ঢাকা, শনিবার   ১৭ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশী তরুণের নাসার বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার গল্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:২৭ ৮ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১৯:৩০ ৮ আগস্ট ২০১৯

ড. রুবাব খানের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। রাজধানীর উদয়ন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরে নটরডেম কলেজ থেকে পাস করেন এইচএসসি। ছোটবেলা থেকেই   জ্যোতিবিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

২০০৪ সালে তিনি পদার্থবিদ্যার বিশেষ শাখা অ্যাস্ট্রোফিজিকসে পড়াশোনার জন্য কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তি পান। ২০০৮ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। পরে ২০১৪ সালে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন রুবাব খান।

যুক্তরাষ্ট্রেই উচ্চতর পড়াশোনা সম্পন্ন করে ড. রুবাব খান কাজ শুরু করেন ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (নাসা)।

তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইটের একদল গবেষকের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষণা দল খুঁজে পেয়েছেন ইটা কারিনার মতো আরাধ্য ৫টি বিশাল নক্ষত্র যা অবস্থান করছে মিল্কিওয়ের বাইরের গ্যালাক্সিগুলোতে। আর সেই গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের পাকুন্দা গ্রামের ছেলে ড. রুবাব ইমরাজ খান । তাঁর এই আবিষ্কার হয়তো মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের এত দিনের ধারণা বদলে দেবে!

সুপারস্টার বা বাংলায় বলা হয় মহাতারকা। আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গায় সূর্য থেকে ৫০ লাখ গুণ বড় তেমনি এক নক্ষত্র ইটা কারিনা। ১৩ লাখ গ্রহকে নিয়ে সেই নক্ষত্রটির জগৎ। এমনই আরো পাঁচটি সুপারস্টার আবিষ্কার করেছেন একদল বিজ্ঞানী। এমন যুগান্তকারী আবিস্কারের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে এখন আলোচিত নাম ড. রুবাব ইমরাজ খান।

তার সাফল্যের গল্পটা এতো সহজ ছিলো না। নিজের উপরে আত্মাবিশ্বাস তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসে তিনি তার স্বপ্নের সমান বড় হওয়ার গল্প শেয়ার করেন।

তিনি বলেন, বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো ছেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ভালে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে। কিন্তু তার ইচ্ছা ছিল আকাশ ছোঁয়ার। আর সেই ইচ্ছে শক্তির কারণেই বিশ্ববাসীর ধারণা বদলে দেয় এই আকাশ ছোঁয়া ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি। নূরুল রহমান খান ও ফিকরিয়া বেগমের দুই ছেলমেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তিনিই। বাবা নূরুল রহমান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং মা ফিকরিয়া বেগম সেন্টার ওমেন্স ইউনিভার্সিটির দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।

বিতর্ক ও কুইজে পারদর্শী বাংলা মাধ্যমের এই ছাত্র উদায়ন স্কুল থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর বাবার ইচ্ছে রাখতেই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে। কিন্তু আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছেতেই আবেদন করতে থাকেন বিদেশি নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এর মধ্যে সুযোগ আসে বৃত্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে জোতিপদার্থবিজ্ঞানে পড়ার।

ড. রুবাব কিভাবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলেন তা তার নিজ মুখ থেকেই জেনে নেই- এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় মায়ের হাত ধরে যখন ছাদে উঠতেন সেই থেকেই। তখন তার মা মহাকাশ সর্ম্পকে নানা বিষয়ে বলতেন। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করার। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বপ্নের পরিধিও বাড়তে থাকে। তার বয়স যখন ৮ বছর তখন থেকেই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণে উপস্থিত হয়ে মনোছবি দেখতে বসেন। তখনই তার মনে জ্যোতিবিজ্ঞান হওয়ার স্বপ্ন জাগে।

যেহেতু আমাদের দেশে মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে তেমন কোন লেখা পড়া নেই। সেহেতু বিদেশে গিয়েই পড়াশুনা করতে হবে। তখন থেকে এই বিষয় পড়াশুনা ও প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার জন্য আবেদন করলাম। আমি তিন বছর আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তবে টাকার জন্য টেনশনে ছিলো বাবা-মা, কিন্তু আমি হতাশ ছিলাম না।

তিনি আরও বলেন, একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে আসছিলাম, তখন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের দিকে চোখে পড়ল, তাই নামেমাত্র ফি দিয়ে আইবিএতে ভর্তি হয়ে গেলাম। আমি তখন সিন্ধান্ত নিয়ে ছিলাম যদি বিদেশ না যেতে পারি তাহলে আইবিএ শেষ করবো। তবে কিছুদিনের মধ্যে সংবাদ আসল, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তিসহ পড়ার সুযোগ।

গবেষণার জন্য সুযোগ তৈরি হল, জানাতে পারলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একজন শিক্ষক এসেছে। তার ল্যাবে আমি গবেষণা কাজ শুরু করলাম। মাসে কিছু টাকাও দিতো, যা দিয়ে হাতখরচ চলতো।  পড়াশুনা শেষ করতে না করতে সেই শিক্ষক আমাকে একটি জবের ব্যবস্থা করে দিল। সেই প্রতিষ্ঠানে আমি সব থেকে ছোট ছিলাম।

পড়াশুনা শেষ করে আমি গবেষণা করা জন্য মনোনিবেশ করলাম। এর মধ্যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখার সুযোগ হলো। অবশেষে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণার কাজ শুরু করলাম। আমি যে ধরনের গবেষণা করতে চাচ্ছিলাম, এটার জন্য সবচেয়ে ভাল পরিবেশ ছিলো ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দু:খের বিষয় আমি পড়াশুনা শেষ করে ৩০টার উপরে চাকরির জন্য আবেদন করেও চাকরি মিলল না। তবে আমি কখনই হতাশ হয়নি। কারণ আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, আমি মহাতারকা খোঁজে বের হরার গবেষণা শুরু করলাম। এখন আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি