নিজের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমান তাড়িয়ে দিলো স্পেন
প্রকাশিত : ১০:১৯, ৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার আবহে এক নজিরবিহীন ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিল স্পেন। মাদ্রিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না ওয়াশিংটন। স্পেনের এই ঘোষণার পর দক্ষিণ স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরু থেকেই এর কড়া সমালোচনা করে আসছে স্পেন সরকার। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত কিন্তু স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, এই ঘাঁটিগুলো শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং জাতিসংঘের সনদের শর্ত অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। জাতিসংঘের অনুমোদনহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কোনো অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না মাদ্রিদ।
স্পেনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রোটা এবং মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন বিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অনেকগুলো বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে ‘অযৌক্তিক এবং বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বকে আরও বেশি অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। যেখানে বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মুসলিম দেশগুলো মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ অনুমতি দিয়ে সমালোচিত হচ্ছে এবং ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হচ্ছে। সেখানে স্পেন নিজের মানবিক ও নৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে স্পেনের এই দৃঢ় অবস্থান দেশটিকে ইউরোপের অন্যতম স্পষ্টবাদী ও নীতিবান রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










