ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

দুর্ঘটনা রোধে পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৪৪ ২২ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪৬ ২২ অক্টোবর ২০১৯

দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য পথচারীরাও অনেকটা দায়ী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে পার না হয়ে রাস্তার মাঝ খান দিয়ে হাত দেখিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আমি চালককে কীভাবে দোষী করবো? তাই চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে একটা প্রবণতা আছে যে একটা দুর্ঘটনা ঘটলেই চালককে গালি দেওয়া হয়। হ্যাঁ আমাদের চালকদেরও দোষ আছে। সবচেয়ে বড় কথা তারা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না সেটা একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু এর পাশাপাশি আমি শুধু চালকদেরকেই দোষারোপ করবো না। দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য পথচারীরাও অনেকটা দায়ী।

তিনি বলেন, আমাদের সড়কের সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতও থাকে। কিন্তু দেখা যায় কেউ কোনও নিয়ম মানে না। কোনও একটা চলন্ত গাড়ি যখন আসে, সেই চলন্ত গাড়ির সামনে কেবল হাত দেখিয়ে দৌঁড় মারলে ব্রেক করলেওতো সেটা থামতে বেশ কিছু সময় লাগে। সেই বোধটাতো পথচারীদের থাকতে হবে। সেইসঙ্গে সড়কে কিছু আইন আছে, সেটা মেনে চলতে হয়। কিন্তু সে সম্পর্কেও আসলে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয় না। এটাও একটা বড় সমস্যা। এ জন্যই আমরা বার বার বলি- স্কুল, কলেজসহ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন।  

তিনি আরও বলেন, হাইওয়েগুলোতে বিশ্রামাগার করতে নির্দেশ দিয়েছি। ইতিমধ্যে চারটি জায়গায় করা হচ্ছে। কিছু দূর যাওয়ার পর অর্থাৎ ২/৩ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর চালক এবং যাত্রীরা সেখানে বিশ্রাম নিতে পারবে। সেখানে অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব জায়গায় স্কুলশিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার হয় সেই সময়টায় যেন প্রতিষ্ঠান বা স্কুলের প্রতিনিধি থাকে। আমি বিদেশে দেখেছি, পুলিশের পাশাপাশি ওইসব জায়গায় একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ানো থাকে ভলান্টিয়াররা। তারা ছেলে-মেয়েদের পারাপার করে দেয়।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত তাদের ক্ষেত্রেও বলবো, মাঝে মাঝে সব চালকদেরকেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর নতুন যারা আসবে ইতিমধ্যে আমরা চালকদের প্রশিক্ষণটা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে গেছি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৭-২০২০ আমরা প্রণয়ন করেছি এবং সেটা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে কতগুলো ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কোনও চালক একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবে না। অবশ্যই তাকে বিশ্রাম নিতে হবে। সব সময় বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ব্যাপারে গাড়ির মালিকদের সচেতন থাকতে হবে। এক্ষেত্রে গাড়িটা কত ঘণ্টা পরে কোন জায়গাটায় গিয়ে থামবে তা পরবর্তী যে গাড়িটা চালাবে সে সেখানেই অপেক্ষা করবে। সেখান থেকেই সে গাড়ির দায়িত্ব নিবে। এভাবে যদি সিস্টেম করা যায় তবে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। রাস্তার কোন জায়গায় কতটুকু গতিতে গাড়ি চালাতে হবে, সে বিষয়ে চালকদের সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যারা অশিক্ষিত বা যারা জানেনা তাদের কথা বাদ দিলাম কিন্তু যারা শিক্ষিত তারা কেন ট্রাফিক আইন মানবে না? এই প্রশ্নটাই আমি রেখে যাচ্ছি। তাদেরকে ট্রাফিক আইন মানতে হবে। এটা হলো সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হোক এটা কারও কাম্য নয়। আমরা কেউ চাই না। কেউ পঙ্গু হয়ে যাক এটা আমরা চাই না। সে জন্য আমরা সব সময় চাই নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা থাকুক। আর তাই প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করুন। কারণ দেশটা আমাদের। তাই দায়িত্বটা শুধু সরকারের নয়, দেশের প্রতিটি জনগণের।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। ২৬ বছর আগে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশে বান্দরবানে স্বামী ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। রেখে যান অবুঝ দুটি শিশু সন্তান জয় ও ইমাকে। ইলিয়াস কাঞ্চন সে সময় সিনেমার শুটিংয়ে বান্দরবান অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে দু’টি অবুঝ সন্তানকে বুকে নিয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ইলিয়াস কাঞ্চন নেমে আসেন পথে। পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়- এই স্লোগান নিয়ে গড়ে তোলেন একটি সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’।

২০১৭ সালের ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রী সভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করা হয়। একই বছরের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়।

‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে যাচ্ছে আজ। দিবসটি উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। সরকারিভাবে রাজধানীসহ প্রতি জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি