শই অত্যাচারের শিকার হয়ে এখন ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় চারশ' অস্থায়ী বাড়ি বন্যায় খতিগ্রস্থ হয়েছে। যাতে প্রায় তিন হাজার শরণার্থীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এনএস/আরকে

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি